ঢাকা, বাংলাদেশ

বুধবার, জ্যৈষ্ঠ ১৪ ১৪৩১, ২৯ মে ২০২৪

English

আপন ভুবন

রেলগাড়ি ঝমাঝম

রেলগাড়ি ঝমাঝম

আমার এই গোটা জীবনের সাথে রেল গাড়ির বেশ অদ্ভুত একটা যোগাযোগ রয়েছে। নিতান্ত কাকতালীয়ভাবে হলেও সারাজীবন আমি রেল লাইন বা রেলওয়ে স্টেশনের আশেপাশে বসবাস করে চলেছি। জন্ম হলো বগুড়া শহরের রেলস্টেশন লাগোয়া একটা পাড়ায়। সেই সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি রেলগাড়ির পু ঝিক ঝিক, কর্ণ বিদীর্ণ করা রেলগাড়ির হুইসেল, স্টেশনে অজস্র মানুষের কোলাহল, ফেরিওয়ালার হাঁকডাক এইসব নানাবিধ শব্দ পুঞ্জকে সাথী করে কখন যেন বড় হয়ে গেলাম। ঝরে গেল মুকুলিত শৈশব, পা দিলাম বিকশিত কৈশোরে। তবু অনিবার কানে বেজে গেছে পু ঝিক, ঝিক। ছাদে দাঁড়ালে দেখা যেত অনতিদূরে রেল গাড়ির সারি। ঠিক যেন কেন্নো পোকা রেল লাইন ধরে এঁকেবেঁকে এগিয়ে চলেছে। এইসব দেখাশোনার মাঝেই কখন পৌঁছে গেলাম কুসুমিত তারুণ্যে। উচ্চমাধ্যমিকের পর লেখাপড়ার জন্য চলে এলাম ঢাকায়। ভাবলাম এই ঘিঞ্জি নগর জীবনে রেলপথ আমায় পরিত্রাণ দিল। কিন্তু বুকের মধ্যে কিসের সূক্ষ্ম ব্যাথা! রেলের হুইসেল ততদিনে আমার কাছে শ্যামের বাঁশী। তারে না পারি ছাড়িতে, না পারি ধরিতে। সে বাঁশীর সুর আর পৌঁছবেনা আমার নতুন আবাসে, নিশ্চিত ছিলাম। কিন্তু না, বিধি সহায়। আবার বসবাস শুরু হলো রেললাইনের সাথে নৈকট্য বজায় রেখে। মহাখালী রেল লাইন ক্রস করে একটু এগিয়ে। বাড়ি বসে কান পাতলে মৃদু একটা রেল চলাচলের শব্দ ঠিকই পাওয়া যেত। এরপর সংসার হল। ভাবলাম আর বুঝি রেলগাড়ির সাথে সংযোগ ঘটবে না। চিরজনমের মত এবার ছাড়াছাড়ি হয়েই গেল। ওমা কি সে কি? পাকেচক্রে বসবাস শুরু করলাম মগবাজারে। সেই রেল লাইন পেরুতে হতোই।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়