বৃহস্পতিবার, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮
০৫ আগস্ট ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

মায়েদের সহায়তায় ‘দি মাদারলোড’ গ্রুপ যেভাবে টিকে আছে

হামিদা ইলা: বার্কশায়ারে মায়েদেরকে লক্ষ্য করে তৈরি করা একটি ফেসবুক গ্রুপ শত প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে এখনো চালু রয়েছে। ‘দি মাদারলোড' নামের এই গ্রুপটি মূলত মায়েদের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো সমাধানে খোলামেলা আলোচনায় জ্ঞান আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। গ্রুপটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১০ লক্ষ সাত হাজার।  

বার্কশায়ারের কেট ডাইসন নামে এক নারী গ্রুপটি তৈরি করেছেন। প্রসব পরবর্তী অবসাদে থাকাকালীন তৈরি এই গ্রুপটি তাকে মানসিক সমস্যা থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করেছে। গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে নানামুখী বিষয়াদি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে ডাইসনের বেশ ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু করোনা মহামারী শুরুর পর থেকেই গ্রুপের ইনবক্সে আপত্তিকর বার্তার বন্যা বইতে শুরু করে। যা তার সংসার জীবনেও প্রভাব ফেলছিল। যে কারণে কেট গ্রুপটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরে তিনি এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

সব সমস্যা মোকাবিলা করে কীভাবে মায়েদের সহায়তার লক্ষ্যে তৈরি গ্রুপটি খোলা রাখার সিদ্ধান্তে অটল থাকলেন সে ব্যাপারে বিবিসিকে বিস্তারিত জানালেন কেট ডাইসন।

কেট ডাইসন বলেন, ‘প্রথম লকডাউন শুরুর আগে সকলেই 'দি মাদারলোড'—এর আচরণবিধিগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল। সকলেই মাতৃত্বকালীন সমস্যাগুলো নিয়ে নির্দ্বিধায় কথা বলতেন।’

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন এই গ্রুপে প্রায় ৮০০ এর অধিক পোস্ট অনুমোদনের জন্য জন্য পেন্ডিং থাকতো। এমনকি একটা সময়ে ব্যক্তিগত গ্রুপে কেট এবং তার সহযোগীরা ১০০ এর অধিক ব্যক্তিগত মেসেজও পেত। বার্কশায়ারে বসবাসরত তিন সন্তানের জননী অ্যামি উডাল তাদের মধ্যে একজন যারা এই গ্রুপের খোলামেলা এবং সৎ আলোচনার প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেন, এই গ্রুপটিতে মেয়েরা সকলপ্রকার কঠিন বাস্তব এবং না বলা কথাগুলো পোস্ট করে থাকেন যা  নিজেদের ফেসবুক পেজে লজ্জায় পোস্ট করেননা। কেননা সন্তানের লালন-পালনের ক্ষেত্রে এমন কিছু ভুল থাকে যেগুলো মানুষ জানলে নেতিবাচক হিসেবে দেখবে বা পোস্টকারীকে মা হওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচনা করবে। উদাহরণস্বরূপ, গ্রুপটিতে অনেক ‘মা’ স্বীকার করেছেন যে, অনেক সময় তারা সময়সীমার চেয়ে বেশি দিন সন্তানদের ঔষধ সেবন করিয়েছেন যা বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক ছিল। বিষয়টি নিজেদের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হলে আত্মীয় স্বজনেরা বা পরিচিত লোকেরা অনেক খারাপভাবে দেখতেন। আর এই গ্রুপটি না থাকলে এগুলো না বলা কথা হিসেবেই রয়ে যেতো এবং ভুল থেকে শিখতে পারার কোনো পথই থাকতো না। এই গ্রুপটি সেই পথ তৈরি করে দিয়েছে।

এই ধরনের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া শুনে কেট তার খুশি ধরে রাখতে পারতেননা। কেট বলেন, ‘এই গ্রুপটিতে এমন অনেক সদস্য ও রয়েছে যারা গর্ভকালীন অবস্থায় যোগদান করেছে এবং এখন তাদের সন্তানরা স্কুলে পড়ছে।’

গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা এভাবেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। যখন গ্রুপের পরিধি বেড়ে যায় তখনই শুরু হয় জটিলতা। কিছু ক্ষুদ্র ফেসবুক গ্রুপ কেটের পোস্টগুলোর স্ক্রীনশট নিয়ে আপত্তিকর ক্যাপশন লিখে নিজদের গ্রুপে পোস্ট করতে শুরু করে। 'ট্যাটল লাইফ'—এর মত গসিপ ফোরামগুলোতে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হতে থাকে। ওইসব অজ্ঞাত এবং অপরিচিত লোকদের সমালোচনার মুখে তিনি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে নিজেকে একজন অযোগ্য মা হিসেবে অনুভব করতে থাকেন।

এ সব সমস্যা মারাত্মক রূপ ধারণ করে করোনা মহামারী শুরুর পর থাকে। আপত্তিকর ব্যক্তিগত মেসেজ ভরে যেতে শুরু করে ইনবক্স। যা ইচ্ছে তাই পোস্ট করতে শুরু করে লোকেরা। ওইসব পোস্ট অনুমোদন করা না হলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি আসতে থাকে। আপত্তিকর পোস্ট সরিয়ে ফেলা হলে পোস্টকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ শুরু করেন।

তারা অনেকেই বুঝতে অনাগ্রহী যে সব পোস্ট অনুমোদন করা সম্ভব নয়। এমন অনেক পোস্টই পাঠানো হয় যেগুলো গ্রুপ গাইডলাইন মানা হয়নি বা ইতিমধ্যে সেসব পোস্ট আগে করা হয়েছে। ব্যাপারটি অনেক মা-ই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে না। তারা বিষয়গুলো ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে নেয় এবং ইনবক্স ও ইমেইল এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর বার্তা পাঠাতে থাকে। যদিও খুব কম সংখ্যক সদস্য এ ধরনের আচরণ করে থাকে তবুও এমন আচরণ গ্রুপে অনেক বড় প্রভাব ফেলে।

বছরের শুরুর দিকে গ্রুপে একটি পোস্ট অনুমোদন করাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বাজে অবস্থার সূচনা হয়। পোস্টটি ছিল এরকম মায়েদেরকে বাচ্চাকে কাঁদতে দিতে বলা হয় এবং সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনার জন্য বলা হয়। যা ছিল বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর সহায়তাদানে প্রশিক্ষণের একটি কৌশল। যাকে ‘ফেরবার’ পদ্ধতি বলা হয়।

কেট জানতেন যে বিষয়টিতে উত্তপ্ত বিতর্ক সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে; যে কারণে কড়া নজরদারি রাখা হয়েছিল পোস্টটির উপর। কেননা কোনো কিছু না ভেবে কমেন্ট বক্সে মানুষের মনে যা আসে তারা তাই লিখে দেয়।

যে পোস্টটি করেছে সে অবশ্যই ভালো—মন্দ দুই ধরনের মতামত জানার জন্যেই পোস্টটি করেছে। কিন্তু অনেকেই মন্দ কথা গ্রহণ করতে পারেনা। ওই পোস্টদাতা তারই একজন। তিনি কমেন্টকারীদের অকথ্য ভাষায় রিপ্লাই দিতে শুরু করে এতে বিষয়টি আরো নোংরা হয়ে যায়, যে কারণে কেট পোস্টটি পেজ থেকে সরিয়ে দেয়।

পোস্টটি সরিয়ে দেয়ার কারণে পোস্টদাতা প্রচণ্ড পরিমাণে রেগে যায় এবং যা ইচ্ছে তা-ই ব্যক্তিগত মেসেজ পাঠাতে থাকে। কেটের দুই শিশুসন্তান মাত্র স্কুল থেকে ফিরেছে এমনই সময় প্রথম মেসেজটি আসে।  দুইজনই কেটকে তাদের স্কুল কীভাবে কেটেছে তা জানাচ্ছিল আর কেট তাদের কথা শুনছিলেন, তাদের জন্যে খাবার বানাচ্ছিল এবং ফোনে ওসব নোংরা মেসেজগুলো পড়ছিলেন। একসময় কেট এতটাই রাগান্বিত হন যে রাগ ঝাড়তে তিনি মেয়েদের উপর চিৎকার করে উঠেন যাতে তারা কথা বলা বন্ধ করে। এটা শুধু একবারই নয়। এমন ঘটনা এরপর থেকে বেশ কয়েকবারই হয়েছে যখন কেট অবিরত এসব মেসেজ পেয়েই যাচ্ছিলেন।

