বুধবার, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮
২৮ জুলাই ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

'ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে কোনোভাবেই কাম্য নয়'

উইমেনআই২৪ প্রতিবেদক: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের আয়োজনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ জুন) ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ প্রতিরোধে করণীয়’ প্রতিপাদ্যে ওয়েবিনারে এ সভা হয়।

এতে বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম, সাবেক জেলা জজ জেসমিন আরা বেগম, মানবাধিকার কমিশনের বিশেষজ্ঞ আবুল হোসেন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেন প্রমুখ ।

নাছিমা বেগম বলেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে কোনোভাবেই কাম্য নয়, কিন্তু এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভালোবাসার সম্পর্ক থাকার পর প্রতারণা বা অন্য কোনো কারণে মামলার পর আপস করা হয়। আসামি জামিনে বের হলে আদালত প্রাঙ্গণেই বিয়ের ঘটনা ঘটে। বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার আলামত পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। মামলাটিও শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করা যায় না, যা খুবই করুণ।’

এ সময় নাছিমা বেগম জানান, প্রচলিত আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞা পরিবর্তন, বিচারের দীর্ঘসূত্রতার পেছনের কারণগুলোও কমিশনের পক্ষ থেকে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মানবাধিকার কমিশনের জাতীয় ইনকোয়ারি কমিটির আহ্বায়ক জেসমিন আরা বেগম বলেন, ‘ছেলে শিশুরাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। তাদের বিষয়টিও নজরে আনতে হবে। বিবাহিত নারী ও যৌনকর্মীসহ যে কেউ ধর্ষণের শিকার হতে পারেন। স্বামীর মাধ্যমেও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি ধর্ষণের ঘটনায় মিথ্যা মামলা হচ্ছে, সেসব মিথ্যা মামলার বাদীদেরকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

নিজের ৩১ বছরের বিচারকজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার আদালতে দেখেছি এবং আট বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময়েও প্রায় সবার মতামত হচ্ছে, ধর্ষণের ৮০ শতাংশই ঘটছে প্রেমসহ অন্যান্য কারণে। আর এই ঘটনাগুলোতে একসময় সব সাক্ষী পাওয়া গেলেও ভিকটিম আর সাক্ষ্য দিতে আসেন না। মামলা আপস করে ফেলেন। আইন অনুযায়ী, ভিকটিমকেই বিচার চাইতে হয়।’

জাতীয় ইনকোয়ারি কমিটির সার্বিক দিক তুলে ধরেন মানবাধিকার কমিশনের বিশেষজ্ঞ আবুল হোসেন জানান, জাতীয় ইনকোয়ারি কমিটি পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের কারণ, ধরন, চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করার পাশাপাশি তা মোকাবিলা বা সমস্যা সমাধানেরও সুপারিশ দেওয়া হবে। আইন বা নীতিতে কোনো পরিবর্তন, সংশোধনের প্রয়োজন হলে তা–ও দেখবে এ কমিটি। প্রসঙ্গত, আবুল হোসেন এর আগে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টি সেক্টরাল কার্যক্রমের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেন বলেন, ‘ধর্ষণসহ নারী নির্যাতন একটি সামাজিক সমস্যা। এ থেকে উত্তরণে সম্মিলিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এই কাজে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা নারী ও শিশু অধিকারবিষয়ক বিভিন্ন সুপারিশ দেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নও রাখেন। মানবাধিকার কর্মীরা সেসব প্রশ্নের জবাব দেন।

---হামিদা ইলা

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
‘শুধু একটু মুখ ফুটে বলতে হবে’         ‘পরীক্ষা করান, টিকা নিন’         রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের বিরুদ্ধে ফরাসি আইনজীবীর লিগ্যাল নোটিশ         আইভীর বাড়িতে শামীম ওসমান         সালিশি বৈঠকে চেয়ারম্যানের ওপর অতর্কিত হামলা         গ্রহবধূ এবং স্কুলছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ         ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৫৮ জনের মৃত্যু         'অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত'         ঘর পরিষ্কার করুন নিয়ম মেনে         জিন্স পরায় পিটুনি খেয়ে প্রাণ হারালেন কিশোরী         পাহাড় ধসে ৬ রোহিঙ্গার প্রাণহানি         ‘ভালো কাজে পুরস্কার, খারাপ কাজে শাস্তি’         বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু         সব মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়ল         এবার বাংলা টিভি চ্যানেলে সানি লিওন’র কোমড় দোলা         মহারাষ্ট্রে বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ১৯২         কূটনীতিক রেজিনা আহমেদের ক্যারিয়ারের গল্প         ‘লিবিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে ৫৭ অভিবাসীর মৃত্যু’         ঋতাভরীর বিয়ে আগামী বছর, বন্ধু হবেন বর