ঢাকা, বাংলাদেশ

রোববার, মাঘ ১৬ ১৪২৯, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩

English

বৃত্তের বাইরে

দৃঢ় মনোবলই উদ্যোক্তা শ্বেতার সফলতার চাবিকাঠি

প্রকাশিত: ০০:০০, ১২ এপ্রিল ২০২২; আপডেট: ১৭:২২, ১৬ জুলাই ২০২২

দৃঢ় মনোবলই উদ্যোক্তা শ্বেতার সফলতার চাবিকাঠি

উইমেনআই ডেস্ক:
তনিমা সিদ্দিকী শ্বেতা পেশায় একজন শিক্ষিকা। ঢাকাতেই বসবাস। আরেকটি পরিচয় ২০২০ সাল থেকে Tehzeeb's Galley এবং Apparel & More দুটি পেইজ নিয়ে, WE এবং জয়ীতা ফাউন্ডেশনের নিবন্ধনকারী উদ্যোক্তা হিসাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যদিও বিজনেস এর সাথে সোশ্যাল ওয়ার্কিংটাকেও সমান প্রাধান্য দিতে চান তিনি।

বাবা- এম, এ মতিন সিদ্দিকী (ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক)। মা-জাকিয়া সুলতানা যশোর ইন্সটিটিউট এর স্বনামধন্য শিক্ষিকা। দু জনই যশোরের স্বনামধন্য দুই রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। যদিও বর্তমানে দুজনই রিটায়ার্ড। ২ ভাইবোনের মধ্যে শ্বেতা বড়ো আর ছোটো ভাই সরকারী প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। শ্বেতার জন্ম, বেড়ে ওঠা সবই যশোর।

সেই অনার্সের সময় থেকেই আত্মনির্ভরশীল হওয়ার মনোভাব ধারণ করেন শ্বেতা। ডাক্তারি পড়ার অদম্য ইচ্ছা থাকার সত্যেও যখন পড়া হয়নি, তখন জেদটা একটু বেশিই চেপে বসে। অনার্স, মাস্টার্স শেষ করে তাড়াতাড়ি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, এটাই যেন ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।

তাই অনার্স শেষ হতেই, ডেফোডিল ইন্সটিটিউট অফ আইটি, ( ডেফোডিল গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান) এ লেকচারার হিসেবে জব শুরু। সাথে নিজের এমবিএ স্টাডি। এমবিএ শেষ করে বাংলালিংক, কুয়েত এয়ারলাইনস, সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করেন এবং ক্যারিয়ারকে লক্ষ্য করে এগিয়ে যান।

তবে ফার্স্ট বেবি কনসিভ করার পর প্রায় দেড় বছরের বিরতি। একটু ডিপ্রেসড হলেও প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা দূর করে আবার ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা। নিজের একটা নিজস্ব পরিচয় তৈরি করা, সবকিছু মানিয়ে নিতে শিক্ষকতাকে বেছে নেন তিনি।

নিজেকে প্রতি নিয়ত ট্রেইন আপ করা এবং নতুন কিছুতে গ্রুম আপ করা ছিলো তার কাছে অনেকটা প্যাশনের মতো। তাই তো সুযোগ পেলেই অনলাইন কিংবা অফলাইনে ব্রিটিশ কাউন্সিল সহ অন্যান্য বিভিন্ন ট্রেনিং-এ অংশ গ্রহণ করেন তিনি।

বর্তমানে স্বনামধন্য একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এর টিচার হিসেবে কর্মরত আছেন শ্বেতা।

করোনা কালীন সময়ে আর্থিক ভাবে অসহায় কিছু মানুষকে সাথে নিয়ে তাদের রুজি, রুটিতে সাহায্যের নিমিত্তে, স্বাস্থ্য সচেতনতা আর ভেজালের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার লক্ষ্যে রন্ধন সামগ্রীকে বেছে নিয়ে এবং দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে সবাইকে একটা সুযোগ করে দিতে যশোর থেকে তার এই উদ্যোগের শুরু।

এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্প যেমন হ্যান্ডস্টিচ, নকশি কে সাথে নিয়ে বর্তমান যুগের পোশাকের ট্রেন্ডের উপর ফোকাস করেও কাজ করছেন তিনি।

কর্মক্ষেত্র এবং সাংসারিক জীবন ঢাকাতেই, তাই খুব দীর্ঘ সময় চাইলেও যশোর এখন আর থাকা হয়ে ওঠে না শ্বেতার। তবে করোনাকালীন সময়টা পুরোটাই যশোরে থাকার একটা বিশাল সুযোগ তৈরি হয়। আশে পাশের মানুষ এবং রিবারের আশ্রিত অনেকেরই কর্মসংস্থান হারানো, এবং অর্থনৈতিক ভাবে ভেংগে পড়া অব্যক্ত চিত্র দেখেন তিনি। তাই শুরুটা হয় যশোর থেকেই।

কারণ প্রতি মাসে নিয়ম করে মানুষ গুলোকে সাহায্য করা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল তার। ঠিক তখনই তার মনে হলো এমন কিছু করতে হবে মানুষ গুলোর যেন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং তারা যাতে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠে। আর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠে যশোরের বিভিন্ন ঐতিহ্য। ব্যস শুরু হলো পথ চলা, নিজেদের বাগান থেকে সংগ্রহ করা প্রাকৃতিক চাকের মধু আর খেজুরের গুড় দিয়ে।

