ঢাকা, বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার, ৪ বৈশাখ ১৪৩১, ১৮ এপ্রিল ২০২৪

English

মতামত

নেত্রী চায় উৎসব মুখর নির্বাচন: নেতাকর্মী সংঘাতে কেন? 

মোঃ মাহমুদ হাসান 

প্রকাশিত: ০৯:৪১, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩

নেত্রী চায় উৎসব মুখর নির্বাচন: নেতাকর্মী সংঘাতে কেন? 

মোঃ মাহমুদ হাসান ........................................ ছবি: সংগৃহীত

গণতন্ত্রের অন্যতম মৌল নিয়ামক সহনশীলতা। নিজ নিজ পছন্দ অনুযায়ী মতামত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্যই গণতন্ত্রের আবির্ভাব। আর যে বা যাঁরা এই প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে জনগণের মতামতকে সানন্দে মেনে নেয়ার মানসিকতা ধারণ করেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তিনিই নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। স্বাধীনতা উত্তর কাল থেকেই আমাদের গনতন্ত্র বারবার হোঁচট খেয়েছে। তবুও এ অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কে সুদৃঢ় করতে প্রাণপণে চেষ্টা চালিয়ে ছিলেন। ৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু তথা আওয়ামী লীগের প্রতি বাংলার জনগণ যদি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সমর্থন না দিতো, তাহলে একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ কখনো সর্ব সাধারনের যুদ্ধ হিসেবে পরিগণিত হতো না। তাই এটি নির্দ্বিধায় বলা যায়, নিঃশঙ্ক চিত্তে, উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত সত্তরের সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের উৎপত্তিতে অন্যতম উপাদান হিসেবে কাজ করেছিল। আর এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক তথা বিশ্বের অন্যতম জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। 

পঁচাত্তর এর বিয়োগান্তক ঘটনা, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে গনতন্ত্রের ছন্দপতন ঘটায়। একের পর এক সামরিক শাসকদের ছায়াতলে গড়ে উঠে রাজনৈতিক দল। গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে ভোটাধিকার হরণ করে শাসকগোষ্ঠী তাদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গণতন্ত্রের নামে এক হোলি খেলা চালু হয়। এভাবেই চলে যায় প্রায় দু’যুগ। পেশাজীবীদের অব্যাহত সমর্থন, গনতন্ত্রের প্রতি ছাত্র সমাজের অব্যাহত আন্দোলনের চাপে গড়ে উঠে সাত দলীয়,পনেরো দলীয় ঐক্যজোট। যুগপৎ আন্দোলনে বিদায় নেয় ভোটাধিকার হরনকারী একনায়ক সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়েই ৯১, ৯৬ আর ২০০৮ সালে গণতন্ত্রের পূণ: আবির্ভাব হয়েছিল। দুঃখজনক হলেও সত্যি, ছলে, বলে, কৌশলে জনগণকে পাশ কাটিয়ে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করার অপকৌশলে বারবার হোচট খেয়েছে গণতন্ত্র, ভোটাধিকারের উৎসব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সাধারণ মানুষ। 

ইতিহাসের দীর্ঘতম সময় ক্ষমতায় থেকে ঈর্ষণীয় উন্নয়ন উপহার দিয়ে শেখ হাসিনা অনন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের মুকুট পেলেও, জনগণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দেয়ার চ্যালেঞ্জটি এখনো রয়ে গেছে। দেশি-বিদেশি উদ্বেগ সেই চ্যালেঞ্জটি কে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে, ৭ই জানুয়ারি একটি উৎসব মূখর ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়ে একদিকে তিনি জনগণের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন প্রতিষ্ঠায় যেমন বদ্ধপরিকর, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে প্রমাণ করতে চান বাংলাদেশেও ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে বিনা বাঁধায় জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার সুযোগ আছে। শতাধিক আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ, এমন সম্ভাব্য পরিস্থিতিরই ইঙ্গিত বহন করে। 

উল্টোদিকে, ‘জনগণ নয় শেখ হাসিনাই ক্ষমতায় আনবেন’, এমন ধারণা পোষণকারী কিছু সংখ্যক রাজনৈতিক নেতা যেন কোনভাবেই শেখ হাসিনার সদিচ্ছার সাথে তাল মেলাতে পারছেন না। পরিস্থিতি বৈরী করে তুলছেন, সংঘাত ও সহিংসতার পরিস্থিতি তৈরি করে বঙ্গবন্ধু কন্যার সদিচ্ছাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। কেন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে কিছু সংখ্যক মানুষ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন, এ নিয়ে তাদের যেন ক্ষোভের সীমা নেই। মনে হয় সেই সকল নেতারা গণতন্ত্রের চর্চা করতে গিয়ে মহাঅন্যায় করে ফেলেছেন। তাই শক্তি মত্তা আর দাপট দেখিয়ে, এদের মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে পারলেই যেন গণতন্ত্র বেঁচে যায়! আর এ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রায় শতাধিক সংঘাতের খবর পত্রপত্রিকায় প্রচারিত হয়েছে। মাদারীপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা বেগমের সমর্থক এসকেন্দার খা, ফিরোজপুরের বটতলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে এম আউয়াল এর সমর্থক লালন ফকির নিহত হয়েছেন। ফরিদপুরে একে আজাদের নির্বাচনী সমন্বয়ককে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে, ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে নির্বাচনী অফিস। এ পর্যন্ত নির্বাচনী সংঘাতের প্রায় শতাধিক খবর মিডিয়া প্রচারিত হয়েছে। কক্সবাজারের পনেরো জন স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়ে আকুতি জানিয়েছেন। 

