শুক্রবার, ৬ কার্তিক ১৪২৮
২২ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

কমলা ভাসিনের দৃষ্টিতে পৌরষ ও নারীত্ব

নাছিমা মুন্নী 

নাছিমা মুন্নী : কমলা ভাসিন বলেন, আমাদের পরিবার, সমাজ পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোয় দন্ডায়মান। পুরুষতান্ত্রিক বা পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পৌরষ আর নারীত্বের সম্পর্কটা হলো সমাজে উচু জাতি এবং পিছিয়ে পড়া জাতির সম্পর্কের মতো। একজন শাসন করে অন্যজন শাসিত হয়। একজন উন্নত আর অপরজন অনুন্নত। পুরুষ যদি দরিদ্র হয়, নারী হয় হতদরিদ্র।

সারা পৃথিবীব্যাপী পৌরষ বলতে শুধুমাত্র নারী বা পুরুষের সম্পর্ক বুঝায় না। এর সাথে সাথেই পুরুষদের নিজেদের ভেতরকার ও পরস্পরের মধ্যকার সম্পর্কও বোঝায়। কোনো কোনো সময়ে, নারীদের নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ককেও বোঝায়। আবার যে সব নারীরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় জনমানসে নেতৃত্বের স্থান  অধিকার করে আছেন, তারা কিন্তু ঠিক পুরুষের মতো আগ্রাসী এবং পুরুষের মতোই ক্ষমতাধর ও নিয়ন্ত্রক। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত নারীরা, তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছানোর উদ্দেশ্যে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতি এবং অধিকারকে ভুলুন্ঠিত করতে এবং তারজন্য সেনাবাহিনীর মতো দমন, পীড়ন,  অনৈতিক ও গোপন বোঝাপড়া করতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করে না।

যে পুরুষ শান্ত ও ভদ্র তাকে মেয়েদের মতো বলে উপহাস করা হয়। উল্টো দিকে কোনো নারী শক্ত সামর্থ এবং বলিয়ান হয়ে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা নিলে সে নারী হয় পুরুষের মতো। আবার উগ্র পুরুষেরা শান্ত স্বভাবের ছেলেদেরকে দমন করে। তাচ্ছিল্য করে এবং যৌন নিপীড়ন করতেও পিছপা হয় না।

সবসময় পুরুষ শুধুমাত্র আদেশ দিয়ে যাবে। তবে নারীরা সেই আদেশ মুখ বুঁজে পালন করে যাবে। যদি পুরুষ বদমেজাজি হয়, তবে নারীকে হতে হবে শান্ত স্বভাবের। যদি পুরুষ কতৃত্ব করে এবং নারী এই ব্যবস্থা মানতে অস্বীকার করে,  তবে শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে। শান্তিপূর্ণ পরিবারে ভাঙন সৃষ্টি হবে। এক্ষেত্রে কিন্তু পুরুষদের সামাজিক অবস্থান, ভাবমূর্তি, গুণাবলি অটুটই থাকবে। প্রায়শঃ পুরুষেরা ভুল মিথ্যা বা অন্যায্য কোনো কথা নারীর উপর চাপিয়ে দেয়। ন্যায়সংগত কথা বলতে গেলে কথার পিঠে কথা বলতে নিষেধ করে বা তর্ক করবে না বলে চুপ করিয়ে দেয়। পরিস্থিতির শিকার হয়ে নারী সব মেনে নিতে বাধ্য হয়।

আমাদের সমাজে কিছু মানুষ আছেন যারা বিশ্বাস করেন পুরুষাকার বা পৌরুষগত বিষয়টি প্রকৃতিগত এবং পুরুষ মানুষ এই গুণ নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। তারা বিশ্বাস করে পুরুষদের আগ্রাসন এবং যৌনতা ও পুরুষের অন্যান্য ব্যবহারিক দিকগুলি একেবারেই তার দেহগত ব্যাপার, জৈবরাসায়নিক বা পুরুষ হরমোনের সাথে যুক্ত বিষয়। যদিও পৌরুষ ও নারীত্ব উভয় ধারণাই সামাজিকভাবে নির্মিত। পুরুষের দৈহিক গঠন, জৈব রসায়ন কখনোই পুরুষকে কতৃত্বকারী, আগ্রাসী, প্রতিযোগী বা হিংস্র করে তোলে না। তা পুরুষ সমাজব্যবস্থার মধ্যে দিয়েই লালন করে।

