মঙ্গলবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

‘পুরুষ পদে পদে নারীকে তার উপর নির্ভরশীল করে তোলে’

ফারজানা প্রিয়দর্শীনি আফরিন: নারীর যেকোনো অপরাধকে বাড়িয়ে দেখে সমাজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় নোংরা চর্চা, নেতিবাচক উপস্থাপন চলতে থাকে। একই অপরাধে অভিযুক্ত নারীকে পুরুষের চেয়ে বেশি ভিলিফাই করা হয়। অপরাধ না হলেও ‘নৈতিকতার চোখে’ যে কাজকে ‘খারাপ’ বলা হচ্ছে সে ক্ষেত্রেও নারীর খারাপ কাজ হয় ‘বেশি খারাপ’, পুরুষেরটা ‘কম খারাপ’।  

উদাহরণ হলো, অভিনেতা অপূর্ব’র ‘৩য়’ বিয়ে। যতোটা প্রতিক্রিয়া অভিনেত্রী মিথিলার ‘২য়’ বিয়ে নিয়ে তার সিকি ভাগ মাথাব্যথা নেই অপূর্বকে নিয়ে। অথচ জানা যায় অপূর্ব নাকি স্ত্রীর সাথে থাকা অবস্থাতেই চার বছর ধরে পরকীয়া করছিলেন এই নারীর সাথে, অন্যদিকে  মিথিলা স্বামী তাহসানকে তালাক দেয়ার পর প্রেম-বিয়ে করলেও তাকে এখনো ধারাবাহিক ট্রল থেকে মুক্তি দেয়নি সমাজ।  

এসবে কিন্তু বেশি সক্রিয় নারীরাই। কারণ সে মনে করে অন্য নারীকে ‘দুশ্চরিত্রা’ বলতে পারলে পুরুষের চোখে তার ‘সতী’ হওয়া নিশ্চিত হয়। আর এই নিশ্চিতকরণ তাকে সামাজিক 'সুরক্ষা' দেয়। সে লোভে অন্য নারীদের স্লাট শেমিং করতে থাকে সে।  

পিতৃতান্ত্রিক সমাজ নারীর মগজে পিতৃতন্ত্রের সিস্টেম ঢুকিয়ে দেয়। বুঝতে শেখার পর থেকেই নারীদের শুনতে হয় ‘যতো শিক্ষিতই হও না কেন, ডাক্তার হও আর ব্যাংকার হও সেই তো দিনশেষে হাড়িই ঠেলতে হবে।‘  
‘এভারেস্ট জয় করো আর পাইলট হও, দিনশেষে মা তো মা-ই। বাচ্চা তো পালতেই হবে’  

কোনো পুরুষ যদি বাসায় রান্না করে, তা অকেশনালি না হয়ে ফ্রিকোয়েন্টলি হয়, অন্য নারীরাই আড়ালে সেই পুরুষের পুরুষত্ব নিয়ে হাসাহাসি করে। অথচ দেশী-বিদেশী নামকরা তারকা রেঁস্তোরার বেশিরভাগ শেফই পুরুষ। তাই এটা অন্তত নিশ্চিত নারীর যৌনাংগের সাথে রান্নাঘরের সম্পর্ক কেবল আমাদের সমাজেই বিরাজ করে।  

পিতৃতন্ত্র নারীর বাইরের জগতের সাথে সাথে মনোজগতকেও নিয়ন্ত্রণ করে। এই তন্ত্র কেবলই নারীর সতীত্বের উপর জোর দেয় এবং নারীও এই সমস্ত শর্ত মেনে নিয়ে ‘ভাল মেয়ে’ হয়ে থাকার চেষ্টা করে। পুরুষ পদে পদে নারীকে তার উপর নির্ভরশীল করে তোলে, যার ফলে নারীর মানসিকতা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর হয়ে পড়ে। তারা নিজেরাই নিজেদের শ্রেণীকে অবজ্ঞা করে, হীনমন্যতায় ভোগে, নিজেদের সস্তা ভোগ্যপণ্য করে তোলে। পুরুষ বা পিতৃতন্ত্র দয়া করে কোনো নারীকে সম্মান দিলে তারা গোটা দুনিয়ায় তাদের মহত্বের প্রচারণা চালাতে থাকে, যেন নারীর স্বাধীনতা, নারীর সম্মান, সবকিছুর মালিকানাই পুরুষের হাতে।  

এর একটি কমন উদাহরণ হতে পারে যখন নারীরা বলে ‘আমার স্বামী/বয়ফ্রেন্ড অনেক ভাল। আমাকে ফ্রেন্ডদের সাথে ঘুরতে যেতে দেয়’  
কিংবা ‘অফিস থেকে ফিরতে রাত হলেও আমার হাজব্যান্ড মাইন্ড করে না।‘  
কিংবা বলে ‘আমার হাজব্যান্ড খুব হেল্পফুল। বাচ্চা পালতে আমাকে খুব সাহায্য করে। ছুটির দিনে সকালে চা বানিয়ে দেয়।‘  