বহিঃশক্তির নানা ষড়যন্ত্র কে উপেক্ষা করে দৃঢ় চিত্তে বঙ্গবন্ধু কন্যা এগিয়ে যাচ্ছেন। অবস্থাদৃষ্টে স্পষ্ট প্রতীয়মান দলীয় সরকারের অধীনে, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে সরকার প্রধান আর নির্বাচন কমিশন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আসন্ন নির্বাচনটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ বেশিরভাগ প্রার্থী একই আদর্শের অনুসারী। এটি নিশ্চিত করেই বলা যায়, দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকারে আসছে শেখ হাসিনার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, আর বিপরীতে স্বতন্ত্র বিজয়ীদের সংখ্যাটি যে বেশি হবে তাও অনুমান করা যায়। মোটকথা সবাই বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ আর স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি সরকার গঠিত হলে, বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি হবে বাঁধাহীন, শেখ হাসিনা হবেন বিশ্ববরেণ্য। 

মাত্র ৬০ থেকে ৭০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আর সেসব আসনগুলোতে মরিয়া হয়ে উঠেছে আওয়ামীলীগ। এসব আসনে কিছু সংখ্যক রাজনীতি সংশ্লিষ্ট মানুষ জন-আকাঙ্ক্ষা আর শেখ হাসিনার চাওয়া পাওয়া কোন কিছুর প্রতিই শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করে, তারা যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে মরিয়া। কেউ বলছেন হাত কেটে দিবেন, কেউ বলছেন সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে বিজয় নিশ্চিত করবেন। যার ফলশ্রুতিতে ছড়িয়ে পড়ছে সংঘাত, সহিংসতা, উদ্বিগ্ন হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বল প্রয়োগ, সংঘাত, সহিংসতায় যদি নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে এই উদ্বেগ শেখ হাসিনার সদিচ্ছাকে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ করবে, মোটা দাগে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ। 

অনেকেই হয়তো বলবেন, তৃতীয় বিশ্বের দেশের নির্বাচনে কিছু সংঘাত, সহিংসতা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এটি অস্বীকার করার উপায় নেই বৃহত্তম বিরোধীদল বিহীন নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার চ্যালেঞ্জটি অবশ্যই অস্বাভাবিক। আর এ চ্যালেঞ্জটিকে গ্রহণযোগ্য করতে প্রাণপণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী, শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাদের উচিত- ব্যতিক্রমী এই চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করা। 

সময় যত ঘনিয়ে আসছে, উৎসব মুখর নির্বাচনের মাঠে সংশয় সন্দেহ বাড়ছে। একদল অতি উৎসাহী মানুষের বেপরোয়া কার্যক্রম, সেই সংশয় আর সন্দেহ কে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি তো নিশ্চিত, অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেই বিজয়ের পথে বঙ্গবন্ধুর দল। মাত্র অর্ধ শতাধিক আসনে তীব্র প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এটি তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এ পরিবেশ বিনষ্ট করে, যারা বঙ্গবন্ধু কন্যার সহযোগী হতে চান, এঁরা মূলত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ শেখ হাসিনার সদিচ্ছা আর প্রত্যাশার বিপক্ষেই লড়ে যাচ্ছেন। সংঘাত সহিংসতার আশ্রয় নিয়ে তাদের এ লড়াই উৎসবমুখর নির্বাচনের পথে যেমন অন্তরায় সৃষ্টি করবে, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও প্রশ্নবিদ্ধ হবে নির্বাচন, চুড়ান্ত বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ। তাই নির্বাচন কমিশন আর সরকারের উচিত, আর সময় ক্ষেপণ না করে সুকঠিন হস্তে সংঘাত, সহিংসতার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা, উৎসবমুখর পরিবেশে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পরিস্থিতি তৈরী করা। যদি তাই হয়, তবে একদিকে যেমন জিতে যাবে দেশ, অন্যদিকে একটি ক্ষমতাশীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করে গণতান্ত্রিক বিশ্বে বঙ্গবন্ধু কন্যা হবেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক বিরল অনুকরণীয় মডেল। 

লেখক: কলামিস্ট ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষক 
 

//জ//

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমলো

ফুলবাড়ীতে দিনব্যাপী প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী

সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ

ঠাকুরগাঁও জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা

খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

৭ বিভাগে বজ্রসহ শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস

শুক্রবার থেকে ভারতের লোকসভা নির্বাচন শুরু

পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন

বনানীতে চালু হলো চীনা ভিসা সেন্টার

গুলশান বারের সামনে মদ্যপ তরুণীদের হাতাহাতি-চুলাচুলি

ফের এক হচ্ছেন তাহসান-মিথিলা

নোয়াখালীতে মাদরাসাছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

গরম লাগলেই ঠান্ডা পানি খান? জানুন কী ভুল করছেন

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি: প্রধানমন্ত্রী

সেই রাতে ৮৭ হাজার টাকার মদ পান করেন পরীমণি