মঙ্গলবার, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

উদ্যোক্তা ও বিউটি এক্সপার্ট শাহিদা আহসানের সফলতার গল্প

ফারজানা ফাতেহা:  একজন উদ্যোক্তা, মেকআপ ট্রেইনার, সোস্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, বিউটি এক্সপার্ট হিসেবে শাহিদা আহসান অনন্য গুণের অধিকারী। সেই সঙ্গে তিনি একজন নিবেদিত মা এবং পুরোদস্তুর গৃহিনী৷ বেস্ট মেকআপ ট্রেইনার হিসেবে অভিনেত্রী মাধুরি দিক্ষিতের হাত থেকে পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। ১ সেপ্টেম্বর পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের রিয়েল হিরোস অ্যাওয়ার্ডস। হাজার হাজার ফলোয়ার আর ছাত্রছাত্রী রয়েছে তার।

উইমেনআই২৪ ডটকমের সঙ্গে কথোপকথনে শাহিদা আহসান জানালেন সফল নারী হিসেবে তার সুপরিচিত হয়ে ওঠার গল্প।

উইমেনআই২৪ ডটকম: ছোটবেলা কীভাবে কেটেছে এবং বড় হয়ে কি হতে চাইতেন?

শাহিদা আহসান: ঢাকার খিলগাঁওয়ে আমার দাদাবাড়িতে আমার শৈশব এবং কৈশোর কেটেছে। আমার চাচা, ফুপুরা সবাই এক বাড়িতে থাকতাম তাই খুব আনন্দ মুখর পরিবেশে আমি বড় হয়েছি। খিলগাঁও গালস স্কুল এ পড়াশোনা করেছি। লিডারশীপ এর কাজটা আমি খুব ভালোভাবে করতে পারতাম এবং ভালো লাগতো তাই বড় হয়ে শিক্ষক হতে চাইতাম।

উইমেনআই২৪ ডটকম: সাজগোজের প্রতি কি ছোটবেলা থেকেই টান ছিল?

শাহিদা আহসান: জ্বি। অনেক আকর্ষণ ছিল। বিয়ে, ঈদ কিংবা যেকোনো অনুষ্ঠানে সবাইকে মেহেদি দিয়ে দেওয়া, মেকাআপ করানো , সাজিয়ে দেয়া খুব উৎসাহ নিয়ে করতাম। ভালো হতো তাই সবাই করাতেও চাইতো। কিন্তু এটাই যে ভবিষ্যতে আমার ক্যারিয়ার হবে তা জীবনে কল্পনাও করিনি।

উইমেনআই২৪ ডটকম: সাংসারিক জীবনে কবে প্রবেশ করেছেন?

শাহিদা আহসান: ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে যখন আমি ইডেন কলেজে বি.কম. পড়ার জন্য ভর্তি হই তখন আমার পছন্দের মানুষের সঙ্গে পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুমাসের মধ্যেই আমি সন্তানসম্ভাবা হই। তখন পড়াশোনা একেবারেই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু আমার শাশুড়ির অনুপ্রেরণা এবং আমার স্বামীর কথা ছিল যা কিছুই হোক পড়াশোনা ছাড়া যাবে না। তার সহযোগিতায় পড়াশোনায় আবার মন দিলাম। তারপর প্রথম সন্তান হলো। এভাবে আমার বিকম শেষ হলো তারপর আমার আরো ৩ সন্তান জন্মগ্রহণ করলো। তারপর আমি আর আমার স্বামী একসাথে স্ট্যামফোর্ড থেকে এমবিএ শেষ করলাম।

উইমেনআই২৪ ডটকম: মেকআপ আর্টিস্ট বা ট্রেইনার হিসেবে কাজ শুরু হলো কিভাবে?

শাহিদা আহসান: আমি অনেক আগে থেকে একটা ফেসবুক গালর্স গ্রুপ এ যুক্ত ছিলাম। সেখান থেকেই মূলত শুরু। সেখানে আমি যে মেকআপের কাজগুলো জানতাম সেগুলো লাইভে গিয়ে সবাইকে শিখাতাম। দেখলাম অনেক রেস্পন্স পাচ্ছি এবং অল্পদিনেই আমি অনেক মেকআপ ব্রান্ডের, পোশাকের স্পনসর পেতে থাকলাম। তখন ২০১৫ মাঝামাঝি দিকের সময়, আমি আমার স্বমীর অফিসে বসেই অনেক সময় লাইভে যেতাম। তখন সে আমাকে এটাকে নিয়ে কিভাবে কাজ করা যায় পরামর্শ দিতে থাকলো। তারপর আমরা দুইজন মিলে মেকআপ আর্টিস্ট এ্যান্ড বিউটি ব্লগারস' এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বা ম্যাববাব প্রতিষ্ঠা করলাম যার উদ্দেশ্য হলো মেকআপ আর্টিস্ট ও ব্লগারদের একটি প্লাটফর্মে নিয়ে আসা। ম্যাববাব এসোসিয়েশন এর মাধ্যমে এই কাজে যুক্ত সবাই নিজেদের সমস্যা সমাধান, কাজ, বিভিন্ন পরামর্শ, সহযোগিতা  এবং একটি গাইডলাইনের মধ্যে দিয়ে তাদের কাজ করে। 
মেকআপের একটি নতুন ধারা চলে এসেছে। সেটি হলো ন্যাচারাল বেস্ড মেকআপ। আমি এটির ওপর ৬ টি ইন্টারন্যাশনাল কোর্স করলাম এবং যারা মেকআপের ওপর ছোট ছোট  কোর্স করাতো সেখানে গিয়েও লক্ষ্য করতাম কিভাবে তারা কাজ করে। তারপর ম্যাববাব এর মাধ্যমে আমি আমার ট্রেনিং কোর্স শুরু করি। এভাবেই ২০১৫ থেকে এই পর্যন্ত পথ চলা।

উইমেনআই২৪ ডটকম: এই কাজে আপনার আয় কেমন

শাহিদা আহসান: আলহামদুলিল্লাহ ভালো। এটা সময়ের উপর নির্ভর করে। আমরাতো উদ্যোক্তা। তাই সবসময় এক নয়। 

উইমেনআই২৪ ডটকম: গ্লোবাল বিসনেস অ্যাওয়ার্ড কিভাবে পেলেন? আর পুরস্কার হাতে নেয়ার অনুভূতি কি?

