সোমবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৮
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

আফগান নারী মেয়র জারিফা গাফারি যেভাবে দেশ ছেড়ে পালালেন

উইমেনআই২৪ ডেস্ক: জারিফা গাফারি আফগানিস্তানের ভোটে নির্বাচিত প্রথম নারী মেয়রদের অন্যতম। তালেবানের হাতে কাবুলের পতন তার জন্য ছিল এক অশনি সঙ্কেত। তালেবান যোদ্ধারা যখন রাজধানী কাবুলে গিয়ে পৌছালো তিনি বুঝতে পারলেন তার জীবনে এক চরম সঙ্কট হাজির হয়েছে। এর ক'দিন পর তিনি পরিবারসহ পালিয়ে জার্মানিতে চলে যান। তার দেশত্যাগের সেই নাটকীয় ঘটনাগুলো বলছিলেন তিনি।

২৯ বছর বয়সী গাফারি ছিলেন একজন জনপ্রিয় নেতা। তিনি হয়ে উঠেছিলেন আফগানিস্তানের নারী অধিকারের একজন কণ্ঠস্বর। তার বিশ্বাস, ঠিক এজন্যেই তালেবান তাকে হুমকি বলে মনে করতো। মিস গাফারি ২০১৮ সালে ময়দান শার শহরের মেয়র নির্বাচিত হন।

ইসলামের আইনকানুনগুলোর যে ব্যাখ্যা তালেবানের কাছে গ্রহণযোগ্য তা ছিল নারীদের ভূমিকাকে একেবারেই সীমিত করে ফেলা।

মিস গাফারি বলেন, ‘আমার কথার যে শক্তি তা বন্দুকের নলের চেয়েও প্রভাবশালী।’

অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে তালেবানের ক্ষমতা দখলে প্রাণ হারানোর শঙ্কা থাকলেও জারিফা গাফারি প্রথম দিকে ব্যাপারটাকে মেনে নিতে চাননি। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই তার সমস্ত আশা ভরসা ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

তালেবান সারা দেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর মিস গাফারিকে পরামর্শ দেয়া হলো তার বাড়ি বদলে ফেলতে। তার আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত হলো যেদিন তিনি দেখলেন তার খোঁজে তালেবান যোদ্ধারা তার আগের বাড়িতে এসে হাজির হয়েছে এবং সেখানকার একজন নিরাপত্তা কর্মীকে মারধর করছে।

সম্প্রতি কয়েক বছর ধরেই জারিফা গাফারির জন্য নিরাপত্তাহীনতা একটা বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারণ তিনি ময়দান শাহর নামে যে শহরের মেয়র নির্বাচিত হন সেটি ছিল বেশ রক্ষণশীল। শহরে অনেক তালেবান সমর্থক ছিল। গত ২০১৮ সাল থেকে বেশ কয়েকবার মিস গাফারির প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছিল।

গত বছরের শেষের দিকে তার বাবার হত্যার পর ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। তার বাবা ছিলেন আফগান সামরিক বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন অধিনায়ক। মিস গাফারি বিশ্বাস করেন, তালেবানই তার বাবাকে হত্যা করেছে।

মধ্য আগস্টে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে বেঁচে থাকতে হলে তাকে দেশ ত্যাগ করতে হবে। গত ১৮ অগাস্ট তিনি ও তার পরিবার একটি গাড়িতে চড়ে কাবুল বিমানবন্দরের দিকে রওনা হন। এই যাত্রার পুরো সময়টা তিনি গাড়ির সিটের পায়ের কাছে লুকিয়ে ছিলেন। তালেবানের তল্লাশি চৌকিতে প্রতিবার গাড়ি থামানো হলেও তিনি নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘যখন বিমানবন্দরে পৌঁছালাম তখন দেখলাম চারিদিকে সব জায়গায় শুধু তালেবান যোদ্ধা। সে সময় আমার পরিচয় গোপন রাখতে খুব কষ্ট করতে হয়েছিল।’

বিমান বন্দরে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত জারিফা গাফারিকে ইস্তাম্বুল-গামী একটি বিমানে উঠিয়ে দিতে সাহায্য করেন। সেখান থেকে তিনি জার্মানি চলে যান।

তিনি বলেন, ‘যখন আমার বাবার মৃত্যু হয় তখন মনে হয়েছিল জীবনটা ওলটপালট হয়ে গেল।’ তিনি আরো বলেন, ওই বিমানে ওঠার পর নিজের দেশ ত্যাগ করার যে ব্যথা, সেরকম বেদনা বাবার মৃত্যুর সময়ও পাইনি।’

