বুধবার, ৯ আষাঢ় ১৪২৮
২৩ জুন ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

দ্য জার্নি অফ এ সিঙ্গেল প্যারেন্ট

নসিমন নাহার: পনেরো মাস স্কুল দেখে না। যে মানুষটার স্কুলের সাথে সখ্যতা তিন বছর সাত মাস বয়স থেকে তার জন্য বিষয়টা খুব কঠিন। স্কুল তার কাছে শুধু তো লেখাপড়া শেখার জায়গা না, স্কুল তার কাছে নিরাপদ আশ্রয়ও।

মা তখন ইনডোর মেডিকেল অফিসার হিসেবে জব করে নারায়ণগঞ্জ ডায়বেটিক হাসপাতালে। সকালে স্যার ম্যাডামদের রাউন্ড, পেসেন্ট এডমিশন, ওটি এসিস্ট সবকিছু করতে হতো তার মা'কে। চারজন ছেলে ডক্টর কলিগদের সাথে প্রতিযোগিতা করেই জবটা মা'কে টিকিয়ে রাখতে হচ্ছিল। ঐ সময়ে মা সপ্তাহের মোট ছয়টা ডিউটি একটানা দুদিনে শেষ করে ফেলত।

রোজ শনিবার মর্নিং ডিউটি ধরতে ব্যাগের বহর (যাতে রাইস কুকার থেকে শুরু করে বেবি শাওয়ার জেলসহ সবকিছু থাকতো) আর ছোট্ট আহুকে নিয়ে হাসপাতালে ঢুকতো মা। হাসপাতালের ডক্টরস রুমে বিকেলে হুজুর আন্টি আসত আহুকে "আলিফ বা তা ছা" শেখাতে। নার্স আন্টির ছবি আঁকা শেখাত ওকে। ওয়ার্ড বয়, ফার্মেসির আঙ্কেলদের সাথে বিকেলে ক্রিকেটও খেলত হাসপাতালের বাগানে।

ডক্টরদের জন্য খাবার রান্না করতো একজন খালা। মাছ আর মাংসে খুব ঝাল দিত। ঐ দিনগুলোতে আমার আহু দুপুরে রাতে  শুধু ডাল ডিম ভাত ঘি দিয়ে খেত। এছাড়া রাইস কুকারে নুডলস, পায়েস করে দিতাম ডিউটির ফাঁকে ফাঁকে। হাসপাতালের সামনের একটা দোকান থেকে তেল ছাড়া পরোটা করে দিত মামার। নসিলা, জেলি দিয়ে সেসবও খেত সে। আর ফল।

এরই ফাঁকে রবিবার সকাল সাড়ে সাতটায় তাকে এবিসি  ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে দিয়ে আসত নাইট ডিউটি শেষ করে বাসায় ফেরা নার্স আন্টি, গার্ড আঙ্কেলরা। নাহলে মায়ের জন্য কাজ করা কঠিন হতো। রবিবার সকালে গাইনি আর আই রুটিন ওটি হতো। মা'কে অপারেশন থিয়েটারে যেতে হতো এসিস্ট করতে।

ঐ সময়ে নারায়ণগঞ্জে কোন ডে কেয়ার না থাকায় মা ওকে স্কুলে ভর্তি করে দেয়, অসংখ্য মানুষের অসংখ্য বাক্যবান হজম করে। আসলে মানুষ শুধু কথা শোনাতে জানে। অথচ ঐ সময়ে নারায়ণগঞ্জে আমরা যে বাসাতে থাকতাম সেখানকার কেউ বলে নাই "যাও তুমি ডিউটি কর।বাচ্চা আমরা দেখে রাখব। তুমি ঠান্ডা মাথায় ডিউটি করে আস"। কেউ বলে নাই "থাক বাচ্চা ছোট ওকে লালন পালন কর। চাকরি পরে কর।"

আমাকে নাইট ডিউটিসহ দুটো করে দিন হাসপাতালে ইনফেকশনের চান্স আছে জেনেও ছোট বাচ্চাকে নিয়েই কাজ করতে হয়েছে শুধুমাত্র টিকে থাকার জন্য। ঐ সময়ে আমি বারডেমে সিসিডি কোর্সও শুরু করি। হাসপাতাল থেকেই আমাকে এই কোর্স করিয়ে আনা হয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ।

সদ্য ইন্টার্নশীপ শেষ করা একজন মায়ের জন্য এটা যে কি ধরনের মানসিক চাপ ছিল কেউ বুঝতে চেষ্টা করেনি।

দিন ঠিক কেটেছে, থেমে থাকেনি কিছুই........

