ঢাকা, বাংলাদেশ

সোমবার, অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৯, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২

English

মতামত

‘মুজিব বাংলার মানুষকে ফেলে বেহেশতে গেলেও শান্তি পাবেনা’

সোহেল সানি

প্রকাশিত: ১৫:০৮, ১৩ নভেম্বর ২০২২; আপডেট: ১৫:৫২, ১৩ নভেম্বর ২০২২

‘মুজিব বাংলার মানুষকে ফেলে বেহেশতে গেলেও শান্তি পাবেনা’

ছবি: সোহেল সানি

বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনায় জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র-কে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলমন্ত্ররূপে গ্রহণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমটি ‘জাতীয়তাবাদ’ সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আমার দেশ স্বাধীন দেশ। ভারত হোক, আমেরিকা হোক, রাশিয়া হোক, গ্রেট বৃটেন হোক- কারো এমন শক্তি নাই যে, আমি যতক্ষণ বেঁচে থাকি ততক্ষণ আমার দেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারে। একদল লোক বলছে মুজিবুর রহমান লন্ডন চলে যাবে। কিন্তু মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ ছেড়ে কোথাও যাবে না। মুজিবুর রহমান বাংলার মানুষকে ফেলে বেহেস্তে গেলেও শান্তি পাবে না।’

বঙ্গবন্ধু কতটা দেশপ্রেমিক  জাতীয়তাবাদী নেতা ছিলেন উপর্যুক্ত বক্তব্যেই তা প্রোজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধুর বেঁচে থাকা অবস্থায় বিদেশী কোনো শক্তিই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেনি। অভ্যন্তরীণ হস্তক্ষেপের যদি সুযোগই থাকতো তাহলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর ৯০ হাজার সদস্যকে বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে নিজদেশে ফিরিয়ে  নিতেন না। বিশ্বে বহুদেশের স্বাধীনতাত্তোর মিত্রবাহিনীর দীর্ঘসময় ধরে থেকে যাবার নজীর ছিলো। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হিমালয়সম ব্যক্তিত্বের কারণে সেই সুযোগ পাননি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। 

