সোমবার, ৭ আষাঢ় ১৪২৮
২১ জুন ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

সামাজিক বাধাকে মূল্যই দেইনি: শেফ ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী তানজিনা

খাদিজা খানম তাহমিনা

চঞ্চলা হরিণীর মতো যে মেয়েটি ছুটোছুটি করতো, সে-ই আজ জীবন যুদ্ধে সংগ্রামী এক নারী। জীবনের কঠিন মোড়গুলোকে তিনি শক্তি হিসেবে নিয়ে এগিয়ে গেছেন সাফল্যের চূড়ায়। হেরে যাওয়ার শুরু থেকে নিজেকে জিতিয়ে নেয়ার এক কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন তিনি। শুনবো সেই সাহসী নারীর গল্প।

তানজিনা আফরোজ নীশো। একজন সংগ্রামী নারী ও আন্তর্জাতিক শেফ। তিনি ইতালি ও মালয়েশিয়াতে দীর্ঘ ১৩ বছর   চাকরি করেছেন। ২০০২ সালে তিনি ইতালির মাস্মিমো আলবেরিনি ইনস্টিটিউট থেকে হোটেল ম্যানেজমেন্টের একটি কোর্স করেন।

নীশো ১৯৯৫ সালে আদমজী গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৯৬ সালে পরিবারের মতে নীশো ইতালি প্রবাসীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন। এক্ষেত্রে নীশোর লেখাপড়ায় কিছুটা ব্যঘাত ঘটে। বিয়ের এক বছর পর ১৯৯৮ সালে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি।  ১৯৯৯ সালে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে ইতালি পাড়ি জমান।

এখানেই শেষ হতে পারতো তানজিনা আফরোজ নীশোর গল্পটা, কিন্তু শেষ হয়নি, বরং বলা যায়, এখানেই তাঁর শুরু।

২০০০ সালে প্রেগনেন্ট অবস্থায় ইতালি থেকে নেদারল্যান্ড চলে যান এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেন নীশো। ছেলে শিশুর জন্ম হয়। ছেলের বয়স যখন ৩ মাস, তখন নীশো লন্ড্রিতে কাজ করেন এবং তখন তিনি তার স্বামীকে ত্যাগ করে সংগ্রামী জীবন শুরু করেন। তারপর আবার তিনি চলে আসেন ইতালিতে। সেখানে তিনি তার খরচ চালানোর জন্য ভোর ৪টা থেকে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন এবং হোটেল ম্যানেজমেন্টে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত ক্লাস করতেন।

২০১৪ সালে তিনি তার ছেলের সম্মতিতে আবার দ্বিতীয় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন এবং তার দ্বিতীয় স্বামীসহ নীশো মালয়েশিয়াতে চলে যান। মালয়েশিয়াতে তিনি একটি মিনি সুপারশপ খোলেন, কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে শপটি বেশি দিন চালাতে পারেননি। ২০১৭ সালে দেশে ফিরে আসেন নীশো। দেশে ফিরে নীশো বেভান্দা ভেনেজিয়ানা নামে একটি রেস্টুরেন্ট খোলেন। পাশাপাশি নীশো ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তার অনলাইন ব্যবসা চালু রাখেন। উদ্যোক্তা তকমাটা গায়ে লাগিয়ে পুরোদমে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। উদ্যোক্তা হিসেবে অল্প কয়েক দিনেই শুধু উইমেন এন্ড ই-কমার্স ফোরাম (উই) থেকেই লাখপতির খাতায়ও নাম লেখান। সাহসিকতা নিয়ে হোটেল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিছুদিন আগে উইমেন এন্ড ই-কমার্স (উই) এর পক্ষ থেকে খিলগাঁও, বাসাবো এলাকার কো- অর্ডিনেটরের দায়িত্বও পান তিনি। টমি মিয়া'স হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের কুলিনারি ইন্সট্রাক্টর হিসেবেও দায়িত্বরত।

উইমেন আই টুয়েন্টি ফোর ডটকম থেকে স্টাফ রাইটার খাদিজা খানম তাহমিনা কথা বলেছেন এই সাহসী, সংগ্রামী নারী তানজিনা আফরোজ নীশোর সাথে।