আবার দেখা যায় আগ্রাসী পুরুষদের হাতে শান্ত স্বভাবের ছেলেরা শুধুমাত্র উপহাসের পাত্রই হয়না, তাদেরকে যৌণ হয়রানি এবং পাশবিকতার শিকারও হতে হয়। আমাদের দেশে উঁচু শ্রেণির ছাত্ররা নতুন ছাত্রদের বা শান্ত স্বভাবের মেধাবী ছাত্রদের উপর র‍্যাগিং করছে। অনেক সময় দৈহিক নিপীড়ন থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত গড়াচ্ছে।

মায়ের গর্ভ থেকে কোনো ছেলে নিষ্ঠুর হয়ে জন্মায় না। যদি না ছেলেদের ভেতর থেকে সামাজিকভাবে গুণগুলোকে ঠেলে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে ছেলেরাও মেয়েদের মতো দয়ালু, স্নেহপ্রবণ এবং আবেগপ্রবণ হতে পারে। আমাদের চারপাশে এরকম বহু পুরুষমানুষ আছেন যারা ভদ্র, শান্ত। যাদের সেবা করার মানসিকতা আছে। যারা পরিবারের সকল কাজে সহযোগি মনোভাবাপন্ন। যারা কোনো কাজকে লিঙ্গবৈষম্য দিয়ে বিভেদ করে না। যারা নারীর সব কাজকে সম্মান করে এবং এগিয়ে নিয়ে যায়।

আমরা আবার এরকম পুরুষও জানি, যে হয়তো স্বামী হিসেবে আগ্রাসী  এবং প্রভূত্বকারী কিন্তু কাজের জায়গায় উপরওয়ালার কাছে ভয়ে ভীত, নির্বিরোধী একটি জীব। এর মানে হলো, পুরুষেরা যেখানে ক্ষমতায় থাকে, সেখানে সে পুরুষাকার ধারণ করে। অর্থাৎ প্রভূত্বকারী এবং আগ্রাসী ভূমিকা পালন করে। একইসাথে যেখানে সে অধঃস্থনে অবস্থান করে, সেখান সে নারীত্বের ভূমিকা পালন করে। সুতরাং পৌরষ ও নারীত্বের মধ্যে জৈবিক গুণাবলির ক্ষমতাই প্রধান ভুমিকা পালন করে।

সবসময় আমরা দেখি কোনো মানুষের ব্যবহার, ধরন-ধারন, আাচার-আচরণ প্রভৃতি শেখে সমাজ থেকে। আর আমরা এই সমস্ত আত্মস্থ করে থাকি আমাদের দৈনন্দিন  সামাজিকীকরণ থেকে এবং নারী পুরুষ ভেদাভেদের মধ্যে দিয়ে। যা ক্রমাগত পরিবার, স্কুল,  ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি আমাদের শিখিয়ে চলেছে। আমাদের জন্মানোর সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় আমাদের সামাজিকীকরণ এবং লিঙ্গ ভেদাভেদের প্রক্রিয়া।

সমাজে একটি ছেলে বা মেয়েকে শিশুকাল থেকেই তার বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে নারী ও পুরুষের মধ্যে পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর উপর  দাঁড়িয়ে সকল শিখন পরিচালনা করা হয়। ছেলেদেরকে শ্রেণির বাড়ির কাজের সকল খাতা বহন করতে দেওয়া হয়। কারন ছেলেরা শারীরিকভাবে শক্ত সামর্থ্য। স্কাউটের কুচকাওয়াজের নেতৃত্বের দায়িত্ব ছেলেদের দেওয়া হয়। কারন ছেলেদের গলার স্বর অনেক উঁচুতে যায় আর ছেলেরা নেতৃত্ব দিতে পারে ভালো। যদিও নেতৃত্বের স্থানগুলো মেয়েরাও সফলতার সাথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

শ্রেণিতে ছেলেদের এক সারিতে আরেক সারিতে মেয়েদেরকে আসন বিন্যাস করা হয়। বিদ্যালয়ে লিঙ্গ ভেদাভেদ ও লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হয় ছেলে ও মেয়েরা শিশুকাল থেকেই। শুধু তাই নয়, ছেলে শিক্ষার্থীরা সব বিষয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীদের  উপহাস করে, যেন এটাই নিয়ম। পারতপক্ষে ছেলে শিক্ষার্থীরা মেয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে না। স্কুল শুরুর আগে ও টিফিন পিরিয়ডের সময় একই ক্লাসের ছেলে ও মেয়েরা আলাদা আলাদাভাবে খেলাধুলা করে।

লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণের জন্য কমবেশি নারীরাই কান্ডারী হয়ে উঠেছেন। তাদের জন্য এই বিরোধিতা করা প্রয়োজন হয়ে উঠেছে কারণ পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোয় তারাই এতকাল ধরে অধিনস্ত হয়ে আসছে। সমান ও ন্যায্য লিঙ্গ সাম্য স্থাপন করতে হলে নারী ও পুরুষকে পরিবর্তিত হতে হবে। পুরুষ এবং ছেলে উভয়েই এই চিরাচরিত পুরুষতান্ত্রিক সংস্কৃতির শিকার। এই ব্যবস্থায় ছেলেদেরকে আবেগপ্রবণ হওয়া, নম্র হওয়া, পরিচর্যাকারী রূপে থাকা,  দুর্বল হয়ে পড়া ও ভয় পাওয়াকে স্বীকৃতি দেওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়। পুরুষদেরকে সবসময়ই উপার্জনকারী, রক্ষাকারী ও অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে ঠেলে দেওয়া হয়।

নারী এবং পুরুষের বিভিন্ন আচার আচরণ সত্যি সত্যিই যদি প্রকৃতিগত হতো, তবে সমাজ এবং সংস্কৃতি শিশুদেরকে তাদের লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা পালন করা শেখানোর জন্য কেন এতো সময়, অর্থ এবং শক্তি ব্যয় করবে? কেনইবা বাবা ও মায়েরা তাদের বাচ্চাদের পুরুষ এবং নারীর গুণাবলি শিখিয়ে বড় করবে? কেনইবা সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলি বিভিন্ন পদ্ধতিতে মানুষের মগজে নারী ও পুরুষের পার্থক্যগুলি অনবরত প্রবেশ করিয়ে যাবে? নারী তুমি আস্তে করে কথা বলো। আস্তে করে হাঁটো। আস্তে হাসো। পোশাক দিয়ে পুরো শরীর ঢাকো। গৃহস্থালির কাজ সম্পাদনা কর। সন্তান লালন পালন, পরিচর্যা কর। আর সকল অন্যায়, অন্যায্য  কিছু মেনে নাও।

অপরদিকে দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশেই পুরুষেরা নির্লজ্জের মতো যেখানে সেখানে প্রকাশ্যে দাঁড়িয়ে মূত্র ত্যাগ করে। একই নির্লজ্জতা আরও প্রকাশ পায় যখন তারা প্রকাশ্যে যৌনাঙ্গে নির্বিকার চিত্তে আঁচড় কাটে বা খালি গায়ে বা স্বল্প অন্তর্বাস পরে এবং সবার সামনে নির্বিকার চিত্তে ঘুরে বেড়ায়। ভেতরেই হোক বা বাইরে পুরুষের দেহ ভঙ্গিমায় সবসময়ই উঠে আসে একটা ডোন্ট কেয়ার বা কোনো কিছুই মানি না জাতীয় হামবড়া ভাব।

আমাদের সমাজব্যবস্থায় ছেলে বা পুরুষদের শেখায় তার ভেতরের 'নারী'কে অস্বীকার করতে এবং নারীকে শেখায় তার মধ্যেকার 'পুরুষ'কে খতম করতে। যার ফলশ্রুতিতে কোনো নারী বা পুরুষই পরিমিত এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠতে পারেনা। কোনো পুরুষ তার পুরুষাকার পাওয়ার জন্য হয়ে ওঠে সক্রিয়, আগ্রাসী এবং কতৃত্বকারী আর অন্যদিকে  নারীরা হয়ে ওঠে অনুগত, সুগ্রাহী এবং বশ্যতা স্বীকারে অভ্যস্ত।

দৈনন্দিন জীবনে ছেলে এবং মেয়েদের মধ্যে সামাজিক লিঙ্গের ধারনা গড়ে ওঠার পেছনে পারিবারিক নির্যাতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। উভয়েই  তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে ব্যবহারের ধরন ও ক্ষমতার ব্যবহার শেখে। ছেলেরা শেখে যে বড় হয়ে তাদের কি কি করতে হবে। আর মেয়েরা বুঝতে শেখে যে নারী হিসেবে তাদের কি কি সহ্য করা শিখতে হবে।

