সোমবার, ৪ মাঘ ১৪২৮
১৭ জানুয়ারী ২০২২ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

ভালোবাসার রং বদলায় : মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

ডা: ফাহমিদা ফেরদৌস :

সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকে ভালোবাসার বিভিন্ন মতবাদ পৃথিবীতে বিদ্যমান ।  ভালোবাসা চারটি বর্ণ দিয়ে তৈরী একটি অর্থবহ, ইতিবাচক, আবেগ পরিপূর্ণ  একটি শব্দ । যার অবস্থান আমাদের মস্তিষ্কে এবং নিয়ন্ত্রণ নিউরট্রান্স মিটারের মাধ্যমে ।জীবনের প্রতিটি খ্যেএে (ব্যক্তিগত, পারিবারিক,সামাজিক)ভালোবাসারপ্রয়োজন অনস্বীকার্য কারণ ভালোবাসার মাধ্যমে আমরা একজন আরেকজনের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করি একটি ইতিবাচক গঠনমূলক ও যৌক্তিক জীবন যাপনের আশায়। যদিও _
যুগের পরিবর্তনে এবং সময়ের বিবর্তনে "ভালোবাসা" র ব্যাখা দেয়া হয়েছে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে : পশ্চিমা বিশ্বের ভীত স্থাপনকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্লেটো - তার মতে ভালোবাসা হচ্ছে "নিষ্কাম " স্বর্গীয় অনুভূতি যেখানে প্রেমিক প্রেমিকা ভালোবাসার সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করবে কিন্তু শারীরিক সম্পর্ক থাকবে অনুপস্থিত । এ ভালোবাসা আজ ও আমাদের মাঝে "প্লেটোনিক লাভ " হিসেবে পরিচিত। তার এই মতবাদের সাথে অনেকাংশে এক হয়ে ইংল্যাণ্ডের বিখ্যাত কবি "এন্ড্রুমারভেন" তার প্রায় সব কবিতায় ই উল্লেখ করেছেন ভালোবাসা একটি স্বর্গীয় অনুভূতি এবং তা আত্মার সাথে সম্পর্কিত।যেখানে শারীরিক বিষয়টি অনুপস্থিত এবং এই ভালোবাসায় বিদ্যমান থাকে চিরতৃষ্বা এবং হতাশা। 
কিন্তু বিবর্তনীয় মনোসামাজিক গবেষকদের মতে ভালোবাসা শুধু প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ বিষয়  নয়,ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ পরিবেশ ও পরিস্থিতি ভিন্ন হয়ে থাকে, যেমন: স্বামী -স্ত্রী, ভাই-বোন, দাদা - দাদী,নানা-নানী পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের প্রতি থাকে ভালোবাসার নিবিড় বন্ধন। এছাড়াও শিক্ষক-শিক্ষীকা, শিক্ষার্থী,সহকর্মী ও সহপাঠীদের সাথে ও ভালোবাসার  পারস্পরিক বন্ধন গডে়  ওঠে। পশু -পাখি, গাছ-পালা ও প্রকৃতির প্রতি জন্মায় মানুষের ভালোবাসা । সন্তানের প্রতি মা-বাবার ভালোবাসা সারাবিশ্ব স্বীকৃত । 
আসলে ভালোবাসার বহি:প্রকাশ হয়ে থাকে মানুষের ব্যক্তিত্বের বহি:প্রকাশ ও সম্পর্কের ধরনের উপর বলেছেন : হেলেন ফিশার, যিনি ছিলেন ভালোবাসা বিষয়ে একজন নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞ এছাড়াও তিনি ভালোবাসা কে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করেছেন (১) ইচ্ছা :যা মন থেকে জাগ্রত হতে হবে  (২)আকর্ষন : (চোখে দেখে, কানে শোনে )অনুভব করা (৩) শারীরিক ও মানসিক সংযুক্তি - যা স্পর্শের মাধ্যমে তৈরি হয়ে থাকে।অর্থাৎ "হেলেন ফিশার" মনে করেন, কাউকে ভালোবাসতে হলে, কোন মানুষের মধ্যে বিদ্যমান থাকতে হবে "ইচ্ছা" এই ইচ্ছা থেকেই সেই ভালোবাসার বস্তুুটি অথবা মানুষটির  প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে। এই আর্কষণ এবং অনুভূতির জন্য টেস্টোটেরন এবং ইস্টোজেন,প্রজেস্টোরন হরমোন সম্পৃক্ততা। তিনি তার গবেষণায় আরও বলেছেন ভালোবাসার এই ইতিবাচক আবেগের গভীর ভাবে সমৃক্ত রয়েছে নিউরাল কানেকশন এবংনিউরট্রান্সমিটারের(ডোপামিন, সেরোটনিন,এমফিটামিন,নরইপে-নেফ্রিন এবং অক্সিটসিন ইত্যাদি ) ভারসাম্যতা। সাম্প্রতিক আরও একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যখন কোন মানুষের মধ্যে  ভালোবাসার অনুভূতি জাগ্রত হয় তখন তার মস্তিষ্ক থেকে, এড্রেনালিন, ডোপামিন ও সেরোটনিন নি:সৃত হয় । এড্রেনালিন নি:সরনের ফলে  কারো মধ্যে যখন ভালোবাসার  অনুভূতি জাগ্রত হয় তখন তার ক্ষুধা,ঘুম কমে যায় ও হ্নদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং সবসময় একটি উওেজনা অনুভব করে । ডোপামিন ও সেরোটনিন নির্ধারণ করে "তীব্র ভালোলাগা" র অনুভূতি এছাড়াও আরও নির্ধারণ করে : "কখন" এবং  "কেন" আপনি ভালোবাসবেন ! 
বিখ্যাত মনরোগ /মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ  "  সিগময়েড ফ্রয়েড " র তত্ত্ব বিংশ শতাব্দীতে এনেছিল এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন, তার মতে : প্রত্যেক  মানুষের ই শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সাথে "কাম" অর্থাৎ শারীরিক জৈবিক চাহিদার গুরুত্বপূর্ণ সম্পৃক্ততা রয়েছে, এবং এই বিকাশ শুরু হয় শিশুকাল থেকে  কয়েকটি স্থরে । তার মতে ভালোবাসার বহি:প্রকাশ হতে হবে  অবশ্যই শারীরিক ও মানসিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে আর এই সম্পৃক্ততা ই ভালোবাসার বন্ধনকে সুসংহত ও সসংবদ্ধ করে । তার মতে ভালোবাসায় শারীরিক ও মানসিক সম্পৃক্ততা এবং "কাম" ইচ্ছে জাগ্রত  হওয়া কোন পাপের পরিনতি নয়। এ হলো জীবনের স্বাভাবিক সুন্দর বহি:প্রকাশ। যদি কোন কারণে শিশুকালে এই বিকাশ ব্যহত হয় তাহলে পরবর্তীকালে যে কোন মানুষের ই ব্যক্তিত্ত্ব অস্বাভাবিক হয়ে  
পড়ে, তৈরী হতে পারে "ব্যক্তিত্ত্বের বিকাশ বৈকল্য "। এছাড়াও আরও একটি গবেষণায় দেখা গেছে  শারীরিক ও মানসিক সংযূক্তির কারনে ছেলে ও মেয়ে উভয় হতেই যে অক্সিটসিন ও ভেসোপ্রেসিন নি:সরন হয় তার কারণে তৈরি হয় মায়া, মমতা ও বিশ্বাসের এক গভীর সম্পর্ক, যার কারণে একজন আরেকজনের সাথে বছরের পর বছর এমনকি কয়েক আমৃত্য পর্যন্ত
বসবাস করে । 
গবেষণায় আরও দেখা গেছে যদি কোন মানুষের ব্যক্তিত্ত্বে কোন ধরনের বৈকল্য যেমন: বদমেজাজ, স্বার্থপরতা, অহংকার, কটুক্তি করা, শারীরিক ও মানসিক আঘাত করার প্রবনতা ইত্যাদি এছাড়াও সঙ্গী কোন তীব্র শারীরিক ও মানসিক রোগাক্রান্ত হলে ভালোবাসার চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ও সম্পর্ক/সংযুক্তি বিনষ্ট হতে পারে, পরিনতি হতে পারে ভয়াবহ।।
ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কোন বিশেষ দিনের প্রয়োজন হয় না।ভালোবাসা বিহীন সম্পর্ক অর্থহীন।
প্রতিটা দিন হতে হবে ভালোবাসা প্রকাশের দিন। প্রত্যেকের জীবনের প্রতিটা সম্পর্ক ভালোবাসায় পরিপূর্ণ থাকুক, এই প্রত্যাশায় -

