সোমবার, ৪ মাঘ ১৪২৮
১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

সারা বছরই চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনাকষাতে চলে তুলার ব্যবসা

আজমাল হোসেন মামুন: শুধু শীতকালেই নয়, সারা বছর ধরে চলে তুলার ব্যবসা চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে উপজেলার মনাকষা বাজারে। প্রতিনিয়ত কুটির শিল্পের মাধ্যমে লেপ, তোষক, গদি, বালিশসহ বিভিন্ন তুলার বিছানা তৈরির কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই নারী শশ্রমিকর।চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত সর্ব পশ্চিমের এলাকা মনাকষাতে রয়েছে এ লেপ তোষক, বালিশ ও গদি তৈরির কারিগর। যারা বার মাসই ধরে এ কাজ‌ করে জীবিকা নির্বাহ করে। তবে শীতকালে এ ব্যবসা একটু বেশী হয়। সারা বছরের তুলনায় শীতকালে আয় কিছুটা বেশী হলেও তুলা ব্যবসায়ীরা সারাবছর ধরেই এ ব্যবসা করে থাকে। যেসব কারিগরি এ কাজ করে তারা স্থানীয়দের কাছে ধুইন্যা সম্প্রদায় নামে পরিচিত। এরা প্রায় দেড়শ বছর ধরে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এখানে ধনী দরিদ্র বলে নয়, ধুইন্যা সম্প্রদায়ের সকলেই এ ব্যবসা করে থাকেন । তাদের অনেকইে শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে সাময়িক লেপ, তোষক, গদি ও বালিশ তৈরির অস্থায়ী কারখানা বসিয়ে শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে পাইকারী ও খুচরা বিক্রি করে থাকে। তাদের তৈরি লেপ তোষক বালিশ দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়।

সরজমিনে এলকাবাসী ও ধুইন্যা সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, মনাকষাতে ছোট বড় ৫০/৬০ জন লেপতোষক ও তুলা ব্যাবসায়ী রয়েছে। তারা রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন তুলার কারখানা থেকে ছাঁট তুলে কিনে এনে মান অনুযায়ী কয়েক শ্রেণিতে ভাগ করে নেয়।

মনাকষার সবচেয়ে বড় তুলা ব্যবসায়ী আতাউর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, মনাকষাতে আমরা প্রায় ৫০/৬০জন বড় ব্যবসায়ী আছি। এছাড়াও ছোট ছোট ব্যবসায়ী আরো ৫০ জন রয়েছে। লেপ, তোষক, বালিশ ও গদি তৈরির ক্ষেত্রে পুরুষ শ্রমিকরা বেশীর ভাগ সময় জেলা ও বিভাগীয় শহরের বাইরে কাজ করে। আর নারী শ্রমিকরা আমার মত বড় বড় ব্যবাসায়ীদের বাড়িতে বা শ্রমিকদের নিজ বাড়িতেও কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। এটি আমাদের অনেক পুরাতন ব্যবসা। আমাদের পূর্ব পুরুষের আমল থেকে অর্থাৎ প্রায় ২শ বছর থেকে এ ব্যবসা করা হয়।

রাজধানী ঢাকা বিভিন্ন তুলার কারখানা থেকে উর্ধ্বে ১৬ টাকা ও নিম্নে ৮ টাকা কেজি দরে এক সঙ্গে ৮ থেকে ১০ হাজার কেজি তুলা ক্রয় করে ট্রাক প্রতি ১৬ হাজার টাকা ও স্ট্রিয়ারিং প্রতি ৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে মনাকষা পর্যন্ত আমদানী করা হয়। আমাদানী করা তুলাকে বাছাই করে কয়েক শ্রেণিতে ভাগ করেন ব্যবসায়ীরা। সবচেয়ে ভালো মানের তুলা ১২০ টাকা কেজি ও সবচেয়ে নিম্নমানের তুলা ২৫/৩০কেজি দরে বিক্রি করে থাকেন। এসব আমদানীকৃত তুলা দিয়ে লেপ তোষক, বালিশ ও গদি শ্রমিকের মাধ্যমে তৈরি করে আবারো দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা জন্য সরবরাহ করা হয়।

