মঙ্গলবার, ১২ আশ্বিন ১৪২৮
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

শরীরের যত্নে তেলের যতো গুণাগুন

ফারজানা ফাতেহা: আমরা জানি আমাদের চুল একধরনের মৃত কোষ বা ডেড সেল। স্কাল্পে বা চুলের গোড়ায় থাকে সিবাম গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থি। যেখান থেকে নিয়মিত প্রাকৃতিক তেল নিঃসরণ হয়ে চুলকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে এবং চুলকে রুক্ষ, শুষ্ক ও ভঙ্গুরতার হাত থেকে রক্ষা করে। আমাদের ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন প্রাকৃতিক তেল নিঃসরণ জরুরি, তেমনি চুলের জন্যেও জরুরি।

খাদ্য হিসেবেও তেলের ব্যবহার অতুলনীয়। চলুন জেনে নেয়া যাক হাতের নাগালে থাকা দেশীয় ও বিদেশি  তেল আমাদের কী কি উপকার করে...

সরিষার তেল
১) এতে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ই, বিটা-ক্যারোটিন থাকে যা ত্বকের তামাটে ভাব দূর করে, ত্বককে অতিবেগুনী রশ্মি ও ক্যান্সার হতে রক্ষা করে। তাই প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন হিসেবে শরীরে ব্যবহার করতে পারেন।

২) এটি মনোস্যাচুরেটেট ও পলিস্যাচুরেটেট ফ্যাট সমদ্ধ যা নিয়মিত ব্যবহার কোলেস্টেরলের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং কার্ডিও ভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি ৭০ শতাংশ কমায়। তাই রান্নায় নিয়মিত এই তেল ব্যবহার করতে পারেন।

৩) এটির উচ্চমাত্রার বিটা-ক্যারোটিন চুল সাদা হওয়া রোধ করে এবং চুল পড়া রোধ করে।

নারকেল তেল
১) নারকেল তেল মূলত স্যাচুরেটেড ফ্যাট। এতে থাকে অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান। তাই ত্বকের পোর কমাতে, স্কিন ময়েশ্চার হিসেবে, ব্রণের ইনফ্লামেশন কমাতে ও হাইড্রেট রাখতে দারুণ কার্যকরী।

২) নারকেল তেলের লুরিক অ্যাসিড ভালো কোলেস্টেরল এর মাত্রা বাড়ায়। যা কোলেস্টেরলের মাত্রায় ভারসাম্য রেখে রিদরোগের ঝুঁকি কমায়।

৩) মৌসুমি ফ্লু, ইস্ট,ফাংগাস হতে রক্ষা পেতে, থাইরয়েড গ্রন্থির কাজে, পরিপাক যন্ত্রকে ক্রিয়াশীল করতে এবং শরীরের অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি পুরিয়ে অ্যাবডোমিনাল ফ্যাট কমিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৪) ময়েশ্চারাইজার এবং প্রাকৃতিক লোশন হিসেবে ও চুলকে ঝলমলে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করতে নারকেল তেলের জুড়ি নেই।

আর্গান অয়েল বা মরোক্কান তেল
১) আর্গান তেলে ভিটামিন ই এবং ওলেইক এবং লিনোলিক ফ্যাটি অ্যাসিড সহ টোকোফেরল থাকে। এই মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টগুলি হ'ল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস। টোকোফেরলগুলি ত্বকের কোষগুলিকে অতিবেগুনী রশ্মি থেকে রক্ষা করে।

২) আর্গান অয়েল ত্বক, চুল ও নখের জেল্লা বাড়ায়৷

৩) আর্গান তেলের ফ্যাটি অ্যাসিড এবং স্টেরল যৌগ এইচডিএল বা ভাল কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে, যা খারাপ এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রাকে সীমিত করে। স্টেরল যৌগগুলি ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলগুলি ভেঙ্গে যাওয়ার জন্য লিভারের রিসেপ্টারগুলিকেও উদ্দীপিত করে।

৪) আর্গান অয়েল যেকোনো তেলের চেয়ে হাল্কা এবং চিটচিটে নয় তাই অনায়াসে যেকোনো সময় ত্বকে এবং চুলে ব্যবহার করা যায়।

৫) কড়া রোদে ত্বক এবং চুলের ক্ষতি হলে তা প্রশম করতে সাহায্য করে, শুস্ক ও রুক্ষ ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পায়। সকালে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পর ময়শ্চারাইজ়ার হিসেবে দু’-এক ফোঁটা আর্গন তেল ব্যবহার করতে পারেন। সারা রাত মুখে আর্গন তেল লাগিয়ে রাখলেও ত্বক তরুণ ও প্রাণবন্ত দেখাবে।

