সোমবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৮
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

‘সব টিকার গুণগত মানই সমান’

উইমেনআই২৪ প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশে যেসব ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে তার সবগুলোর গুণগতমান সমান বলে দাবি করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য মো. শারফুদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, ‘সংরক্ষণের তারতম্যের কারণেই গ্রামে ফাইজার বা মর্ডানার তৈরি ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে না। এতে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে ‘করোনার ভ্যাকসিন নিশ্চিতকরণ’ নিয়ে ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমানে টিকা প্রদানের রোডম্যাপ অনুযায়ী যেভাবে সরকার অগ্রসর হচ্ছে তাতে ২০২২ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ২৫ বছরের উপরের জনগোষ্ঠীকে টিকা দেয়া সম্ভব হবে বলে উপাচার্য তার বক্তব্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

উপাচার্য আরো বলেন, ‘ইতিমধ্যে চীনের সিনোফার্মের সঙ্গে ইনসেপ্টা ও সরকারের যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি হয়েছে তা বাস্তবায়িত হলে তিন মাসের মধ্যে স্বদেশেই টিকা উৎপাদন শুরু হবে।’

এছাড়া দেশের একমাত্র কোম্পানি হিসেবে গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের উৎপাদিত বঙ্গভ্যাক্স ভ্যাকসিন নিয়েও আশা প্রকাশ করেন উপাচার্য। বলেন, ‘বঙ্গভ্যাক্স বানরের ওপর ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করেছে। অন্যদিকে সুইডেনের সঙ্গে বাংলাদেশের নোজাল ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এগুলো সফল হলে টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।’

এসময় বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, ‘করোনার বিভিন্ন কোম্পানির টিকার মান নিয়ে জনমনে যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে তা যথার্থ নয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে সব টিকার মান প্রায় সমান। শুধু সংরক্ষণের তারতম্যের কারণেই গ্রামে ফাইজার বা মর্ডানা দেয়া হচ্ছে না। এতে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। কাজেই যেখানে যে টিকা নেয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে সেটাই গ্রহণ করা উচিত।’

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘ভ্যাকসিন পেতে দেরি হলে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে কী না তা নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে সঠিক সময়ে টিকা সংগ্রহের মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, এনজিও, শিক্ষক, চিকিৎসকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে অতিদ্রুত টিকা প্রদান করা জরুরি। এজন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সমন্বয় জরুরি। একেকজন একেক কথা বলার কারণে যাতে টিকা নিয়ে জনগণের আস্থা নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান বলেন, ‘শহরে ফাইজার, মর্ডানা ও গ্রামে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া নিয়ে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে তার সুস্পষ্টতা জরুরি। সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে মর্ডানার টিকা সিনোফার্মের টিকার চেয়ে বেশি কার্যকর। মানুষের মধ্যে একটা ধারণা কাজ করছে যে তারা অধিক ভালো টিকা পাচ্ছে না।’

পরে ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে করোনা ভ্যাকসিন নিশ্চিতকরণে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ১০ দফা সুপারিশ প্রদান করেন।

সুপারিশগুলো হচ্ছে-

১. করোনার ভ্যাকসিন প্রদানে একেক সময়ে একেক কথা না বলে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা।

২. দেশের ভাসমান মানুষসহ নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর যাদের জাতীয় পরিচয় পত্র নাই তাদের টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা।

৩. মানসম্পন্ন টিকা দ্রুত প্রাপ্তির জন্য ভূ-রাজনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টিকা উৎপাদনকারী দেশ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা আরো জোরদার করা।

৪. টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করা। একই সঙ্গে টিকাকেন্দ্র বৃদ্ধিসহ কেন্দ্রগুলোতে বুথের সংখ্যা ও সময় বাড়ানো। প্রয়োজনে টিকা প্রদানে এনজিওগুলোকে সম্পৃক্ত করে, ভ্রাম্যমাণ টিকাকেন্দ্র স্থাপন করে টিকা প্রদান করা।

৫. টিকাদান কর্মসূচি সফল করার জন্য জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও সুশীল সমাজকে সম্পৃক্ত করা।

৬. ভ্যাকসিন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল-বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপপ্রচারমূলক স্ট্যাটাস ও ভিডিও না দেওয়া।

৭. প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে টিকা প্রদানের জন্য কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ লাইনের ব্যবস্থা করা।

৮. ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশনের পর ম্যাসেজ পেয়ে সঠিক সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে টিকা নেওয়ার জন্য টিকাকেন্দ্রে যাওয়া।

৯. টিকা উৎপাদনের জন্য সিনোফার্ম ও ইনসেপ্টার সঙ্গে সরকারের যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি হয়েছে তা স্পষ্ট করা।

১০. অভিবাসন খাতের আয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বিদেশগামীদের টিকা প্রদানের অগ্রাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতায় প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি চ্যাম্পিয়ান হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক জান্নাতুল বাকেয়া কেকা, সাংবাদিক রাসেল আহমেদ, সাংবাদিক ফালগুনী রশীদ এবং ডা. সামিউল আউয়াল স্বাক্ষর। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
রাশিয়ার নির্বাচনে ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে পুতিনের দল         বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু কমেছে         নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী         ১৬০ ইউপি ও ৯ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ চলছে         দরিদ্র্রের হার অনেক বেশি হওয়ায় রংপুরে নারী শ্রমজীবী বেশি         ৩ ঘণ্টা পরে রাজধানীর সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের রেল চলাচল স্বাভাবিক         ষাটোর্ধ্ব জনগণকে স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্য ডিজি         নির্বাচনে অতিথি পাখিরা লাল কার্ড পাবে: তথ্য মন্ত্রী         জাপার ভাইস চেয়ারম্যান হলেন শাফিন         দেশে বছরে প্রায় ৬ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে মারা যান : স্বাস্থ্যমন্ত্রী         'সরকার ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে'         নতুন ২৪১ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি, এ পর্যন্ত মৃত্যু ৫৯         অবৈধ ৫৯টি আইপিটিভি বন্ধ করেছে বিটিআরসি         খালেদার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ল         ‘শিক্ষার্থীরা মানলেও অভিভাবকরা স্বাস্থ‌্যবিধি মানছেন না’         ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিক কারাগারে         রাসেল দম্পতির বিরুদ্ধে অর্থআত্মসাতের অভিযোগে আরেক মামলা         ৪০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা আজ         আজ থেকে ৪ ঘণ্টা করে বন্ধ সিএনজি স্টেশন         ইউপি নির্বাচন : বিনা ভোটে আ.লীগের ৪৩ প্রার্থী জয়ী         আফগানিস্তানে শক্তিশালী বিস্ফোরণে নিহত ৭