নিজেদের বাগান থেকে সংগ্রহ করায় প্রথমে পুজি বা ইনভেস্ট ছিল খুবই সামান্য। মাত্র ৩৫০০ টাকা। কারণ আর বড় কোনো ইনভেস্টমেন্ট এর প্রস্তুতিও ছিল না। তবে প্রবল ইচ্ছা ছিল একটা কিছু করার। আর সময়টাকে কাজে লাগানোর। বাসার সবার কাছে যদিও বিষয়টা ছিল পাগলামীর সমান।

যদিও শুরুটা মধু আর খেজুরের গুড় দিয়েই তারপর একে একে যোগ হতে থাকে, ঘানি ভাংগা সরিষার তেল, খাটি বিশুদ্ধ ঘি, যশোরের বিখ্যাত নলেন গুড়ের প্যাড়া সন্দেশ, তারপর গুড়া মশলা, নারিকেল তেল, গমের আটা, চালের আটা, কুমড়ো বড়ি, চুই ঝাল।

এরপর তো যশোরের হাতের কাজ, নকশী কাথা নিয়ে আরেকটি পেইজের কাজ শুরু। যদিও বিষয়টি ঠিক গতানুগতিক, একই ধারার মনে হয়েছে। তাই নিজেকে আরেকটু আপ টু ডেট করতে ফ্যাশন ডিজাইনিং এর কোর্স এবং কর্মশালায় প্রশিক্ষণ নেয়া এবং নতুন আংগিকে পোশাক নিয়ে কাজ করতে নিজেকে উৎসাহিত করা। আসলে এধরণের কাজে মানসিক প্রশান্তিটাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন শ্বেতা।

বিদেশে সরাসরি রপ্তানি না করলেও ইউরোপ, আমেরিকার বেশ কয়েকটা দেশেই রয়েছে Tehzeeb's e-Mart এর গ্রাহক। ঢাকা বেসড হওয়ার সত্তেও দেশের চিটাগং, সিলেট, কুমিল্লা, বরিশাল, নীলফামারী, খুলনাতে গ্রাহক সংখ্যা অন্যতম।

এখন মাসে গড়পরতায় প্রায় ৬০/৭০ হাজার টাকার সেল থাকে।গুড়ের সিজনে সেটা লাখ ছাড়িয়ে যায়। শ্বেতা মনে করেন উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য টাকাটাই প্রধান ইনভেস্টমেন্ট নয়। ইচ্ছা শক্তি, শিক্ষা, পরিশ্রম আর ধৈর্য সবচেয়ে বড়ো ব্যাপার।

ভাবার সাথে সাথে শুরু করাটা যেমন জরুরি তেমনি শুধু শুরু করলেই হবে না, সেটাকে নিয়ে যথেষ্ট রিসার্চ এবং লেখাপড়ারও প্রয়োজন আছে। সাথে আরও যেটা প্রয়োজন সেটা হলো ভালো লাগা। কোনো কাজে ভালো লাগা না, থাকলে, যতই কাঠখড় পোড়ানো হোক না কেন সেটাতে সফলতা অর্জন সম্ভব হয় না। তাই নিজের ভালো লাগাকে গুরুত্ব দিতে হবে অবশ্যই। তাই শ্বেতা মনে করেন ইচ্ছে থাকলে সব কিছু সামলিয়েও অনেক কিছু করা যায়। নেগেটিভিটি, ডিপ্রেশনকে এড়িয়ে চলা যায়।

এ প্রসঙ্গে উদ্যোক্তা তনিমা সিদ্দিকী শ্বেতা বলেন, অনলাইন এবং অফলাইনে আরও বড় পরিসরে একটি দেশীয় পণ্যের ডিপার্টমেন্টাল স্টোর দিতে চাই৷ যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরেও আমাদের দেশীয় পণ্যকে রিপ্রেজেন্ট করবে এবং তা শুধু যশোর নয়, বাংলাদেশের সব অঞ্চলের পণ্য নিয়েই কাজ হবে।

 


উইমেনআই২৪ ডটকম//এল// 12.24 pm

 

ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস ও ইউপিডিএস কর্মকর্তাদের কর্মশালা

‘চলতি বছরে নিপাহ ভাইরাসে ৫ জনের মৃত্যু’

পালাব না, প্রয়োজনে ফখরুলের বাসায় গিয়ে উঠব: কাদের

জাপানি দুই শিশুর অভিভাবকত্ব পেলেন মা

কাস্টমস অ্যাসোসিয়েশনের ২ দিনের কর্মবিরতি ঘোষণা

রাজশাহীতে যেসব প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

‘পাঠান’ দিয়ে ভারতে একসঙ্গে ১৭ নজির

মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চা সেবা দিচ্ছেন আছর আলী

বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের পড়াশোনা বন্ধে তালেবানের কাণ্ড

বাংলাদেশিদের জন্য ইতালি যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ

হতাশা থেকে সন্তানকে মুক্ত রাখতে করণীয়

সারাহর কর্নিয়া নিয়ে ভালো আছেন দুই রোগী

পাকিস্তানে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৩৯

যেসব রোগ সারাবে সজনে ডাঁটা

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠন ফের পেছাল

Social Islami Bank Limited