প্রশ্নঃ রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় কেনো এসেছেন, শুরুটা কিভাবে হলো?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ আমি ইতালিতে যখন হোটেল ম্যানেজমেন্টে পড়ি তখন থেকেই আমার ইচ্ছা ছিলো একদিন আমারও একটা রেস্টুরেন্ট থাকবে। সেই ইচ্ছেটাকে ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করতেই এগিয়ে গেছি, চ্যালেঞ্জ নিয়েছি, পরিশ্রম করেছি, রাতদিন এই বিষয়ের উপর পড়াশোনা করেছি।

প্রশ্নঃ একজন নারীর জন্য এ ব্যবসা তো অনেক সময় ঝুকিপূর্ণ, আপনি কিভাবে সাহস পেলেন?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ  যেহেতু আমার লেখাপড়াই এই সেকশনে, তাই রেস্টুরেন্ট ওপেন করতে কখনই ভয় হয়নি। বরং আমি একজন ইন্টারন্যাশনাল শেফ এটাই আমার বড় সাহস। এই সাহস নিয়েই এগিয়োছি, আলহামদুলিল্লাহ সফলও হয়েছি।

প্রশ্নঃ রেস্টুরেন্ট ব্যবসার চাহিদা কেমন?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ আজকাল তো অনেকের মধ্যেই রেস্টুরেন্ট চালু করার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আর এটা লাভজনক ব্যবসা এবং স্মার্ট ব্যবসা। তাই দিনদিন এর চাহিদা বাড়ছে, অনেক নারীই এখন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় আসছেন। গতানুগতিকতার বাইরে এসে ইউনিক কিছু করতে পারলেই এর একটা জায়গা তৈরি হয়। সেই দিক থেকে আমি মনে করি রেস্টুরেন্ট ব্যবসার চাহিদা র্বাড়ছে।

প্রশ্নঃ এই রেস্তোরাঁ ব্যবসায় কি পরিমাণ পুঁজির দরকার হয়?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ এটা অবশ্য ডিপেন্ড করে আপনি কি ধরনের রেস্টুরেন্ট খুলতে চাচ্ছেন, কোন জায়গায় খুলতে চাচ্ছেন তার উপর। যেমন আপনি যদি একটা ছোট এবং কম পরিচিত জায়গায় রেস্টুরেন্ট খুলেন, তাহলে আপনার এডভান্স ও কম সরন্জামাদি লাগবে, কিন্তু কোন পরিচিত এলাকায় হলে এডভান্স ও বেশী আবার বড় হলে সরন্জামাদি ও বেশী লাগবে। আর ডেকোরেশন খরচ তো আছেই। সেক্ষেত্রে এটা আসলে সম্পূর্ণ ডিপেন্ড করে স্থানভেদে।

প্রশ্নঃ ভবিষ্যতে এর বাজার কেমন হবে বলে আপনার  মনে হয়?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ  আসলে রেস্টুরেন্ট এর ব্যাবসার বাজার সবসময়ই ভালো, যদি সেটা পারফেক্ট জায়গায় হয়। এবং খাবারের মান ও পরিবেশ ভালো দেয়া যায়। কাস্টমাররা এখন পরিবেশনের উপরও নজর দেন, তো সেদিকটাও ইউনিক চিন্তা করতে হবে।

প্রশ্নঃ এবার একটু ব্যক্তিগত প্রশ্নের দিকে মোড় নেই, সেপারেশনের পর মেন্টাল উইক থাকে, সেখানে আপনি ব্যতিক্রম। বাংলাদেশের মেয়েরা এই সাহসটা করতে পারেনা, এই ক্ষেত্রে আপনি কি বলবেন?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ বাংলাদেশের মেয়েরা সাহস করতে পারেনা তা নয়, আমাদের সমাজ তাঁকে কিছু করতে দেয়না, আমি মনে করি। প্রতিটা মেয়েই চায় নিজের পায়ে দাঁড়াবে, নিজের আত্মসম্মানবোধটাকে বজায় রাখবে,যা অন্যদের জন্য মানে আশেপাশের মানুষদের জন্য সম্ভব হয়না। আমি যখন সেপারেশনে যাই, আমার জন্য লাইফটা তখন ইজি ছিল না, আমার পরিবার বিষয়টা মেনে নেয়নি, তাই আমি চার বছর স্ট্রাগল করেছি।

