ঢাকা, বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, চৈত্র ৭ ১৪২৯, ২১ মার্চ ২০২৩

English

সাহিত্য

প্রসঙ্গ: নিউ দিল্লি ওয়ার্ল্ড বুক ফেয়ার (পর্ব- এক)

 কানাইলাল জানা:

প্রকাশিত: ১১:৫৫, ১৩ মার্চ ২০২৩; আপডেট: ১২:০৪, ১৩ মার্চ ২০২৩

প্রসঙ্গ: নিউ দিল্লি ওয়ার্ল্ড বুক ফেয়ার (পর্ব- এক)

প্রসঙ্গ: নিউ দিল্লি ওয়ার্ল্ড বুক ফেয়ার

অনেক চেষ্টা করেও করোনার কারনে 2021 ও 2022 সালে ওয়ার্ল্ড বুক ফেয়ার হয়নি দিল্লির প্রগতি ময়দানে। শেষবার হয় 2020 সালের জানুয়ারি মাসে, গিয়েছিলাম এবং লিখেছিলাম কয়েকটি পর্বে যা পড়ে অনিতা অগ্নিহোত্রী বলেছিলেন আমার চোখ দিয়ে তাঁর দিল্লি বইমেলা ঘোরা হল। কিন্তু এবার মেলার শেষদিন পর্যন্ত থাকতে পারিনি অনিবার্য কারণে। তবে কিছু চমক ছিল যথা সময়ে বলব।
দূর পাল্লার কোনও বাস বা ট্রেনে উঠলে আমার মনের সুর মিলে যায় কবিগুরুর সুরে: 'পথের প্রান্তে আমার তীর্থ নয়, পথের দুধারে আছে মোর দেবালয়।' বইমেলা তো যাবই আর আগে পথে ঘাটে কী দেখলাম। আশ্চর্য এই যে বাড়ি থেকে হাওড়া স্টেশন উবারের ভাড়া পাঁচশ টাকা আবার হাওড়া থেকে পনের শ কিমি দূরে দিল্লির স্লিপার ক্লাসে ট্রেন ভাড়াও ছিল প্রায় একই। এমনই ছিল ভারতীয় রেলের মহিমা। কিন্তু মোদি সরকার তুলে দিয়েছে ট্রেনে প্রবীণদের জন্য কনসেসন। তাই এবার ভাড়া কিছু বেশি। মনে হয় সাধারণ নাগরিকদের ( গরিব বাদে ) সামান্যতম সুযোগ সুবিধা না দিয়ে জাতীয় সম্পদ যখন নীরব, চোকসি বা আদানিদের হাতে নয়ছয় হয় ,দেখে মহাসুখ পান মোদিজি। যাইহোক 'পূর্বা এক্সপ্রেস' ছাড়ল ঠিক সকাল আটটায়। প্রথম স্টপ বর্ধমান। এই অঞ্চলে কয়েক বার যাতায়াত করে ঠাহর হল হুগলি ও বর্ধমান জেলায় আগের মতো নিবিড় চাষ হচ্ছে না। এই সময় কেউ যদি কোচবিহার থেকে কলকাতা আসেন, দেখবেন মাঠে সারি সারি আলুর বস্তা যেন লাল ফৌজ সীমান্ত পাহারায়। সে দৃশ্যও এখানে ফিকে। ইতি উতি ধান গাছ ঘন ঘন হাই তুলছে ,বড্ড অন্যমনস্ক। কেন এই অবস্থা? দীর্ঘকাল একটানা চাষ করার ফলে ক্লান্তি নাকি বেগালাম সারের দাম? ইউরিয়া বাদে যে কোনও এক কেজি সারের দাম 50 টাকা বা তার অধিক। মাত্র কিছুকাল আগেও যার দাম ছিল গড়ে পাঁচ টাকা। তা সত্ত্বেও তারা যে অপেক্ষাকৃত কম দামে ফসল বেচতে পারে তার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ যথেষ্ট নয়। দুজনকে মনে মনে সর্বদা প্রণাম করি। একজন সকল শক্তির উৎস সূর্যদেব এবং দ্বিতীয়জন এই কৃষক সমাজ। সকল প্রকার বিপর্যয় ও প্রতিকুলতা জয় করে ভারতের কৃষক সমাজ যে ভাবে সারা বছর খাদ্য শস্য ও ফসল ফলিয়ে যাচ্ছে একজন ভারতবাসীও অভুক্ত থাকার কথা নয়। 
ট্রেন যখন ঝাড়খণ্ড পেরোচ্ছে এমন রুক্ষ শুষ্ক যে লু বইল বলে।  লক্ষ্মীসরাই পৌঁছে দৃশ্য বদলে গেল: রেল শহরের বাড়িগুলি দেখে মনে হবে ন্যাংটো বালক দাঁত বের করে হাসছে মানে গাজিয়াবাদের মতোই বাড়ির বাইরের দেয়াল একেবারেই নিরাভরন, সাজসজ্জা থাকলে তা আছে ভেতরে। আবার এখান থেকেই শুরু হল মাঠ ভর্তি ফসল: গম, ভুট্টা, সরষে, নানা ধরনের কলাই, তৈলবীজ যতদুর চোখ যায় সবুজ খেত। আসলে মা গঙ্গা  তার স্নেহের আঁচলটি যতটা বিছিয়ে রেখেছে উত্তর প্রদেশ ও বিহারে ততটা নয় পশ্চিম বঙ্গে, বরং বঙ্গের গর্ব ছিল তাঁর দুই পাড়ে অসংখ্য কল কারখানা। সবুজের মাহাত্ম্য দেখতে দেখতে সন্ধ্যা নেমে এল ঘনঘোর। দূরে দূরে