ঢাকা, বাংলাদেশ

সোমবার, অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৯, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২

English

মতামত

আমাদের জাতীয়তা এখনো কেনো

আমাদের জাতীয়তা এখনো কেনো "বাংলাদেশী"? 

আমরা দেশের জনগণ সাংবিধানিকভাবে জাতীয়তায় বাঙালী এবং নাগরিকত্বে বাংলাদেশী। কিন্তু এখনও জাতীয়তায় "বাংলাদেশী` লেখার প্রচলন রয়ে গেছে। সংক্ষুব্ধ নাগরিক হিসেবে সংবিধিবদ্ধ রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে এ প্রশ্ন। এ প্রসঙ্গে আমাদের বাংলাদেশের সংবিধানের স্পষ্ট নির্দেশনা উপস্থাপনের আগে দেখে নেই, জাতীয়তাবাদের সংজ্ঞা বলতে কী বুঝায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জে. এইচ হায়েস বলেন, ``Nationalism consists of modern emotional fusion and exaggeration of two very old phenomena-nationality and patriotism.` অর্থাৎ জাতীয়তাবাদ গঠিত হয় আধুনিক সংবেদনশীল সংমিশ্রণ এবং অতিরঞ্জন দুটি অতি প্রাচীন ঘটনা-জাতীয়তা এবং দেশপ্রেম নিয়ে। এই দার্শনিকের উচ্চারণেই দেখা মেলে - আমাদের জাতীয়তাবাদ।

পোল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

শাকিব-অপুর সম্পর্ক বিষয়ে কিছুই জানতাম না: বুবলী

জানুয়ারি থেকে নতুন সূচিতে চলবে ট্রেন

ব্যাংকে ১০ লাখ টাকা জমা দিতে কোনো প্রশ্ন নয়

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

সংবিধান সংশোধন দিবা স্বপ্ন: কাদের

সশস্ত্র বাহিনীর ৩ কর্মকর্তার রদবদল

ব্রাউজার স্লো? গতি বাড়াবেন যেভাবে

‌‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় শ্রেণি থেকে কোডিং শেখানো হবে’

ভারতের বিপক্ষে টাইগারদের জয়

নতুন বছরে কোনো অর্থনৈতিক চাপ থাকবে না: পরিকল্পনামন্ত্রী

মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের নৈতিকতা পুলিশকে বিলুপ্ত ঘোষণা

জামাত-বিএনপির সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও নাশকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

মারা গেছেন অভিনেত্রী মায়া ঘোষ 

মতামত বিভাগের সব খবর

নারীকে তার প্রাপ্য দিলে দেশ ও দশের সুফল মিলে

নারীকে তার প্রাপ্য দিলে দেশ ও দশের সুফল মিলে

বাংলার যাবতীয় ধর্মীয় ‍সাম্প্রদায়িকতা ও কুসংস্কার এবং রক্ষণশীলতার আবহমান প্রথার চৌকাঠ মারিয়ে সাবলীল দৃষ্টিভঙ্গির সংস্কৃতিতে আসতে পেরেছি আমি, আমরা ও অনেকেই। যদিও পরিবারের কাছ থেকেই আমাদের চেতনার প্রথম পাঠ ও হাতেখড়ি হয়েছিল। তবে এ কথা বলা নিতান্তই মিথ্যে নয় যে রক্ষণশীলতায় মোড়া বাংলার পারিবারিক শিক্ষার প্রথম চেতনাতেই ছেলেকেই শৌর্যবীর্যের প্রতীক হিসেবে প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। এ সমাজে একজন মেয়েকে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির ভেতরে আবদ্ধ থেকে কীভাবে শুধু ঘরের মানুষের দেখভালের দায়িত্বজ্ঞান অর্জন করবে এবং বিয়ে পরবর্তী স্বামীকে কেমন সেবা দিতে হবে এমন শিক্ষাই দেয়া হয়! শুধু বাংলায় নয়, বলতে গেলে উপমহাদেশের তথা দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ নারীই নানাবিধ বৈষম্যের শিকার, বহু বহু সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ অঞ্চলে মেয়ে হয়ে জন্মানোর খেসারত বহুবিধ। বঞ্চনার এ প্রথা ভাঙতে হবে নিজেদেরকেই। প্রতিটি নারীকেই নিজ যোগ্যতাবলে প্রমাণ করতে হবে পুরুষের চেয়ে একজন নারীও কোনো অংশে পিছিয়ে নেই।

