শনিবার, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
২৭ নভেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

‘স্কুল থেকে শিশু ঝরে পড়া রোধে প্রয়োজন সমন্বিত প্রস্তুতি ও উদ্যোগ’

উইমেনআই২৪ প্রতিবেদক: ঢাকা শহরের প্রান্তিক এলাকার শিশুদের স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া রোধে এবং তাদের জন্য উন্নতমানের শিক্ষা নিশ্চিতে প্রয়োজন স্কুলে সুশাসন, আর্থিক সহায়তায় স্বচ্ছতা, উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ।

সাম্প্রতিক এক জরিপের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বুধবার ‘রিডিউসিং স্কুল ড্রপআউট ইন আরবান স্লামস অব বাংলাদেশ : ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। ‘রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কালেক্টিভ (আরডিসি)’ এর সহায়তায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪০টি স্কুলে এবং ৬৭৩টি গৃহস্থালিতে বিভিন্ন শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিসেম্বর ২০২০ থেকে মার্চ ২০২১ পর্যন্ত জরিপ চালিয়ে এই গবেষণাটি পরচালনা করে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।

এই জরিপে দেখা গেছে, গবেষণায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি স্কুলেই স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকলেও অভিভাবক-শিক্ষক সমিতি রয়েছে তাদের ২৭.৫ শতাংশের এবং স্কুল কেবিনেট রয়েছে ৫৭ শতাংশের।

গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও রিসার্চ অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট কালেক্টিভের সভাপতি ড. মেসবাহ কামাল। তিনি বলেন, ‘এই জরিপমতে, অংশীদাররা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিশু, বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকার মেয়েশিশুদের, ঝরে পড়ার উচ্চ হার সম্পর্কে সচেতন। তবুও তারা মনে করেন না যে এই হার চিহ্নিত ও প্রতিরোধে তাদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করা জরুরি। ঝরে পড়া প্রতিরোধে তারা সাধারণ স্কুল-ভিত্তিক উদ্যোগের সুপারিশ জানান। অংশীদারদের মতে বাসায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা দেখভাল করার দায়িত্ব প্রাথমিকভাবে অভিভাবকদের। তারা আরও মনে করেন, স্কুল শিক্ষক এবং অভিভাভবকদের উচিত শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া এবং পড়াশোনা নিশ্চিত করা। জরিপে অংশগ্রহণকারী অংশীদারদের মতে, স্কুল থেকে শিশুদের ঝরে পড়া প্রতিরোধে শিক্ষক এবং অভিভাবকের নজরদারি প্রয়োজন।

এই জরিপের মধ্য দিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে- শিশুর পড়াশোনা নিশ্চিতে স্কুলে অভিভাবক-শিক্ষক সমিতির ভূমিকা আশা করা হলেও বিদ্যমান দায়িত্ব ও ভূমিকা খুবই কম। এই জরিপের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যমতে, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি স্কুলের অধিকাংশ বিষয়ের দেখভাল করেন এবং স্কুলের বিষয়ে অন্য অংশীদারদের প্রভাব প্রত্যাশা করে না। অংশীদাররা আরো জানান যে, অভিভাবক-শিক্ষক মিটিং এবং স্কুলের বিষয়ে অভিভাবকরা প্রায়ই আগ্রহী থাকেন না।

জরিপে দেখা গেছে, দীর্ঘকালীন স্কুল বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি তাই স্কুলদের নিজেদেরও শিক্ষার্থীদের এই ক্ষতিপূরণের জন্য উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করতে হবে। প্রতিকারমূলক শিক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিতে কাজ করতে হবে যেন শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনায় পুনরায় ফিরে যেতে পারে। 
গবেষণা প্রতিবেদন মতে, স্কুল পুনরায় চালু হওয়ার ফলে, আর্থিক সহায়তা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান জরুরি। সকল শিক্ষার্থী যেন স্কুলে ফিরে আসে তা নিশ্চিতে স্কুলকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন জরিপে অংশগ্রহণকারীরা। স্কুলের বকেয়া বেতনসহ অন্যান্য ফি এর বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে মত দেন তারা।

