সোমবার, ৭ আষাঢ় ১৪২৮
২১ জুন ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

গণসংহতি আন্দোলনের বাজেট প্রতিক্রিয়া

উইমেনআই২৪ প্রতিবেদক: গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন দলের প্রধান সমন্বয়কারী জননেতা জোনায়েদ সাকি। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মনির উদ্দীন পাপ্পুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘বাজেট নিছক আয়-ব্যায়ের হিসাব নয়, বাজেটের মধ্যে যে নীতির প্রতিফলন ঘটে সে নীতিটা আমাদের বিবেচনায় নেয়া দরকার। আমাদের দেখা দরকার নীতির পেছনে কি আছে? বিদ্যমান নীতিতে দেখা যাবে সরকার বাজেটে কোথাও কম বেশি বরাদ্দ বাড়িয়েছে, কিম্বা কমিয়েছে। এই বরাদ্দ বাড়ানো কিম্বা কমানোর মধ্যে বাস্তবে কোনো পরিবর্তন ঘটে না। মুদ্রাস্ফিতির সাথে এর সম্পর্ক থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে টাকার অংকের ক্ষেত্রে হয়তো বরাদ্দ বৃদ্ধি পায় বটে, কিন্তু এই বরাদ্দকৃত টাকা ব্যয়ের যে একটা জবাবদিহিতার জায়গা আছে সেটা উল্লেখ বাজেটে থাকে না। যেমন স্বাস্থ্য খাতে এবারও থোক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নাই, স্বাস্থ্যখাতের কোন কোন বিষয়ে তারা অগ্রাধিকার দিবে। এই অগ্রাধিকার সুনির্দিষ্ট না থাকার ফলে ব্যায় কীভাবে হবে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকে না। ফলে বিভিন্ন ক্রয় খাত থাকে, সেখানে বিভিন্ন লবিষ্ট গ্রুপ প্রকল্প নিয়ে হাজির হয় এবং সেখানে দুর্নীতির নহর বয়ে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘এরকম দুর্যোগের মধ্যে সরকারের যে নীতি থাকা দরকার, অপ্রয়োজনীয় এবং অনুৎপাদনশীল ব্যায় কমানো অন্যদিকে বিনিয়োগ অর্থাৎ যে বিনিয়োগে জনগণের হাতে টাকা পৌছাবে সেটার পরিকল্পনা থাকা দরকার। সরকারের ব্যায়ের খাতকে জবাবদিহীর আওতায় আনতে হবে যেমন জনপ্রশাসনের ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট জবাবদিহীতার আওতায় আনা দরকার। মানুষের দুর্দশাকে পুজি করে দুর্নিতি লুটপাট করার সকল পথ যেনো বন্ধ থাকে সেরকম বাজেটই জনগণের দরকার। আর সেজন্য দরকার বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থার একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তর। আমরা রাষ্ট্রের এই গণতান্ত্রিকর রূপান্তরে লড়াই চালিয়ে যাবো।’

জোনায়েদ সাকি এ বাজেটকে সর্বজনের চাহিদার প্রতি অসংবেদনশীলতার দলিল বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গত এক দশক ধরে অবিমৃষ্যকারী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আর্থিক নীতি প্রণয়নের যে ধারা বাংলাদেশে চালু হয়েছে এবারের বাজেট প্রস্তাব তার ব্যতিক্রম হবে এমন প্রত্যাশা ছিল না। তারা হতাশ হয়েছেন।

তিনি স্বাস্থ্য খাদে বরাদ্দ দেওয়ার সকল দাবি ও পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে মন্তব্য করে বলেন, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিটি অর্থবছরে স্বাস্থ্যে বরাদ্দ অল্প করে বাড়লেও মোট বাজেটের বরাদ্দ হিসেবে স্বাস্থ্যের বরাদ্দ থেকে গেছে ৫ শতাংশের আশে পাশে। ফলে মোট জাতীয় আয়ের যে অংশ স্বাস্থ্যে পেছনে ব্যয় হয় সে বিচারে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় (আফগানিস্তানসহ) বাংলাদেশের অবস্থান সবার পেছনে। করোনা পরিস্থিতি নতুন করে স্বাস্থ্য খাতের দুর্বলতাগুলো সামনে এনেছে।

