সোমবার, ৭ আষাঢ় ১৪২৮
২১ জুন ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

নাসাসু’র বিশ্ব মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা দিবস উদযাপন

উইমেনআই২৪ প্রতিবেদক: বিশ্ব মাসিক ব্যবস্থাপনা দিবস উপলক্ষে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরামের (নাসাসু) আয়োজনে রাজু ভাস্কর্যে "নিষিদ্ধকে ভাঙি" নামক এক উন্মুক্ত প্রদর্শনী  হয়েছে।

শুক্রবার (২৮ মে) বিকাল ৩টায় এ প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নারীদের লেখা প্রথম মাসিকের অভিজ্ঞতা, মাসিক সুরক্ষা পণ্যের দাম কমানো এবং মাসিক নিয়ে সমাজের প্রচলিত ট্যাবু বিষয়ক বিভিন্ন বার্তা প্রদর্শন করা হয়।  

গত ২০১৫ সাল থেকে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরাম প্রান্তিক নারী এবং স্কুলপড়ুয়া কিশোরীদের মধ্যে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সচেতনতা বিষয় নিয়ে কাজ করে আসছে। বিভিন্ন কর্মসুচি, উঠান বৈঠক, কর্মশালার মাধ্যমে দেশের দশ হাজার স্কুল শিক্ষার্থীদের মাসিক সুরক্ষা বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছে তারা। মাসিক সংক্রান্ত নিষিদ্ধতা মেয়েদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি না করার কারণে বাংলাদেশের একটি বড় অংশের নারীরা মাসিকের স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাপনা থেকে বঞ্চিত। তাদের সমীক্ষা অনুযায়ী প্রায় ৯০ ভাগ স্কুল পড়ুয়া মেয়েরা ফার্মেসিতে যেতে লজ্জা পাওয়ার কারণে, পরিবারের অসহযোগিতার কারণে এবং বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে মাসিক সুরক্ষা পণ্য ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করেছে। ন্যাশনাল হাইজিন বেজলাইন সমীক্ষা অনুযায়ী, মাত্র ১০% স্কুলপড়ুয়া কিশোরী তাদের মাসিকের সময় স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করে। ৮৬% কিশোরী পুরানো কাপড়, ছেড়া ন্যাকড়া ব্যবহার করে। এর মধ্যে মাত্র ১১% মেয়ে সঠিক নিয়ম মেনে কাপড় ব্যবহার করে। বাকিরা ঘরের কোণায় কাপড় রাখে যা সম্পূর্ণভাবে জীবাণুমুক্ত করার আগেই পুনরায় ব্যবহার করে তারা। এমনকি বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নারী যারা গৃহে থাকেন, কর্মজীবী নন তাদের মধ্যে স্যানিটারি ব্যবহারের প্রবণতা মাত্র ১২%। দীর্ঘদিন অপরিস্কার কাপড় ব্যবহারের ফলে নারীদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার, ইনফেকশন, যৌনাংগে ঘা, চুলকানি, অস্বাভাবিক সাদাস্রাব প্রভৃতি শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। দেশে প্রতি বছর ১৩ হাজার নারী মারা যাচ্ছে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের কারণে। তাছাড়া একই কাপড় বারবার ব্যবহারের কারণে কাপড় সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব না। তা বাদেও কোন মেয়ে যদি সঠিক নিয়ম মেনে (গরম পানিতে ফুটিয়ে, কড়া রোদে শুকিয়ে) কাপড় ব্যবহার করতে চায় তা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং যেকোনো নারীর জন্য তা অত্যন্ত ঝামেলার।

অথচ মাসিক সুরক্ষা বিষয়টি এখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে আমলে নেওয়া হয়না। এমনকি এই বছর হাইকোর্ট থেকে নির্দেশনা এসেছে, নারীর মাসিক হয় বলে তারা বিবাহ রেজিস্টারের মত রাষ্ট্রীয় কাজে অংশ নিতে পারবে না। নাসাসু হাইকোর্টের এই নির্দেশনা বাতিল চায়।

