বৃহস্পতিবার, ৬ কার্তিক ১৪২৮
২১ অক্টোবর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ

এমরানা আহমেদ: প্রারম্ভিক শৈশব হচ্ছে সেই সময়টা, যখন শিশুর যত্ন ও বেড়ে ওঠার বিষয়ে সবচেয়ে বেশি খেয়াল করা প্রয়োজন। শিশুর জন্মের পর প্রথম আট বছর তার বেড়ে ওঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়কাল। শিশুর এ সময়টি পরিবর্তনের এবং সে পরিবর্তন শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনেরই। তবে শিশুর প্রথম তিন বছর তার বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে শিশুর মস্তিষ্ক নমনীয় থাকে এবং দ্রুত বিকশিত হয়। শিশুর ভালো ও খারাপ অভিজ্ঞতাগুলো মস্তিষ্কের বৃদ্ধির ওপর কড়া প্রভাব ফেলে। এই সময়ে অবহেলা বা নির্যাতন শিশুর বুদ্ধিবৃত্তি, আচরণ ও আবেগের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশে অধিকাংশ অভিভাবকের শিশুর সঠিক যত্ন ও প্রতিপালন সম্পর্কে জ্ঞান এখনও বেশ সীমিত। বাবা-মা কাজে থাকার সময় ছোট শিশুরা যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। শিশুর শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য অভিভাবকরা খুব বেশি যত্মশীল হলেও অধিকাংশই জানেন না যে, উদ্দীপনা ও নিরাপত্তার অভাব শিশুর শ্রেণিকক্ষের কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

শিশুর শিক্ষা ও বিকাশের জন্য সবচাইতে প্রয়োজন অন্যদের সাথে মেলামেশা। পিতামাতা এবং অন্য যত্নকারীরা বাচ্চার সাথে যত বেশি কথা বলবে, তত তাড়াতাড়ি বাচ্চা শিখবে। পিতামাতা বা যত্নকারীর উচিৎ বাচ্চার সাথে কথা বলা, কিছু পড়া বা গান গাওয়া। শিশুরা সবসময় কথার মানে বুঝতে না পারলেও এই প্রারম্ভিক কথোপকথন শিশুর ভাষা ও লেখার ক্ষমতার বিকাশ ঘটায়। শিশুদের নতুন এবং আকর্ষক জিনিষ দেখতে শুনতে বা ধরতে এবং খেলতে দিয়ে যত্নকারী ওদের শিখতে সাহায্য করতে পারে। শিশু এবং ছোট ছেলেমেয়েদের অনেকক্ষণ একা ছেড়ে দেওয়া উচিৎ না। এতে ওদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়।

বাচ্চা মেয়েদেরও ছেলেদের মতো একইরকম খাবার, মনযোগ, ভালবাসা ও যত্ন দরকার হয়। নতুন কিছু করতে বা বলতে শিখলে সব শিশুকেই উৎসাহ দেওয়া এবং প্রশংসা করা প্রয়োজন। শিশুর শারীরিক বা মানসিক বৃদ্ধি যথাযথ না হলে বাবা-মায়ের, স্বাস্থ্য-কর্মী এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। শিশুদের প্রথমে মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, শিশুর ভাববার ও প্রকাশ করবার ক্ষমতা বাড়ায়। শিশুরা গান, পারিবারিক গল্প, ছড়া এবং খেলার মাধ্যমে তাড়াতাড়ি এবং সহজে ভাষা শেখে।

পুষ্টি, উদ্দীপনা, সুরক্ষা ও শিক্ষা এ বিষয়গুলো শিশুর বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য অত্যাবশ্যক উপাদান। শিশু, বাবা-মা ও সেবাদাতাদের সক্ষম করে তোলার কাজসমূহকে বলা হয় প্রারম্ভিক শৈশব সেবা বা আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, অথবা 'ইসিসিডি'।

শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশ বা আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উদ্দেশ্য একটি জাতীয় নীতিমালা তৈরি করেছে বাংলাদেশ সরকার। ১৬টি মন্ত্রণালয় এই নীতিমালার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ২০১৩ সালের নভেম্বরে এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত আরলি চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট বা ইসিডির ওপর প্রচুর কাজ হয়েছে এবং আরো প্রচুর কাজ হচ্ছে। এসব কাজ সমন্বয় করার জন্য মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রধান দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং কাজসমূহ বাস্তবায়নে এ মন্ত্রণালয়কে অনেক বেশি কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ।

আগা খান ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ইসিডি অ্যাডভাইজার মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, 'নীতিমালা অনুযায়ী শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ ও যত্নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে গর্ভ থেকে আট বছর পর্যন্ত। আমাদের দেশে একে বলে প্রারম্ভিক শৈশবকাল। শিশুর প্রারম্ভিক বিকাশ একটা সমন্বিত পদক্ষেপ। শুধু লেখাপড়া শেখালেই হবে না। শুধু পুষ্টি দিলেই হবে না। স্বাস্থ্য নিশ্চিত করলেও হবে না। শিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করতে সবকিছু ভারসাম্যপূর্ণভাবে করতে হবে। শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে এ নীতিমালার বাস্তবায়ন একটি ভালো উদ্যোগ। তবে নীতিমালার সফল বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তার জন্য বিনিয়োগ করা প্রয়োজন এবং তা করতে হবে বিভিন্ন খাতের সমন্বয় এবং পর্যাপ্ত তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে।'

প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের হেড অব এডুকেশন মুরশীদ আকতার বলেন, 'আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রমাণ আছে, তিন থেকে ছয় বছর বয়সি কোনো শিশু কোনো ধরনের শিক্ষাসম্পর্কিত প্রাতিষ্ঠানিক চর্চায় যদি না যায়, তাহলেও পরবর্তী পরীক্ষায় বিন্দুমাত্র সমস্যা হবে না। কিন্তু তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুর শারীরিক, মানসিক ও আবেগীয় বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। তার সামাজিক ও নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। এটা নিশ্চিত করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা জরুরি নয়। এক্ষেত্রে সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রয়োজন।'

বাংলাদেশে শিশুর প্রাথমিক বিকাশের চ্যালেঞ্জগুলো সহিংস আচরণ, জ্ঞানের সীমিত সুযোগ এবং মৌলিক সেবাসমূহের ঘাটতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে তিনজন শিশু মানসিক নির্যাতনের এবং প্রতি তিনজন শিশুর মধ্যে দুজন শিশু শারীরিক শাস্তি ভোগ করে। বস্তি, প্রত্যন্ত গ্রামীণ অঞ্চল এবং সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর শিশু, যাদের মৌলিক সেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত, তারাই এক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে এক থেকে আট বছর বয়সী ৮০ শতাংশের বেশি শিশু পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়।'

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মাত্র ৮ দশমিক ৮ শতাংশের বাড়িতে পড়ার জন্য তিনটির বেশি বই আছে। তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে মাত্র ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রারম্ভিক শিক্ষা গ্রহণ করে।

শহরের কল-কারখানায় কর্মরত মায়েদের অবস্থা শোচনীয়। চাকরির পাশাপাশি অভিভাবকের দায়িত্ব পালনে হিমশিম খেতে হয় তাদের। বাংলাদেশে প্রায় ৩২ লাখ নারী তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। শহরের এসব শ্রমিকদের অধিকাংশই গ্রাম থেকে আসা। তৈরি পোশাক কারখানায় ইউনিসেফ পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে অংশ নেওয়া নারীদের অর্ধেকই বলেছেন, 'কার্যত সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকেন তারা। দ্রুত নগরায়ন এবং লোকজনের শহরমুখী হওয়া, তা স্বেচ্ছায় বা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাধ্য হয়েই হোক না কেন, দুটো বিষয়ই সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে হুমকি তৈরি করছে।'

শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে ‘শিশুর বিকাশে প্রারম্ভিক শিক্ষা (৩ পর্যায়)’’ প্রকল্প একটি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয়-৩৭৭১.৩৩ লাখ টাকা যেখানে জিওবি খাত থেকে ৮২১.৩৩ লাখ টাকা এবং দাতা সংস্থা ইউনিসেফ থেকে ২৯৫০.০০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া যাবে। ০১-১০-২০১৮ থেকে ৩১-১২-২০২১। প্রকল্প বাস্তবায়নকালে প্রকল্পটি শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশের ১৫ জেলার ১৬টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্প জেলা সমূহ হলো- বরগুণা, ভোলা, কক্সবাজার, বান্দরবন, রাঙামাটি, জামালপুর, নেত্রকোণা, খুলনা, সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ।

শিশুর প্রারম্ভিক যত্ন ও বিকাশের সমন্বিত নীতি বাস্তবায়নের কর্মপদ্ধতি প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় পর্যায় থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত নীতি কার্যকর করার সামর্থ্য অর্জনে সহায়তা করাই প্রকল্পটির উদ্দেশ্যে। যাতে করে বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর সামগ্রিক প্রারম্ভিক বৃদ্ধি এবং বিকাশ নিশ্চিত হয়।

শিশুকালের প্রথম আট বছর অত্যন্ত জরুরি, বিশেষকরে প্রথম তিন বছর। এই সময়টা, ভবিষ্যতে শিশুর স্বাস্থ্য, বেড়ে ওঠা এবং বিকাশের ভিত্তি। এ সময়ে শিশুরা অন্য যে কোনো সময়ের থেকে তাড়াতাড়ি শেখে। বাচ্চারা এবং ছোট ছেলেমেয়েরা তাড়াতাড়ি বেড়ে ওঠে এবং তাড়াতাড়ি শেখে যদি তারা ভালবাসা, দেখাশোনা, উৎসাহ এবং মানসিক উদ্দীপনা পায় এবং তাদের পুষ্টিকর খাদ্য এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

জন্মের সাথে সাথেই সব শিশুর আইনগতভাবে নথিভুক্তি, স্বাস্থ্যের যত্ন, ভাল পুষ্টি, শিক্ষা প্রাপ্তিসহ কোনরকমের ক্ষতি, নির্যাতন এবং বৈষম্য থেকে রক্ষা পাওয়ার অধিকার অর্জিত হয়। এটা পিতামাতা এবং সরকারের নিশ্চিত করার দায়িত্ব, যাতে করে তারা শিশুদের অধিকার স্বীকার এবং রক্ষা করতে থাকে।

শিশুদের বিকাশ এবং প্রারম্ভিক শিক্ষার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের কিছু বিষয় জানা আবশ্যক। মনে রাখতে হবে শিশুদের জীবনের প্রথম ৮ বছর, বিশেষ করে প্রথম তিন বছর, শিশুরা যে যত্ন ও ভালবাসা পায়, তা তাদের বিকাশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি, যা তাদের সারা জীবনের উপর প্রভাব ফেলে। প্রথম কয়েক বছরের যত্ন ও ভালবাসা শিশুর বিকাশে সাহায্য করে। তাকে ধরা, আদর করা এবং তার সাথে কথা বলা শিশুর বেড়ে ওঠায় উদ্দীপনা দেয় এবং শিশুর আবেগজনিত বিকাশ ঘটায়। শিশুকে মায়ের কাছাকাছি রাখা এবং চাইলেই তাকে বুকের দুধ খওয়ানো শিশুর মধ্যে এক নিরাপত্তার ধারনা তৈরি করে।

শিশুরা জন্মমুহূর্ত থেকে তাড়াতাড়ি শিখতে থাকে। তবে ওরা সবচেয়ে বেশি তাড়াতাড়ি বাড়ে এবং শেখে ভালবাসা, দেখাশোনা এবং উদ্দীপনা পেলে, তার সাথে পুষ্টিকর খাবার এবং যত্ন পেলে।

