মঙ্গলবার, ১২ আশ্বিন ১৪২৮
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

‘মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি শক্তিকে একত্রিত করেছিলেন জাহানারা ইমাম’

নাফিসা আনজুম: আজ ২৬ জুন। সাহসী জননী জাহানারা ইমামের ২৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি আজ আমাদের মাঝে উপস্থিত না থাকলেও তার সমাজসচেতনতার কাজগুলো সবার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে রয়ে গেছে। তার অবদান এবং ত্যাগের মহিমা সকলকে আন্দােলিত করে।

জাহানারা ইমাম তরুণ প্রজন্ম এবং বয়স্কদের কাছে ‘শহীদ জননী’ হিসেবে খ্যাতিমান। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ শিক্ষিকা, লেখিকা এবং রাজনৈতিক কর্মী। তিনি ১৯২৯ সালের ৩ মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৮ সালের ৯ আগস্ট তিনি শরিফুল আলম ইমাম আহমেদ নামক একজন প্রকৌশলীকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্বামীসহ তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং সেখানে তিনি সিদ্ধেশ্বরী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান অধ্যাপিকা হিসেবে যোগদান করেন। তিনি “খাওয়াতীন’ নামক মাসিক মহিলা ম্যাগাজিনের প্রথম সম্পাদক ছিলেন। তিনি খাওয়াতীন এর প্রথম প্রকাশনা শুরু করেন ১৯৫২ সালে। জাহানারা ইমাম বেশ কয়েক বছর ম্যাগাজিনটি সফলতার সঙ্গে চালিয়ে যান। দুই ছেলে রুমি এবং জামির লালনপালনের দিকে মনোনিবেশের জন্য ১৯৬০ সালে অধ্যাপিকার চাকরি পরিত্যাগ করেন জাহানার ইমাম। সেই সময় নিজের মনোবলকে শক্ত করার জন্য তিনি বলেছিলেন, “ আমি হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষার আলো আনতে সক্ষম হয়েছি, এই মূহুর্তে আমার একমাত্র করনীয় আমার সন্তানদের লালনপালনের পিছনে সময় অতিবাহিত করা”।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালো রাতের পর অনেক যুবক মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেছিলেন, এদের মধ্যে তার ছেলে রুমিও একজন। মা হিসেবে জাহানারা ইমাম প্রায় সময় তার ছেলের সুরক্ষা এবং সুস্থভাবে ফিরে আসার কামনা করতেন যে কারণে অধিকাংশ সময় তিনি উদ্বিগ্ন থাকতেন। রুমি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বহু পদক্ষেপে অংশ নিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্যক্রমে, তাকে পাক-হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রুমি যুদ্ধ থেকে আর বাড়ি ফিরেননি। জাহানারার স্বামী এবং তার ছোট ছেলে জামির সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য পুরুষ সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং নির্যাতন করা হয়েছিল। তার স্বামী বাড়ি ফিরে আসেন ঠিকই কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক তিন দিন আগে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে (হৃদরোগ) মারা যান।

একাত্তরে বাঙ্গালীর স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সঙ্গে তিনি একাত্মতা প্রকাশ করেন। মুক্তিযুদ্ধে চরম মৃত্যু এবং দুঃস্বপ্নভরা বিভীষিকার মধ্যে জাহানারা ইমামের ত্যাগ দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ উদাহরণ হয়ে আছে। সন্তান বিয়োগের এই যাতনা মূর্ত হয়েছে জাহানারা ইমামকে কেন্দ্র করে এবং শহীদ রুমির মাতা পরিণত হয় শহীদ জননীতে।

জাহানারা ইমাম নারী বা পুরুষের মধ্যে প্রথম কেউ একজন যিনি মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক প্রতিটি শক্তিকে একক ছত্রছায়ায় একত্রিত করেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার দাবি উত্থাপন করেন এবং ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি তার নেতৃত্বে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠন করা হয় যার আহ্বায়ক হিসেবে তাকে নির্বাচিত করা হয়। জাহানারা ইমাম দিন-রাত পরিশ্রম করে শত শত লোককে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তার প্রচেষ্টার ফলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধগুলিতে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলের সমর্থন পাওয়া যায়। জামায়াত ইসলামীর ধারাবাহিক প্রচার তার অদম্য চেতনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার একবিংশতম বার্ষিকীতে (২৬ মার্চ, ১৯৯২) একটি গণ আদালত স্থাপন করেছিল ঘাতকদের বিচারের দাবিতে। এটি ছিল গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রতীকী বিচার। জাহানারা ইমাম মুক্তির চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

১৯৮৬ সালে তার যুদ্ধকালীন লেখা ডায়েরি “একাত্তরের দিনগুলি’ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ‘শহীদ জননী’ নামটি ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ। ১৯৮১ সালে তিনি মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তাকে বড় ধরনের অপারেশন করাতে হয়েছিল। তিনি অনুধাবন করলেন তার মহাকালে চলে যাওয়ার দিন ঘনিয়ে এসেছে। তাই তিনি যুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া ছেলে রুমিকে নিয়ে লিখতে চেয়েছিলেন। শুরু করেন ‘একাত্তরের দিনগুলি’ লেখা। লেখার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ক্যান্সারও দিনে দিনে তাকে দুর্বল করে ফেলে। একাত্তরের দিনগুলি প্রকাশিত হলে তা পুরো দেশের মানুষের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি তার সাহিত্যকৃতির জন্য ১৯৯০ সালে বাংলা একাডেমি পু্রস্কার পান। তার অন্যতম গ্রন্থসমূহ হচ্ছে সাতটি- তারার ঝিকিমিক, ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস, প্রবাসের দিনগুলি, অন্য জীবন ইত্যাদি। জাহানারা ইমাম আমেরিকার মিশিগানে মৃত্যুবরণ করেন।

 

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন আজ         সংগ্রাম ও সাহসের এক নাম শেখ হাসিনা         প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে টিকা ক্যাম্পেইন শুরু কাল         ডেঙ্গুতে আজও দুই মৃত্যু, শনাক্ত ২১৪         রেলের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখছে ভারত: রেলমন্ত্রী         শেখ হাসিনার জন্মদিনে আওয়ামী লীগের কর্মসূচি         ঢাবির সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার         শেখ হাসিনা এক জীবন্ত কিংবদন্তি: তথ্যমন্ত্রী         করোনাভাইরাসে ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে মৃত্যু-শনাক্ত         ইউপি নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিরীহ পারুলকে খুন         নিজ ঘরে মিলল নারী ব্যাংক কর্মকর্তার লাশ         চোর সন্দেহে নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ         জেল থেকে মুক্তি পেল ফিলিস্তিনি নেতা খালিদা জারা         ভারতের উপকূল অতিক্রম করেছে ‘গুলাব’, নামল সংকেত         ১৪ নভেম্বর এসএসসি, ২ ডিসেম্বর এইচএসসি পরীক্ষা         জার্মানির নির্বাচনে হেরে গেল মারকেলের দল         রাজনীতিকে বিদায় জানালেন প্রণবকন্যা শর্মিষ্ঠা         নারী সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ গড়ে আইসল্যান্ডের ইতিহাস         আফগানিস্তানের বন্ধ হচ্ছে নারীদের ড্রাইভিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র         মধ্যরাতে শিশু পুত্রকে গলা কেটে হত্যা করলেন মা         করোনা : সংক্রমণে যুক্তরাজ্য, প্রাণহানিতে শীর্ষে রাশিয়া