বিজলি বাতির অস্পষ্ট ঝিলিক। যা দেখে মান্যতা দেওয়া যায়না শরৎচন্দ্রের সিলভার লাইন: 'কে বলিল অন্ধকারের রূপ নাই?' অগত্যা ডুবে গেলাম গভীর ঘুমে, ভোর হল আলিগড়ে। তখনো চলছে ফসলের সমারোহ। ইচ্ছে ছিল কিছুটা দেরিতে ট্রেন ইন করুক কিন্তু তার থেকে অনেক বেশি  দেরিতে   ঢুকল নিউ দিল্লি স্টেশনে। মেট্রো রেলে এই ক'দিনের জন্য একটি স্মার্ট কার্ড কিনে ব্লু লাইন ধরে বোটানিক্যাল গার্ডেন-এ নামি। বলে রাখি দিল্লি মেট্রো যতই মাকড়সার জালের মতোই বিছিয়ে থাকুক দু'ডজনের বেশি জংশন নিয়ে তা কলকাতা মেট্রোর মতোই আমার কাছে স্বচ্ছন্দ। গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিল ভায়রা শম্ভু। সে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ গাইডদের  হেড। আমার ব্যস্ততা দেখে শ্যালিকা তুতুমণি তো অবাক, বিশ্রাম না নিয়ে আজই বইমেলায় যাব বলে। কলকাতা মেট্রোর থেকে দিল্লি মেট্রোতে জিজ্ঞাসু মনের দিক্ নির্নয় করে খুশি হই বেশি কারণ কলকাতা মেট্রো তো একটি সরলরেখা মাত্র। যেমন আজই একটি ছেলে ভারী ব্যাগ নিয়ে ব্লু লাইনে উঠে জিজ্ঞেস করছে কিভাবে সে ওল্ড দিল্লি যাবে ? তখন বলি রাজীব চকে নেমে হলুদ লাইন ধরে নামতে হবে চাঁদনিচক স্টেশনে কারণ ওল্ড দিল্লি বলে কোনও স্টেশন নেই। কিন্তু লাইন পাল্টানো জহজ নয়, হলুদ পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিন তলায় উঠে আবার নামতে হবে দোতলায়, অনেকটা 'নির্জন সৈকতে' পুরীর সমুদ্রে শর্মিলা ঠাকুর যেমন অনুসরণ করেছিলেন অনিল চট্টোপাধ্যায়ের পদাঙ্ক। মোট ক'টা  স্টেশন যেতে হবে বোঝাতে বোঝাতে এসে গেল ইন্দ্রপ্রস্থ কিন্তু  প্রগতি ময়দান নেই কেন বোর্ডে ! জানা নাম পাল্টে হয়েছে 'সুপ্রিম কোর্ট'। ওয়ার্ল্ড বুক ফেয়ার এবার  প্রগতি ময়দান থেকে  অনেকটা ডাইনে সরে গিয়ে ঢুকে পড়েছে বহুতল বাড়ির এক ও তিন তলায়। মজার বিষয় বইমেলার অঙ্গ হিসেবে আলাদা একটি বিশাল হলে চলছে অ্যাস্ট্রোলজিস্টদের নানা নামের স্টল । সেখানে রমরম করে চলছে হাত দেখা, ভুত ভবিষ্যৎ নির্নয়, বাস্তুর শুভ অশুভ পর্যালোচনা, গানিতিক আলেখ্য আরো কতকিছু যা বাঙালিদের কাছে বেমানান...
 

//এল//

আরাভকে ধরতে তৎপর দুবাই পুলিশ

রমজানে যেসব স্থানে কম দামে বিক্রি হবে দুধ, ডিম ও মাংস

ঠাকুরগাঁও সিএম আইয়ুব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল

টাঙ্গাইলে হতদরিদ্রদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

টাঙ্গাইলে কলেজ শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

আলোচনার জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত: পুতিন

ঠাকুরগাঁওয়ের যে গ্রামে এখনো পৌঁছায়নি বিদ্যুৎ

‘যুদ্ধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’

৩০ পেরোনো নারীর স্বাস্থ্যের যেসব পরীক্ষা জরুরি

দুর্নীতি দূর করতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

মানবাধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত প্রতিবেদন অযৌক্তিক: কাদের

বুধবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না রাজধানীর যেসব এলাকায়

ইসলামী ব্যাংক-রিয়া মানি রেমিট্যান্স উৎসবে মোটরসাইকেল হস্তান্তর  

বিএসএমএমইউ ও আইসিডিডিআরবি’র যৌথ গবেষণা প্রকাশ

শুটিং কর্মীদের ১৩০ স্বর্ণমুদ্রা দিলেন কীর্তি সুরেশ

Social Islami Bank Limited