নাম প্রকাশে একজন ব্যবসায়ী জানান, রেডিমেট একটি তোষক তৈরি করতে আমাদের খরচ হয় প্রায় ১২শ টাকা, লেপ তৈরি করতে খরচ হয় ৭/৮ শ টাকা। সবমিলিয়ে এক ট্রাক তুলা ঢাকা থেকে এনে সব খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকে প্রায় ২০ হাজার টাকা।
তিনি বলেন,আমাদের শ্রমিকদের বেশীর ভাগই নারী। তাদের চুক্তি ভিত্তিক রেডিমেট তোষক প্রতি ৮০টাকা ও লেপপ্রতি ৭০ টাকা করে দিই। প্রতিজন প্রতিদিনই প্রায় ৫টি করে লেপ বা তোষক তৈরি করতে পারে এবং তাদের দৈনিক উপার্জন হয় গড়ে ৩৫০ টাকা। আমাদের মনাকষাতে প্রায় ২শ থেকে আড়াই শ জন নারী শ্রমিক কাজ করে। যেহেতু তাদের বেশীর ভাগই অসহায়, তাই তাদের এ উপার্জিত অর্থ দিয়ে সাংসার চলে।

এসব তুলা ব্যবসায়ীরা এ ব্যবসার জন্য এ পর্যন্ত সরকারি বা কোন সংস্থা থেকে কোন ধরনের পরামর্শ পায়নি। এমনকি স্বল্প সুদে কোন লোন পায়নি বলে বিশ্বস্ত সূত্রে প্রকাশ।

যারা নারী শ্রমিক, তারা মুখ খুলতে রাজি না হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, আমরা অসহায় তাই বাধ্য হয়ে এ কাজ করি। প্রতিদিন ভোররাত থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত একটানা কাজ করি। তাতে জন প্রতি ৪/ ৫টি লেপ তোষক তৈরি করতে পারি। পারিশ্রমিক পাই লেপ প্রতি ২৫ টাকা ও তোষক প্রতি ৩৫টাকা। তারপর আবার তাদের আমদানীকৃত তুলাগুলো বাছাই আমদের করতে হয়। যার কোন পারিশ্রমিক নেই। পেটের দায়ে এ কাজ করতে গিয়ে তুলার গর্দ্দা বা ধুলাবালি দেহের মধ্যে প্রবেশ করে প্রায় সারা বছরই অসুস্থ থাকতে হয়।

তারা আরো জানান, কয়েকজন শ্রমিক একাজ করার হাঁপানী রোগে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। আমরা অন্য কোথাও কাজ করতে যেতে পারিনা। তাই বাধ্য হয়ে তারা যখন যে পারিশ্রমিক দেয় তাই নিয়ে সন্তষ্ট থাকতে হয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, তুলার ধুলা- বালি থেকে শ্রমিকদের প্রথমত অ্যাজমা রোগ হতে পারে। যার কোন স্থায়ী আরোগ্য নেই। তাছাড়া সর্দি কাশি, ব্রনকাইটিসসব নানা ধরনের রোগ হতে পারে। স্থায়ী প্রতিকার বলতে কিছু না থাকলেও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তবে কাজ করার সময় মাস্ক ব্যবহার করা উত্তম।

স্বল্প সুদে ঋত, উন্নত কুটির শিল্পে রূপান্তর ও নারী শ্রমিকদের নায্য পরিশ্রমিকের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তুলা ব্যবসাকে আরো সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

লেপ-তোষক-বালিশ তৈরিকে একটি উন্নত কুটির শিল্পে রূপদানে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে‌ সচেতন মহল মনে করেন।

উইমেনআই২৪//এএসইউ//
 

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
অবশেষে পদত্যাগ করলেন শাবির সেই প্রভোস্ট         বাণিজ্য মেলায় শিশুদের জন্য চালু হলো দুটি জাম্পিং হাউজ         'জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে'         ‘মেশিনে ভোট দেওয়া সোজা’         হ্যাটট্রিকের পর আইভী যা বললেন         ইসলামী ব্যাংকে দুই দিনব্যাপী ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন         শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, হল ছাড়ার নির্দেশ         যুক্তরাষ্ট্রে জিম্মি ঘটনার নেপথ্যে পাকিস্তানি বিজ্ঞানী আফিয়া সিদ্দিকী         বিচারপতি টিএইচ খান আর নেই         শীতে প্রবীণদের যত্নে পাঁচ পরামর্শ         আইভীর হ্যাট্রিক জয়         নারায়ণগঞ্জ সিটি আমাদের সর্বোত্তম নির্বাচন: মাহবুব তালুকদার         রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পুলিশ সদস্য         লুডুকে ‘অলৌকিক শক্তি’ মানতেন যারা         বড় ব্যবধানে এগিয়ে আইভী         ধরে নিয়ে যাওয়া সেই দুই ছাত্রকে ফেরত দিল বিএসএফ         বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে টস জিতে ব্যাটিংয়ে যুবারা         করোনা : ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ও শনাক্ত বাড়ল         ৪৫ বছর পর মাকে খুঁজতে বাংলাদেশে ম্যারিও         রাতেই সাত কলেজের ভর্তি ফল প্রকাশ         শাবিপ্রবিতে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, ভিসিকে উদ্ধার