শুক্রবার, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
২৭ মে ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

শারীরিক অক্ষমতাকে জয় করে মোটিভেশনাল স্পিকার: ড. মালভিকা আইয়ার

উইমেনআই২৪ ডেস্ক: 
জীবনে দ্বিতীয় সুযোগ অনেকেই পান, কিন্তু মালভিকা আইয়ারের মতো সুযোগটা দুমড়ে-মুচড়ে জীবনটা আস্বাদন করেন কয়জন! খুব অল্প বয়সে এক গ্রেনেড বিস্ফোরণে হাত হারান এই নারী। এরপর আঠারো মাস হাসপাতালে কাটাতে হয় তাকে। নানারকম অপারেশন ও ট্রমার মধ্যে দিয়ে গেছে সে এই দেড়টা বছর। অনেক মানুষ তাকে দেখতে এসেছে হাসপাতালে। কেউ কেউ কষ্ট পেয়েছেন তার এমন করুণ অবস্থা দেখে, কেউ বা মুখের উপরেই বলে গেছেন, দুই হাত হারানো মেয়েটাকে কে বিয়ে করবে! এখানেই শেষ নয়। সবচেয়ে বড় কথা ডাক্তার বলেছেন, মালভিকার বেঁচে থাকার আশা নেই। কিন্তু জীবনযোদ্ধা মালভিকা সকল আশঙ্কাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিব্যি মানসিক প্রশান্তি ও সম্মানের সাথে পার করে দিচ্ছেন জীবন।

ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন ও নৃত্যের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে ওঠা মালভিকা আইয়ার জন্ম তামিল নাড়ুর কুম্বাকোনাম শহরে। বি. ক্রিশনান ও হেমা ক্রিশনান দম্পতির ঘরে। ক্রিশনান দম্পতির দুই সন্তান, আরেক সন্তান কদম্বরি। মালভিকার জীবনে আকস্মিক ঘটনাটা ঘটার সময় বি. ক্রিশনান চাকরি সূত্রে পরিবারকে নিয়ে থাকতেন রাজস্থানের বিকানেন শহরে। দুই মেয়েকে নিয়ে সুখেই দিন কাটছিল প্রকৌশলী বি. ক্রিশনান ও তার স্ত্রীর। কিন্তু সুখ সকলের কপালে সয় না।

২০০২ সালের ২৬ মে, মালভিকার বয়স তখন ১৩ বছর। মালভিকার স্বপ্ন ছিল ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়া। সেই স্বপ্নের লক্ষ্যেই সে টুকটুক করে এগিয়ে চলছিল। দর্জি বাড়ি থেকে টুকরা কাপড় নিয়ে এসে নিজেই জামায় কারুকাজ করতেন তিনি। সেদিনও তিনি জামা ডিজাইন করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু ঘটে গেল এক বিপত্তি।

বোমা বিস্ফোরণে মালভিকার জীবনের উত্থান-পতন:

জিন্সের প্যান্টটা ছিঁড়ে গিয়েছিল মালভিকার। ছেঁড়া প্যান্টে আঠা লাগাতে বসে তার মনে হলো, আঠা বসানোর জন্য অনেকক্ষণ প্যান্টটা চেপে রাখতে হবে। কোনোকিছু দিয়ে চেপে রাখলে সময়টা বাঁচবে, এই ভেবে তিনি গ্যারেজে যায় প্যান্ট চাপা দিয়ে রাখার জন্য কিছু আনতে। মালভিকার বাসার পাশে ছিল সামরিক বাহিনীর একটি ক্যাম্প। সেখানকার পরীক্ষামূলক একটি গ্রেনেড তার বাসার গ্যারাজে পড়ে ছিল। মালভিকা আইয়ার না বুঝে সেটি নিয়ে যান প্যান্ট চাপা দিয়ে রাখার জন্য। গ্রেনেডটা প্যান্টের উপর চেপে ধরতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়।

মালভিকা হারান তার দুই হাত, পা দুটোও হয় ক্ষত বিক্ষত হয়ে যায়। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ ক্ষত হয় অনেক, নার্ভগুলো প্যারালাইজড হয়ে যায় তার। অনুভূতি শক্তিও হারিয়ে ফেলেন তিনি। ডাক্তাররা মালভিকার বাঁচার আশা রাখেননি কিন্তু তিনি বেঁচে ওঠেন। হাতহীন মালভিকার জীবন হয় আগের চেয়ে একটু ব্যতিক্রম। ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন ক্রমেই ঘুচে যায়। শখের নাচটাও আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না তার পক্ষে।