প্রশ্নঃ অনেকে বলে শেফ হতে পড়াশোনা করতে হয়না, আপনার কি মত?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ পড়াশুনা না করে শুধু কয়েকটা রেস্টুরেন্টে রান্না করে নিজেকে শেফ বলা আর ডাক্তারি না পড়ে নিজেকে ডাক্তার বলা সমান। হোটেল ম্যানেজমেন্ট না পড়ে একজন ভালো বাবুর্চি হতে পারে, শেফ নয়।

প্রশ্নঃ ব্যবসা শুরুর আগে কোনো কাগজপত্র, বা কোনো লাইসেন্স করতে হয় কি? যদি হয় তাহলে সেটা কিভাবে করতে হয়?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই টিন নাম্বার, ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়। এছাড়াও ব্যবসা ওপেন করার পরপরই ভেট রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।

প্রশ্নঃ প্রচারই প্রসার, এই রেস্টুরেন্ট ব্যবসার বর্তমান করোনার সময়ে প্রসার বা প্রচার কিভাবে করছেন?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ এসময় শুধু অনলাইন ব্যবসাই ভরসা। অনলাইনে যতটুকু সেল করা যায় আর কি।আমি ইতালি থেকে হোটেল ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনা করা শেফ। বাংলাদেশে আমার উদ্যোক্তা-জীবন প্রায় এক বছরের। হোমমেড খাবারের একটা পেজ দেখাশোনা করি । তবে রেস্টুরেন্টে আট জন স্টাফ আছে। আমার স্বামী এবং আমি দুজনেই  রেস্তোরাঁ দেখাশোনা করি। আমি প্রফেশনাল শেফ তাই আমি খাবারের গুণগত মান বজায় রেখে খাবার তৈরি করি এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন করি। কাস্টমাররা এখন গুণগত খাবারের মান দেখে তাই সেটুকু খেয়াল রাখছি, ফলে রিপিট কাস্টমার তৈরি হচ্ছে এবং একজন থেকে আরেকজন এভাবে ক্রেতাও বাড়ছে আলহামদুলিল্লাহ।

প্রশ্নঃ এত বছর আপনি নানান জায়গায় ঘুরেছেন, কাজ করেছেন রকমারি রন্ধনশিল্প নিয়ে, সেসব অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু বলুন।

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ আমি বিভিন্ন দেশে দেখেছি যে খাবার যেমন তারা তেমনি খায় আমাদের দেশে ভিন্ন। যেমন পিজ্জা ইটালিতে জন্ম অথেন্টিক ইটালিয়ান পিজ্জা বাংলাদেশে মানুষ পছন্দই করেনা। বাংলাদেশে পিজ্জার নামে যেটা খাওয়া হয় সেটা আসলে পিজ্জার সম্পুর্ন দেশী ভার্সন।

প্রশ্নঃ রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরুর আগে কোনো প্রশিক্ষণ নিতে হয় কি? যদি নিতে হয়, তাহলে কোথায় কিভাবে নিতে পারবে যেকেউ?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ আমাদের দেশে অনেকেই কোন প্রশিক্ষন ছাড়াই, টাকা হলেই রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করে, এটা ঠিক না। আমার মতে,  অন্য দেশগুলোর মত রেস্টুরেন্ট চালু করার আগে অবশ্যই অন্ততপক্ষে ৬ মাসের বেসিক ট্রেনিং নেয়া উচিত। এখন তো বাংলাদেশেও বিভিন্ন ইন্সটিটিউট আছে যেমন টমি মিয়া কুলিনারি ইন্সটিটিউট। আমি অবশ্য সেখানে পার্টটাইম ইন্সট্রাক্টর হিসেবে আছি।

প্রশ্নঃ আপনার রেস্টুরেন্টেের নাম কি এবং সেটি কোথায় ?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ  আমার রেস্টুরেন্টের নাম 'বেভান্দা ভেনেজিয়ানা রুফটপ', এটা ঢাকার রামপুরা বনশ্রীতে অবস্হিত।