প্রতিবেদন পরিবেশনকালে অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল ঝরে পড়া রোধে স্থানীয় সরকারের ভূমিকা পালনের গুরুত্ব প্রকাশ করেন এই গবেষণার সুপারিশে। আয়োজনের প্রধান অতিথি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক বলেন, ‘করোনা আমাদের সামনে এক নতুন ধরণের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। এধরনের পরিস্থিতির জন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলো না। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি যত দ্রুত সম্ভব সাড়াপ্রদানে। স্কুল বন্ধের এক সপ্তাহের মধ্যেই সংসদ টিভি ক্লাসরুম ও অনলাইন ক্লাসরুমের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেছি। প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ছিলো। আমরা লক্ষ্য রাখছি যেন সামনে এধরণের পরিস্থিতির জন্য আমাদের আরো জোরালো প্রস্তুতি থাকে।’

স্বাগত বক্তব্যে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর সেন্ট্রাল অ্যান্ড নর্দান রিজিওন প্রধান আশিক বিল্লাহ জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষকবৃন্দ ও স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির মধ্যে অন্তত প্রতি তিনমাসে বিদ্যালয় পরিচালনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় বিষয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, ‘বস্তিতে বসবাসরত এবং গ্রামীণ জনপদে যেসব শিশুরা হতদরিদ্র পরিবারে বসবাস করে তাদের স্কুল ফি মওকুফ করা প্রয়োজন কারণ করোনার ফলে তাদের পরিবারের রোজগার অনেকাংশেই কমেছে। শিশু সুরক্ষা নিশ্চিতে আমাদের সমন্বিতভাবে আরো বেশি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।’  

আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- অপরাজেয় বাংলাদেশ-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ওয়াহিদা বানু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দা তাহমিনা আক্তার।

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক, মানিক কুমার সাহা’র সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইউনিসেফ বাংলাদেশ-এর শিক্ষা কর্মকর্তা নিশাত নাজমী এবং সুরভি’র নির্বাহী পরিচালক আবু তাহের।

আলোচকরা বলেন, ‘শিশুদের স্কুলে ধরে রাখতে স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়নও জড়িত। বিশেষ করে, মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য হাইজিন ব্যবস্থা জোরালো না করলে মেয়েরা স্কুলে যেতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে শিশু নির্যাতন বন্ধেও।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে চলেছে। বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে- স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি, অভিভাবক-শিক্ষক সমিতি এবং স্কুল কেবিনেটের সক্ষমতা বৃদ্ধি। অন্যান্য উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে শিক্ষাভাতা হিসেবে আর্থিক সহায়তা প্রদান, বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা প্রভৃতি।’

উইমেনআই২৪//এএসইউ//

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
প্রকাশ হলো রোজিনার নতুন গান ‘রাত জেগে থাকি’         বাংলাদেশি তরুণ সাদমুআর নানা রূপ: কখনো নারী, কখনো পুরুষ         ১০০ টাকায় পুলিশের চাকরি পেয়ে বিস্মিত কেয়া         সহিংসতার জন্য মানুষ আর ভোটকেন্দ্রে যেতে চায় না :জি এম কাদের         বান্দরবানের রুমা ও আলীকদম ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা         দেশের অবশিষ্ট মানুষকে দ্রুত বিদ্যুৎ দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর         সিলেট থেকে সরাসরি পণ্য রপ্তানির সুবিধা নিশ্চিত করা হবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী         মেয়র আব্বাসকে আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি         চট্টগ্রামে কেমিক্যাল কারখানায় আগুন নেভানোর পর ফায়ার কর্মীর মৃত্যু         তেলের দাম বাড়ায় মোটরসাইকেল বেচে ঘোড়া কিনলেন যুবক         প্রথম দিনে শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ         ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৫৮ জন হাসপাতালে         করোনায় আরও ৩ জনের মৃত্যু         প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতা বুঝতে ব্যর্থ বিএনপি: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী         ‘একটি চিহ্নিত অপশক্তি সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করেছে’         নটরডেম ছাত্রের মৃত্যু: ময়লার গাড়ির মূল চালক গ্রেফতার         সুযোগ পেলেই প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরবেন: বলছে গবেষণা         বিদেশ যেতে ক্ষমা চাইতে হবে খালেদার: হানিফ         ‘বাংলা ট্রান্সলেশন ফাউন্ডেশন’র অনুবাদ সাহিত্য পুুরস্কার ঘোষণা         ‘বীজন নাট্য গোষ্ঠী'র নতুন কমিটি গঠন