স্কুলের থেকে নিরাপদ আর কোথায় থাকবে একজন শিশু? আহু তখন এতো ছোট ছিল যে ওর ক্লাশটিচার লিলি মিস ওকে কোলে নিয়ে ক্লাশ করাতেন। প্লে গ্রুপে ঐ সময়ে বাচ্চাদের সাথে মা'দেরকে এলাও করা হতো । কিন্তু আহুর মা পারেনি কোনওদিনও ওর ক্লাশে উপস্থিত থাকতে। তাই লিলি মিস প্রচন্ড মমতা দিয়ে আগলে রাখতেন আমার ছেলেটাকে তিনটা ঘন্টা। পরবর্তীতে মিসের ছেলে সন্তান হলে উনি নাম রেখেছিলেন আহ্ নাফ।

তো সেই কারনে আহুর কাছে স্কুল খুব প্রিয় জায়গা। একটু বড় হতেই সে স্কুল  ফুটবল,  ক্রিকেট, ক্যারাটে টিমের ক্যাপ্টেন হয়, ডিবেট টিম, সাইন্স প্রোজেক্ট, স্কুলে জামাতে নামাজের ইমামতি, কুইজ সেরিমনিসহ স্কুলের যেকোনো অনুষ্ঠানে মাস্টার অফ সেরিমনি হিসেবে ওর টিচারদের পছন্দের নাম আহ্ নাফ। আলহামদুলিল্লাহ। এসব কিছুই সে নিজে শিখে শিখে করেছে। মা হিসেবে আমি কোন কিছুই তাকে হাতে ধরে কখনো শেখানোর সুযোগ পাইনি। তবে আমি সব সময় চেষ্টা করেছি সে যা করতে চায় তার ভেতরকার আনন্দগুলো ওর সামনে তুলে ধরতে।

আজ সে বলল, মা আমি সাইকেল চালিয়ে একটু ঘুরে আসি। দূর থেকে স্কুল দেখব। খুব মিস করছি। মাষ্ক পরে যাব। আমি আর নয়ন(ওর বন্ধু, আমাদের প্রতিবেশী)। ওদের স্কুল ঢাকা সিলেট হাইওয়েতে। তাই ভয় পেলাম। সে বলল মা, হাইওয়েতে উঠব না। ভেতরের গ্রাম দিয়ে যাব। যাই?

না আর করলাম না।

ফিরে এসে ছবিগুলো দেখাল। নিজেই অবাক হয়ে গেলাম, কত বড় আসলেই হয়ে গেছে আমার ছোট্ট পোটলাটা........ ভাবা যায়  !

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
রাজধানীতে ড্রেনে পড়ে নিখোঁজ যুবকের মরদেহ উদ্ধার         আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা         জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম নারী ফাইটার পাইলট মাওয়া সুদান         বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোকে দেড় কোটি টিকা দেবে বাইডেন         আওয়ামী লীগের ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ         আজ থেকে ৭ জেলার ট্রেন চলাচল বন্ধ         'শিগগিরই পরীক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে’         রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সেনা প্রধানের সাক্ষাৎ         নিউইয়র্ক সিটি নির্বাচনে ৪ নারীসহ বাংলাদেশি ১৩ প্রার্থী         ‘নিজেকে সর্বোচ্চ যোগ্য’ করতে যোগব্যায়াম করছেন পরীমনি         বন্ধ করে দেওয়া হলো ঢাকার সব যাত্রীবাহী ট্রেন         ‘তাহসানের ওপর রাগ নেই, যত রাগ আমার ওপর’         পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু রোধে সচেতনতা গড়তে হবে         বেশি বয়সেও ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন সম্ভব         পীরগঞ্জে এমকেপি মানব কল্যাণ পরিষদ’র সংলাপ সভা         টাঙ্গাইলে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি         বিদেশে যেভাবে নারী পাচার করতেন নদী         ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান সেতুমন্ত্রীর         খালেদাকে বিদেশে নিতে সরকারের কাছে বিএনপির দাবি         ফিটনেস আইকন ৮৩ বছরের নারী!