সোমবার, ৭ আষাঢ় ১৪২৮
২১ জুন ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

চামড়াজাত পণ্যের প্রথম সফল নারী উদ্যোক্তা তানিয়া ওয়াহাব

হামিদা ইলা: চামড়াজাত পণ্যের সফল ব্যবসায়ী তানিয়া ওয়াহাব। শৈশব কেটেছে মধ্য বাড্ডায়। বর্তমানে তিনি জিগাতলার বাসিন্দা।

ছোটবেলা থেকেই জীবনের লক্ষ্য ছিল তিনি সৃজনশীল কিছু করবেন। যেটির বাস্তবায়ন তিনি নিজ হাতে করেছেনও। শুরু থেকেই তিনি ছিলেন উদ্যমী এক নারী। ছাত্রজীবন থেকেই জড়িয়ে ছিলেন ছোট ছোট বিভিন্ন ব্যবসায়। যেমন- ক্যান্টিন এ খবর সরবরাহ করা, ইসলামপুর থেকে কাপড় কিনে এনে হল এর শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করা ইত্যাদি।

শহিদ বীর-উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে তিনি এসএসসি এবং এইচএসসি পাস করেছেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ এর উপর মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

আজ থেকে প্রায় ১৬ বছর আগে তিনি চামড়াশিল্প নিয়ে কাজ করা শুরু করেন। যখন এই বিভাগে কোনো নারী উদ্যোক্তা ছিলনা। মূলত খানদানি উপায়ে বা দাদা-পরদাদা থেকে পাওয়ার মাধ্যমেই চলমান ছিল এই ব্যবসা।

ব্যবসার শুরুর দিকে তিনি মুখোমুখি হয়েছিলেন বিভিন্ন বাধা বিপত্তির। টিউশন এর থেকে পাওয়া জমানো অর্থই ছিল তার একমাত্র পুঁজি এবং তার একমাত্র ও মূল সহায়ক ছিলেন তিনি নিজেই। একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সমাজের বিভিন্ন স্তরে তিনি কঠোর সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। এমনকি ব্যবসার জন্য জায়গা পেতেও প্রচুর কাঠ-খড় পোড়াতে হয়েছে তাকে, সম্মুখীন হতে হয়েছে লোকের কটূক্তির। তবুও তার চেষ্টায় ছিলনা কোন কমতি। নিজের উপর ভরসা ছিল তার বরাবরই।

শুরুতে তার পুঁজি ছিল মাত্র দশ হাজার টাকা। প্রায় এক থেকে দেড় বছর অবিরাম পরিশ্রম করার পর থেকে তার ব্যবসা গতি পায়; এর মধ্যে তিনি একবারও হাল ছাড়েনি। একটি সেকেন্ড-হ্যান্ড মেশিন দিয়ে তিনি তার ব্যবসা শুরু করলেও তার ফ্যাক্টরিতে বর্তমানে ৭০ টি মেশিন রয়েছে। শ্রমিক সংখ্যা শুরুতে একজন হলেও এখন তার অধীনে কর্মরত রয়েছে প্রায় ৫০ জন শ্রমিক; এদের মধ্যে অর্ধেকই নারী। বিভিন্ন মৌসুমে শ্রমিকের সংখ্যা গিয়ে দাড়ায় এক থেকে দেড় হাজারে। মাত্র দশ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে তার বার্ষিক আয় প্রায় এক কোটি টাকা।

কাঁচামাল দিয়ে ব্যবসার সূচনা করলেও বর্তমানে তিনি তৈরি করছেন চামড়ার তৈরি বিভিন্ন দ্রব্যাদি। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। যেমন: আরঙ, বাটা, অ্যাপেক্স ইত্যাদি। এমনকি দেশের বাহিরেও অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানি করছেন তিনি।

এই ব্যবসা থেকে তিনি পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা, পুরষ্কার এবং কৃতিত্ব।

