শনিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
২৭ নভেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুধার্ত মানব তারারে

উইমেনআই২৪ ডেস্ক:

পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুধার্ত মানুষ। তার জীবনকাল মাত্র ২৬ বছর। ১৭৭২ সালে ফ্রান্সের লিঁওর একটি মফস্বল এলাকায় জন্ম নেয় এক শিশু। তার নাম ছিল তারারের। ছোটবেলা থেকেই তার অদ্ভুত স্বভাব লক্ষ করা যায়। কুকুর থেকে শুরু করে বিড়াল কিংবা যে কোনো প্রাণীকে সে জীবন্ত গিলে ফেলতে পারতো।
শুনতে আজগুবি লাগলেও সত্য যে, কিশোর বয়সেই প্রতিদিন প্রায় একটি ষাঁড়ের চারভাগের একভাগ খেয়ে ফেলতো তারারে, যা ছিলো প্রায় তার ওজনের সমান। তার এরকম অতিমানবীয় খাওয়ার যোগান দেওয়া তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই ঘর ছাড়েন তারারে। কয়েক বছর এদিক সেদিক ঘুরার পর এই বালক যোগ দেন একটি সার্কাস পার্টিতে। যদিও সার্কাস পার্টিটি ছিল মূলত পকেটমারদের। সার্কাসের ছলনায় দর্শকদের পকেট মারতো তারা।



অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেই দলের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেন তারারে। মঞ্চে এসে যে কোনো কিছু খেয়ে দেখাতো সে। পাথর থেকে শুরু করে কর্ক কিংবা এক ডজন আপেলও গিলে ফেলতো পারতো দর্শকদের সামনে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনানুযায়ী, তারারে দাঁত দিয়ে জীবিত বিড়াল ছিড়ে তার রক্ত পান করতো। তারপর শুধু কঙ্কাল বাদে পুরো বিড়ালটাই গলধকরণ করে ফেলতো।

একইভাবে সে কুকুরও খেয়ে ফেলতো পারতো। একটি সার্কাসে তারারে জীবন্ত ইল না চিবিয়ে গিলে ফেলে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। খাওয়ার আগে শুধুমাত্র ইলের মাথাটা ছেঁচে নিয়েছিলো। তবে কিছুদিনের মধ্যেই পরিপাকতন্ত্রে ঝামেলা দেখা দেয় তারারের, যার দরুন ফ্রান্সের একটি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাকে। শেষপর্যন্ত সার্কাসের কাজ ছেড়ে দেয় সে।

অবাক করা বিষয় হলো, এত খাওয়া দাওয়া সত্ত্বেও তারারের ওজন ছিলো সাধারণ মানুষের মতোই। ১৭ বছর বয়সে তারারের ওজন ছিলো মাত্র ১০০ পাউন্ড, যা প্রায় ৪৬ কিলোগ্রামের সমান। তার পুরো শরীর জুড়ে ছিলো ঝুলে পড়া চামড়া। যখন সে খেতো, তখন পেটের সেই চামড়া বেলুনের মতো টানটান হয়ে যেত।


তার মুখ অস্বাভাবিক রকমের বড় ছিলো। তারারে একসঙ্গে প্রায় এক ডজন আপেল কিংবা ডিম মুখে নিয়ে রাখতে পারতো। তবে তার শরীর থেকে সবসময় দুর্গন্ধ বের হতো। তাই পারতপক্ষে কেউ তার আশেপাশে ঘেষতো না। খাবারের পর এই দুর্গন্ধ বেড়ে যেত কয়েকগুন। সেই সময় প্রচন্ড ঘামার সঙ্গে তার চোখগুলোও হয়ে যেত রক্তাভ। অনেকের মতে, খাওয়ার সময় শরীর থেকে দৃশ্যমান বাষ্পও নির্গত হতো। এতকিছুর পরও আশ্চর্যের বিষয় ছিলো, তারারে কখনোই তার শরীরের ওজন বাড়াতে পারেনি। এমনকি খাবারের পর তাকে কখনো বমিও করতে দেখা যায়নি। তবে ছোটবেলা থেকেই তার ডায়রিয়ার সমস্যা ছিলো প্রকট।

