Women Eye
প্রিন্টঃ ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৫:১৫ এ. এম.
 

কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন ক্লিনিকে কাজ করার অভিজ্ঞতা

প্রকাশিতঃ ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২১
কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন ক্লিনিকে কাজ করার অভিজ্ঞতা

ডা. সালমা হাসান : কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন ক্লিনিকে কাজ করার অভিজ্ঞতা অন্যরকম। প্রতিবারই শিফটের আগে আমাকে বলা হয়, চিন্তা করো কতো সৌভাগ্য তোমার, জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে নতুন ইতিহাস লিখছ, আজ মনে হবে সাদামাটা একটা দিন, অনেক বছর পর তা-ই হবে ইতিহাস ।ঘটনা সত্যি। প্রতি রুগী ৩ মিনিট, ২ মিনিট রুগীর ইতিহাস নেয়া, ৩০ সেকেন্ড টিকা দেয়া, বাকিটা ঢুকতে বের হতে। এখন পর্যন্ত দিলাম ফাইজার আর অক্সফোর্ড ভ্যাক্সিন।

গেল সপ্তাহে সিনিয়র কজন চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্টদের ট্রেনিং আর সুপারভিশন করলাম। তারা এই প্রথম ভ্যাক্সিন ক্লিনিকে যোগ দিলেন তাই আমিই সবচেয়ে অভিজ্ঞ। এপোয়েন্টমেন্ট থাকলেও ২ মিনিটের ইতিহাসে এমন অনেক কিছু বের হয়ে আসে অনেককে ফিরিয়ে দিতে হয়। বয়স্ক, অসুস্থ অথবা হুইলচেয়ারে আসা রুগীদের চোখে-মুখের শংকা উড়িয়ে দিয়ে ৩ মিনিটে হাসি ফুটানো বেশ আনন্দের। এই ক্লিনিকের লম্বা শিফটগুলো স্বেচ্ছাকর্মী হিসেবে করছি স্বাভাবিক কাজের শিফট শেষ করে, আমার পার্সোনাল স্টাডি টাইম, ফ্যামিলি টাইম কম্প্রোমাইজ করে।

প্রিয় বাংলাদেশে ভ্যাক্সিনেশন শুরু হয়েছে। হেল্থ ইনইকুয়ালিটি এড়ানো যায়নি জাতীয় ঐতিহ্য মেনে। আজ ইতিহাস তৈরি করেছে কারা? রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কানেকশনে যারা আজ ভ্যাক্সিন নিয়েছে তারা ঢালাও করে তা প্রচার না করলেও পারতেন, যারা প্রয়োজন অনুযায়ী আজ ভ্যাক্সিন নিয়েছেন শুভকামনা তাদের জন্য। হেল্থ ইনইকুয়ালিটির দায় শুধু সরকারের না, সেই সব সাধারণ মানুষের, যারা বিজ্ঞান-জনস্বাস্থ্য সব কিছু এড়িয়ে শুধু স্বীয় স্বার্থ দেখেন। আমি আমার ১০১ বছর বয়সী নানুকে বলেছি ভ্যাক্সিন রেজিস্ট্রেশন করতে। আমি অপেক্ষায় থাকবো দেখতে তিনি কখন পান।

লেখক: ডা. সালমা হাসান যুক্তরাজ্য থেকে