ঢাকা, বাংলাদেশ

শুক্রবার, অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৯, ০২ ডিসেম্বর ২০২২

English

বৃত্তের বাইরে

গৃহিণী থেকে সম্মুখ সারির যোদ্ধা

প্রকাশিত: ০০:০০, ১০ মার্চ ২০২২; আপডেট: ১৬:৩৫, ৬ জুলাই ২০২২

গৃহিণী থেকে সম্মুখ সারির যোদ্ধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  
ভ্যালেনতিনা কনস্ট্যান্টিনোভস্কা। মাথা ভর্তি সাদা চুল, গালের ত্বক ঝুলে পড়েছে, বয়সের ভারে শরীরটাও পড়েছে নুয়ে। তবে মাতৃভূমির সার্বোভৌমত্ব রক্ষায় টগবগে তরুণের মতোই হাতে তুলে নিয়েছেন অস্ত্র। অটোমেটিক রাইফেলের ট্রিগারে আঙুল রেখে শপথ নিয়েছেন প্রিয় জন্মভূমিকে রক্ষার। ৭৯ বছর বয়সী এই নারীর কণ্ঠে জীবনের শেষ সময় অবধি শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়।


ইউক্রেনের মারিওপোল শহরের বাসিন্দা ভ্যালেন্তিনার মতো দেশটির আরও কয়েক হাজার নারী রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেই ২০১৪ সাল থেকে নিজেদের প্রস্তুত করছেন। গড়ে তুলেছেন ‘বাবুশকা ব্যাটালিয়ন’।

রাশিয়ান শব্দ বাবুশকা অর্থ স্কার্ফ মাথার বয়স্ক নারী হলেও যুদ্ধ শুরুর পর তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন গৃহিণী থেকে বিশ্ব সুন্দরী, সাধারণ নারী থেকে শিল্পী সকল স্তরের নারীরা। মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তারা নেমে পড়েছেন সম্মুখ লড়াইয়ে।

পৃথিবীর হাজার বছরের ইতিহাসের যুদ্ধগুলোতে সবসময়ই সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতির শিকার নারীরা। স্বামী, ছেলে বা বাবাকে হারানোর পাশাপশি তাদের পড়তে হয় যৌন হয়রানিসহ নানা ধরনের নির্যাতনের মুখে। এ কারণেই অনেক যুদ্ধেই হাত গুটিয়ে বসে না থেকে নারীরা নেমেছেন সম্মুখ সমরে। আর ঐতিহাসিকভাবে দফায় দফায় যুদ্ধ কবলিত ইউক্রেনের নারীরা সামনের সারিতে থেকে গড়েছেন প্রতিরোধ।

বিশেষ করে বিগত এক দশকের নানান সংঘাতে ইউক্রেনের নারীরা বলিষ্ঠ আর দৃঢ়চেতা মনোবল অর্জন করেছেন। সেই চেতনার বলেই বয়স, পেশা সব ভুলে স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে তারা নিজেদের সক্রিয় রেখেছেন। মাঠে সরাসরি যুদ্ধের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সচেতনতা বাড়াতে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম কিংবা মাইক্রোফোনও।

যদিও অভিযোগ আছে, ইউক্রেনের নারীরা যুদ্ধের এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলার প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন উগ্রপন্থী অ্যাজভদের থেকে। এই অ্যাজরারা ঘোষিত নব্য নাৎসি। তবে তাদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পেলেও সেই আদর্শে লড়ছেন না অনেকেই। একান্ত নিজের তাগিদে, দেশপ্রেম আর দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেই নিজেদের যুদ্ধে সামিল করছেন তারা।

ভ্যালেনতিনা কনস্ট্যান্টিনোভস্কার ভাষ্য, দেশের জন্য, স্বাধীনতার জন্য নিজের তাগিদ থেকেই প্রশিক্ষণ নিয়ে বাবুশকা ব্যাটালিয়নের সদস্য হয়েছেন তিনি। অ্যাজভ আদর্শ তিনি ধারণ করেন না।

ভ্যালেন্তিনা বলেন, ‘আমি আমার শহর ভালোবাসি। পুতিন আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না। যদিও এটা আতঙ্কজনক, কিন্তু আমরা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনের পাশে থাকবো।’

তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা, টিকে থাকা, দ্রুত কোনো বিপজ্জনক স্থান পরিত্যাগ করা, অস্ত্রের নিরাপত্তা, গুলি চালানোর নিয়মের মতো বিষয়গুলো ছিল তাদের প্রশিক্ষণের অর্ন্তভুক্ত।