২০০৮ সালে ইতালির বিখ্যাত ডিজাইনার বারবারা গার্দুসি ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিংয়ের একটি প্রকল্প’র কাজে ঢাকায় এসে প্রায় ছয় মাস অবস্থান করেন । ১১ জন ডিজাইনারের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ তানিয়ারও সুযোগ হয় বারবারার সঙ্গে কাজ করার ও শেখার। ২০০৮ সালে পেয়েছেন এসএমই ফাউন্ডেশনের সেরা এসএমই নারী উদ্যোক্তা পুরস্কার। ২০১১ সালে পেয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের সেরা এসএমই নারী উদ্যোক্তা। ২০১৩ সালে ডেইলি স্টার-ডিএইচএলের আউটস্ট্যান্ডিং ওম্যান ইন বিজনেস পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। ২০১১ সালে হোয়াইট হাউস দর্শন করেন তানিয়া ওয়াহাব। এছাড়াও জাপান এবং মালয়েশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে বক্তা হিসেবে আমন্ত্রিত হন তিনি। অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয়েছে তার। এগুলো ছাড়াও তার ঝুলিতে জমা হয়েছে আরো বিভিন্ন সম্মাননা এবং পুরষ্কার।

ব্যবসার শুরুতে তিনি এতটা সফল হবেন ভাবেননি। তবে নিজের উপর সর্বদাই বিশ্বাস ছিল তানিয়ার। বিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমই যে সাফল্য বয়ে আনতে পারে এই সাহসী উদ্যোক্তা তারই বাস্তব উদাহরণ।

বর্তমানেও তিনি কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন। করোনা পরিস্থিতে ব্যবসার ক্ষতিসাধন হলেও হাল ছাড়েনি তিনি। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি আটকে আছে এই ভয়াবহ মহামারীর কারণেই। এছাড়া বিভিন্ন মৌসুমী কাজও এ বছর পাননি তিনি। তা সত্ত্বেও, তিনি আশাবাদী; কঠিন দিনগুলো খুব শীঘ্রই কেটে যাবে এবং আবার সুদিনের উদয় ঘটবে।

চামড়াজাত পণ্যের সরবরাহ বা রপ্তানি ছাড়াও তার রয়েছে কিছু অন্যান্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। 'ট্যান' নামক নিজস্ব ব্র্যান্ডই রয়েছে তার। আর এই ব্র্যান্ডকে প্রতিষ্ঠিত করাই তার বর্তমান মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে একটি। একদিন 'ট্যান'ও হয়ে উঠবে দেশ এবং বিদেশে নামিদামি এক ব্র্যান্ড, এই স্বপ্ন বাস্তবায়নেও নিরলস পরিশ্রম করছেন তিনি। এছাড়াও ভবিষ্যতে একটি গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একটি কথা সর্বদা মনে রাখতে হবে যে, পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই; কঠোর পরিশ্রম এবং দৃঢ় মনোবল হেরে যাওয়া যুদ্ধও জিতিয়ে দেয়ার সামর্থ্য রাখে।’ তিনি আরো বলেন, ‘হুজুগে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবেনা। কোনো ব্যবসা শুরু করার আগে নিজেকে চিনতে হবে, নিজেকে জানতে হবে এবং নিজের সৃজশীলতাকেই কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে হবে, তাহলেই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।’

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
ধানমন্ত্রীকে কটূক্তি: টাঙ্গাইল পৌর প্যানেল মেয়রের পদ স্থগিত         বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান হলেন শেখ ইউসুফ হারুন         স্মার্ট ফোন কিনে না দেওয়ায় তরুণের আত্মহত্যা         যেভাবে ঘুমালে ত্বকের সৌন্দর্য্য বাড়ে!         ভোটগ্রহণ ভালো হয়েছে: ইসি সচিব         সাংবাদিক নির্যাতন দিবসে অবিলম্বে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের দাবি         হাতকড়ায় বাঁধা দম্পত্তির ভালোবাসার গল্প         ‘তার কাছে বেগম জিয়ার চেয়েও চিত্রনায়িকা গুরুত্বপূর্ণ’         দেশের আরো ৭ জেলায় লকডাউন         ‘নারী কাউন্সিলরের ক্ষেত্রে ‘সংরক্ষিত’ কথাটি বাদ দিতে হবে’         বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির রহস্য ফাঁস         দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ         শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের জামিন স্থগিতই থাকছে         পুকুরে ডুবে কিশোরের প্রাণহানি         পরীমণির বিরুদ্ধে আবারো ভাঙচুরের অভিযোগ         ভালুকায় কাভার্ড ভ্যানের চাপায় প্রাণহানি ৩         মালয়েশিয়ায় আটক ১০২ বাংলাদেশি         চরফ্যাশনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রাণহানি ১         যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ শিশুসহ প্রাণহানি ১০         উন্নত দেশে অভিবাসন শুধুই কী প্রশান্তির!         যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডা ও মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ বাড়লো