জাতীয় বাজেটে শিক্ষায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেয়া নিয়ে সরকারের তরফ থেকে গৌরব করা হলেও তার মধ্যে বড় ফাঁকি আছে বলে মন্তব্য করেন জোনায়েদ সাকি। এবারের বাজেটেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ৯৫ হাজার কোটি টাকার যে বরাদ্দের কথা বলা হচ্ছে তা মোট বাজেটের প্রায় ১৬ শতাংশ বলে দাবি করেন।

কৃষিতে বাজেটের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাজেট প্রস্তাবে বাস্তব বিমুখতার আরেকটি উদাহরণ হতে পারে কৃষি খাতের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় যে বিপর্যয়কর অবস্থা তৈরি হয়েছিলো তার প্রতিক্রিয়ায় শস্য বীমা চালু করার ঘোষণা ছিল চলতি বছরের বাজেটে। এবারের বাজেটে তা নিয়ে নতুন কিছু জানা যায়নি। শস্য বীমা নিয়ে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে যে সব পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়েছে সেগুলো থেকে নেতিবাচক ফলাফলই পাওয়া গেছে।

বাজেটে মহামারির মধ্যেও সামাজিক নিরাপত্তা খাত উপেক্ষিত থাকছে বলে মন্তব্য করেন সাকি। তিনি বলেন, সবচেয়ে উদার হিসাব অনুসারেও দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের অনুপাত মহামারির আগের ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ হয়েছে অর্থনৈতিক অচলাবস্থার কারণে (কোন কোন সংস্থার অনুসন্ধান বলছে তা পৌঁছেছে ৪০ শতাংশে)। অথচ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বরাদ্দ চলতি বছরের প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা থেকে সামান্য বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৮ হাজার কোটি টাকার মতো।

পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মোট জাতীয় বাজেটের প্রায় ১২ শতাংশ। জ্বালানি ও বিদ্যুতে ৪.৫ শতাংশ। স্বাস্থ্যগত দুর্যোগ আর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে এ দুই খাতের বড় প্রকল্পগুলোতে কিছুটা কাটছাট করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো খাতগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানোটিই প্রত্যাশিত ছিলো। কিন্তু সরকার আর সব জায়গার মতো এখানেও হাঁটছে জনপ্রত্যাশার বিপরীতে। 

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
ধানমন্ত্রীকে কটূক্তি: টাঙ্গাইল পৌর প্যানেল মেয়রের পদ স্থগিত         বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান হলেন শেখ ইউসুফ হারুন         স্মার্ট ফোন কিনে না দেওয়ায় তরুণের আত্মহত্যা         যেভাবে ঘুমালে ত্বকের সৌন্দর্য্য বাড়ে!         ভোটগ্রহণ ভালো হয়েছে: ইসি সচিব         সাংবাদিক নির্যাতন দিবসে অবিলম্বে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের দাবি         হাতকড়ায় বাঁধা দম্পত্তির ভালোবাসার গল্প         ‘তার কাছে বেগম জিয়ার চেয়েও চিত্রনায়িকা গুরুত্বপূর্ণ’         দেশের আরো ৭ জেলায় লকডাউন         ‘নারী কাউন্সিলরের ক্ষেত্রে ‘সংরক্ষিত’ কথাটি বাদ দিতে হবে’         বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির রহস্য ফাঁস         দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ         শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের জামিন স্থগিতই থাকছে         পুকুরে ডুবে কিশোরের প্রাণহানি         পরীমণির বিরুদ্ধে আবারো ভাঙচুরের অভিযোগ         ভালুকায় কাভার্ড ভ্যানের চাপায় প্রাণহানি ৩         মালয়েশিয়ায় আটক ১০২ বাংলাদেশি         চরফ্যাশনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রাণহানি ১         যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ শিশুসহ প্রাণহানি ১০         উন্নত দেশে অভিবাসন শুধুই কী প্রশান্তির!         যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডা ও মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ বাড়লো