মাসিক সুরক্ষা পণ্য যেমন: স্যানেটারি প্যাড, টেম্পুন, মেনস্ট্রুয়াল কাপ প্রভৃতির উচ্চ মূল্য থাকার কারণে বেশিরভাগ নারীরা এইসকল সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। নাসাসু দেখেছে, প্রায় প্রতি বাজেটে মাসিক সুরক্ষার পণ্যকে “বিলাসী দ্রব্য” হিসেবে বিবেচনা করে এর উপর উচ্চ শুল্ক এবং কর বসানো হয়। এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে মাসিক সুরক্ষা বিষয়টি না দেখে, তাকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া ক্ষমতার অধীনে দেওয়া হয়। এর কারণে নারীর মাসিক এর মত গুরুত্বপূর্ণ শরীরবৃত্তীয় বিষয় নিয়ে রীতিমত পণ্যায়ন এর প্রতিযোগিতা হচ্ছে। পাশাপাশি এর উপর পিংক ট্যাক্স বসিয়ে এর মূল্য সাধারণ নারীর হাতের নাগালের বাইরে রাখা এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ বিবেচনা করে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করার ফলে নারীর স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করার পথ সুগম করা হচ্ছে।

অথচ মানুষের প্রজন্ম টিকে থাকার জন্য মাসিক একটি অত্যাবশকীয় বিষয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির এক বিশাল অংশ আসে এদেশের নারীদের শ্রমে ও ঘামে। অথচ সরকার মাসিক সুরক্ষা পণ্য সমুহের দাম বাড়িয়ে সাধারণ নারীর উপর “প্রতি মাসে” এক অন্যায্যতা সৃষ্টি করছে। আমরা উন্নত রাষ্ট্রে দেখেছি, সরকার কিভাবে নারীর মাসিক সুরক্ষার বিষয়টি তাদের মানব উন্নয়নের কাজে গুরুত্ব দেয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে সাধারণ নারীদের জন্য তারা মাসিক সুরক্ষা পণ্য বিনামূল্যে প্রদান করে।

মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা দিবস উপলক্ষে “নিষিদ্ধকে ভাঙি” শীর্ষক উন্মুক্ত প্রদর্শনীর কর্মসূচি থেকে নাসাসু বাংলাদেশের সকল নারীদের নিরাপদ মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৭ দফা দাবি পেশ করছে

১. বাজেটে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার খাত তৈরি করো এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশসম্মত মাসিক সুরক্ষা পণ্য উৎপাদন করো।

২. বাজারে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দ্বারা উৎপাদিত মাসিক সুরক্ষা পণ্যের দাম কমাও।

৩. মাসিক নিয়ে সকল পণ্যায়ন বন্ধ করো। সকল প্রকার পিংক ট্যাক্স হটাও, ব্যবসায়িক স্বার্থে উৎপাদিত জেল প্যাড এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে তৈরি মাসিক সুরক্ষা পণ্যসমুহের বাণিজ্যিকিকরণ বন্ধ করো।

৪. বিনামুল্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে নারীদেরকে প্রতি মাসে মাসিক সুরক্ষা পণ্য প্রদান করো।

৫. সর্বস্তরের নারীদের মাঝে “মাসিক সুরক্ষা বিষয়ক সচেতনতা” ছড়িয়ে দাও।

৬. মাসিক এর সময় ছুটি বিষয়টি প্রতিটি কর্মক্ষেত্রের প্রশাসনিক নীতিমালায় যুক্ত করো।

৭. করোনাকালীন ত্রাণ, দুর্যোগকালীন ত্রাণ এবং রেশনে মাসিক সুরক্ষা পণ্য অন্তর্গত করো।

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান হলেন শেখ ইউসুফ হারুন         স্মার্ট ফোন কিনে না দেওয়ায় তরুণের আত্মহত্যা         যেভাবে ঘুমালে ত্বকের সৌন্দর্য্য বাড়ে!         ভোটগ্রহণ ভালো হয়েছে: ইসি সচিব         সাংবাদিক নির্যাতন দিবসে অবিলম্বে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের দাবি         হাতকড়ায় বাঁধা দম্পত্তির ভালোবাসার গল্প         ‘তার কাছে বেগম জিয়ার চেয়েও চিত্রনায়িকা গুরুত্বপূর্ণ’         দেশের আরো ৭ জেলায় লকডাউন         ‘নারী কাউন্সিলরের ক্ষেত্রে ‘সংরক্ষিত’ কথাটি বাদ দিতে হবে’         বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির রহস্য ফাঁস         দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ         শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের জামিন স্থগিতই থাকছে         পুকুরে ডুবে কিশোরের প্রাণহানি         পরীমণির বিরুদ্ধে আবারো ভাঙচুরের অভিযোগ         ভালুকায় কাভার্ড ভ্যানের চাপায় প্রাণহানি ৩         মালয়েশিয়ায় আটক ১০২ বাংলাদেশি         চরফ্যাশনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রাণহানি ১         যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ শিশুসহ প্রাণহানি ১০         উন্নত দেশে অভিবাসন শুধুই কী প্রশান্তির!         যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডা ও মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ বাড়লো         ফাইজারের টিকার প্রয়োগ শুরু