রবিবার, ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮
০১ আগস্ট ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

‘নারী কাউন্সিলরের ক্ষেত্রে ‘সংরক্ষিত’ কথাটি বাদ দিতে হবে’

উইমেনআই২৪ প্রতিবেদক: বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ‘শক্তিশালী ঢাকা সিটি কর্পোরেশন: নারী কাউন্সিলরদের ভূমিকা’ বিষয়ক অনলাইন  মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত এ সভায় সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম  সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র (উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা) আতিকুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেব ছিলেন সায়লা ফারজানা, যুগ্মসচিব ( নগর উন্নয়ন-২ অধিশাখা), স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলরগণ। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু।

স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক, সমতাপূর্ণ, অসাম্প্রদায়িক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে এবং নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে একটা অনুকূল সামাজিক, রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গণতন্ত্র, সুশাসন, উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়ন এগুলো অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত এবং গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সরকার এখানে অন্যতম সহায়ক হিসেবে কাজ করে।’

তিনি আরো বলেন, ‘মহানগর একটি প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী নগর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ যা বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার আন্দোলনের সূতিকাগার। এই নগরীতে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে প্রায় ২ কোটি মানুষের বসবাস। এই নাগরিকদের সকল পরিষেবা দেয়ার দায়িত্ব, রাষ্ট্রীয় নীতিমালার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তাদের প্রাপ্য সকল সুবিধা দেয়ার দায়িত্ব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মেয়র এবং কাউন্সিলর আছেন তাদের, তাদের এই দায়িত্ব যদি তারা পালন করতে চান তাহলে তাদের ব্যক্তিগত সদিচ্ছা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক  সক্ষমতা এবং দূরদৃষ্টি অত্যন্ত প্রয়োজন। যেকোনো স্থানীয় সরকার যদি সঠিকভাবে কাজ করতে চায় তাকে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নিজস্ব পরিকল্পনায় অবশ্যই স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকাকে নারীর জন্য বসবাসযোগ্য নগরী  হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এবং নারী কাউন্সিলরদের ভূমিকা বৃদ্ধি করতে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালন করতে হবে, জবাবদিহিতা থাকতে হবে। সনাতনী পদ্ধতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে, অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে এখন সমস্যা সমাধানে সকলকে কাজ করতে হবে, কাজে জবাবদিহিতা থাকতে হবে, শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে, পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম করতে হবে।’ এসময় তিনি ঢাকাকে নারীর জন্য বসবাসযোগ্য নগরী  হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারণা চালানোর জন্য মহিলা পরিষদকে সিটি কর্পোরেশনের সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব ( নগর উন্নয়ন-২ অধিশাখা) সায়লা ফারজানা বলেন, ‘সরকারকে নানা ধরনের টার্গেট বাস্তবায়নে কাজ করতে হয়, তার মধ্যে নারীর উন্নয়নের জন্য নানামুখী কাজ করতে হয়। নারী কাউন্সিলরদের ভূমিকা বৃদ্ধি করতে হলে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে, তাদের পেছনে রেখে এই টার্গেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। নারী কাউন্সিলরদের নিজ অধিকার, দায়িত্ব  ও কর্তব্য সম্পর্কে আরো সচেতন হতে হবে, গুণগত পরিববর্তনে গুরুত্ব দিতে হবে।’

মত-বিনিময় সভায় উপস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলরদের মধ্যে সাথী আক্তার, জাকিয়া, শিখা, কাসেম মোল্লা ও হাসিনা বারী বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তারা বলেন, আইনি বাধার কারণে জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। নারী কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে বলা ‘সংরক্ষিত’ কথাটি বাদ দিতে হবে। নারী কাউন্সিররা ৩টি ওয়ার্ডের দায়িত্ব পেলে কেন তারা সমানভাবে কাজ করতে পারবেন না! বরাদ্দের ক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য ৮০% ও  নারীদের জন্য ২০% দেয়া হয়, এর ব্যবধানের কথা গেজেটে কোথাও বলা নেই। এখানে সমানভাবে সেবা প্রদানের সুযোগ দিতে হবে তবে নারী-পুরুষ উভয়ই উপকৃত হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহসভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত আন্দোলন সম্পাদক রেখা চৌধুরী। তিনি বলেন, জাতিসংঘের বসতি সংক্রান্ত উপাত্তের ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর এই ঢাকা। বর্তমানে ঢাকা শহরে বিভিন্ন শ্রেণী- পেশা, নারী- পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ, ধনী, মধ্যবিত্ত, দরিদ্র, প্রান্তিক, প্রতিবন্ধী, ভাসমান মানুষের বাস। সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবা দানের পরিধিও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা,অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে এই বিপুল জনসংখ্যা নানা দুর্ভোগ নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করে।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের  সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘শক্তিশালী ঢাকা সিটি কোন বাস্তবতায় হচ্ছে সেটি দেখতে হবে। আমাদের সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, কাজ করার সুযোগ ও  স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাসের সুযোগ সম্পন্ন ঢাকা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি নারী কাউন্সিলরদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণী এবং ইনফরমাল সেক্টরে কর্মরত নারীদের জন্য কাজ করতে হবে। যারা প্রশাসনে ক্ষমতায় আছেন তাদের জন্য আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে, ডিজিটাল অ্যাপের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এ্যডভোকেসি ও লবি পরিচালক জনা গোস্বামী ।

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
‘জাতির পিতার রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে’         জার্মানীর ‘গ্যালারী অনিল অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন নিলীমা সরকার         প্রেমিকের ‘আত্মহত্যা ঠেকাতে’ রুদ্ধশ্বাস অভিযান         প্রতারণার অভিযোগে নারী চিকিৎসক গ্রেফতার         ৪১তম বিসিএস প্রিলির ফল প্রকাশ         ট্রাক উল্টে খাদে, প্রাণহানি ৬         রাত পর্যন্ত চলবে গণপরিবহন         শোকের মাস শুরু         শিমুলিয়ায় যাত্রী পারাপারে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত         চিত্রনায়িকা একা আটক         শ্রমিকদের ফেরাতে গণপরিবহণ চালু         এইচএসসির ফরম পূরণের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ         ‘নারী সমাজ অনেক এগিয়েছে’         ‘লোকজ সংস্কৃতি দেশের অতি মূল্যবান সম্পদ’         ২৪ ঘণ্টায় আরো ২১৮ জনের মৃত্যু         টিকা প্রদানে অন্তঃসত্ত্বাকে অগ্রাধিকার দিতে হাইকোর্টে রিট         ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত         যেভাবে বুঝবেন আপনার মুঠোফোন নজরদারিতে         জাপানের দেওয়া টিকার দ্বিতীয় চালান পৌঁছেছে         গৃহবধূকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ         স্পেনের রাস্তায় মানসিক ভারসাম্যহীন বহু বাংলাদেশি