সোমবার, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯
২৭ জুন ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

আজ নীলিমা ইব্রাহিমের প্রয়াণ দিবস

উইমেনআই২৪ ডেস্ক: বাঙালির কাছে মুক্তিযুদ্ধ একটি গৌরবের বিষয়। যুদ্ধ শেষে দশকের পর দশক পেরিয়ে গেলেও সেই গৌরবের ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেছে কিছু বই। ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ তেমনই একটি বই। বইটিতে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হওয়া সাত জন নারীর করুণ কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। এই বইটির রচয়িতা ‘ড. নীলিমা ইব্রাহিম’। আজ তার প্রয়াণ দিবস।

বাংলায় নারী জাগরণ এবং ক্ষমতায়নে যারা কাজ করে গেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ড. নীলিমা ইব্রাহিম। তিনি একাধারে একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক এবং সমাজকর্মী। তার জন্ম ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাটের মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে। তার বাবার নাম প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মা কুসুমকুমারী দেবী।

মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসনে তার অবদান এবং ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ বইয়ের মাধ্যমে নারীদের সংগ্রাম যেভাবে তুলে ধরেছেন, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। বইটির জন্য তিনি সর্বমহলে পরিচিতি পেয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরাঙ্গনাদের দুঃখগাথা নিয়ে প্রকাশিত বইটি তাকে সর্বজন শ্রদ্ধেয় করে রেখেছে।

আরও দুটি স্পর্শকাতর বিষয় বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তিনি পালন করেন। তা হলো- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সৈন্য এবং তাদের দালাল রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তি কমিটি কর্তৃক অপহৃত, লাঞ্ছিত, নির্যাতিতা হতভাগা অসংখ্য বাঙালি মা-বোন এবং ‘ওয়ার বেবিদের’ পুনর্বাসনের জটিল কাজে হাত দেন।

নীলিমা ইব্রাহিম ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। খুলনা করোনেশন গার্লস স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন চারটি বিষয়ে লেটার নিয়ে। পরবর্তীতে তিনি কলকাতার ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউট থেকে আইএ এবং কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বিএবিটি শেষ করেন। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ও সাহিত্যে প্রথম শ্রেণিতে এমএ পাস করেন।

শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি- সবকিছুতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গেছেন মহীয়সী এই নারী। ১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৭২ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ১৯৭৪-৭৫ সালে তিনি বাংলা একাডেমির অবৈতনিক মহাপরিচালক ছিলেন। অবশ্য তার কর্মজীবনের শুরু কলকাতার লরেটো হাউসে লেকচারার (১৯৪৩-৪৪) হিসেবে। তারপর দুবছর (১৯৪৪-৪৫) তিনি ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশনের লেকচারার ছিলেন। তিনি রোকেয়া হলের প্রভোস্ট এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গেই পালন করেছেন।

নীলিমা লেখক হিসেবে যেমন খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন। তিনি দেশ ও সমাজ সেবায় নিজেকে আপাদমস্তক জড়িত ছিলেন।

‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ই নয় নীলিমা ইব্রাহিমের গ্রন্থের সংখ্যা অনেক। উল্লেখযোগ্য হলো, গবেষণা- শরৎ-প্রতিভা (১৯৬০), বাংলার কবি মধুসূদন (১৯৬১), ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক (১৯৬৪), বাংলা নাটক : উৎস ও ধারা (১৯৭২), বেগম রোকেয়া (১৯৭৪), বাঙ্গালীমানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৮৭), সাহিত্য-সংস্কৃতির নানা প্রসঙ্গ (১৯৯১); ছোটগল্প রমনা পার্কে (১৯৬৪); উপন্যাস বিশ শতকের মেয়ে (১৯৫৮), এক পথ দুই বাঁক (১৯৫৮), কেয়াবন সঞ্চারিণী (১৯৬২), বহ্নিবলয় (১৯৮৫); নাটক দুয়ে দুয়ে চার (১৯৬৪), যে অরণ্যে আলো নেই (১৯৭৪), রোদ জ্বলা বিকেল (১৯৭৪), সূর্যাস্তের পর (১৯৭৪); কথানাট্য আমি বীরাঙ্গনা বলছি (২ খন্ড ১৯৯৬-৯৭); অনুবাদ এলিনর রুজভেল্ট (১৯৫৫), কথাশিল্পী জেমস ফেনিমোর কুপার (১৯৬৮), বস্টনের পথে (১৯৬৯); ভ্রমণকাহিনী শাহী এলাকার পথে পথে (১৯৬৩), আত্মজীবনী বিন্দু-বিসর্গ (১৯৯১) ইত্যাদি।

তার জীবনে পুরস্কার প্রাপ্তিও অনেক। পেয়েছেন- বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), জয় বাংলা পুরস্কার (১৯৭৩), মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার (১৯৮৭), লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৮৯), বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী স্মৃতি পদক (১৯৯০), অনন্য সাহিত্য পদক (১৯৯৬), বেগম রোকেয়া পদক (১৯৯৬), বঙ্গবন্ধু পুরস্কার (১৯৯৭), শেরে বাংলা পুরস্কার (১৯৯৭), থিয়েটার সম্মাননা পদক (১৯৯৮), একুশে পদক (২০০০)।

২০০২ সালের ১৮ জুন না ফেরার দেশে চলে যান ড. নীলিমা ইব্রাহিম। এ সময় তার বয়স ছিল ৮১ বছর। আজ তার প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা।

উইমেনআই২৪ডটকম//জ//১৮-০৬-২০২২//০৩.০৮ পিএম
 

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
পদ্মা সেতুতে আহত ২ যুবকের মৃত্যু         পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট         বরিশালে বাড়ছে বাস যাত্রী, কমছে লঞ্চে যাত্রী         ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ         ঈদে দেখা মিলবে পরীমনির         ২৫ ইউপি ও তিন পৌরসভায় আ.লীগের প্রার্থী যারা         পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল নিষিদ্ধ         শহীদ জননী জাহানারা ইমাম স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন         কাল থেকে পদ্মা সেতুতে ছবি তুললেই যে শাস্তি         সিরিজ জিতলো নারী ফুটবল দল         দেশে বন্যায় মৃত্যু বেড়ে ৮৪         খালোদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল         সোমবার পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র রুলের শুনানি         রাজধানীকে আর প্লাবিত হতে দেব না: তাপস         পদ্মা সেতুর নাট খুলে ভাইরাল হওয়া যুবক আটক         ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল সোমবার         রাষ্ট্রের মদদে বিরোধী দল নিধন চলছে: মির্জা ফখরুল         পদ্মা সেতুতে টোল আদায় হলো যত টাকা         দাম কমলো সয়াবিন তেলের