Women Eye
প্রিন্টঃ ১৯ এপ্রিল ২০২১, ০৬:২৯ এ. এম.
 

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’র সূচনা যেভাবে

প্রকাশিতঃ ২৫ নভেম্বর ২০২০
নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’র সূচনা যেভাবে

আমিনা তাবাস্সুম : ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত ছোট্ট একটি দেশ। প্যাট্রিয়া, মারিয়া তেরেসা ও মিনার্ভা মিরাবেল সেই দেশের তিন বোন। ১৯৬০ সালে তারা তাদের দেশের স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে ন্যায়সংগত আন্দোলন করার অপরাধে তাদের হত্যা করা হয়। দিনটি ছিল ২৫ নভেম্বর আর তাদের স্মরণে ১৯৮১ সালে লাতিন আমেরিকায় নারীদের এক সম্মেলনে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস (ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য এলিমিনেশন অব ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন) পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ১৯৯৩ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব মানবাধিকার সম্মেলনে এ দিবসটি স্বীকৃতি পায়। তখন থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই দিনটি পালন হচ্ছে।

এ দিনটি পালনের মূল উদ্দেশ্য নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আর সচেতনতা গড়ে তোলা। দেশে অথবা বিদেশে, ঘরে অথবা বাইরে, রাস্তাঘাটে, যানবাহনে, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সর্বত্রই নারী যেন নিরাপত্তাহীন। বিশ্বব্যাপী মহিলাদের বিরুদ্ধে নিমোক্ত তথ্যগুলোর মাধ্যমেই নারী নির্যাতনের চিত্র সম্পর্কে কিছুটা ধারণা করা যায়:

• গড়ে চার জনের মধ্যে একজন মহিলা গর্ভাবস্থায় শারীরিক বা যৌন হয়রানির শিকার হয়।

• পৃথিবীর অনেক দেশেই ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এখনো অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হয় না। ৬০৩ মিলিয়ন নারী সেইসব দেশের বাসিন্দা।

• বিশ্বজুড়ে ৬০ মিলিয়নের বেশি মেয়েরা বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে।

• আর ১০০ মিলিয়নের মতো মেয়েদের জন্মই হতে পারেনি। কেননা মায়ের গর্ভে থাকাকালীনই তাদের ভ্রূণকে হত্যা করে ফেলা হয়।

এই তথ্যগুলোতো কেবলমাত্র জানা পরিসংখ্যান অনুযায়ী। নারী নির্যাতনের প্রকৃত চিত্র তো আসলে অনেকটাই অজানা। নারীরা নিজেরা সাধারণত সহজে তার নির্যাতনের কথা প্রকাশ করতে চায় না, সেই নারী যত আধুনিকই হোক না কেন। আর যারা প্রকাশ করতে চায় তাদের পদে পদে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। পরিবারের কাছ থেকে বাধা, সমাজের কাছ থেকে বাধা, নানান হয়রানি আর প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়।

সেই আদিমকাল থেকে নারী নির্যাতনের এই কাহিনী চলে এসেছে। হয়তোবা নির্যাতনের রূপ কিছুটা পাল্টেছে। তবে এবছরে সারা বিশ্বে যেন নারী নির্যাতন এক ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। ইউএন এর তথ্য অনুসারে কভিড-১৯ মহামারীর সাথে সাথে নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক বা যৌন সহিংসতাও সারা বিশ্বে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সারা পৃথিবী শুধুমাত্র যেন এই ভাইরাসকে মোকাবেলা করছেনা, এর সাথে সাথে গৃহবন্দী অনেক নারীরাই প্রতিনিয়ত সহিংসতার সাথে লড়াই করে চলছে। এই নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে এই সমস্যাকে "শ্যাডো প্যান্ডেমিক" (ছায়া মহামারী) বলে আখ্যায়িত করা করেছে।

এ কারণে এ বছর এ দিনটির প্রতি আলোকপাত করা বিশেষ প্রয়োজন। এই মহামারীর সময় নারী নির্যাতনের প্রতি সকল দেশ এবং তাদের নাগরিকদের বিশেষ সচেতনতা অবলম্বন করা দরকার। ব্যক্তিগত ভাবেই হোক আর সামষ্টিকভাবেই হোক, যার যার সামর্থ্য আর ক্ষমতা অনুসারে এই কঠিন সময়ে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং যথাসম্ভব সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবেলা করা হয়তোবা কিছুটা হলেও সম্ভব। তথ্যসূত্র: www.unwomen.org