জারিফা গাফারি বলেন, ‘কাবুলের পতন ছিল আমার জীবনের এক মর্মান্তিক দিন। এই ব্যথা কোনোদিন যাবে না। কোনোদিন যে আমাকে নিজের দেশ ছাড়তে হবে সেটা আমি মোটেও কল্পনা করিনি।’

জার্মানির ডুসেলডর্ফ শহরে জারিফা গাফারির জীবন এখন নিরাপদ।

তিনি স্বীকার করেন যে কাবুল বিমানবন্দর বিপজ্জনক রূপ নেয়ার পর যেসব মানুষ সেখানে গেছেন তাদের মধ্যে তিনি অনেক ভাগ্যবান।

যুদ্ধের শিকার মানুষদের সাহায্য করার জন্য জারিফা গাফারি আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন। তালেবানের শাসনের অধীন আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের জীবনের দিকে দৃষ্টি ফেরাতে তিনি অন্যান্য আফগান রাজনীতিক এবং বিশ্ব নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন বলে জানান।

তিনি তালেবানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ইচ্ছুক। কারণ, ‘আমাদের একে অপরকে বুঝতে হবে।’

‘বিদেশি সৈন্যরা এসে আমাদের সাহায্য করবে না। তালেবানের সঙ্গে সমস্যা মিটিয়ে ফেলার কাজটা আমাদেরই করতে হবে। সেই দায়িত্ব পালনের জন্য আমি প্রস্তুত।’

এরপরও তালেবানকে তিনি বিশ্বাস করেন না - বিশেষভাবে নারী অধিকারের প্রশ্নে।

সর্বশেষ ২০১১ সালে তালেবান যখন আফগানিস্তানে শাসন কায়েম করেছিল সে সময়টাতে তারা ইসলামের এক কঠোর অনুশাসন দেশের মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিল। শরীয়া আইনের সেই কঠোর ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে আফগান নারীদের স্কুলে যাওয়া কিংবা কাজে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

কাবুল দখলের পর তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ্ মুজাহিদ বলেছেন, ‘আফগান নারীরা সমাজের মধ্যে খুবই তৎপর ভূমিকা পালন করবেন। তবে সেটা হতে হবে ইসলামী কাঠামোর মধ্যে।’

এই বক্তব্য নিয়ে জারিফা গাফারি সন্দিহান। তিনি বলছেন, ‘তাদের কথার সঙ্গে কাজের কোনো মিল নেই।’ তিনি আশা করেন, আফগানিস্তান নিরাপদ হলে কোনো একদিন তিনি মাতৃভূমিতে ফিরে যাবেন।

তিনি বলেন, ‘এটা আমার দেশ। এই দেশ গড়ে তুলতে আমিও কাজ করেছি। শ্রম দিয়েছি। দেশ ছাড়ার সময় আফগানিস্তানের সামান্য একটু মাটি আমি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি। এই মাটি আমি একদিন আবার দেশে ফিরিয়ে নিতে চাই।’ বিবিসি বাংলা

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী         ১৬০ ইউপি ও ৯ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ চলছে         দরিদ্র্রের হার অনেক বেশি হওয়ায় রংপুরে নারী শ্রমজীবী বেশি         ৩ ঘণ্টা পরে রাজধানীর সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের রেল চলাচল স্বাভাবিক         ষাটোর্ধ্ব জনগণকে স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্য ডিজি         নির্বাচনে অতিথি পাখিরা লাল কার্ড পাবে: তথ্য মন্ত্রী         জাপার ভাইস চেয়ারম্যান হলেন শাফিন         দেশে বছরে প্রায় ৬ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে মারা যান : স্বাস্থ্যমন্ত্রী         'সরকার ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে'         নতুন ২৪১ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি, এ পর্যন্ত মৃত্যু ৫৯         অবৈধ ৫৯টি আইপিটিভি বন্ধ করেছে বিটিআরসি         খালেদার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ল         ‘শিক্ষার্থীরা মানলেও অভিভাবকরা স্বাস্থ‌্যবিধি মানছেন না’         ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিক কারাগারে         রাসেল দম্পতির বিরুদ্ধে অর্থআত্মসাতের অভিযোগে আরেক মামলা         ৪০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা আজ         আজ থেকে ৪ ঘণ্টা করে বন্ধ সিএনজি স্টেশন         ইউপি নির্বাচন : বিনা ভোটে আ.লীগের ৪৩ প্রার্থী জয়ী         আফগানিস্তানে শক্তিশালী বিস্ফোরণে নিহত ৭         বিশ্ব করোনা পরিস্থিতির উন্নতি, কমেছে মৃত্যু-সংক্রমণ         মাধ্যমিক স্কুলেও মেয়েদের যেতে দিল না তালেবানরা