যে কারণে পরবর্তীতে কেট ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, ‘'দি মাদারলোড' এমন একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে যা আমাকে বেশিরভাগ সময়েই উদ্বিগ্ন করে তোলে, যেখানে আমি মেসেজগুলো খুলতেই ঘাবড়ে যাচ্ছি। কারণ ৯৯ ভাগ সময়েই আমি ঘৃণিত বক্তব্য পড়ছি এবং এতে আমার রাগ বেড়েই চলেছে। যখন কেউ আমাকে মেসেজ করে আমি কোনো কাস্টমার সার্ভিস ইউনিটে থাকিনা; আমি সন্তানদের সঙ্গে বাসায় সোফায় বসে মেসেজগুলো পড়ি, এর মানে আপনারা সরাসরি আমার ব্যাক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি জানি মহামারীর সব আতঙ্ক এবং ভয়াবহতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পিতামাতার মানসিক স্বাস্থ্য অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং আমি যে আচরণটি দেখছি তার একটি বড় অংশ এই মহামারীর প্রভাবেই সৃষ্ট। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আমিও এই মহামারীর মধ্যে থেকে বেঁচে থাকা একজন মা এবং আমার মডারেটররাও তাই। সুতরাং, আমাদের কথাও একটু ভেবে দেখবেন যে আমরা কীভাবে এসবের সঙ্গে মানাচ্ছি।’

এসব কথা বলে তিনি লাইভ শেষ করে নিজের জীবনসঙ্গীর সঙ্গে এক লম্বা আলোচনায় বসেন এবং গ্রুপটি বন্ধ করা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেন। তবে আগের থেকে আরো বেশি নিয়ম কানুন বাড়িয়ে দেয়া হয় গ্রুপটিতে।

গ্রুপটি বন্ধ না করার আরেকটি বিশেষ কারণ হচ্ছে, কেট যখন গর্ভকালীন মানসিক সমস্যাগুলোতে ভুগছিলেন তখন গির্জাতে এক দয়ালু নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয় যিনি এমন একটি গ্রুপ বাস্তবে পরিচালনা করেন। প্রতিবার মায়েরা গির্জায় প্রবেশের সময় তিনি আলতো করে তাদের পিঠে হাত বুলিয়ে মিষ্টি এক হাসির সঙ্গে তাদের সাদরে গ্রহণ করতেন। তার এই সুন্দর হাসি এবং সুন্দর কাজই কেটকে অনুপ্রাণিত করেছিল 'দি মাদারলোড' গ্রুপটি বন্ধ না করার জন্য।

আর এভাবেই শত প্রতিকূলতার মধ্যেও গ্রুপটি বন্ধ হতে হতেও চালু রয়েছে। গ্রুপটির মাধ্যমে অসহায় মায়েদের সহায়তার লক্ষ্যে কেট এখনো লড়াই করে চলেছেন। বিবিসি

শীর্ষ সংবাদ:
‘পরীমনির বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে’         ‘৬৯৭ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার’         এডহক বার কাউন্সিল গঠন করেছে সরকার         ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়া যুক্ত ছিলেন’         সিরিজ জয়ে এগিয়ে গেলো বাংলাদেশ         মাদকসহ পরীমনি আটক         ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৪১ জনের মৃত্যু         পরীমনির বাসায় অভিযান চলছে         টিকা দেওয়া নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহার         ফিফার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এক বছর নিষিদ্ধ         রূপগঞ্জে আগুন: ২৪ জনের লাশ বুঝে পেল পরিবার         কানাডায় অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলা         টিকা ছাড়া বের হওয়া প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের বক্তব্য         বিশ্ব রেকর্ড গুঁড়িয়ে ম্যাকলাফলিনের সোনা জয়         টোকিও অলিম্পিকসে ব্রিটিশ কিশোরীর ইতিহাস         ঢাকায় আসছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দল         বজ্রপাতে ১৬ বরযাত্রীর প্রাণহানি         বঙ্গবন্ধুকে দাফনের আগেই তারা হয়ে যান খুনী মোশতাকের!         ঝুমন দাশের মুক্তির দাবিতে ছাত্রজনতার প্রতিবাদ সমাবেশ         পীরগঞ্জে করোনা প্রতিরোধক বুথ উদ্বোধন