আমাদের এই উপমহাদেশে সাংস্কৃতিক দিক থেকে সামাজিক লিঙ্গ নির্মাণের ক্ষেত্রে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরিবার, বিবাহ, যৌণতা সম্পর্কিত ধারণা তৈরি ও ভাবনার ক্ষেত্রেও ধর্ম বিশেষ ভূমিকা পালন করে।  নারী ও পুরুষের কি কি ভূমিকা থাকবে বা কিভাবে ব্যবহার করবে, স্বামী,  স্ত্রী বা পুত্র কন্যাদের কি কি অধিকার থাকবে, সামাজিক অবস্থান এবং দায়িত্ব কর্তব্য কি কি হবে, সমস্তই ধর্ম দ্বারা নির্ধারিত। সমস্ত ধর্মে বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, অভিভাবকত্ব ইত্যাদি সম্পর্কে আইন আছে।

আমাদের অধিকাংশ ধর্মই মনে করে বাড়ির বা পরিবারের মাথা হবে পুরুষ। পিতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সমাজ পুরুষ মানুষকে পুত্র বা স্বামী হিসাব বিশাল অধিকার দিয়ে থাকে। কিছু ধর্মগ্রন্থে পরিষ্কারভাবে বলা আছে, স্ত্রী হবে স্বামীর অধীন এবং স্ত্রী যদি সঠিক পথ থেকে সরে যায়, সেখানে স্বামীর অধিকার আছে তাকে শাস্তুি দেওয়ার। প্রহার করার। স্ত্রীদের অবশ্য স্বামীর ব্যাপারে এরকম কোনো অধিকার নেই। যখন কোনো কিছু ধর্মীয় নির্দেশে নিদিষ্ট করে দেওয়া থাকে, সেক্ষেত্রে সেইসব ধারণাকে প্রতিরোধ করা ভীষণ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

শিল্প বিপ্লবের আগে যখন উৎপাদনের মূল কেন্দ্র ছিল গৃহ। তখন নারীরাই ছিলেন সেই উৎপাদনের কেন্দ্রে। নারীদের জ্ঞান, শ্রম এবং পরিচলন দক্ষতা পুরুষের মতোই সমান প্রয়োজনীয় ছিল। শিল্প বিপ্লব, গৃহ এবং বাইরের অর্থনৈতিক জগতকে আলাদা করেছে। যার ফলশ্রুতিতে নারীরা পিছনে পড়ে গিয়েছে। নতুন যুগের উঠে আসা পৃথিবী বাস্তবিক অর্থে, অত্যন্ত পরিস্কারভাবে পুরুষতান্ত্রিক। অর্থনৈতিক বা জনজীবনের ক্ষেত্রে বাজারকেন্দ্রিক গোটা পৃথিবীর এটাই দৃষ্টিভঙ্গি।

সমাজের বিশাল সংখ্যক পুরুষ মানুষ যারা প্রতিনিয়ত যৌন নির্যাতন অথবা শারীরিক নির্যাতন করে থাকে। তারা কিন্তু পরিস্থিতির উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে বা তাদের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত হওয়ার জন্য অনুতপ্ত হচ্ছে। তা আদতে নয়। দেখা যায়, কোনো সংঘাত মেটানোর জন্য অথবা নিজের চাহিদা মেটানোর জন্য দর কষাকষি করে পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসার জন্য হিংসার আশ্রয় নেওয়া এই পুরুষদের কাছে একটা সঠিক এবং বৈধ পদক্ষেপ। তাতে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্য বা সন্তানের উপর কিরকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রতিফলিত হলো তা ভাবনার বিষয়।

চারপাশে নারীর যৌন নিপীড়ন, নারী শিক্ষা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া,  নারীর অসম্মান,  নারীর ক্ষমতায়ন, অবদমন, বিড়ম্বনা, প্রতিবন্ধকতা সবই আজো প্রশ্নের সম্মুখীন। কেন আজও আমরা এতো অসংগতি টিকিয়ে রাখছি।

ক্রমশ বাড়ছে দক্ষিণ এশিয়াসহ পৃথিবীর বহু জায়গাতেই বিবাহ বিচ্ছেদের হার। এক পিতা বা এক মাতার পরিবার এখন সাধারণ ঘটনা এবং সেখানে বাচ্চারা সাধারণত মায়ের কাছেই থাকে। পুরুষেরা পরিবারে নারীদেরকে তাদের সমান হিসেবে মেনে নিতে পারছে না। শুধু এই কারণে ভেঙে যাচ্ছে বহু পরিবার। বহু নারী এখন বিয়ে করতে চাইছেন কারণ তারা ঘরসংসার চালানো, ছেলে মেয়ে মানুষ করার পুরো বোঝা বইতে চাইছেন না। সর্বোপরি নিজের উপরে একজন পুরুষের প্রভূত্ব মেনে নিতে পারছেন না। একজন স্বনির্ভর নারী কেনইবা নিজেকে অধস্তন করে রাখবে?