অথচ যাঁর বাহিনীর কল্যাণে দ্রুত পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণ এবং  ও যাঁর হুশিয়ারীতে পাকপ্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টো বঙ্গবন্ধুর ফাঁসির কার্যকারিতার আদেশ প্রত্যাহার করে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। উল্লেখ্য. চার জানুয়ারী ১৯৭২ পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি কারাগারে  বঙ্গবন্ধুর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিলো। যাহোক সেই মিত্র  ইন্দিরার গান্ধীর কাছেও নতজানু হননি বঙ্গবন্ধু। বরং চোখলজ্জা ভুলে গিয়ে বলেছিলেন," আমার দেশ থেকে কবে আপনার ৯০ হাজার সৈন্য প্রত্যাহার হবে?"  জবাবে ইন্দিরা গান্ধীকে বলতে হয় ‘আপনার জন্মদিনের আগেই’। সত্যাসত্যই বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের দুদিন আগেই ১৫ মার্চ-১৯৭২ মিত্রবাহিনীকে ভারতে ফিরে যেতে হয়। বঙ্গবন্ধু জাতীয়তাবাদী চেতনাশক্তির প্রকৃতিরূপ কতটা হৃদয়গ্রাহ্য হতে পারে, তার উদাহরণ দিচ্ছি। আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য এবং গৌরবোজ্জ্বল। কৃতজ্ঞতা প্রকাশে বাংলাদেশ কখনও কার্পণ্য করে না। কিন্তু সেই সুবাদে নানা অবিমৃষ্যকারীতা নীরবে সহ্য করে যেতে হবে এটাও একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতির কাম্য হতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর সার্বভৌম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় কতবড় জাতীয়তাবাদী নেতা ছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের পরপরই তাঁর এক ঝানু আমলা শ্রী ডিপি ধরকে বাংলাদেশে পাঠান। সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের প্রশাসনকাঠামো গঠনেও সহায়তা করবেন এ রাষ্ট্রদূত (হাই কমিশনার)। এ জন্যই তাঁর আসা। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে রাষ্ট্রদূত ডি পি ধর আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করলেন রাতের এক সমভিব্যাহারে। সৌজন্যমূলক কুশলাদি বিনিময়ের পর বঙ্গবন্ধু  বলেন, ‘মি. ধর, কবে দিল্লী ফিরে যাচ্ছেন? এসেছেন মাত্র। কয়েকটা দিন আমাদের এখানে কাটান। বাংলাদেশ মাছের দেশ। এখানকার পদ্মার ইলিশ খুবই উপাদেয় ও মজাদার। কয়েকদিন থেকে মাছ-টাছ খান, তারপর যাবেন। ডি পি ধর তো হতবাক, প্রথম সাক্ষাতে তাঁকে ফিরে যাওয়ার তাগিদ? কিন্তু কেন? সরকারের প্রশাসনকাঠামো গঠনের কোন ইঙ্গিতও নেই। তাহলে?  ‘ডিপি পি ধর ওদিনই বার্তা পাঠালেন দিল্লিতে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যা বোঝার বুঝলেন। তিনি দ্রুত ঢাকা ত্যাগের নির্দেশ দিলেন মি. ধরকে। প্রধানমন্ত্রীর সচিব ছিলেন রফিকউল্লাহ চৌধুরী (স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর পিতা ও পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের এককালীন সভাপতি)। রফিকউল্লাহ চৌধুরীর বরাত দিয়ে তৎকালীন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের (পরবর্তীতে এরশাদের উপপ্রধান মন্ত্রী) ভাষ্যমতে, ‘বঙ্গবন্ধু ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে মিত্রবাহিনীকে বিদায় দেয়া যেমন সম্ভব ছিলো না, তদ্রূপ সরাসরি ডি পি ধরকে অপ্রস্তুত করে ফেলে দিল্লিতে ফেরানোর পথনির্দেশ দেয়াও সম্ভব ছিলো না। আসলে ‘স্বাধীনতার তেজ ছিল বঙ্গবন্ধুর মজ্জাগত। তিনি মনে করেছেন, হ্যাঁ, প্রয়োজনে ওদের সাহায্য নিয়েছি, সে জন্য কৃতজ্ঞচিত্তে সর্বদা স্বীকার করবো। কিন্তু তাই বলে, আমরা কারো মাখা তামাক খা না।’ কেউ অহেতুক অভিভাবক হয়ে দাঁড়াবে এটা বঙ্গবন্ধুর কাছে বাঞ্ছনীয় ছিল না। বঙ্গবন্ধু একজন সত্যিকারের স্বাধীনচেতা মানুষ ছিলেন এবং যতবড় বন্ধুই হোক ভিনদেশের অছিগিরি তাঁর অত্যন্ত অপছন্দনীয় ছিল।

বঙ্গবন্ধু অন্যতম মূলনীতি "ধর্মনিরপেক্ষতা" সম্পর্কে বলেন, ‘বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। ধর্মনিরপেক্ষ মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমান মুসলমানের ধর্ম পালন করবে, হিন্দু তার ধর্ম পালন করবে, খ্রীষ্টান তার ধর্ম পালন করবে, বৌদ্ধ তার ধর্ম পালন করবে। এ মাটিতে ধর্মহীনতা নেই, ধর্মনিরপেক্ষতা আছে। এর একটা মানে আছে। এখানে ধর্মের নামে ব্যবসা চলবে না। ধর্মের নামে মানুষকে লুট করে খাওয়া চলবে না। ধর্মের নামে রাজনীতি করে রাজাকার, আলবদর হওয়া চলবে না এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। রাজনীতির অঙ্গনে ‘ঢাক ঢাক গুড়গুড় নীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। জনগণের জন্য যা চাই তা সুস্পষ্ট ভাষায়, সরাসরি ঘোষণা করি। এ কারণে কখনো ইসলামবিরোধী, কখনো রাষ্ট্রদ্রোহী, কখনো বিচ্ছিন্নতাবাদী আবার কখনো বিদেশী চরের আখ্যা পেতে হয়েছে।’’