৬) আর্গান অয়েলের পলিউস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডগুলি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল করে এবং ইনসুলিনের প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। আরগান তেল ওজন হ্রাস করতেও সহায়তা করে এবং কম ক্যালোরিযুক্ত ডায়েটগুলিকে সহজ করে তোলে।

৭) যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত, তাঁরা সব ধরনের তেল লাগাতে পারেন না। তাঁরা কিন্তু অনায়াসেই আর্গন তেল ব্যবহার করতে পারেন। কারণ এই তেল ত্বকের তেলতেলে ভাব ও সেবাম উৎপাদনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই ব্রণ বা অ্যাকনের সমস্যায় দিনে দু’বার আর্গন অয়েল ব্যবহার করলে ভাল ফল মেলে।

ক্যাস্টর অয়েল বা রেড়ির তেল
১) ক্যাস্টর অয়েল উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা মাথার ত্বক ও চুলে খুব ভালো কাজ করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি অ্যাসিড থাকায় এর ঘনত্ব বেশি।

২) এই তেলে থাকা ব্যাক্টেরিয়া ও প্রদাহরোধী উপাদান মাথার ত্বককে সুরক্ষিত রাখে। মাথার ত্বকের সংক্রমণের কারণে দেখা দেয় চুল পড়া, খুশকি ও চুলকানির সমস্যা। এতে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও প্রদাহরোধী উপাদান মাথার ত্বকের সমস্যা দূর করে। এটা ফাঙ্গাসের বিস্তার কমায় ফলে মাথার ত্বক পরিষ্কার ও সংক্রমণমুক্ত থাকে। চুলের অকালপক্কতা দূর কর জটালোভাব দূর করে।

৩) আরথ্রাইটিস এর ব্যথা কমাতে ক্যাস্টর অয়েল এ আছে ব্যথা উপশমকারী উপাদান। ক্যাস্টর অয়েল এর সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ হলুদ গুড়ো মিশিয়ে ব্যাথার জায়গায় মালিশ করুন। ব্যথা কমবে অনেকটাই। ক্যাস্টর অয়েল শরীরের থাইমাস গ্ল্যান্ড কে জাগিয়ে তোলে আর সেই সাথে এক বিশেষ ধরনের শ্বেত রক্ত কণিকার বিকাশ ঘটায়, যা শরীরের বিভিন্ন গিঁটে আড়ষ্টতা কাটিয়ে স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়ায় সাহায্য করে।

৪) বাত রোগে আক্রান্ত স্থানে ক্যাস্টর অয়েল দিয়ে ম্যাসাজ করলে এটি পেশীর ব্যথা হ্রাস করে।  ক্যাস্টর অয়েলে এক ধরনের যৌগ থাকে যা ব্যথাকে  শোষণ করে এবং রোগীকে স্বস্তি দেয়।

সাবধানতা: ক্যাস্টর অয়েল চুলের জন্য উপকারী হলেও এর বেশি ব্যবহারে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, স্কিনে ব়্যাশ, পেটের ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ         সংগ্রাম ও সাহসের এক নাম শেখ হাসিনা         প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে টিকা ক্যাম্পেইন শুরু কাল         ডেঙ্গুতে আজও দুই মৃত্যু, শনাক্ত ২১৪         রেলের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে ভারত: রেলমন্ত্রী         শেখ হাসিনার জন্মদিনে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি         ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার         শেখ হাসিনা এক জীবন্ত কিংবদন্তি: তথ্যমন্ত্রী         করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু-শনাক্ত         ইউপি নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিরীহ পারুলকে খুন         নিজ ঘরে মিলল নারী ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ         চোর সন্দেহে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ         জেল থেকে মুক্তি পেল ফিলিস্তিনি নেতা খালিদা জারা         ভারতের উপকূল অতিক্রম করেছে ‘গুলাব’, নামল সংকেত         ১৪ নভেম্বর এসএসসি, ২ ডিসেম্বর এইচএসসি পরীক্ষা         জার্মানির নির্বাচনে হেরে গেল মারকেলের দল         রাজনীতিকে বিদায় জানালেন প্রণবকন্যা শর্মিষ্ঠা         নারী সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ গড়ে আইসল্যান্ডের ইতিহাস         আফগানিস্তানের বন্ধ হচ্ছে নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র         মধ্যরাতে শিশু পুত্রকে গলা কেটে হত্যা করলেন মা         করোনা : সংক্রমণে যুক্তরাজ্য, প্রাণহানিতে শীর্ষে রাশিয়া