সোমবার, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯
২৭ জুন ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

‘ঘুরে আসলাম খেরুয়া মসজিদ’

মারিয়া সালাম: ঘুরে আসলাম খেরুয়া মসজিদ।  বগুড়া শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরপুর উপজেলা সদরের খোন্দকার টোলা মহল্লায় এটি অবস্থিত। 

১৫৮২ সালে জওহর আলী কাকশালের পুত্র মির্জা মুরাদ খান কাকশাল এটি নির্মাণ করেছিলেন। মির্জা মুরাদ খান কাকশালের বিশদ পরিচয় পাওয়া যায় না। তবে, ধারণা করা হয় উনি শেরপুরের জায়গিরদার বা ফৌজদার ছিলেন।

মসজিদটির খেরুয়া নামকরণের পেছনেরও তেমন কোনো ইতিবৃত্ত পাওয়া যায়নি। ফার্সিতে ‘খায়ের গাহ্’ বলে একটা শব্দ আছে। যার অর্থ ‘কোনো স্থানের ভেতরে’। রাজা মানসিংহ যখন বাংলার সুবাদার, তখন তিনি শেরপুরে একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। এই দুর্গের কোনো অস্তিত্ব এখন নেই। তবে মসজিদটি যদি শেরপুর দুর্গের ভেতরে নির্মিত হয়ে থাকে, তবে ‘খায়ের গাহ্’ থেকে খেরুয়া নাম হতে পারে বলে অনুমান করা যায়।--তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ।

সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মোগল স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে নির্মিত ৪৩৫ বছর পুরানো এই মসজিদটি বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ননিদর্শন।

আমি যখন সেখানে গিয়ে পৌছালাম তখন জুম্মার নামায প্রায় শেষের দিকে। মসজিদের ভেতরে তখনো মুসল্লিরা আছেন। শুনলাম, নামাযের সময় ছাড়া ভেতরে তেমন কাউকে ঢুকতে দেয়া হয় না। নামায শেষ হবার অপেক্ষা করতে করতে চায়ের কাপ হাতে চারপাশে একবার ঘুরে এলাম। মসজিদের সামনে সবুজ ঘাসে ঢাকা আয়তাকার মাঠ। ইটের প্রাচীরের ওপর লোহার রেলিং দিয়ে পুরো চত্বর ঘেরা। শুনলাম মোট জায়গার পরিমাণ প্রায় ৫৯ শতাংশ।

নামাযের পরেই চত্বরের ভেতরে ঢুকলাম। মসজিদটির চারকোণায় রয়েছে চারটি বড়বড় মিনার আর চুন-সুরকি দিয়ে গাঁথা পাতলা লাল ইটের দেয়ালগুলোও বেশ চওড়া, প্রায় ১.৮১ মিটার। ১৭.২৭ মিটার লম্বা আর ৭.৪২ মিটার প্রস্থের মসজিদটির রয়েছে তিনটি ৩.৭১ মিটার ব্যাসের গুম্বজ। পূর্ব দেয়ালে তিনটি খিলান দরজা রয়েছে, যারমধ্যে মাঝেরটি আকারে বড়। উত্তর-
দক্ষিণে একটি করে খিলান দরজা রয়েছে। পূর্বের বড় দরজাটির নিচে কালো পাথরের পাটাতন দেখা যায়।

বাইরে থেকে দেখতে সমস্যা হওয়ায়, ভেতরে উঁকি দিয়ে হুজুরকে বললাম, ভেতরে আসা যাবে, ছবি নিব? উনি সম্মতি দিলেন। 

ভেতরে পূর্বের বড় দরজা বরাবর পশ্চিমের দেয়ালের ভেতরের অংশে তিনটি মেহরাব রয়েছে।এগুলোর ওপরের অংশ কারুকাজখচিত। মসজিদটির নিচের অংশের নকশায় দেখা মেলে মোগল স্থাপত্যরীতির আর ওপরের অংশ মোগল-পূর্ব সুলতানিরীতিতে তৈরি। কার্নিশ ধনুকের মতো বাঁকা। তার তলায় সারিবদ্ধ খিলান আকৃতির প্যানেলের অলংকরণ। বাইরের দেয়ালে নানারকম সুক্ষ্ম কারুকর্ম, দেয়ালের অবস্থা দেখে বোঝা গেল মসজিদটি যত্নে আছে।

সারাদেশেই এরকম অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। যত্নের অভাবে অনেক উপাসনালয় , বিশেষ করে মন্দির আর মঠ বিলুপ্তির পথে। সচেতনতা সৃষ্টি করা ছাড়া আর সরকারের সদিচ্ছা ছাড়া সেগুলো রক্ষা করে অসম্ভব। মানুষ আরো সচেতন হোক, যত্নে থাকুক আমাদের সম্পদ।

উইমেনআই২৪//ইউ//০৭-০৫-২০২২//১:৩২ পিএম//

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
করোনা শনাক্ত ছাড়ালো ২ হাজার, মৃত্যু ২         সরিষাবাড়ীতে ৬ শতাধিক বন্যার্তকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ         ঢাকায় ১৭ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি         ‘উন্নত বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’         ১ হাজার ৮৩৬ নারী-শিশু পেলেন ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অনুদান         মগবাজারে ভবনে আগুন         ৫-১২ বছর শিশুরা ফাইজারের টিকা পাবে         ২৭ জুলাই থেকে ঢাকা-টরন্টো বিমানের ফ্লাইট         গাড়ির চাপ না থাকায় শিমুলিয়ার দুই ফেরি আরিচা         পদ্মা সেতুতে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী         উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করে: প্রধানমন্ত্রী         করোনা টিকা মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়: ডা. আলমগীর হোসেন         ঢাবির ‘খ’ ইউনিটে প্রথম নুয়েল         বন্যাকবলিত এলাকা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী         ঢাবি ‘খ’ ইউনিটে ৯০ শতাংশই ফেল         টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রকে হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ         প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ইসলামী ব্যাংকের ১০ কোটি টাকা         পদ্মা সেতু পারাপারে যাত্রীদের দায়িত্বশীল হতে হবে: কাদের         ডিজিটাল সংযোগ স্থাপনে ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প         নেত্রকোনায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে হুয়াওয়ে