বঙ্গবন্ধু সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে আরো একটি নজীর স্থাপন করেন। শত্রুবাহিনীর দেশ পাকিস্তান সফর করে। ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ মুসলিম দেশসমূহের ইসলামিক সম্মেলন। গণভবনে বৈঠক ডাকা হলো। বঙ্গবন্ধুর যোগদান প্রশ্নে প্রথমেই ‘না’ যাওয়ার পক্ষে মত দিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী  তাজউদ্দীন আহমদ। ওই সময় তিনি অর্থমন্ত্রী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ না যাওয়ার পক্ষে। আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেনসহ অনেকের মুখেই "না" উচ্চারিত হলো। তাঁরা বলছিলেন, "ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসাবে ইসলামি সম্মেলনে যোগদান ঠিক হবে না।’

দেশের শতকরা ৯০ জন মুসলিম এবং পৃথিবীতে দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র।। ইসলামিক সম্মেলনে না যাওয়া হবে দেশের মানুষের ধর্মানুভূতির প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শনেরই নামান্তর।

বঙ্গবন্ধু যাওয়ার পক্ষেই অবস্থান নিলেন। এ অবস্থায় না যাওয়ার পক্ষে যাঁরা মত দিয়েছেন, তাঁরা প্রস্তাব করেন, ঠিক আছে- যেতে চান যখন যান, কিন্তু যাত্রাপথে দিল্লিতে নেমে ওদের সঙ্গে একটু কথা বলে গেলে সবদিক রক্ষা হয়। তৎকালীন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের ভাষায়, ‘বঙ্গবন্ধু টেবিল চাপড়িয়ে রীতিমতো ক্রুদ্ধ কণ্ঠে চিৎকার করে বললেন, আমি কারো মাখা তামাক খাই যে, আমাকে মাঝপথে নেমে কারো মত নিতে হবে? তোমরা ভেবেছো কী? আমাদের সার্বভৌম দেশ। কী করবো, না করবো, আমরা সাব্যস্ত করব। কাউকে ট্যাক্স দিয়ে চলার জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। পিন্ডির গুহা থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে আমরা দিল্লির গর্তে ঢুকব– আমার জীবদ্দশায় তা হবে না। তোমরা যে যা মনে কর, কর, আমি ইসলামাবাদ যাব, সরাসরি যাব।’

বঙ্গবন্ধু ঠিকই ইসলামী সম্মেলনে যোগ দেন। 

বঙ্গবন্ধু সংবিধানের অন্যতম দুই নীতি  ‘গণতন্ত্র’ ও ‘সমাজতন্ত্র’ এর ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সমাজতন্ত্র হবে দ্বিতীয় স্তম্ভ। এ সমাজতন্ত্র আমি দুনিয়া থেকে ভাড়া করে আনতে চাই না, এ সমাজতন্ত্র হবে বাংলার মাটির সমাজতন্ত্র। এ সমাজতন্ত্র বাংলার মানুষের সমাজতন্ত্র, তার অর্থ হলো শোষণহীন সমাজ, সম্পদের সুষম বন্টন। বাংলাদেশে ধনীদের আর ধন সম্পদ বাড়াতে দেব না। বাংলার কৃষক, মজদুর, শ্রমিক, বাংলার বুদ্ধিজীবী এ দেশে সমাজতন্ত্রের সুবিধা ভোগ করবে। সমাজতন্ত্র যেখানে আছে সেদেশে গণতন্ত্র নাই। দুনিয়ায় আমি বাংলার মাটি থেকে দেখাতে চাই যে, গণতন্ত্রের মাধ্যমে আমি সমাজতন্ত্র কায়েম করবো। আমি ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। আমি জনগণকে ভালোবাসি, আমি জনগণকে ভয় পাই না। দরকার হলে আবার ভোটে যাবো।’’ 

