রবিবার, ১১ আশ্বিন ১৪২৮
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

‘যক্ষ্মা রোগীরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন উল্লেখযোগ্য হারে’

শাহীন মোলহেম: রাজধানীর শেরে-ই বাংলা নগর শ্যামলী ২৫০ শয্যার যক্ষা ও অ্যাজমা হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো আবু রায়হান বলেছেন, বর্তমানে করোনার চেয়ে বেশি ভয় যক্ষ্মায়। তাই মানুষকে ব্যাপকভাবে জানানো দরকার যে চিকিৎসার সুযোগ আছে বিনামূল্যে এবং রোগ নির্ণয় সুবিধাও এখন অনেকে বেড়েছে। যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসায় সফল দেশগুলোর মধ্যে বিশ্বে বাংলাদেশ স্বীকৃত হলেও আমাদের সচেতন থাকতে হবে। কারণ সম্প্রতি বৈশ্বিক মহামারি করোনার তুলনায় যক্ষ্মা রোগকে ভয়ানক বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘করোনাভাইরাসে চলতি বছরে শুক্রবার পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৬ হাজার ৮৩২ জন। অন্যদিকে, যক্ষ্মা রোগে গত এক বছরে মৃত্যু হয়েছে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষের। এ হিসাবে করোনার তুলনায় যক্ষ্মা রোগে বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। তাই যক্ষ্মা রোগকে অবহেলা করা যাবে না।’ ডা. আবু রায়হান বলেন, ‘জাতীয় যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে প্রতিদিন যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০৭ জনের মৃত্যু হচ্ছে। প্রতিদিন শনাক্ত হয় ৯৮৭ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যানে বাংলাদেশে প্রতিদিন যক্ষ্মা রোগে আরও বেশি মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়েছে।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাত দিয়ে তিন বলেন, প্রতিদিন যক্ষ্মা রোগে ১৮৫ জন মৃত্যু হচ্ছে। সচেতন না হলে যক্ষ্মায় মৃত্যু বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টরা।’

রাজধানীর ২৫০ শয্যা শ্যামলী টিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যক্ষ্মা রোগীদের মধ্যে প্রায় ৩ শতাংশ করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এ ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ওই হাসপাতালে আপাতত করোনা পজিটিভ রোগী ভর্তি বন্ধ রাখা হয়েছে।

যক্ষ্মারোগ সর্ম্পকে তিনি বলেন, ‘এটি জীবাণুঘটিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা মাইকো-ব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামক জীবাণু দিয়ে হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটিয়ে থাকে। তিন সপ্তাহের বেশি কাশি, জ্বর ও বুকে ব্যথা এ রোগটির লক্ষণ। কফ পরীক্ষা করাই হচ্ছে এ রোগ নির্ণয়ের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায়। এটি একটি কমিউনিকেবল ডিজিজ এবং আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসা না নিলে তার দ্বারা আরও দশজন পর্যন্ত আক্রান্ত হবার আশংকা থাকে। ডায়াবেটিস বা বার্ধক্যজনিত সমস্যা নিয়ে আছেন অনেকে। খোলা জায়গা কমে যাচ্ছে এবং বাড়ছে বায়ুদূষণ, যা যক্ষ্মার ঝুঁকি বাড়াতেও সহায়তা করছে। রোগ-নির্ণয়ে দেরী করাটাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

ডা. আবু রায়হান  বলেন, ‘অনেকেই রোগের লক্ষণ গোপন করে , একজন রিকশাচালক বা বস্তিবাসী মনে করেন, অসুস্থ হলে চিকিৎসক হাসপাতালে ঘোরাঘুরি করলে তার উপার্জনে ক্ষতি হবে। ফলে সে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসছে না। অসুস্থ হচ্ছে এবং এভাবেই রোগ ছড়াচ্ছে। তাছাড়া আমাদের দেশে গণপরিবহনে প্রচণ্ড ভিড় থাকে এবং সেই ভিড়ে কোনোভাবে একজন যদি যক্ষ্মা রোগী থাকে তাহলে তিনি অনেককেই আক্রান্ত করতে পারেন। আক্রান্তদের অনেকে ঔষধের ডোজ পুরোপুরি শেষ করছেননা যা আরো বড় সমস্যার জন্ম দিচ্ছে। করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় বিশ্বজুড়েই হাসপাতালগুলো এখন কোভিড রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে অন্যান্য রোগের মতো এইচআইভি, টিবি, ম্যালেরিয়ার চিকিৎসাও ব্যহত হচ্ছে। কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতা থাকলেও অনেকে এখন হাসপাতালমুখী হতে চান না।’

