ঢাকা, বাংলাদেশ

বুধবার, জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪৩১, ২৯ মে ২০২৪

English

মতামত

১৯ মে আর ভুলে যেতে বসা দুই বোন

অশোক সেনগুপ্ত

প্রকাশিত: ১২:২০, ১৯ মে ২০২৩

১৯ মে আর ভুলে যেতে বসা দুই বোন

অশোক সেনগুপ্ত

২১ ফেব্রুয়ারি শুরুর আগে থেকেই ভাষাপ্রেমের জেরে আমাদের মাতামাতি শুরু হয়। কেউ মনে রাখিনা ১৯ মে-র কথা। অনেকের সাথে দুই বঙ্গললনা কমলা আর মঙ্গলার অবদানের কথা আজ লোকে ভুলে যেতে বসেছে। 

১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় বিতর্কিত গণভোটের মাধ্যমে অসমে সিলেট (শ্রীহট্ট) জেলা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। কমলারা পাকিস্তানেই থেকে যান। কিন্তু ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের সার্বিক গণহত্যা আরম্ভ হলে তার রেশ সিলেট (শ্রীহট্টে)ও এসে পড়ে। কমলার পরিবার শরণার্থী হিসেবে অসমে চলে আসতে বাধ্য হন। তারা সিলেট(শ্রীহট্টের) পার্শ্ববর্তী অসমের কাছাড় জেলার শিলচরে এসে আশ্রয় নেন। 

১৯৬১ সালে কমলা ম্যাট্রিক পরিক্ষায় বসেন। ম্যাট্রিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার ঠিক পরের দিন শিলচর রেল স্টেশনে মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার দাবিতে টি পিকেটিংএর ডাক দেওয়া হয়। সেদিন সকালে, অর্থাৎ‌ ১৯শে মে সকালে  কমলাও পিকেটিং-এ যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। সকালে স্নান করে মেজদিদির জন্য রাখা শাড়ীটা পড়ে নেন কমলা। মেজদিদি পিকেটিং-এ যেতে বারণ করলেও শোনেন না কমলা। এমন সময় ২০-২২ জনের টি মেয়েদের দল কমলাদের বাড়ীতে আসে কমলাকে নেওয়ার জন্য। কমলার মা উদ্বেগ প্রকাশ করলে তারা কমলার মাকে বুঝিয়ে রাজী করেন। 

কমলার মা কমলাকে  টুকরো কাপড় দেন কাঁদানে গ্যাস থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য। কমলার সাথে বেড়িয়ে পড়ে তাঁর ছোট বোন মঙ্গলা, ছোট ভাই বকুল, ও বড়দির ছেলে বাপ্পা। দুপুরবেলা কমলার মা দুশ্চিন্তা করতে করতে নিজেই চলে যান রেল স্টেশনে। বকুল ও বাপ্পাকে বার পুলিশে ধরেছিল আবার ছেড়েও দিয়েছে। মাকে দেখতে পেয়েই ছুটে আসেন কমলা, মায়ের ধূলিধূসরিত পা ধুয়ে দিয়ে, শরবত খেতে দেন। মায়ের সমস্ত দুশ্চিন্তা দূর করে মাকে বাড়ী পাঠিয়ে দেন।

সেদিন সকালে রেল অবরোধ কর্মসূচী শান্তিপূর্ণভাবেই  হয়। দুপুরের পর থেকেই অসম রাইফেল্‌সের জওয়ানরা জায়গাটাকে ঘিরে ফেলতে শুরু করে। বেলা ২-৩৫ নাগাদ বিনা প্ররোচনায় তারা অবস্থানকারী ছাত্রছাত্রীদের নির্মমভাবে লাঠি ও বন্দুকের কুঁদো দিয়ে পেটাতে থাকে। এলোপাথারি লাঠিচার্জে অবস্থানকারী জনতা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় ও দিকবিদিকজ্ঞানশুন্য হয়ে যে যেদিকে পারে পালাতে থাকে। কমলার ছোটবোন মঙ্গলা পুলিশের লাঠির ঘায়ে মাটিতে পড়ে যান, ও সাহায্যের জন্য কমলার উদ্দেশ্যে চিত্কার করতে থাকেন। অসম রাইফেল্‌সের জওয়ানরা পলায়নরত জনতার উপর গুলিবৃষ্টি শুরু করে। 

