বুধবার, ১৫ আষাঢ় ১৪২৯
২৯ জুন ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

‘সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে’

উইমেনআই২৪ ডেস্ক: সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি বিনষ্টের অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বক্তব্য বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় নারীবাদি সংগঠনটির উদ্যোগে সংগঠনের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে (১০, বি/১, সেগুনবাগিচা, ঢাকা) এ  সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মডারেটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রেখা চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্য উপস্থাপনকালে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রেখা চৌধুরী বলেন, ‘১৯৭১ সনে আমরা সবাই বাঙালি- এই চেতনার আলোকেই হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসীসহ সকল নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে একটি গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক, অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়ার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। অন্যদিকে সংবিধানে সকল মানুষের সমঅধিকারের কথা বলা হলেও গত কয়েক দশক ধরেই সাম্প্রদায়িক হামলা ও বিভিন্ন ধরনের সাম্প্রদায়িক অপতৎপরতার ঘটনা আমাদের সমাজে ঘটেই চলেছে, যা মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে  ম্লান করে দিচ্ছে।’

তিনি এসময় বিগত কয়েকদিনে দেশে  সাম্প্রদায়িক ইস্যু নিয়ে সংঘটিত বেশ কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, ‘এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন মনে হলেও প্রতিটি ঘটনা সাম্প্রদায়িকতার সুঁতোয় বাধা। একশ্রেণীর উগ্রমৌলবাদ গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে এবং অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে বিভিন্ন সময়ে দেশে সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে আসছে। এ ধরনের ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের স্বরূপ সবার সামনে উন্মোচন করা হচ্ছেনা। তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হচ্ছেনা। বরং নাগরিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী এবং ভিন্ন মতবাদের মানুষ ও মুক্তচিন্তার মানুষের জন্য যে ধরনের পরিসর থাকা প্রয়োজন তা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। পাশাপাশি রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার, উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় প্রদানের ফলে নারীর প্রগতি, সমঅধিকার, নারীর প্রতি সহিংস আচরণ বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে আরও জটিল হয়ে উঠছে যা নারীর মানবাধিকার পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলছে।’ তিনি এরূপ বিরূপ পরিস্থিতির উত্তরণে সংগঠনের পক্ষে কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন।

দাবিসমূহ:
১. যে কোন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও উস্কানিমূলক ঘটনা সমূহের প্রকৃত অপরাধী ও ইন্ধনদাতাদের  নিরপেক্ষভাবে খুঁজে বের করে  গ্রেফতার ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ সাপেক্ষে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।

২. সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনায় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহীতা ও দায়বদ্ধতার আওতায় আনতে হবে।

৩. সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে।

৪. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনাসমুহ ঘটানো হচেছ সে বিষয়ে যথাযথ তদন্ত পুর্বক অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।  

৫. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ করে সঠিক ও যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।

৬. রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।

৭. ধর্মীয় সমাবেশ বা ওয়াজ মাহফিল থেকে ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ এবং নারীর বিরুদ্ধে সকল প্রকার অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই ধরণের অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে।

৮. ৭২’ এর সংবিধানের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক চেতনার পুন:প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

৯. মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়তে হলে আজকে সরকারী দলসহ সকল রাজনৈতিক দলকে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

১০. সাধারণ শিক্ষার সাথে সমন্বয় রেখে মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী করতে হবে  এবং যত্র তত্র মাদ্রাসা নয়, মাদ্রসা প্রতিষ্ঠার  বিষয়ে একটি  নীতিমালা তৈরী করতে হবে।

মডারেটরের বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক, নারী-পুরুষের সমতাপূর্ণ, যুক্তিবাদী  সমাজ দেখতে চায়। এই সমাজে সকল মানুষের অধিকার বাস্তবায়ন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকে। কিন্তু বাস্তবে তার বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশের অর্থনৈতিক সূচকে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। সর্বক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহনের সুযোগ বেড়েছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে উন্নয়নের ছোঁয়া নিজের জীবনে কোথায় তা সকলের জন্য ভাবার সময় এসেছে।  উগ্র মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী নানা কুটকৌশল অবলম্বন করে উন্নয়নের ক্ষেত্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে এমতাবস্থায় নাগরিক সমাজ ও  নারী আন্দোলনের  ভ’মিকা নির্ধারণের সময় হয়ে গেছে। ক্ষমতাশালীরা একচ্ছত্রভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা সুবিধা নিচ্ছে। সামগ্রিক ভাবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা হারিয়েছে। এসকল পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করে তিনি এসময় মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে দেশ গড়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্র পরিচালক, গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজকে সোচ্চার হতে আহ্বান জানান।  পাশাপাশি তিনি  আইনের সুশাসন, সমতা প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্বারোপ করেন।’

এতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেত্রীবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উইমেনআই২৪//ইউ//২৫-০৪-২০২২//৩:৫০ পিএম//

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
চিকিৎসক অদিতি সরকারের মৃত্যু         মারা গেছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ         বাংলাদেশের বিপক্ষে উইন্ডিজের দল ঘোষণা         কলম্বিয়ার কারাগারে দাঙ্গার মধ্যে আগুন, নিহত ৪৯         প্রেমিকার জন্মদিনে সারপ্রাইজ দিলেন দেব         ঈদুল আজহা কবে, জানা যাবে কাল         পোস্তগোলা ব্রিজে আলাদা টোল দিতে হবে না         চট্টগ্রামে একদিনে করোনা আক্রান্ত ৫৮         প্রেমিকাকে নিয়ে উধাও ছেলে, মাকে পুড়িয়ে হত্যা!         ঢাকাগামী ৭ ট্রেন বিমানবন্দর স্টেশনে থামবে না চার দিন         মহানবিকে কটূক্তি : দর্জিকে কুপিয়ে হত্যা, কারফিউ জারি         ভারতে আটকে থাকা ২৫ নারী ও শিশু ফিরলেন দেশে         ভয়ঙ্কর নদী রিও টিনটো         স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা         বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত আরও ৭ লাখ, মৃত্যু ১৩২৬         আমার ভুলগুলো ক্ষমা করে দিন: প্রভা         করোনা সংক্রমণ রোধে ৬ নির্দেশনা         জাবিতে জাতীয় গণিত অলিম্পিয়াড পহেলা জুলাই         দেশে রপ্তানি আয়ে রেকর্ড         মুম্বাইয়ে ভবন ধসে নিহত ১৯         দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির পরামর্শ