সোমবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৮
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

তালতলায় চিরশায়িত হলেন ফকির আলমগীর

উইমেনআই২৪ প্রতিবেদক: রাজধানীর খিলগাঁও তালতলার সঙ্গে ফকির আলমগীরের জীবনের অসংখ্য স্মৃতি জড়িয়ে আছে। আর সেখানেই চিরনিন্দ্রায় শায়িত হলেন দেশ বরেণ্য এই গণসংগীতশিল্পী। 

শনিবার বাদ যোহর দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে খিলগাঁও মাটির মসজিদে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এই দাফন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান, ফকির আলমগীরের ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব।

এর আগে সকাল ১১টা ১৬ মিনিটে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের পল্লীমা সংসদ প্রাঙ্গণে ফকির আলমগীরের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর দুপুর পৌনে ১২টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য তার মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

ফকির আলমগীরের জন্ম ১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার কালামৃধা গ্রামে। কালামৃধা হাইস্কুল থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। জগন্নাথ কলেজ (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে তিনি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৬৬ সালে ছাত্র রাজনীতিতে যোগ দেন ফকির আলমগীর। সেই সূত্রেই গণসংগীতে আসা। ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে তিনি ষাটের দশক থেকেই সরব হয়ে ওঠেন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের আগে যেসব বড় আন্দোলন হয়েছিল, সেগুলোতে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিলেন ফকির। তার কণ্ঠ বজ্র হয়ে বেজেছিল আন্দোলনের মিছিলে।

এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধে ফকির আলমগীর যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। কণ্ঠসৈনিক হিসেবে তিনি স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের মনে ছড়িয়ে দেন বিজয়ের স্পৃহা, সাহসের আলো।

দেশ স্বাধীনের পর পূর্ণাঙ্গভাবে সংগীতে মননিবেশ করেন ফকির আলমগীর। নিজেই গড়ে তোলেন ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠী। কেবল গণসংগীত নয়, ফকির আলমগীর স্বাধীন দেশে পপ গানের সঙ্গে লোকজ সুরের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে নিয়মিত গান করতে থাকেন। তার গাওয়া বিখ্যাত গান ‘ও সখিনা গেছস কিনা ভুইল্যা আমারে’ বাংলার প্রতিটি মানুষের কানে বেজেছে। এছাড়া ‘নাম ছিল তার জন হেনরি’, ‘মায়ের একধার দুধের দাম’, ‘নেলসন ম্যান্ডেলা’র মতো গানগুলো উপহার দিয়েছেন।

দেশীয় সংগীতে ফকির আলমগীরের অবদান কতখানি, তা পরিমাপ করা অসম্ভব। তবে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছিল সরকার। ১৯৯৯ সালেই তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল সম্মানজনক একুশে পদক। অবশ্য পুরস্কারের চেয়েও ফকির আলমগীরের বড় প্রাপ্তি ছিল গণমানুষের ভালোবাসা। সংগীতের মাধ্যমে তিনি মানুষকে যতটা আনন্দ দিয়ে গেছেন, যতটা সাহস আর প্রতিবাদ শিখিয়ে গেছেন, তা টিকে থাকবে যুগের পর যুগ। আর গণসংগীতের নায়ক হয়ে ফকির আলমগীর থেকে যাবেন দেশের ইতিহাসের স্বর্ণালী পাতায়।

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
রাশিয়ার নির্বাচনে ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে পুতিনের দল         বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু কমেছে         নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী         ১৬০ ইউপি ও ৯ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ চলছে         দরিদ্র্রের হার অনেক বেশি হওয়ায় রংপুরে নারী শ্রমজীবী বেশি         ৩ ঘণ্টা পরে রাজধানীর সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের রেল চলাচল স্বাভাবিক         ষাটোর্ধ্ব জনগণকে স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হবে: স্বাস্থ্য ডিজি         নির্বাচনে অতিথি পাখিরা লাল কার্ড পাবে: তথ্য মন্ত্রী         জাপার ভাইস চেয়ারম্যান হলেন শাফিন         দেশে বছরে প্রায় ৬ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে মারা যান : স্বাস্থ্যমন্ত্রী         'সরকার ও সাংবাদিকদের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে'         নতুন ২৪১ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি, এ পর্যন্ত মৃত্যু ৫৯         অবৈধ ৫৯টি আইপিটিভি বন্ধ করেছে বিটিআরসি         খালেদার সাজা স্থগিতের মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ল         ‘শিক্ষার্থীরা মানলেও অভিভাবকরা স্বাস্থ‌্যবিধি মানছেন না’         ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিক কারাগারে         রাসেল দম্পতির বিরুদ্ধে অর্থআত্মসাতের অভিযোগে আরেক মামলা         ৪০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা আজ         আজ থেকে ৪ ঘণ্টা করে বন্ধ সিএনজি স্টেশন         ইউপি নির্বাচন : বিনা ভোটে আ.লীগের ৪৩ প্রার্থী জয়ী         আফগানিস্তানে শক্তিশালী বিস্ফোরণে নিহত ৭