সার্কাসের কাজ ছেড়ে ১৭৮৮ সালে তারারে ফ্রেঞ্চ আর্মিতে যোগদান করেন। তার খাওয়ার এই বিস্ময় প্রতিভাকেই কাজে লাগায় ফ্রেঞ্চ আর্মি। বর্ডারে যাওয়া প্রুসিয়ানদের কাগজপত্র কিংবা দরকারি জিনিসপত্র গিলে ফেলার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। তবে আর্মিতে যোগদানের পর তারারে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েন খাবার নিয়ে। প্রত্যেক সৈন্যের জন্য ছিলো নির্দিষ্ট পরিমাণ রেশন। অথচ তারারের খাওয়ার সামর্থ্যের তুলনায় তা ছিল অনেক নগণ্য। তাই তিনি খাবারের বিনিময়ে অন্য সৈনিকদের কাজ করে দিতে লাগলেন। পেটের চাহিদা পূরণ করতে ভেজা ঘাস, টিকটিকি, সাপ কিংবা পোকামাকড় খাওয়া শুরু করেন তিনি।

 

খাবারের সমস্যা দূর করতে শুধুমাত্র তারারের ক্ষেত্রে রেশনের পরিমাণ চারগুণ করে দেয় ফ্রেঞ্চ আর্মি। মাঝে খাওয়ার অভাবে মিলিটারি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। তার দায়িত্বে ছিলেন ব্যারন পার্সি নামের এক ডাক্তার। তার এই অতিমানবীয় কর্মকান্ডে তিনি যারপরনাই বিস্মিত হন। তিনি তারারেকে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যারন পার্সি হাসপাতালে ১৫ জন মানুষের জন্য রান্না করা খাবার খেতে দেন তারারেকে। প্রায় দুটি ষাঁড়ের মাংস দিয়ে বানানো বড় বড় পাই ও চার গ্যালন দুধ একাই খেয়ে শেষ করেন তিনি। খাওয়ার পরপরই ঘুমিয়ে পড়েন তারারে। সেই সময় পার্সি তার বেলুনের মতো ফুলে যাওয়া পাকস্থলির রহস্যের কূলকিনারা করতে পারেননি।

আর্মিতে যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই রাইন নদীর তীরে ফরাসি বিদ্রোহের জন্য গড়ে ওঠা আর্মি অফ রাইন থেকে ডাক পড়ে তারারের। সেই মিটিংয়ে তিনি আস্ত একটি বাক্স গিলে ফেলেন। তার এই প্রতিভার জন্য সেনাবাহিনী তাকে সেখানকার গোয়েন্দা হিসেবে নিযুক্ত করেন এবং পুরষ্কার হিসেবে তাকে দেওয়া হয় ষাঁড়ের ১৪ কেজি কাঁচা ফুসফুস।

আর্মিতে যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই রাইন নদীর তীরে ফরাসি বিদ্রোহের জন্য গড়ে ওঠা আর্মি অফ রাইন থেকে ডাক পড়ে তারারের
আর্মিতে যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই রাইন নদীর তীরে ফরাসি বিদ্রোহের জন্য গড়ে ওঠা আর্মি অফ রাইন থেকে ডাক পড়ে তারারের

তৎক্ষনাৎ সবার সামনে তা খেয়ে শেষ করেন তারারে। পরবর্তীতে সেই আর্মি দলের গোয়েন্দা হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। একবছর সাফল্যের সঙ্গে কাজ করার পর তিনি প্রুসিয়ান বর্ডার লাইনে প্রুসিয়ান আর্মিদের হাতে ধরা পড়েন। প্রুসিয়ানদের হাতে আটকা পড়া ফরাসি কর্নেলের কাছে একটি সংবাদ পাঠাতে গিয়ে প্রুসিয়ান আর্মিরা তাকে চিনে ফেলে। জার্মান ভাষা না জানার কারণে সেখানে কিছু বলতেও পারেননি তিনি। প্রুসিয়ান সৈন্যদের দ্বারা মারাত্মকভাবে আহত হন তারারে। পরবর্তীতে ফরাসি আর্মিতে ফিরে আসলেও এই ঘটনার জেরে আর্মিতে কাজ করার ইচ্ছা হারান তিনি।