হাসপাতালে তার দিন কাটতে থাকে চোখে জলে গাল ভিজিয়ে ও মানুষের করুণা দৃষ্টি নিয়ে। মালভিকা এমন জীবন মোটেও চাইতেন না। তিনি সব সময়ই একজন আশাবাদী মানুষ। ভেঙ্গে পড়তে শেখেননি কখনও। এখনও ভেঙ্গে পড়তে চান না। যেখানে তার ঘুরে দাঁড়ানোর অবলম্বন স্বয়ং মা, তখন ভেঙ্গে পড়ার প্রশ্নই উঠে না। হেমা ক্রিশনান ছোট মেয়েকে সবসময় বলতেন, “তোমার কোনো না কোনো গুণ আছে অবশ্যই। যেটা তুমি এখন খুঁজে পাচ্ছো না কিন্তু সঠিক সময় আসলে তুমি সেটা খুঁজে নিতে পারবে।”

বিকানেনের কলোনির বাচ্চাদের সাথে ফুটবল খেলা, ঘুড়ি উড়ানো, মায়ের শাড়ি জড়িয়ে শিক্ষক হওয়ার খেলা খেলে বেড়ানো মালভিকার হাস্যোজ্জ্বল জীবনটা এভাবে এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালে বসে মা-মেয়ে একসাথে শুধু কাঁদতেনই না, ইন্টারনেটে কৃত্রিম হাতের সন্ধানও করতেন। অবশেষে সন্ধান মেলে জার্মানিতে প্রস্তুতকৃত কৃত্রিম হাতের। লাগানো হয় কৃত্রিম হাত। অত্যন্ত আনন্দ আর স্বাভাবিক জীবনযাপন করার স্বপ্ন নিয়ে বাসায় ফিরে আসেন মালভিকা। কিন্তু নকল হাত কি কখনও আসল হাতের জায়গা নিতে পারে? তাই একটু অসুবিধার শিকার হতে হতো তাকে কিন্তু ধৈর্য ধরে তিনি এসব সমস্যা মোকাবেলা করে গেছেন।

বোমা বিস্ফোরণের শিকার হয়ে মালভিকাকে এক বছর স্কুল ড্রপ দিতে হয়। সেই সময় ছিল তার এস.এস.এল.সি পরীক্ষা (Secondary School Leaving Certificate examination in Chennai)। সুস্থ হয়ে উঠার পর তিনি সহযোগী লেখক নিয়ে পরীক্ষার্থী হিসেবে এস.এস.এল.সি পরীক্ষা দেন। প্রাইভেট ক্যান্ডিডেটদের এস.এস.এল.সি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়। হাজার হাজার প্রাইভেট ক্যান্ডিডেটের মধ্যে মালভিকা ৪৮৩/৫০০ পেয়ে তার রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আবদুল কালামের সাথে সাক্ষাতের জন্য তাকে রাষ্ট্রপতি ভবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেই মুহূর্তে তিনি অনুধাবন করে, “আমার ভেঙ্গে পড়া উচিত না। আমি আর পেছনে ঘুরে তাকাবো না।”

মালভিকা এগিয়ে যেতে থাকেন জীবন যুদ্ধে। দিল্লীর সেইন্ট স্টিভেনস কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর সমাজকর্মে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির নেওয়ার জন্য ভর্তি হয় দিল্লি স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্কে (Delhi School of Social Work, Delhi) ভর্তি হন। এখানেই থেমে থাকেননি মালভিকা। ২০১২ সালে মাদ্রাজ স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্কে (Madras School of Social Work, Chennai) থেকে এম.ফিল ও ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি; সাথে চালিয়ে যান তার সামাজিক কাজগুলো।

মালভিকা এখন বেশ আলোচিত। ২০১৩ সালে TEDxYouth@Chennai থেকে ডাক পান একটি বক্তৃতা দেওয়ার জন্য। এরপর থেকে তিনি হয়ে উঠেন মোটিভেশনাল স্পিকার।

উইমেনআই২৪ডটকম//এসএল//

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
হুসাইন আল-শেখ পিএলও’র নতুন মহাসচিব         উন্নত ভবিষ্যতের জন্য এশিয়াকে শক্তি একত্রিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী         চালের দাম বেড়েছে ৫০-২০০ টাকা         ‘প্রস্রাব’ থেকে তৈরি হচ্ছে বিয়ার!         সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজে চাকরি         পি কে হালদার পশ্চিমবঙ্গে আরও ১১ দিন জেল হেফাজতে থাকবেন         খাদ্য সঙ্কট নিরসনে পুতিনের প্রস্তাব         দেশে করোনায় মৃত্যু নেই, শনাক্ত ২৩ রোগী         জাপান ও ওইসিডির সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী         রাজধানীতে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার         শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে গাফফার চৌধুরীর মরদেহ         মাদক মামলায় ক্লিন চিট পেলেন শাহরুখ পুত্র         অবশেষে মুখ খুললেন ‘নিখোঁজ’ নুসরাত         বুকার পুরস্কার জিতলো ভারতীয় উপন্যাস ‘টম্ব অফ স্যান্ড’         সোনার দাম কমেছে         ৪৪তম বিসিএসে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি         কুমিল্লা সিটি প্রার্থীদের ডেকেছে ইসি         পথশিশুকে বিয়ে দিল গান্ধি আশ্রম ট্রাস্ট         ভারতে স্বীকৃতি পেল যৌন পেশা