 

৬৫ বছরের লুদমিলা স্মাহেলেসকোর ভাষ্যও একই। সেই ২০১৫ সাল থেকে তিনি নিজেকে দেশ রক্ষার এক যোদ্ধা হিসেবে প্রস্তুত করেছেন।

লেসিয়া ভ্যাসিলেনকো নামের দেশটির এক নারী সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, রাশিয়ার আগ্রাসন রুখতে এবং নিজেদের মাতৃভূমি রক্ষায় ইউক্রেনের ১০ হাজার নারী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আছেন।

নিজেও সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন উল্লেখ করে লেসিয়া ভ্যাসিলেনকো বলেন, ‘আমি কিয়েভ ছেড়ে কোথাও যায়নি। বাড়ির বাঙ্কারে পরিবারের সঙ্গে রয়েছি। অন্য নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তারাও প্রস্তুত। অনেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘নিজের নখের খুব যত্ন নিতাম। নখ বড় করা আমার শখ ছিল। তবে রাইফেল চালানোর জন্য সেই শখ জলাঞ্জলি দিয়েছি। আমি ভারী রাইফেল চালানো শিখেছি। আমি যুদ্ধে অংশ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’

 

২০১৪ সালে রাশিয়াপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক ইউরোপের অংশ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে ইউক্রেনীয়রা যে মর্জাদার লড়াই শুরু করেছিল তারও মূলে ছিলেন নারীরা। সে সময় রাজধানী কিয়েভের রাস্তাগুলি ছিল তাদের দখলে, তারা একই সঙ্গে বিক্ষোভের সামনের সারিতে থেকে চিকিৎসা ও খাদ্য সরবরাহ, তহবিল সংগ্রহ, ব্যারিকেড টহলের মতো কাজ করেছে। অন্যদিকে, আইনি পরিষেবা প্রদানের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন।

ওই বছর ইউক্রেনের পার্লামেন্টে সাতচল্লিশ জন নারী সংসদ সদস্য হন, যা ছিল মোট সদস্যের ১১ শতাংশ। পরে ২০১৯ সালের নির্বাচনের পর পার্লামেন্টে নারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২০ শতাংশে উন্নীত হয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভলোদিমিরি জেলেনস্কি প্রশাসনেও নারীর সংখ্যা গুণগতভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউক্রেনের এই সাহসী নারীরা দেশের ভবিষ্যতের জন্য সমান অবদান রেখে চলেছেন এবং তারাই দেশটিতে অসাধারণ পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে রাডা কর্তৃক পাস করা নতুন আইন নারীদের নিবন্ধিত হতে এবং টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ফোর্সে সেবা দেয়ার অনুমতি দেয়। আর এসব কারণে এবার রাশিয়ার আগ্রাসনে নারীরা অস্ত্র, মাইক্রোফোন, যুদ্ধের প্রচেষ্টাকে সমর্থন, তাদের পরিবারের ভরণপোষণ এবং প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নেয়ার সময় তাদের সন্তানদের দায়িত্ব নেয়ার মাধ্যমে ইউক্রেনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যা অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক।


উইমেনআই২৪ডটকম//এল// 1.20 pm

 

জার্মানি-কোস্টারিকা মুখোমুখি 

ওয়ালটন পেলো ‘আইসিএমএবি বেস্ট করপোরেট অ্যাওয়ার্ড’

বিশ্বব্যাপি রেমিট্যান্স ৫ শতাংশ বেড়েছে

তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারবে সরকার

নারী পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেশে-বিদেশে দায়িত্ব পালন করছে

নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক বৃত্তি বাড়াতে যুক্তরাজ্যকে আহ্বান

টাঙ্গাইলে ’নিরাপদ সড়ক চাই’ এর ২৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

নয়াপল্টনেই বিএনপির গণসমাবেশ

আলাদা হচ্ছে মেরুদণ্ড জোড়া লাগা দুই শিশু

সংসারজীবনে আমি অতিষ্ঠ : সারিকা

বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে রওশনের সাক্ষাৎ

মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ করুন: শিল্পীদের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

আমি হলেও ওই পেনাল্টি মিস করতাম না: তসলিমা

বিদেশে অর্থপাচার হওয়ার কারণ জানালেন ড. কামাল!

দেশকে তামাকমুক্ত করতে মন্ত্রীর পরিকল্পনা!

Nagad Social Islami Bank Limited