ডা: ফাহমিদা ফেরদৌস 
মনোরোগ/মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসা ভাষাবিদ্।
সহকারী অধ্যাপক (মনোরোগ বিদ্যাবিভাগ,
জেড, এইচ সিকদার ওমেন্স মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


 

 

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
অবশেষে পদত্যাগ করলেন শাবির সেই প্রভোস্ট         বাণিজ্য মেলায় শিশুদের জন্য চালু হলো দুটি জাম্পিং হাউজ         'জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে'         ‘মেশিনে ভোট দেওয়া সোজা’         হ্যাটট্রিকের পর আইভী যা বললেন         ইসলামী ব্যাংকে দুই দিনব্যাপী ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন         শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা, হল ছাড়ার নির্দেশ         যুক্তরাষ্ট্রে জিম্মি ঘটনার নেপথ্যে পাকিস্তানি বিজ্ঞানী আফিয়া সিদ্দিকী         বিচারপতি টিএইচ খান আর নেই         শীতে প্রবীণদের যত্নে পাঁচ পরামর্শ         আইভীর হ্যাট্রিক জয়         নারায়ণগঞ্জ সিটি আমাদের সর্বোত্তম নির্বাচন: মাহবুব তালুকদার         রাজধানীতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পুলিশ সদস্য         লুডুকে ‘অলৌকিক শক্তি’ মানতেন যারা         বড় ব্যবধানে এগিয়ে আইভী         ধরে নিয়ে যাওয়া সেই দুই ছাত্রকে ফেরত দিল বিএসএফ         বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে টস জিতে ব্যাটিংয়ে যুবারা         করোনা : ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ও শনাক্ত বাড়ল         ৪৫ বছর পর মাকে খুঁজতে বাংলাদেশে ম্যারিও         রাতেই সাত কলেজের ভর্তি ফল প্রকাশ         শাবিপ্রবিতে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ, ভিসিকে উদ্ধার