ভীরুরা অধিকতর ক্ষমতালিপ্সু ও আনুগত্যপ্রবণ হয়

ভীরুরা অধিকতর ক্ষমতালিপ্সু ও আনুগত্যপ্রবণ হয়

এসব চাটুকারদের বক্তৃতায় থাকে নেতার বন্দনা। ফলে নেতৃত্বই দিকভ্রান্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দল। এসব চাটুকাররা ছদ্মাবরণে সমমনার মধ্যে ঐক্যবোধ সৃষ্টি করে। প্রকারান্তরে এদের বলয়ে গড়ে ওঠে একটি কাপুরুষের দল। সহানুভূতি অর্জনের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত স্বতঃস্ফূর্ত জনসভায় এদের বক্তৃতা-ভাষণে আন্তরিকতার উল্লাস মিশ্রিত থাকে। যদি নেতার একচ্ছত্র ক্ষমতা আধিপত্য থাকে। এসব ভীরুরা ধর্মকেও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। যা প্রকৃতপক্ষে ভীরু চাটুকারদের অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধকরণের একটি লোক দেখানো প্রক্রিয়া। ক্ষমতাসীন দলে এই ভীরুদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয় সরকারি আমলারা।

একজন মা, ক্যারিয়ার, সংসার

একজন মা, ক্যারিয়ার, সংসার

বিবাহিত জীবনে বা বিয়ের পর প্রতিটা মেয়েকে কতটা সংগ্রাম আর চ্যালেঞ্জ এর মধ্য দিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার গড়তে হয় সেটা শুধু একজন কর্মজীবী নারী বা একজন কর্মজীবী মা-ই উপলব্ধি করতে পারেন। একটি ছেলের পাশাপাশি একটি মেয়েকে যখন তাঁর বাবা মা বা অভিভাবক লেখাপড়া শিখিয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করেন তখন সেই মেয়েটির যেমন অনেক স্বপ্ন থাকে তেমনি তার অভিভাবকদেরও অনেক স্বপ্ন থাকে তাদের কন্যা সন্তানটিকে নিয়ে, তাঁর সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ ঘিরে। আমি যখন ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সে পড়ি তখন আমাদের একজন ম্যাডাম ছিলেন, নাম ফাহমিদা খানম। আমার খুব পছন্দের শিক্ষক ছিলেন, একদিন তিনি ক্লাসে সবাইকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ‘কেন সবাই ইংরেজি বিষয়টাকে পছন্দ করলেন, আরও তো অনেক বিষয় ছিল।’ তখন আমার অনেক সহপাঠী বন্ধুরা যুক্তি দেখিয়েছিল ইংরেজি একটি রয়েল সাবজেক্ট, ভালো ডিমান্ড, সেকেন্ড ল্যাংগুয়েজ, টিচিং প্রফেশানের জন্যও ভালো সুইটেবল ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন ম্যাডাম জিজ্ঞেস করলেন ইংরেজি সাহিত্যে ডিগ্রি নিয়ে কার কার চাকরি বা শিক্ষকতা করার ইচ্ছে। অবাক করা হলেও সত্য মাত্র এক তৃতীয়াংশ মেয়ে শিক্ষার্থী হাত তুলেছিল তারা নিজেরা কিছু করতে চায়। খুব প্রয়োজন না হলে দুএকজন বলেই ফেলেছিল তারা জব করবে না, একটা ভালো সাবজেক্ট নিয়ে পড়ার উদ্দেশ্য একটি ভালো বিয়ে হওয়া, এটা ম্যাডামের বুঝতে বাকি রইল না। ম্যাডাম সবসময় বলতেন লেখাপড়া করে শুধু ভালো একটি বিয়ে করা একটা মেয়ের কখনোই একমাত্র লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হতে পারে না। মেয়েটিকে অবশ্যই নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, নিজের আইডেন্টিটি তৈরি করতে হবে। তারপর তিনি নিজের জীবনের সংগ্রামের কথা বলেছিলেন, কিভাবে স্টুডেন্ট অবস্থায় বিয়ে করে, পরপর দুটো বাচ্চা নিয়ে প্রতিকূল পরিবেশও তিনি খুব ভালো ফলাফল করে নিজের প্রতিষ্ঠানেই আজ তিনি শিক্ষক। আজ থেকে দেড় যুগের আগের কথা শেয়ার করলাম। হে তখন বা তারও আগে মেয়েদের অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল, কারণ তখন যৌথ পরিবার ছিল, বাচ্চা দেখাশোনা করার জন্য পরিবারে লোকজন ছিল তখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানের ন্যায় ছিল না তাই কাজের লোকেরও অভাব ছিল না, এখন চিত্র পুরো ভিন্ন। এখন একটি উচ্চশিক্ষিত বিবাহিত বা সাংসারিক মেয়েকে অনেক সংগ্রাম করে ও অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার গড়তে হয়, আগের মত যৌথ পরিবার নেই, তাই বাবা মা শ্বশুর শাশুড়ি বা ভাই বোন দেবর ননদের সাপোর্ট পাওয়া যায় না; অতীতের মত গৃহপরিচারিকাও পাওয়া বেশ দুর্লভ।