ডা. আবু রায়হান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের আবির্ভাবের আগে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে ব্যাপক সংক্রামক রোগ ছিল টিবি। এই রোগে প্রতিবছর ১০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতো।’

এইচআইভি, টিবি, ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করা গ্লোবাল ফান্ডের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১০ লাখ মানুষের টিবি পরীক্ষা করা হয়েছে, যা ২০১৯ সালের চেয়ে ১৮% শতাংশ কম। ডা. আবু রায়হান গ্লোবাল ফান্ডের নির্বাহী পরিচালক পিটার স্যান্ডস এর উদাহারুণ দিয়ে বলেন, ‘টিবির ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এসেছে। কারণ সঠিক চিকিৎসা না নিলে একজন টিবি রোগী থেকে বছরে ১৫ জনের মধ্যে এর ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। ২০২০ সালের মার্চ মাসে বিভিন্ন সংস্থা মহামারী মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছিল। এসব দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন, রোগের পরীক্ষা, চিকিৎসা ও অক্সিজেন সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম দিতে এই তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে।’

পরিচালক আরো বলেন, ‘১৯৯৫ থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে প্রায় ত্রিশ লাখ যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে শিশু রয়েছে প্রায় বিশ হাজার। ২০১৯ সালে দেশে তিন লাখ যক্ষ্মা রোগীকে চিহ্নিত করে চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে এবং তাদের ধারণা আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা সাড়ে তিন লাখের মতো হতে পারে। যক্ষারোগী চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে আর ৯৬ ভাগ রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা যাচ্ছে।’

২০১৫ সালে মৃত্যু হার ছিলো প্রতি লাখে ৬৭ জন, সেটি এখন উনত্রিশে নেমে এসেছে। শ্যামলীতে অবস্থিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৫ সালে সরকারি টিবি (টিউবারকুলেসিস) ক্লিনিকটিকে বিশেষায়িত যক্ষ্মা হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫০ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আন্তঃবিভাগ সেবা চালু হয়। এছাড়া এখানে চালু হয়েছে অ্যাজমা সেন্টার, যেটা বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

হাসপাতালের নতুন ভবনে ডাক্তার দেখিয়ে পুরনো ভবনে অবস্থিত ফার্মেসি থেকে সরকার প্রদত্ত বিনামূল্যের ওষুধ দেওয়া হয়  রোগীদের। হাসপাতালটির উপ-পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ডা. আবু রায়হান বলেন, ‘হাসপাতালটিতে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আইসিইউ, এইচডিইউ ও ভেন্টিলেটর, অপারেশন থিয়েটার উদ্বোধন করেন। বক্ষব্যাধি থেকে আমাদের এখানে রোগী আসে বেশি। আমাদের মেডিকেল অফিসারদের বাইরে বিশেষজ্ঞরাও রোগী দেখেন। ডা. মো. আবু রায়হান বলেন, আমাদের জনবলের অভাব নেই। যে জনবল আছে তারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। আবার এক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজনও।’ 

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
মঙ্গলবার থেকে দেশে আবারও বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর         হংকং নারী ফুটবল দলকে ৫-০ গোলে হারাল বাংলাদেশ         সাবেক প্রতিমন্ত্রী মান্নান খান ও তার স্ত্রীর বিচার শুরু         ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২৪২ জন হাসপাতালে         সোমবার ফাইজারের ২৫ লাখ টিকা আসছে         প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে দেওয়া হবে ৮০ লাখ টিকা         সাংবাদিক নির্যাতন: ডিসি সুলতানাসহ চারজনের পদায়নের বিরুদ্ধে রুল         চার মাসে সর্বনিম্ন মৃত্যু, শনাক্ত ৯৮০         কুমিল্লার আদালতে হেফাজত নেতা মামুনুল হক         সন্ধ্যায় ভারতে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’         একই স্কুলের শিক্ষক মায়ের পর ছেলেও করোনা আক্রান্ত         মুনিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা: হাইকোর্টে আগাম জামিন রিপনের         শাহজালালে করোনা ল্যাবের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু         ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে আরও ৮ জনের মৃত্যু         বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃত্যু-আক্রান্ত কমেছে         গুলাবের প্রভাবে সাগর উত্তাল, দুই নম্বর সংকেত         ওয়াশিংটন পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী         ওয়াশিংটনের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী         হামলার প্রতিবাদে রংপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের নিন্দা         ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ২২১ জন হাসপাতালে ভর্তি