শিশুদের খেলতে এবং সবকিছু খুঁটিয়ে দেখতে উৎসাহ দেয়া, শিশুদের শেখা, সামাজিকতা, আবেগ প্রবণতা, শারীরিক, মানসিক এবং বুদ্ধিবৃত্তির বিকশিত ঘটায়। শিশুরা তাদের নিকটজনকে দেখে শেখে। সব পিতামাতা এবং যত্নদানকারীদের শিশুর যথাযথ বেড়ে ওঠা ও বিকাশের ক্ষেত্রে বিপদ সংকেত জানা উচিৎ।

ছেলে এবং মেয়েদের একই রকম শারীরিক, মানসিক, আবেগজিনত এবং সামাজিক প্রয়োজননীয়তা হয় এবং একই রকম ভালবাসা, মনোযোগ ও অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে। নিজের প্রয়োজন জানানোর জন্য শিশুদের কান্না একটা পথ। কান্নার সাথে সাথে শিশুকে ধরলে এবং ভাল করে তার সাথে কথা বললে শিশুর ভিতর বিশ্বাস এবং নিরাপত্তার ধারনা জন্মায়।

যেসব শিশুরা রক্তশূন্য, অপুষ্ট বা প্রায়ই অসুখে ভোগে, তারা সহজে ভীত বা চকিত হয় এবং তাদের খেলাধূলার, অনুসন্ধানের এবং অন্যদের সাথে মেলামেশার উৎসাহ থাকে না। এইসব শিশুদের খাওয়ানোর জন্য বিশেষ মনোযোগ এবং উৎসাহ প্রয়োজন হয়।

শিশুদের আবেগ, অনুভূতি জোরালো। ওরা যদি কিছু চেয়ে না পায় বা করতে চেয়ে না করতে পারে, তবে খুব নিরাশ হয়ে পড়ে। শিশুরা অচেনা মানুষ লোক বা অন্ধকারকে ভয় পায়। যে সব শিশুদের প্রতিক্রিয়ায় উপহাস করা হয়, শাস্তি দেওয়া হয় এবং অবহেলা করা হয়, তারা আবেগ প্রকাশে অক্ষম হয় এবং দ্বিধান্বিত মন নিয়ে বেড়ে ওঠে। যখন শিশু তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে, তখন যদি এবং সহানুভূতিশীল হয়ে শিশুর প্রতি মনোযোগ দেয়া হয়, তবে শিশু সুখী, নিরাপদ ও সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

শারীরিক শাস্তি বা উৎপীড়নের দৃশ্য শিশুর বিকাশে ক্ষতি করতে পারে। যে সব শিশুকে রেগে শাস্তি দেওয়া হয়, তারা নিজেরাই চরম হয়ে যেতে পারে। তাদের পরিষ্কার করে বলতে হবে কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়। ভাল ব্যবহারের জন্য প্রশংসা করলে তা শিশুদের পরিবারের ভাল সদস্য হতে উৎসাহিত করে।

বাবা-মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের শিশুর শিশুর যত্ন করা উচিৎ। মা’র পাশাপাশি শিশুর যত্ন ও বিকাশে বাবার ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বাবা তার শিশুর ভালবাসা, স্নেহ ও উদ্দীপনার প্রয়োজন মেটাতে পারে এবং ভালো শিক্ষা, ভালো পুষ্টি ও স্বাস্থ্য-যত্ন নিশ্চিত করতে পারে ম’র সাথে সাথে। বাবা নিশ্চিত করতে পারেন যেন শিশুর জন্য ঘর ও বাহিরের পরিবেশ নিরাপদ এবং উৎপীড়নমুক্ত থাকে। বাবা ঘরের কাজে মাকে সাহায্য করতে পারেন, বিশেষ করে যখন মা বুকের দুধ খাওয়ায় বা গর্ভবতী হয়। বাচ্চারা জন্ম মুহূর্ত থেকে শেখা শুরু করে, ওরা সবচেয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ে এবং শেখে ভালোবাসা, দেখাশোনা এবং উদ্দীপনা পেলে, তার সাথে পুষ্টি এবং ভলো স্বাস্থ্য-যত্ন পেলে। চামড়ার সাথে চামড়ার সংযোগ ও বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের ভালো বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে এবং মায়ের সাথে শিশুর সম্পর্ক তৈরি করে।