শাহিদা আহসান: ইন্ডিয়াতে গ্লোবাল বিসনেস অ্যাওয়ার্ড প্রতি বছর সফল উদ্যোক্তাদের সম্মানিত করে থাকে। ২০২০ সালে তারা আমাকে বেস্ট মেকআপ ট্রেইনার হিসেবে মনোনিত করেন এবং বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাধুরি দিক্ষিতের হাত থেকে পুরস্কার পাই। 
পুরস্কার হাতে নেয়ার অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ ছিল তাও আবার আমার স্বপ্নের নায়িকা মাধুরি দিক্ষিতের হাত থেকে।

উইমেনআই২৪ ডটকম: আপনার অল্প সময়ে এতো সাফল্য। এর পেছনে কার অবদান সবচেয়ে বেশি।

শাহিদা আহসান: প্রথমে আল্লাহ'তা আলার যিনি আমাকে সম্মানিত ও পরিচিত করেছেন তারপর সবথেকে বড় অবদান আমার স্বামীর। তার উৎসাহ ও ত্যাগে আমি এতোদূর আসতে পেরেছি।

উইমেনআই২৪ ডটকম: নতুনরা যারা এ কাজে আসতে চায় তাদের ভবিষ্যৎ কেমন হবে?

শাহিদা আহসান: দিন যতো যাবে মেকআপ ইন্ড্রাস্ট্রি আরো বড় হবে। আমাদের দেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি লাভ করছে তার সঙ্গে সঙ্গে সাথে ফ্যাশন ইন্ড্রাস্ট্রি এবং মিডিয়া ইন্ড্রাস্ট্রি বাড়ছে, তাই এই মেকআপ সেক্টরও অবশ্যই অনেক অনেক বড় হবে। এই সেক্টরে নতুন নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে। তাই বলা যায় মেকআপ ইন্ড্রাস্ট্রির ভবিষ্যত উজ্জ্বল।

উইমেনআই২৪ ডটকম: আপনি ৩-৫ দিনের ট্রেনিং দিয়ে থেকেন। এটা কী যথেষ্ট একজন মেকআপ আরটিস্ট হওয়ার জন্য?

শাহিদা আহসান: হ্যাঁ। আমার ট্রেনিংগুলোতে বেসিক কোর্স দিয়ে থাকি। কোর্স গুলো সাজানো থাকে এবং ধাপে ধাপে তাদেরকে শিখাই। যতক্ষণ পর্যন্ত একটি বিষয় এর ওপর স্পষ্ট ধারণা না পায় ততক্ষন পরবর্তী ধাপে যাই না। এরপর অনুশীলন একজন শিক্ষার্থীকে দক্ষ করে তোলে।

উইমেনআই২৪ ডটকম: একজন নারী হিসেবে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ক্যারিয়ার নাকি সংসার?

শাহিদা আহসান: অবশ্যই সংসার আগে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেটা নির্ভর করবে অর্থনৈতিক অবস্থানের ওপর। কারো কারো জন্য কাজ করা আবশ্যক ,তাই তাদের ক্ষেত্রে ক্যারিয়ারের গুরুত্ব অনেক বেশি। আর যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো তাদের জন্যও ক্যারিয়ার গুরুত্বপূর্ণ। তবে তার আগে পরিবার বেশি গুরুত্বপূর্ণ কেননা আমরা কাজ শুধু নিজেদের জন্য করি না, পরিবারের লোকের জীবনমান উন্নয়নের জন্য করি।

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ         সংগ্রাম ও সাহসের এক নাম শেখ হাসিনা         প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে টিকা ক্যাম্পেইন শুরু কাল         ডেঙ্গুতে আজও দুই মৃত্যু, শনাক্ত ২১৪         রেলের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে ভারত: রেলমন্ত্রী         শেখ হাসিনার জন্মদিনে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি         ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার         শেখ হাসিনা এক জীবন্ত কিংবদন্তি: তথ্যমন্ত্রী         করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু-শনাক্ত         ইউপি নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিরীহ পারুলকে খুন         নিজ ঘরে মিলল নারী ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ         চোর সন্দেহে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ         জেল থেকে মুক্তি পেল ফিলিস্তিনি নেতা খালিদা জারা         ভারতের উপকূল অতিক্রম করেছে ‘গুলাব’, নামল সংকেত         ১৪ নভেম্বর এসএসসি, ২ ডিসেম্বর এইচএসসি পরীক্ষা         জার্মানির নির্বাচনে হেরে গেল মারকেলের দল         রাজনীতিকে বিদায় জানালেন প্রণবকন্যা শর্মিষ্ঠা         নারী সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ গড়ে আইসল্যান্ডের ইতিহাস         আফগানিস্তানের বন্ধ হচ্ছে নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র         মধ্যরাতে শিশু পুত্রকে গলা কেটে হত্যা করলেন মা         করোনা : সংক্রমণে যুক্তরাজ্য, প্রাণহানিতে শীর্ষে রাশিয়া