প্রশ্নঃ ঈদকে সামনে রেখে এবার কি করছেন, কিভাবে খাবারের মার্কেটিং করছেন?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ  এবার তো আসলে লকডাউনের জন্য রেস্টুরেন্টই বন্ধ রাখতে হলো। তবে একেবারে বন্ধ রাখিনি। অনলাইনে নিজের পেইজ তানজিনা’স কুকারি ও কেকারি' এর মাধ্যমে মার্কেটিং করার চেষ্টা করছি।  'Tanzina's Cookery & Cakery' র মাধ্যমে অনলাইনে অর্ডার নেই এবং খাবার হোম ডেলিভারি দেই।

প্রশ্নঃ অনলাইনে কি কি পণ্য নিয়ে কাজ করছেন?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ আমি সব ধরণের হোম মেড খাবার নিয়ে কাজ করছি। থাই, চাইনিজ, ইতালিয়ান,  দেশী খাবার এবং ফ্রোজেনফুড, সবধরনের  রেডি মিক্স মশলা যেমন বিরিয়ানি, তেহারি, রোস্ট,  কাবাব ইত্যাদি,  সাথে ঘি এ ভাজা লাচ্ছা সেমাই নিয়েও কাজ করছি।
তাছাড়া বিভিন্ন প্রকার মিষ্টি,  বেকারি আইটেম, পার্টি কেক, থিম কেক, ব্রেড, বান ইত্যাদি নিয়েও কাজ করছি।

প্রশ্নঃ নতুন যারা এই ব্যবসায় আসতে চায়, তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ নতুনদের উদ্দেশ্যে বলবো, এই বিজনেসে আসার আগে নিজেকে বুঝতে হবে, সে এই কাজে পারদর্শী কিনা, সে হিসেবে এগুতে হবে। প্রচুর সময় এবং শ্রম দিতে হবে, কাজটাকে ভালোবেসে শিখতে হবে,  চ্যালেন্জ গ্রহণ করতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত হতে হবে, কারণ ব্যবসায় লোকসান হতে পারে, তাতে যেনো ভেঙে না পড়েন বা পিছিয়ে না যান। সর্বোপরি শিখতে হবে, জানতে হবে, বাস্তব জ্ঞান ছাড়া এই ব্যবসায় সফল হওয়া কঠিন।

প্রশ্নঃ করোনার এই সময় রেস্টুরেন্টে ব্যবসার মন্দা অবস্থায় পরবর্তীতে রেস্টুরেন্ট নিয়ে কী কোনো পরিকল্পনা আছে ?

লকডাউন শেষ হলেই পুরো উদ্যোমে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। সবার সহযোগিতা কাম্য।
আমার 'তানজিনা’স কুকারি ও কেকারি' -এর ঘিয়ে ভাজা লাচ্ছা সেমাই ও মসলা আমি চাই বিদেশে রপ্তানি করতে। আমাকে সবাই আমার সিগনেচার আইটেম পেঁপের লাড্ডুর নামে চিনবে বা বলতে পারেন পেঁপের লাড্ডুকে আমার নামে চিনবে।
আমার বিজনেসের জন্য আমার স্বামী সবসময়ই খুব উৎসাহ দেন। এছাড়াও আমার ভাইবোন আমাকে যথেষ্ট সাপোর্ট করেন। কিন্তু আমি বলবো, আমার সবচেয়ে বড় আরেকটা সাপোর্ট আসে উই (WE) থেকে। আমার সব সাহসের এবং শক্তির উৎস উই (WE)। আমরা ইতোমধ্যেই ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে কিছু জেলায় খাবার এবং মসলা পৌঁছানোর কাজ করেছি। সামনে আরও অনেক ব্যাপক আকারে কাজ করার ইচ্ছা আছে।
করোনার ক্রান্তিকাল কেটে গেলেই আমি আমার স্বপ্নের রেস্টুরেন্টটি পুরোদমে চালু করবো। আপনাদের সবার সহযোগিতা আশা করছি। সবাই পাশে থাকবেন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন। আমার রেস্টুরেন্ট বেভান্দা ভেনেজিয়ানার শাখা থাকবে দেশের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে কক্সবাজারে আমার রেস্টুরেন্টের একটা শাখা থাকবে, এটা আমার স্বপ্ন। পরিকল্পনা অনুযায়ী এগুচ্ছি।