সব শিশুর টীকাকরণ সময়মতো হয় এবং ঠিকমতো পুষ্টি নিশ্চিত করা যায়, তাদের তার বাঁচার,  মেলামেশার, খেলার ও শেখার উৎসাহ বেশি থাকে।

পিতা-মাতা ও যত্নকারীদের প্রয়োজনীয় পরিমাপ-ফলক জানা দরকার, যা জানাবে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ হচ্ছে কী না। ওদের এটাও জানা দরকার যে কখন সাহায্য চাইতে হবে এবং কী করে শারীরিক বা মানসিকভাবে অসমর্থ শিশুর জন্য যত্ন ও ভালোবাসার পরিবেশ তৈরি করা যাবে। সব শিশু একইরকমভাবে বড় হয় ও বিকশিত হয়, কিন্তু প্রতি শিশুর বিকাশের গতি বিভিন্ন হয়। স্পর্শ, শব্দ এবং দৃশ্যে বাচ্চাদের কেমন প্রতিক্রিয়া হয়, তা লক্ষ্য করে পিতামাতারা বুঝতে পারবেন, যে শিশুর বিকাশের সমস্যা বা অসামর্থ্য আছে কী না। যদি বিকাশ ধীরে হয়, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী পিতা-মাতা ও যত্নকারীদের শিশুর যত্ন নিতে হবে।

শিশুদের বড় হওয়া এবং বিকাশের মধ্যে তফাৎ আছে। বিষয়টির ব্যাপারে আমাদের সচেতনতা কম। এ বিষয়ে পিতা-মাতাকে সচেতন হতে হবে সবার আগে। কম পুষ্টি, খারাপ স্বাস্থ্য বা উদ্দীপনার অভাব বা অন্য গুরুতর সমস্যার জন্য শিশুর অগ্রগতি ধীরে বা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পিতা-মাতাসহ শিশুর যত্নকারীদের শিশুর বিকাশের ব্যাপারে সন্দেহ হলে বা তারা মনে করলে এ বিষয়ে বিশেজ্ঞদের মতামত নেয়া যেতে পারে অথবা তাদের সাথে আলোচনা করতে পারেন।

উইমেনআই২৪//এএসইউ//

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
বিএনপি নেতারা নিজেদের অক্ষমতা আড়াল করতে পুরনো রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছে: কাদের         হিন্দুদের ওপর হামলা দেশের চেতনার বেদীমূলে হামলা: তথ্যমন্ত্রী         প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের গভর্নর জেনারেল হলেন আদিবাসী নারী         বন্ধ মিল চালুর জন্য কর্মপরিকল্পনা দাখিলের নির্দেশ বিএসএফআইসই'র         প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে প্রেমিকদের হত্যা করতেন ৭৪ বছরের বৃদ্ধা         রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’র পক্ষ থেকে ৩০ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি         কাঁথার ব্যবসা করেই ই-কমার্স উদ্যোক্তা বেন্তি         টানা দ্বিতীয় বার ম্যাচসেরা হয়ে যা বললেন সাকিব         বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভে বাংলাদেশ         মায়ের আশ্রয় হয়নি ডাক্তার-ব্যাংকার ছেলের ঘরে         ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড         আইপিএলে ৫০ টাকায় কোটিপতি নাপিত!         কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম         ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭০ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে         জাপা চেয়ারম্যান এর সাথে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ         ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত         নভেম্বরে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের টিকা দেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী         করোনায় সারাদেশে ১০ মৃত্যু ,শনাক্ত ২৪৩         বাল্য বিবাহ: ইউপি চেয়ারম্যান, সাংবাদিকসহ ৯ জনের কারাদণ্ড         পাপুয়া নিউ গিনিকে বড় টার্গেট দিল বাংলাদেশ