১৯৭২ সালের চার নভেম্বর  বঙ্গবন্ধুর সংবিধানের ওপর  ভাষণের পর গণপরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশের সংবিধান পাস করে। যা ১৯৭২ সালের ষোল ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়। অর্থাৎ প্রথম  বিজয় দিবসে দেশ-জাতি অমূল্য সম্পদ সংবিধান উপহার লাভ করে। এবং সংবিধানের অধীনে ১৯৭৩ সালের সাত মার্চ সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রথম জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। 

বঙ্গবন্ধু নিহত হবার পর খুনী খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির পদ অবৈধভাবে দখল করলে সংবিধান ও সংসদ বহাল রাখেন। চার মূলনীতির কোন পরিবর্তন করার দুঃসাহস দেখাননি। রাষ্ট্রপতির ভাষণে যে কথাগুলো খুনী মোশতাক  বলেছিলেন, তন্মধ্যে সবচেয়ে প্রণিধানযোগ্য হলো, ‘অন্য কোনো উপায়ে ক্ষমতার পরিবর্তন অসম্ভব হওয়ায় সামরিকবাহিনী হত্যার মাধ্যমে শেখ মুজিব সরকারকে উৎখাত করেছে।’
 
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি মুসলমান। মুসলমান একবারই মরে। বারবার মরে না। আসলে কী বঙ্গবন্ধু মরেছেন? দৈহিকভাবে তিনি না থাকলেও তিনি বিশ্বময় দৃশ্যমান। 

সংবিধানের প্রস্তাবনা সম্পর্কিত রাষ্ট্রীয় মূলনীতির ওপর চরম আঘাত হানেন খুনী মোশতাকের নিয়োগকৃত সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান। রাষ্ট্রপতি হবার পর তিনি মোশতাকের ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সকেও সংসদে পাস করিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচারের পথই রুদ্ধ করে দেন খুনীদের বৈদেশিক কুটনীতিক বানিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করান। জেনারেল জিয়া সংবিধান থেকে  "ধর্মনিরপেক্ষতা" নীতিটিই উচ্ছেদ করে ফেলেন। ধর্মভীরু মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে প্রস্তাবনার উপরে জুড়ে দেন "বিসমিল্লাহির রহমানের রাহিম।"  নীতির মধ্যে সর্বশক্তিমান আল্লাহর নাম ব্যবহার করে সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ কর্তন করে দেশে ধর্নীয় রাজনীতির প্রবর্তন করেন। কার্যত তিনি এভাবেই স্বাধীনতা বিরোধীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসন করেন। এমনকি তাদের অনেককে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী,এমপি করা হয়।

জেনারেল জিয়া ‘জাতীয়তাবাদ’ নীতির ব্যাখ্যা সম্পর্কিত অনুচ্ছেদে "বাঙালির" স্থলে "বাংলাদেশী" শব্দ স্থাপন করে ইতিহাস ঐতিহ্য ও কৃষ্টিকে ধুলোয় মিশিয়ে দেন। প্রস্তাবনা থেকে মুক্তিসংগ্রাম  কথাটিই তুলে দেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ করা হয় জাতির পিতাকে।

যা ছিলো স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কিত সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। কারণ সাংবিধানিকভাবেই বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা ও স্বাধীনতার ঘোষক। জেনারেল জিয়া  জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যায় নাগরিকত্ব ও জাতীয়তাকে গুলিয়ে ফেলেন। পরবর্তীতে জেনারেল এরশাদ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করে তা সংবিধানে সন্নিবেশিত করেন।