পর্যটনে নতুন ভাবনা

পর্যটনে নতুন ভাবনা

২৭ সেপ্টেম্বর পর্যটন সম্প্রদায়ের জন্য একটি আনন্দঘন দিন। এই দিনটি পর্যটন পেশাজীবীদের জন্য স্মরণীয় ও বরণীয় দিন। প্রতি বছর মহা সমারোহে বিশ্বব্যাপী বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘের অধীনে গড়ে উঠা বিশ্ব পর্যটন সংস্থা ১৯৮০ সাল থেকে এই দিবসটি উদযাপন করে থাকে। বিশ্ব পর্যটনের সেতুবন্ধন সৃষ্টি ও প্রচার -প্রসার, পর্যটন সচেতনতা, পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে তুলে ধরা এই দিবসটি মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। প্রতি বছর একটি করে প্রতিপাদ্য বিষয় ঠিক করা হয়। যে প্রতিপাদ্য বিষয়কে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ পর্যটন সংস্থার সদস্য দেশগুলো পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ড চলমান রাখে।

সাজেদা চৌধুরীর রাজনীতিতে হাতেখড়িটা যেন রূপকথার গল্প

সাজেদা চৌধুরীর রাজনীতিতে হাতেখড়িটা যেন রূপকথার গল্প

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সারিতে থাকা সর্বাপেক্ষা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ছিলেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। মহীয়সী এ নারীর রাজনীতিতে নাম লেখানোর ইতিবৃত্তটা অনেকটা রূপকথার গল্পের মতো। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁকে কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। দীর্ঘদিন অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়েছেন। ৮৭ বছর বয়স জয় করেছেন। পৃথিবীর মায়াত্যাগ করে প্রস্থান হলেও আওয়ামী লীগের ভেতরে তথা জাতীয় রাজনীতির ইতিহাসে সুনিপুণভাবে স্বর্ণাক্ষরে লিখে রেখে গেছেন নিজের নামটি । পৌনে এক শতাব্দীকাল ধরে প্রদীপ্তমান যে আওয়ামী লীগের শৌর্যবীর্যে পরিচালিত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি, সেই দলটির একমাত্র নারী সাধারণ সম্পাদক তিনি- সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। মৃত্যুবরণ করেছেনও সংসদ উপনেতার আর দলীয় সভাপতিমণ্ডলীর এক নম্বর সদস্য পদবীর ভূষণ গায়ে জড়িয়ে। মহান স্রষ্টা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের শুরুর গল্পটা এখন তুলে ধরছি।