এই ঘটনার পর তিনি আবারো সেই মিলিটারি হাসপাতালে ফিরে যান। ডাক্তার পার্সিকে অনুরোধ করেন, যে কোনো মূল্যে তাকে সাধারণ মানুষের মতো স্বাভাবিক করে দিতে। পার্সি প্রথম প্রথম তাকে ক্ষুধা নিবৃত্তিকারক লুডেনাম খেতে দিতেন। তবে তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় ওয়াইন, ভিনেগার, সিদ্ধ ডিম খেতে দেন। তবে তারারের ক্ষুধার্ত ভাব তাতে এতটুকুও কমেনি। বরং হাসপাতাল থেকে লুকিয়া বাইরে গিয়ে কুকুর আর কসাইয়ের দোকানের পঁচা মাংস খাওয়া শুরু করেন তারারে। কয়েকবার তাকে হাসপাতালের রোগীদের থেকে নেয়া রক্তও খেতে দেখা যায়।


অন্য ডাক্তাররা তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ আখ্যা দিয়ে মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর বুদ্ধি দেন। তবে ডাক্তার পার্সি তারারের উপর পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এভাবে কিছুদিন চলার পর সেই হাসপাতাল থেকে ১৪ মাস বয়সী একটি শিশু উধাও হয়ে যাওয়ার পর সন্দেহের তীর যায় এই তারারের উপরই। সেই ঘটনার ঠিক চার বছর পর মারাত্মক ডায়রিয়া ও যক্ষ্মায় প্রানহারায় তারারে। মৃত্যুর আগে তিনি ডাক্তারকে জানান, সে একটি সোনার চামচ গিলে ফেলেছিল। মৃত্যুর পর তারারের শরীর অন্য মানুষের তুলনায় দ্রুতই পঁচতে শুরু করে। পোস্টমর্টেমের পর দেখা যায় তার শরীরের পাকস্থলি, খাদ্যনালী, যকৃত ও পিত্তকোষ অস্বাভাবিক রকমের গরম। তবে চিকিৎসকরা অনেক খুজেও তার পেটে সেই সোনার চামচের কোনো সন্ধান পায়নি।

 

উইমেনআই ২৪ডটকম//এসএল//
 

 

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
নতুন প্রজন্মের জন্য গবেষণা কাজে প্রণোদনা অব্যাহত থাকবে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী         ছোটবেলায় আমরাও অর্ধেক ভাড়ায় চলেছি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী         এবার সাহসী সামান্থা         মহাসড়কে টোল আদায়ে বিল পাস         বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলন হচ্ছে না         স্মার্টফোন ব্যবহারে চোখের ক্ষতি এড়াতে         টিকা দিয়ে বাসায় ফেরার পথে বউ-শাশুড়ির প্রাণহানি         মহামারীতে প্রবাসী আয়েই শক্ত অর্থনীতি: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী         ডব্লিউসিআইটি ২০২১ :তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্ব আসরে ডিজিটাল বাংলাদেশ         করোনার নতুন ধরন 'ওমিক্রন' নিয়ে এত উদ্বেগ কেন?         বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম, কমতে পারে দেশেও         করোনায় আজও মৃত্যু কমেছে         প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মেয়েরা         গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আরও ৮৭ জন নতুন রোগী ভর্তি         নারী আন্দোলনের ইতিহাস         আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে‘বেনাপোল এক্সপ্রেস’ ট্রেন চালু         পেছন থেকে কেউ নজর রাখলে সতর্ক করে দেবে ক্রোমবুক         চট্টগ্রামে আবারও ভূমিকম্প         আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রকে স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছানো: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী