Women Eye
প্রিন্টঃ ১৩ এপ্রিল ২০২১, ০৪:৪৩ পি. এম.
 

নারী নেতৃত্বে ফরিদা ইয়াসমিনের সফলগাথা

প্রকাশিতঃ ৩০ ডিসেম্বর ২০২০
নারী নেতৃত্বে ফরিদা ইয়াসমিনের সফলগাথা

ফাতিমা পারভীন : আমাদের দেশে নারী নেতৃত্ব আজ আর নতুন কোনো বিষয় নয় কিংবা এ নিয়ে অবাক হবার কিছু নেই। নারী নেতৃত্ব আজ নারীদের নাগরিক অধিকার। নেতৃত্ব দিয়ে অনেক নারী ইতিহাস গড়েছেন। বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অন্যতম সেরাদের সেরা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন কখনো আবার অন্যের হাতে হাত না রেখেই দূরন্ত গতিতে ছুটে চলেছেন যোজন যোজন মাইল। কেউ কেউ নিজের দক্ষতা সৃষ্টিশীল প্রতিভা আর যোগ্যতা দিয়ে নিজের চেয়ার নিজেই তৈরি করেছেন আত্মবিশ্বাসী হয়ে। রাজনীতি না করেও বাংলাদেশের ক্ষমতায়নে অবদান রেখেছেন আমার দেখা এক অসাধারণ জয়িতা বাংলাদেশের একজন নারী ,যার অনন্ত পথচলার কাহিনী তুলে ধরলে বড়সড় একটি ফিরিস্তি তুলে ধরতে হবে। যা এই স্বল্প লেখনী দিয়ে সম্ভব নয়। আলোকিত সেই নারীর নাম আজ বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আর কেউ নন, তার নাম ফরিদা ইয়াসমিন।

ফরিদা ইয়াসমিনের জন্ম ১ জুন ১৯৬৩। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতোকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। লেখাপড়া চলাকালীন সময়ে বেছে নেন সাংবাদিকতার সুগম পথ। তিনি প্রথমদিকে কাজ করেন দৈনিক বাংলার বাণীতে, পরে দৈনিক মুক্তকণ্ঠ ও যুগান্তরেও কাজ করেছেন। দৈনিক ইত্তেফাকে প্রায় দুই দশক ধরে কাজ করে চলা ফরিদা ইয়াসমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রথম নির্বাচিত নারী সাধারণ সম্পাদক। তিনি এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশ যখন স্বৈরশাসনে মুখ থুবড়ে পড়েছিল তখন শক্ত হাতে কলম যোদ্ধা হয়ে তিনি সংবাদে মাধ্যমে প্রতিবাদ করেন। শোষণমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে দিনের পর দিন তিনি  রাষ্ট্রের অসংগতিগুলো খুঁজে বের করেন। দুঃসাহস নিয়ে এগিয়ে গেছেন অপরাজনীতির বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন থাকে সরকারি কর্মকর্তা হবার। ফরিদা ইয়াসমিনের পরিবারের সদস্যদেরও স্বপ্ন ছিল মেয়েটি মস্ত অফিসার হবে কিন্তু তিনি স্বপ্ন দেখলেন কলম যোদ্ধা হবার। সবার স্বপ্নকে তিনি ফিকে করে তাক লাগিয়ে দিলেন। তিনি হলেন দক্ষ এক সাংবাদিক।

এদেশে যখন মেয়েরা এই পেশায় আসতেন না, তখন তিনি আসলেন এবং তার মেধা দিয়ে তার অবস্থান পোক্ত করলেন। তিনি হলেন সাংবাদিক জগতের বাংলার রাণী। শত বাধা উপেক্ষা করে ফরিদা ইয়াসমিন টিকে আছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ফোরাম  ফরিদা ইয়াসমিনকে জাতীয় প্রেসক্লাবে মনোনয়ন দিলেন। ভোটে প্যানেল হেরে যায় অথচ তিনি জিতে যান। তারপর  তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের তিনবার সদস্য, একবার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, দুইবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সেই সময় থেকে বুকের ভেতর লালন করেন প্রেসক্লাব। যেন প্রেসক্লাব তার সেকেন্ড হোম। তারপর সদস্য থেকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, নির্বাচিত হয়ে ক্লাবের উন্নয়নে কাজ করেছেন তিনি। মনপ্রাণ উজার করে কাজ করেছেন ক্লাবের সদস্যদের জন্য। রাত-দিন খেটে তিনি প্রেসক্লাবের সুন্দর পরিবেশ তৈরি করেছেন। 

অবশেষে তিনিই প্রথম সেই নারী যিনি শত'র দিকে হাঁটা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হয়ে ইতিহাস গড়লেন। যোগ্যতার লড়াইয়ে পেলেন অনেক পুরস্কার। তিনি বাংলাদেশ উইমেন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক এবং বাংলাদেশ উইমেন জার্নালিস্ট ফোরামের উপদেষ্টা। এছাড়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট ফোরাম অ্যাগেনিস্ট ট্রাফিকিংয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মিডিয়াতে নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করায় ২০১৭ সালের ৭ মে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টটেটিভ থেকে তিনি বিশেষ কংগ্রেশনার রিকোগনিশন এবং নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট অফিস থেকে পেয়েছেন ‘কংগ্রেসনাল স্পেশাল সার্টিফিকেট’। আজ নির্বাচনের দিনটি উপস্থিত হয়েছে।

আজ তিনি প্রেস ক্লাব নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী। আমি যখন চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল সাংবাদিক হব। আমি সাংবাদিক হতে পারিনি। হয়েছি রাজনৈতিক কর্মী। নানারকম প্রতিকূলতার অবসান ঘটিয়ে আমি সামান্য সফলতার শীর্ষে অবস্থান করেছি। তাই আমি সফলতার লড়াই খুব কাছ থেকে দেখেছি। সফলতার যুদ্ধ একজন নারীর জন্য কতটা কঠিন আর অমসৃণ তা আমি জানি, আমি ওই যুদ্ধ চিনি। সাংবাদিক বা প্রেসক্লাবের সদস্য হতে পারিনি বলে আমি ভোট প্রদানে অংশ নিতে পারছিনা তাই সব সাংবাদিকের কাছে ভোট প্রার্থনা করছি। 

একজন নারী একজন মা, একজন কন্যা, একজন বোন একজন প্রেয়সী। সবদিক থেকে বিবেচনায় নিয়ে বিজয়ের এই মাসের শেষ দিনটিতে সফল সাংবাদিক ফরিদা ইয়াসমিনের বিজয়ের মিষ্টি হাসি দেখতে চাই। নারীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব। তাই জাতীয় প্রেসক্লাবের উন্নয়নের যাত্রা অব্যাহত রাখতে, নারী অধিকার, মর্যাদা ও ক্ষমতায়নে সাংবাদিক সমাজের প্রিয় নেতা ফরিদা ইয়াসমিনকে আপনার সুচিন্তিত রায় প্রদান করে আরো একবার ইতিহাস রচনায় সম্মানিত প্রেসক্লাবের ভোটারদের আহ্বান করতে চাই। ফরিদা ইয়াসমিনের বিজয় দেখতে চাই। বিজয় দেখতে চাই বাংলাদেশের সাহসী কলম যোদ্ধাদের।

লেখক শিশু ও নারী অধিকার কর্মী