শনিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
২৭ নভেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

নারী ঘরেও নিরাপদ নয়

নাসরিন সুলতানা :

নারী ঘরেও নিরাপদ নয়

কিছু কিছু নারী খুব অল্প চিন্তা করেন ও অল্প বুঝেন।দুনিয়াটা খুব সহজ ভাবে দেখেন তেমন নারীর উদ্দেশ্য এই লিখা।

বর্তমান সময়ে নারী নির্যাতনের প্রধান কারণ সোসাল মিডিয়া। ফেইসবুক, টুইটার,হোয়াইট অ্যাপ,কিংবা মেসেন্জার দিয়ে শুরু হয়।রিকুয়েষ্ট পাঠিয়ে প্রথমে একসেপ্ট, তারপর চ্যাট, কথা বলা, প্রেমের প্রস্তাব, অতপর যৌননির্যাতন। 

বিবাহিত নারী পুরুষের এটা মহামারী আকার ধারণ করছে।যা করোনার চেয়ে ভয়াবহ। ১৮ থেকে ২৮ বছরের ছেলে মেয়েদের চেয়ে ৪০ থেকে ৬০ বছরের নারী পুরুষের মধ্যে এটা বেশি দেখা যায়।

এমন প্রেমের বিশেষ কোন কারণ নেই তবুও যেন এসবে জড়িয়ে যাচ্ছে। স্বামী স্ত্রীর সুখের সংসার রেখেও যেন এদিকে ঝুকে যাচ্ছে। করোনার মহামারীর তো টীকা বের হয়েছে।কিন্তু পরকিয়ার কোন ঔষধ কখনো বের হবে না।তবুও  শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে বর্তমান সমাজের পরকিয়া প্রেম। 

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হওয়াটাই যেন যৌন হয়রানী কে সমর্থন করলো। কারণ তেমন প্রস্তাবে রাজি না হলে শুরু হয়ে যায় চ্যাটিং ভাইরাল করার ভয়।

বিভিন্ন ভাবে মানসিক নির্যাতণ শুরু হয়।

নারী ভালোবাসাকে সম্মান দেখাতে গিয়ে যৌন প্রস্তাবেও রাজি হওয়াটা কোন বিষয় মনে করেন না। সমাজটা যেন কুরুক্ষেত্রে পরিনত হয়ে যাচ্ছে।

পুরুষ বিভিন্ন ছবি সহ অঢেল প্রমাণ বের করে নেয় কিছুদিনের মধ্যেই। অধম নারী হয়ে যায় অসহায়। ছেলে মেয়ে সহ স্বামীর কাছে নিজের সম্মান রক্ষায় সম্ভ্রম দেয়াটা তুচ্ছ ব্যাপার হয়ে দাড়ায়। 

উচ্চ শিক্ষিত বা উচ্চ ধনী থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত মানুষ ও এমন জালে জড়িয়ে যাচ্ছেন।এতে নারী পুরুষ উভয়ে দায়ী।প্রথমে এমন প্রেম লোকেরা শুরু করেন বিয়ে বাড়ির বোরহানির স্বাদে। শেষ করেন পান্তাভাত শুকনা মরিচ দিয়ে। 

নারী রয়ে যায় পান্তা হয়ে সেই প্রিয় স্বামীর কাছে।

এছাড়াও স্বামীর সংসারেও নারী নিরাপদ নয়। যৌতুকের নির্যাতন থেকে শুরু করে সংসারের ঘাণী টানা। এটা যেন নিত্য দিনের নির্যাতন।পান থেকে চুন খসলেই শুরু হয়ে যায় স্বামী নামক যন্ত্রটার অত্যাচার।

তাছাড়া কর্মক্ষেত্রেও নানা জটিলতা দেখা দেয়।নারী নিজের পায়ে দাঁড়াতে হলে বিভিন্ন নির্যাতন সহ্য করে তার একটা জায়গা তৈরি করতে হয়। সংসার নামক প্রতিষ্ঠান কে সামলে বাইরের কর্মকে ঠিক রাখা এটা যেন যুদ্ধক্ষেত্র। বাড়িতে স্বামীর অত্যাচার অফিসে বসের। নিজেকে সামলানোর মতো মানসিকতা মজবুত করে প্রতিটা কাজে এগিয়ে যেতে হয়।

বাংলাদেশের পরিসংখ্যানে ব্যুরো (বি বি এর) কর্তৃক পরিচালিত ২০২১ সালে জরিপ মতে শতকরা ৮৭ ভাগ নারী স্বামীর মাধ্যমে কোন না কোন ধরনের নির্যাতনের শিকার হন।জাতিসংঘের বিশেষ রিপোর্টে বাংলাদেশের ৬০ শতাংশ বিবাহিত নারী কোন না কোন সময়ে স্বামী কিংবা পরিবার উভয়ের দ্বারা নির্যাতিত।

২০১৬ সালে ৬১ ভাগ নারী নির্যাতনের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

ব্র্যাকের গবেষনায় বলা হয়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ নারী নির্যাতনের শিকার। 

আসুন আমরা মানসিক পরিবর্তন ঘটাই।

নিজের ইচ্ছে টাকে একটু সংযত করি।

 লিখতে গেলে অনেককিছুই লিখা যায়।বাস্তবটা ভিন্ন।যে যেমন ভাবে নেয়।তবে নিজেকে আত্মরক্ষার চেষ্টা থাকলে কখনোই কেউ ক্ষতি করতে পারে না। নিজের উপর নিজের ইচ্ছে টা ধরে রাখাটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।যে নিজেকে সামলে নিতে পারে সে ই জয়লাভ করে সেটা হোক আর্থিক, মানসিক,প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা ধর্মীয় সব দিক থেকে।

 নাসরিন সুলতানা (কবি ও সংগঠক)

 

উইমেনআই২৪//এলআরবি//

 

 

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
ছোটবেলায় আমরাও অর্ধেক ভাড়ায় চলেছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         এবার সাহসী সামান্থা         মহাসড়কে টোল আদায়ে বিল পাস         বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলন হচ্ছে না         স্মার্টফোন ব্যবহারে চোখের ক্ষতি এড়াতে         টিকা দিয়ে বাসায় ফেরার পথে বউ-শাশুড়ির প্রাণহানি         মহামারীতে প্রবাসী আয়েই শক্ত অর্থনীতি: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী         ডব্লিউসিআইটি ২০২১ :তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্ব আসরে ডিজিটাল বাংলাদেশ         করোনার নতুন ধরন 'ওমিক্রন' নিয়ে এত উদ্বেগ কেন?         বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম, কমতে পারে দেশেও         করোনায় আজও মৃত্যু কমেছে         প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মেয়েরা         গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আরও ৮৭ জন নতুন রোগী ভর্তি         নারী আন্দোলনের ইতিহাস         আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেন চালু         পেছন থেকে কেউ নজর রাখলে সতর্ক করে দেবে ক্রোমবুক         চট্টগ্রামে আবারও ভূমিকম্প         আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রকে স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছানো: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী         দেশ শৃঙ্খলমুক্ত গণতন্ত্রের ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে: ওবায়দুল কাদের