মঙ্গলাকে বাঁচাতে কমলা ছুটে গেলে টি গুলি তার চোখ ভেদ করে তার মাথা চুরমার করে দেয়। অন্যন্য আহত ও গুলিবিদ্ধ অবস্থানকারীদের সাথে কমলাকেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখনেই তার মৃত্যু হয়। মঙ্গলাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  মাস বাদে তার জ্ঞান ফিরলেও বাকি জীবনটা তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু হয়ে যান।

১৯৬০ সালে আসামের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) বিমলা প্রসাদ চালিহার সিদ্ধান্তে এবং মন্ত্রীসভায় অসমিয়া জনপ্রতিনিধির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে অসমিয়া ভাষাকে বরাক উপত্যকা সহ সমগ্র আসামের সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে পাশ হয় ‘Assam Official (Language) Act, 1960’।

শচীন্দ্রমোহন পাল, কানাইলাল নিয়োগী, কুমুদ দাস, তরণী দেবনাথ, হীতেশ বিশ্বাস, চণ্ডীচরণ সূত্রধর, সুনীল সরকার, সুকোমল পুরকায়স্থ, বীরেন্দ্র সূত্রধর এবং সত্যেন্দ্রকুমার দেবের সঙ্গে সবার প্রথমে বরাকের ভাষা শহিদ হিসেবে উচ্চারিত হয় কমলা ভট্টাচার্যের নাম। আজও সেই শিলচর পাবলিক স্কুল রোডে গেলে দেখা যাবে সেই রাস্তার নাম পালটে করা হয়েছে কমলা ভট্টাচার্য রোড। কমলার সেই স্কুল ছোটেলাল শেঠ ইন্সটিটিউটে বসেছে তাঁর আবক্ষ মূর্তি।

না। আজ ফেসবুকের দেওয়াল ভরে ওঠেনি সেই ভাষাশহীদদের স্মৃতিতে। অর্ধেক ইংরেজি-সহ বাংলা কথা বলে এবং লিখে আমরা আত্মতৃপ্তি বোধ করি। কমলা-মঙ্গলা দুই বোন বুঝি হারিয়ে গিয়েছেন বিস্মৃতির গহ্বরে। 

ঋণ— উইকিপিডিয়া, সিমন রায় (বঙ্গদর্পন)।
 

//জ//

অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন সাবিনা-রিতুরা

মাঝরাতে জবি মসজিদে ঘুমন্ত ছাত্রী!

এখনও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন সোয়া কোটির বেশি গ্রাহক

ফেসবুকে এমপি আনারের মেয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

অনলাইন যৌন হেনস্তার শিকার ৩০ কোটিরও বেশি শিশু

ইন্দোনেশিয়ায় স্বর্ণপদক জিতলেন বাংলাদেশের নারীরা

ভাইরাল ছবিটি নিয়ে যা জানা গেল

ডিএসইসি এর সাথে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের মতবিনিময় 

এমপি আনারের দেহাংশ উদ্ধারের দাবি

স্ত্রী-সন্তানসহ বেনজীরকে দুদকে তলব

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলো ইউরোপের তিন দেশ

হানিট্রাপে হত্যার শিকার আনার, শিলাস্তির গ্রামের বাড়ি শূনশান

ধানের দাম কমায় সরবরাহ ঘাটতি আশুগঞ্জ মোকামে

ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার হলেন হালিমা আক্তার

আজিজ, বেনজীরে অস্বস্তিতে নেই সরকার: কাদের