অর্থ্যাৎ যে কাজগুলো স্বাভাবিকভাবেই একটা পার্টনারের করার কথা সেগুলোকে সে তার 'বিশেষ প্রাপ্তি’ হিসেবে আইডেন্টিফাই করছে।  

শিক্ষিত নারীদের একাংশ মনে করে  বাচ্চা-কাচ্চা মানুষ করার জন্যই নারীশিক্ষার প্রয়োজন। চাকুরি করলে বাচ্চাদের ‘ক্ষতি’ করা হয়।  তাদের অনেকে আবার সারাদিন বাসায় থেকে প্রচুর সিরিয়াল দেখেন নাওয়া-খাওয়া ভুলে।  

স্বামী-সন্তান-সংসার এসবের বাইরে গিয়ে নিজেদের কথা ভাবতে না পারা এবং নারীর ‘আদর্শ রুপ’ এর এই ছাঁচ পুরুষেরই নির্মাণ করা। সেই ছাঁচে পড়ে নারী তার এসব আচরণকে ‘নারীত্ব’ ভেবে গ্লোরিফায়েড হয়, এতে সে নিজে শুধু অভ্যস্ত হয়, তা না, সেই অভ্যস্ত চোখে অন্য নারীদেরও মাপতে চায়।  

কে আদর্শ নারী, কে নষ্ট নারী- এই সনদ আরেকজন নারী দেয়-সে কীভাবে, কোন মানসিকতায় পুরুষতন্ত্রকে লালন করছে তার উপর ভিত্তি করে। পিতৃতন্ত্রের বিরোধিতা করলেই সমাজ তাকে নষ্ট, উচ্ছৃঙ্খল, পতিতা, বারো ভাতারি, নাস্তিক ইত্যাদি নাম দিয়ে ‘মূলধারা’ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়। সামাজিক ও মানসিকভাবে হেনস্থা করে। একঘরে করে।  

‘নারীবাদ মানে পুরুষবিরোধিতা নয়, নারীবাদ মানে পুরুষবিদ্বেষ নয়’ যেসব নারীরা সারাক্ষণ এসব বলতে থাকেন, তারা আসলে পুরুষতন্ত্রকে খুশি রাখার চেষ্টা করেন। সারাক্ষণ পুরুষের সাথে আপোষ করার শিক্ষা দিতে থাকেন। আর এসব শিক্ষিত পরনির্ভরশীল ‘নারীবাদীদের’ কাঁধে ভর করে পুরুষতন্ত্র এগিয়ে যেতে থাকে। পুরুষতন্ত্র কিন্তু কখনো এসব তেলতেলে কথায় পিছল হয়ে নারীর জন্য কোনো পথ ছেড়ে দেয়নি কোনকালে। নারীবাদকে গাল দিতে তাদের বাঁধে না। আর এদিকে পিতৃতন্ত্রের প্রকৃত সমস্যাগুলো তুলে ধরতেও তাদের সাথে আপোষ করে, কায়দা করে বলতে হয়। কারণ ‘খানকি-বেশ্যা-পতিতা’ এই গালিগুলো পুরুষতন্ত্র তাদের জন্য রেডি করে রেখেছে। ফলে তাদেরকে খুশি করে, দরকার হলে তাদের খুশির জন্য অন্য নারীদের চরিত্র হনন করে হলেও তারা নিজেরা ‘সতী’ এই সনদ তারা চায় নারী-পুরুষ সবার কাছ থেকে। পুরুষের কাছ থেকে সনদ পেলে সেটি আরো শক্তিশালী হয়।

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ         সংগ্রাম ও সাহসের এক নাম শেখ হাসিনা         প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে টিকা ক্যাম্পেইন শুরু কাল         ডেঙ্গুতে আজও দুই মৃত্যু, শনাক্ত ২১৪         রেলের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে ভারত: রেলমন্ত্রী         শেখ হাসিনার জন্মদিনে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি         ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার         শেখ হাসিনা এক জীবন্ত কিংবদন্তি: তথ্যমন্ত্রী         করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু-শনাক্ত         ইউপি নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিরীহ পারুলকে খুন         নিজ ঘরে মিলল নারী ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ         চোর সন্দেহে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ         জেল থেকে মুক্তি পেল ফিলিস্তিনি নেতা খালিদা জারা         ভারতের উপকূল অতিক্রম করেছে ‘গুলাব’, নামল সংকেত         ১৪ নভেম্বর এসএসসি, ২ ডিসেম্বর এইচএসসি পরীক্ষা         জার্মানির নির্বাচনে হেরে গেল মারকেলের দল         রাজনীতিকে বিদায় জানালেন প্রণবকন্যা শর্মিষ্ঠা         নারী সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ গড়ে আইসল্যান্ডের ইতিহাস         আফগানিস্তানের বন্ধ হচ্ছে নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র         মধ্যরাতে শিশু পুত্রকে গলা কেটে হত্যা করলেন মা         করোনা : সংক্রমণে যুক্তরাজ্য, প্রাণহানিতে শীর্ষে রাশিয়া