প্রশ্নঃ আপনার রেস্টুরেন্টে আপনি শেফ। আপনার পরিবার সমাজ সেটা কিভাবে দেখছে?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ আমার রেস্টুরেন্ট এ আমি শেফ এটা পরিবার মেনে নিয়েছে খুব সহজেই কারণ তারা জানে আমি এই বিষয়ে লেখাপডা করেছি তাই আমি এই কাজ করবই। কিন্তু সমাজ তো একটু আড় চোখে দেখেই কারণ আমাদের সমাজ এখনও শেফ ও বাবুর্চির মধ্যে পার্থক্য বুঝে না।

প্রশ্নঃ সামাজিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীণ হয়েছেন, সেগুলো কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ আমি আমার জীবনে সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে কখনও মুল্যই দেইনি, কে কি বলল আমার কিছু যায় আসে না। তো হ্যাঁ আমার পরিবার আমার কাছে অনেক মুল্যবান। আমার পরিবার থেকে কোন বাঁধা আসলে আমি সেটা ঠান্ডা মাথায় সবাইকে বুঝাই এবং সে কাজ করি। তবে কোনদিন কম্প্রোমাইজ করি না। আমার কথা হচ্ছে, যে রান্না আমাকে ঘরে করতেই হবে, সে রান্নাকে যদি আমার প্রফেশন হিসেবে নেই তাহলে সমস্যা কি?

প্রশ্নঃ এত ব্যবসা থাকতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা কেন বেছে নিলেন? আপনার কি মনে হয়, এটি নারীর জন্য একটু কঠিন কাজ?

তানজিনা আফরোজ নীশোঃ আমার একটা রেস্টুরেন্ট থাকবে এটা আমার স্বপ্ন ছিলো। সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই রেস্টুরেন্ট ওপেন করা। একজন নারীর জন্য আমাদের সমাজে যেকোন কাজ করাই কঠিন। কারণ আমাদের সমাজ এখনও মনে করে, মেয়ে মানুষের কাজ রান্না করা, ঘর সংসার দেখা ও বাচ্চা লালন পালন করা। আর রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রেস্টুরেন্টগুলো রাত ১০/১১ টা পর্যন্ত খোলা থাকে, তাই এতরাতে বাসায় ফেরাটা একটু চ্যালেন্জিং।
 

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
ধানমন্ত্রীকে কটূক্তি: টাঙ্গাইল পৌর প্যানেল মেয়রের পদ স্থগিত         বেজা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান হলেন শেখ ইউসুফ হারুন         স্মার্ট ফোন কিনে না দেওয়ায় তরুণের আত্মহত্যা         যেভাবে ঘুমালে ত্বকের সৌন্দর্য্য বাড়ে!         ভোটগ্রহণ ভালো হয়েছে: ইসি সচিব         সাংবাদিক নির্যাতন দিবসে অবিলম্বে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের দাবি         হাতকড়ায় বাঁধা দম্পত্তির ভালোবাসার গল্প         ‘তার কাছে বেগম জিয়ার চেয়েও চিত্রনায়িকা গুরুত্বপূর্ণ’         দেশের আরো ৭ জেলায় লকডাউন         ‘নারী কাউন্সিলরের ক্ষেত্রে ‘সংরক্ষিত’ কথাটি বাদ দিতে হবে’         বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির রহস্য ফাঁস         দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ         শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের জামিন স্থগিতই থাকছে         পুকুরে ডুবে কিশোরের প্রাণহানি         পরীমণির বিরুদ্ধে আবারো ভাঙচুরের অভিযোগ         ভালুকায় কাভার্ড ভ্যানের চাপায় প্রাণহানি ৩         মালয়েশিয়ায় আটক ১০২ বাংলাদেশি         চরফ্যাশনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রাণহানি ১         যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ শিশুসহ প্রাণহানি ১০         উন্নত দেশে অভিবাসন শুধুই কী প্রশান্তির!         যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডা ও মেক্সিকো সীমান্ত বন্ধের মেয়াদ বাড়লো