রবিবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৮
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

দেশে করোনায় কর্মজীবী নারীর এক তৃতীয়াংশ বেকার

স্টাফ রিপোর্টার: মহামারি করোনাভাইরাসের থাবায় ক্ষতিগ্রস্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে করোনাকালে ক্ষতির শিকার হয়েছে কর্মজীবী নারীরা। দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ কর্মজীবী নারী এই সময়ে কাজ হারিয়ে বেকার হয়েছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এর জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য। মঙ্গলবার প্রকাশিত সংস্থা দুটির জরিপ বলছে, গত বছর জুন মাসে ৩২% নারী কাজ হারিয়েছে এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নেমে এসেছে ৩১ শতাংশে।

ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন বলন, যারা কাজ হারিয়েছেন এবং কাজে ফিরতে পারেননি তারা মূলত কল-কারখানা, ঘর-গৃহস্থালি এবং দিনমজুরের কাজ করতেন।

ইমরান মতিন বলেন, ‘এমনিতেই দেশের শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ কম। আর কোভিড-সৃষ্ট এই অবস্থা নারীদের শ্রমবাজার থেকে আরও ছিটকে ফেলতে পারে।’

২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত যৌথ গবেষণার তৃতীয় ধাপে কোভিড-১৯ এর কারণে সৃষ্ট দারিদ্র্যের গতিপ্রকৃতি এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের মাঝে এর প্রভাব সম্পর্কে গবেষণা করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে নতুন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশি। এ বছরের মার্চ পর্যন্ত যেখানে শহরাঞ্চলে নতুন দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৫৯ শতাংশ, সেখানে গ্রামাঞ্চলে ৪৪ শতাংশ।

জরিপে দেখা গেছে, দারিদ্রসীমার উপরে কিন্তু মধ্যম জাতীয় আয়-সীমার নিচে থাকা এই শ্রেণির মানুষদের অবস্থা পরিবর্তিত হচ্ছে সবচেয়ে ধীরগতিতে। গত জুনে দরিদ্র নয় কিন্তু সেই ঝুঁকিতে থাকা এই মানুষদের ৭২% দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করছিল। তাদের আখ্যায়িত করা হয়েছিল ‘নতুন দরিদ্র’ হিসেবে।

সেই ‘নতুন দরিদ্র’দের ৫০% এখনো ঝুঁকিতে থাকা মানুষের তালিকায় বিদ্যমান। এই হার শহরে ৫৯% এবং গ্রামে ৪৪%। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে ১৪.৮% ‘নতুন দরিদ্র’দের এই হার বিগত বছরের জুনে ছিল ২১.২%-এ।

জরিপের তথ্য বলছে, গত বছর ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ বস্তিবাসী শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যান, যাদের ৯ দশমিক ৮ শতাংশ এখনো ফেরেনি। প্রাক-কোভিড সময়ের তুলনায় শহরের বস্তিবাসীর আয় কমলেও খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় গত জুনের তুলনায় এ বছরের মার্চে দ্বিগুণ হয়েছে। ভাড়া বাড়িতে থাকা অধিকাংশ শহুরে দরিদ্রের জন্য এটি নির্মম বাস্তবতা। সবার সঞ্চয় কমেছে আশ্চর্যজনকভাবে। অরক্ষিত অদরিদ্র এবং দরিদ্র নয় এমন শ্রেণির মানুষের সঞ্চয়ের পরিমাণ কোভিড-পূর্ববর্তী অবস্থার চেয়ে নিচে নেমে গেছে। একই সঙ্গে সব শ্রেণিতেই ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে।

দেশে করোনা সংক্রমণের পর বিভিন্ন সেক্টরে প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে সরকার। মাঝারি এবং ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তারা যাতে ঘুরে দাঁড়ান সেজন্য দেয়া হয়েছে সরকারি সহায়তা। কিন্তু একেবারে তৃণমূলে যেসব নারী কর্মী রয়েছেন তারা পড়েছেন বিপাকে।

অর্থনীতিবিদ এবং গবেষকরা বলছেন সরকার যে প্রণোদনা দিয়েছে সেটা এই ব্যক্তি পর্যায়ে নারীদের জন্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক সায়মা হক বিদিশা বিবিসিকে বলছেন, যেসব নারী বেকার রয়েছেন তাদের কাজে ফেরাতে তাৎক্ষণিক এবং স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে।

উইমেনআই২৪//এলএইচ//

 

 

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
মঙ্গলবার থেকে দেশে আবারও বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর         হংকং নারী ফুটবল দলকে ৫-০ গোলে হারাল বাংলাদেশ         সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান ও তার স্ত্রীর বিচার শুরু         ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২৪২ জন হাসপাতালে         সোমবার ফাইজারের ২৫ লাখ টিকা আসছে         প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে দেওয়া হবে ৮০ লাখ টিকা         সাংবাদিক নির্যাতন: ডিসি সুলতানাসহ চারজনের পদায়নের বিরুদ্ধে রুল         চার মাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৯৮০         কুমিল্লার আদালতে হেফাজত নেতা মামুনুল হক         সন্ধ্যায় ভারতে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’         একই স্কুলের শিক্ষক মায়ের পর ছেলেও করোনা আক্রান্ত         মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা: হাইকোর্টে আগাম জামিন রিপনের         শাহজালালে করোনা ল্যাবের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু         ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে আরও ৮ জনের মৃত্যু         বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃত্যু-আক্রান্ত কমেছে         গুলাবের প্রভাবে সাগর উত্তাল, দুই নম্বর সংকেত         ওয়াশিংটন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী         ওয়াশিংটনের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী         হামলার প্রতিবাদে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের নিন্দা         ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২২১ জন হাসপাতালে ভর্তি