বাস্তবিক অর্থে নারী ও কন্যাশিশুর উপর পারিবারিক নির্যাতন, তাদের বেড়ে ওঠার সুযোগ, আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদাবোধ ও নিজেদের পূর্ণ সম্ভাবনাকে অনুধাবন করার ক্ষমতাকে কেড়ে নিয়েছে। গৃহে হিংসা এবং হিংসার পরিবেশে নারীদের গভীর ও মৌলিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং তাদের  ও পরিবারের উন্নতিকে বাধাদান করে থাকে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রুজি রোজগারের জন্য পুরুষেরা  জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শুধুমাত্র রোজগারি  বাবা হলে চলবে না, তাদের সামাজিক ও আবেগ সমৃদ্ধ পিতাও হতে হবে। তাই শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্ব পুরুষদেরও নিতে হবে। যাতে শিশুদের দেখাশোনার মধ্য দিয়ে পুরুষেরা তার পরিবারের কাছাকাছি চলে আসে এবং এতে যেমন তাদের একাকীত্ব দূর হবে। ক্রমশঃ তাদের কঠিনতা ও পুরুষত্ব জাহির করার অহংবোধও কমে যাবে। শিশু পালন মানেই পরিপূর্ণ আবেগজনিত দায়িত্ব গ্রহণ। যা দাবী করে স্বার্থহীনতা, সহনশীলতা, ধৈর্য্য এবং সেই সমস্ত গুণাবলি,  যা একটা ভালো মানুষ তৈরি করে। এভাবেই ধীরে ধীরে বদলে দিতে হবে লিঙ্গের অসমতা।

লিঙ্গ সাম্যের জন্য আমাদের প্রত্যেকের মধ্যকার ইতিবাচক নারী এবং ইতিবাচক পুরুষ এর মধ্যকার ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন। যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়েই ক্ষমতা ও আধিপত্য পাওয়ার লোভ ছেড়ে দেবে। ক্ষমতাকে অপব্যবহার করা বন্ধ করবে। তবেই  ক্ষমতাহীনতা, বশ্যতা ও গোলাম সুলভ মনোভাব থেকে নিজেরাই মুক্তি পাবে।

পরিবর্তন আমাদের সকলের মধ্যেই প্রয়োজন।  আমাদের সম্পর্কের মধ্যে, পরিবার, গোষ্ঠী এবং সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলির পরিবর্তন দরকার। যদি আমরা সকলে মিলে একই উদ্দেশ্যে কাজ করি তাহলে আরেকটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।

নারী ও পুরুষের মধ্যে যে পার্থক্য বা বৈপরীত্য আছে তাকে নিশ্চিহ্ন করা উচিত। সাফল্য  ও ক্ষমতার সম্পর্কে আমাদের এখনকার যা ধারণা তাকে পরিবর্তন করতেই হবে।

লেখিকা,উন্নয়ন কর্মী 


তথ্য সূত্রঃ  জেন্ডার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা, পুরুষ এবং পৌরুষ-কমলা ভাসীন।

 

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
বিএনপি নেতারা নিজেদের অক্ষমতা আড়াল করতে পুরনো রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছে: কাদের         হিন্দুদের ওপর হামলা দেশের চেতনার বেদীমূলে হামলা: তথ্যমন্ত্রী         প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল হলেন আদিবাসী নারী         বন্ধ মিল চালুর জন্য কর্মপরিকল্পনা দাখিলের নির্দেশ বিএসএফআইসই'র         প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে প্রেমিকদের হত্যা করতেন ৭৪ বছরের বৃদ্ধা         রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’র পক্ষ থেকে ৩০ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি         কাঁথার ব্যবসা করেই ই-কমার্স উদ্যোক্তা বেন্তি         টানা দ্বিতীয় বার ম্যাচসেরা হয়ে যা বললেন সাকিব         বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশ         মায়ের আশ্রয় হয়নি ডাক্তার-ব্যাংকার ছেলের ঘরে         ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড         আইপিএলে ৫০ টাকায় কোটিপতি নাপিত!         কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম         ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭০ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে         জাপা চেয়ারম্যান এর সাথে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ         ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত         নভেম্বরে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী         করোনায় সারাদেশে ১০ মৃত্যু ,শনাক্ত ২৪৩         বাল্য বিবাহ: ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিকসহ ৯ জনের কারাদণ্ড         পাপুয়া নিউ গিনিকে বড় টার্গেট দিল বাংলাদেশ