"আইনের হাত লম্বা, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলে" চিরাচরিত এ প্রবাদ দেরীতে হলেও সত্য প্রমাণিত হয়। মহামান্য   সুপ্রিমকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ মূলনীতিগুলো পুনর্স্থাপিত হয়।  জাতীয়তা ও নাগরিকত্বের পার্থক্যও নির্দিষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ আমরা বাংলাদেশের জনগণ জাতীয়তাবাদ- বা জাতীয়তায়- বাঙালী এবং নাগরিকত্বে- বাংলাদেশী বলে পরিচিত হবো। সংবিধানের প্রস্তাবনা ও ১৫০ অনুচ্ছেদ অপরিবর্তনীয় বিষয়। কখনোই কোনো ব্যক্তি-দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে  কিংবা বন্দুকের নলের ক্ষমতায় তা পরিবর্তন করতে পারবে না। কারণ হিসেবে রায়ে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের ভিত্তিই হলো সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। মহামান্য  সুপ্রিমকোর্ট সংবিধানের পঞ্চম, ষষ্ঠ সংশোধনীকেও অবৈধ ঘোষণা করে মোশতাক -সায়েম-জিয়ার ক্ষমতাগ্রহণকে অবৈধ ঘোষণা করেন।

সুপ্রিমকোর্টের ঐতিহাসিক রায় অনুযায়ী শেখ হাসিনা সরকার সংবিধান সংশোধন বিল জাতীয় সংসদে পাস করিয়েছে। ফলে বাহাত্তরের সংবিধান পুনর্বহাল হয়েছে। এতে করে সংবিধানের চার মূলনীতি পুনঃস্থাপিত হয়েছে। প্রস্তাবনায় মূলনীতিরূপে ধর্মনিরপেক্ষতাই রয়েছে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ফেলে না দিয়েও তার সঙ্গে যে কথা যুক্ত  করা হয়েছে তা প্রকারান্তরে ধর্মনিরপেক্ষতাই। ব্যাখ্যায় বলা হয়, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তবে সকল ধর্ম সমঅধিকার ভোগ করবে।  

সংবিধানে ইনডেমনিটি ঢুকিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকে বৈধতাদানের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে কবর দেয়া হয়েছিল। সেই ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করা হয়েছে। ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ না হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। সরকার চাইলেই  সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে। এক্ষেত্রে কোন কোনো আইনী বা সাংবিধানিক বিধিনিষেধ নেই। রাষ্ট্রীয় হত্যা ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাদখলও সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কোন ব্যক্তি হত্যা, ক্যু করে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবেন। এই বিধানটি বাহাত্তরের সংবিধানে থাকলে হত্যা,ক্যু ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতাদখলের  ইতিহাস রচিত হওয়া খুব কঠিনই ছিলো। এই বিধান প্রবর্তন করেন বঙ্গবন্ধুরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

বঙ্গবন্ধু দৈহিকভাবে নেই। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি কথার ধ্বনি-প্রতিধ্বনিত হয়ে  আকাশে-বাতাসে অনুরণনের সৃষ্টি করে। তিনি সমাসীন সুমহান মর্যাদায় মানুষের হৃদয়ে আর মাথার উপরে। জাতির পিতার আসনে।

ইউ

পোল্যান্ডকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স

শাকিব-অপুর সম্পর্ক বিষয়ে কিছুই জানতাম না: বুবলী

জানুয়ারি থেকে নতুন সূচিতে চলবে ট্রেন

ব্যাংকে ১০ লাখ টাকা জমা দিতে কোনো প্রশ্ন নয়

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

সংবিধান সংশোধন দিবা স্বপ্ন: কাদের

সশস্ত্র বাহিনীর ৩ কর্মকর্তার রদবদল

ব্রাউজার স্লো? গতি বাড়াবেন যেভাবে

‌‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় শ্রেণি থেকে কোডিং শেখানো হবে’

ভারতের বিপক্ষে টাইগারদের জয়

নতুন বছরে কোনো অর্থনৈতিক চাপ থাকবে না: পরিকল্পনামন্ত্রী

মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের নৈতিকতা পুলিশকে বিলুপ্ত ঘোষণা

জামাত-বিএনপির সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও নাশকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

মারা গেছেন অভিনেত্রী মায়া ঘোষ 

Nagad Social Islami Bank Limited