বুধবার, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮
২৮ জুলাই ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা

উইমেনআই২৪ প্রতিবেদক: করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা হয়েছে জাতীয় সংসদে। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম, অক্সিজেন সংকটসহ কোভিড চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা নিয়েও মন্ত্রীকে তুলোধুনো করেছেন জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা। তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নির্লজ্জ আখ্যায়িত করে তার পদত্যাগ দাবিও করেছেন।

শনিবার জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনের সমাপনী দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ দাবি করেন তারা। বিএনপির গোলাম মুহম্মদ সিরাজ আলোচনার সূত্রপাত করে বলেন, বগুড়া এখন কোভিডের হটস্পট। গত তিন দিনে সেখানে ২৪ জন মারা গেছেন। সেখানে হাই ফ্লো নজেল ক্যানোলা সংকট। সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেই। জেলার তিনটি কোভিড হাসপাতালে করোনা রোগীতে ঠাসা।

পরে জাতীয় পার্টির ডা. রুস্তম আলী ফরাজী স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘সেদিন সংসদে আমি সার্জিক্যাল মাস্ক কেনা নিয়ে কথা বলেছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেটা তদন্ত করবেন। বিষয়টি দেখবেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বললেন, ‘এটি সত্য নয়’। এজন্য আজকে আমি তথ্য-প্রমাণ নিয়ে এসেছি। সংসদীয় কমিটি বিষয়টি আলোচনা করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। সত্য বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে উনার তদন্ত করা উচিত ছিল। তাই আমার দাবি এ বিষয়ে তদন্ত করতে হবে।’

জাতীয় পার্টির এই সংসদ সদস্য আরো বলেন, ‘করোনা অত্যন্ত মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সব জায়গায় সেনাবাহিনী নামিয়ে এটা প্রতিরোধ করতে হবে। পর্যাপ্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।’

এরপর ফ্লোর নিয়ে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘জিজ্ঞাসা করলেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন সব দিচ্ছি। কিন্তু কোথাও কিছু নেই। এভাবে আমরা একটা বছর সময় নষ্ট করেছি। আমাদের সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দিলে, অর্থ দিলে আমরা সব কিছু ঠিক করে দিতে পারতাম। কিন্তু আমাদের ওপর দায়িত্ব নয়। দায়িত্ব আমলাদের ওপরে। তারা তো দুদিন পরে চলে যায়। জবাবদিহিতা তো তাদের নেই।’

তিনি বলেন, ‘আইসিইউ বেড আছে। কিন্তু প্রশিক্ষিত ডাক্তার নার্স নেই। অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ রোগী অক্সিজেনের অভাবে মারা যাচ্ছেন। বিভিন্ন ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয় কিন্তু কোনো তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আজ পর্যন্ত আমাদের সামনে আসেনি। মানুষের জীবনের কি কোনো দাম নেই? করোনাতো এখন সারা বিশ্বেই রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসায় কি এ ধরনের অনিয়ম মানা যায়?’

কাজী ফিরোজ রশীদ আরো বলেন, ‘সাতক্ষীরায় অক্সিজেনের অভাবে ৭ জন কোভিড রোগী এক ঘণ্টার মধ্যে ছটফট করতে করতে মারা গেছেন। আগের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হকের বাড়ি সেখানে। সেখানকার হাসপাতালটি ফাইভ স্টার মানের হওয়া উচিত ছিল। মন্ত্রীরা যান, মন্ত্রী আসেন। কিন্তু নিজের এলাকাটাও ঠিক রাখতে পারেন না।’

এ পর্যায়ে ফ্লোর নিয়ে জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বললেন এক বছরে নাকি অনেক কাজ করেছেন। আজকের খবর আসছে বাংলাদেশের ৩৭টি জেলায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালে ৫ জন রোগী অক্সিজেন পায় তো ২০ জন লাইনে থাকে। কেবলমাত্র অক্সিজেনের কারণে যারা ছটফট করে মারা যাচ্ছেন। পত্রিকায় এত লেখালেখি হচ্ছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি একটি হাসপাতালে গিয়ে এগুলো দেখেছেন। তিনি কী করেন! তিনি জুম মিটিং করেন।’

কোভিড চিকিৎসার সময় নিউজিল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়ার কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন উল্লেখ করে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আনন্দে আত্মহারা হয়ে একটি কিস (চুমু) করার কারণে তাকে রিজাইন দিতে হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী মানুষ! বুঝলাম না। উনার লজ্জা শরম কিছু নেই। উনার রিজাইন দেওয়া উচিত।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, ‘উনি বলেছেন- হাসপাতালের চেয়ার, মেশিন চলে না, লোক লাগবে এগুলো তো আপনাদেরকে দেখতে হবে। কিন্তু আপনারা তো দেখেন না। নার্স, ডাক্তার যন্ত্রপাতি লাগলে আপনাদেরকে বলতে হবে। অভিযোগ দিলে তো হবে না। এগুলোর ব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু আপনাদের বলতে হবে। চেয়ারম্যান হিসেবে এগুলো দেখার দায়িত্ব আপনাদের ওপর বর্তায়। ওনার বক্তব্যে মনে হচ্ছে কোনো এমপিই দায়িত্ব পালন করেন না। অথচ আমি হাসপাতালের চিকিৎসকসহ লোকবল নিয়োগের জন্য উনার দপ্তরে গিয়েছি। এই বক্তব্য আপত্তিজনক। স্বাস্থ্যমন্ত্রী গোটা হাউসকে অপমান করেছেন। তার বক্তব্য এক্সপাঞ্জ হওয়া দরকার।’

করোনা পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যেভাবে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাতে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে এটা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।’

হারুনুর রশীদ আরো বলেন, ‘ক্ষুধা দারিদ্রের কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে। সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। সামনে ঈদুল আজহা। এজন্য গরিব মানুষের জন্য দ্রুত খাদ্য দেওয়ার দাবি করছি। কোরবানির পশু পরিবহণ ও কেনাবেচায় শিগগিরই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি করতে হবে। না হলে এটা নিয়েও সংকট তৈরি হবে।’

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
‘শুধু একটু মুখ ফুটে বলতে হবে’         ‘পরীক্ষা করান, টিকা নিন’         রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বিরুদ্ধে ফরাসি আইনজীবীর লিগ্যাল নোটিশ         আইভীর বাড়িতে শামীম ওসমান         সালিশি বৈঠকে চেয়ারম্যানের ওপর অতর্কিত হামলা         গ্রহবধূ এবং স্কুলছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ         ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৫৮ জনের মৃত্যু         'অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত'         ঘর পরিষ্কার করুন নিয়ম মেনে         জিন্স পরায় পিটুনি খেয়ে প্রাণ হারালেন কিশোরী         পাহাড় ধসে ৬ রোহিঙ্গার প্রাণহানি         ‘ভালো কাজে পুরস্কার, খারাপ কাজে শাস্তি’         বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু         সব মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়ল         এবার বাংলা টিভি চ্যানেলে সানি লিওন’র কোমড় দোলা         মহারাষ্ট্রে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ১৯২         কূটনীতিক রেজিনা আহমেদের ক্যারিয়ারের গল্প         ‘লিবিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে ৫৭ অভিবাসীর মৃত্যু’         ঋতাভরীর বিয়ে আগামী বছর, বন্ধু হবেন বর