শুক্রবার, ৪ আষাঢ় ১৪২৮
১৮ জুন ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

'মা' দিবসের ইতিকথা

উইমেনআই২৪ ডেস্ক: জন্মদাত্রী মাকে ভালোবাসার জন্য ঘটা করে কোন নির্দিষ্ট দিনক্ষণের প্রয়োজন নেই। মায়ের জন্য ভালোবাসা চিরন্তন। সবাই প্রতি মুহূর্তে মায়ের সংস্পর্শে থাকতে চায়। তারপরও বছরের একটি দিন শুধু মা’কে উৎসর্গ করে মায়ের জন্য নিবেদিত রাখার কথা প্রথম ভাবেন আমেরিকান সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্ড। তার প্রচেষ্ঠায় আধুনিক মা দিবসের সূচনা নয়। তবে আধুনিক মা দিবসের ধারণার প্রবর্তক অ্যান জার্ভিস। তিনি ছিলেন একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। যুদ্ধবিধ্বস্ত আমেরিকায় নারীদের স্বাস্থ্যরক্ষার গুরুত্ব নিয়ে তিনি কাজ করছিলেন। তার কাজের মূল বিষয়ই ছিল পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যরক্ষার প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধি। এর পূর্বে বিভিন্ন দিনের কথা জানা যায় যেখানে মা দিবসের ধারণা রোপণ করা হয়েছিল। প্রাচীন গ্রিসে মা দিবসের আয়োজন হতো ঘরে ঘরে। প্রতি বসন্তকালে একটি দিন দেবতাদের মা ‘রিয়া', যিনি ক্রোনাসের সহধর্মিণী তার উদ্দেশ্যে উদযাপন করা হতো। মা দিবস তখনো এত ব্যাপ্তি লাভ না করলেও এই ধারণাটির গোড়াপত্তন ঘটে। আবার কথিত আছে, আজ থেকে ১৫০ বছর আগের সপ্তাহের রবিবারের সকালটা অ্যানা জারভিসের জন্য একদম অন্যরকম ছিল। নিজের প্রতিষ্ঠিত সানডে স্কুলে বাচ্চাদের দিতেন বাইবেল পাঠ। এই পাঠদান কালে বাচ্চাদের জন্য তার মায়া সৃষ্টি হয়। বাচ্চাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার নিজের মায়ের ছবি খুঁজে ফিরতেন। ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় মায়ের মুখচ্ছবিকে লালন করতে চাইলেন তিনি। এই বোধ থেকেই ১৯০৫ সালে মাকে ভালোবাসা ও সম্মান জানাতে প্রবর্তন করেন মাদার্স ডে বা মা দিবসের। তবে যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর স্বীকৃতি ও প্রসার ঘটে ১৯১৪ সালে। কিন্তু এর প্রসার ঘটে আরো অনেক পরে। এর আগে আধুনিক মা দিবস পালনের কথা জানা যায়। মা দিবস উদযাপনের সূত্রপাত ঘটায় মার্কিন সমাজকর্মী জুলিয়া ওয়ার্টস। প্রতি বছর মে মাসের চতুর্থ রবিবারকে মাদারিং সানডে হিসাবে পালন করা হতো ব্রিটেনে। এটা ছিল সতের শতকের কথা। মায়ের সঙ্গে সময় দেওয়া ও মায়ের জন্য উপহার কেনা ছিল দিনটির কর্মসূচিতে। এরপর আমেরিকার পশ্চিম ভার্জিনিয়াতে প্রথম মা দিবস পালন করা হয় ১৮৫৮ সালে। জুনের ২ তারিখকে তারা বেছে নিয়েছিল মা দিবস হিসেবে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন সর্বপ্রথম মা দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেসে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে ‘মা' দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে এই দিনে আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে মা দিবস। অ্যান জার্ভিস দিনটির সরকারি অনুমোদন পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের চেষ্টা চালাতে থাকেন; কিন্তু সফল হতে পারেননি। তার মৃত্যুর পর তার মেয়ে অ্যানা জার্ভিস মায়ের অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণের কাজে হাত দেন। তিনি চেষ্টা করতে লাগলেন একটি বিশেষ দিন ঠিক করে ‘মা দিবস'টি উদযাপন করার জন্য। সে লক্ষ্যেই ১৯০৮ সালের ১০ মে তিনি পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রাফিটন শহরের সেই চার্চে, যেখানে তার মা অ্যান জার্ভিস রবিবার পড়াতেন সেখানে প্রথমবারের মতো দিনটি উদযাপন করলেন। এরপর থেকেই আস্তে আস্তে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি বিস্তৃত হতে থাকে চারপাশে এবং এক সময় ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, অন্য বিশেষ দিনগুলোর চেয়ে এ দিনটিতে সবচেয়ে বেশি ফোন কল হয়।

উইকিপিডিয়া অনুসারে মা দিবসের তাৎপর্যের মূলে আছে তিনটি বিষয়- ১. সব মায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ২. সব মাতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ৩. সমাজে মায়েদের প্রভাবের প্রতিফলন। ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আনা জারভিসের মা মারা গেলে তার মাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে আনা জারভিস প্রথম মা দিবস পালন করেন। ১৯২০ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রায় সব দেশে মা দিবসের প্রচলন শুরু হয়।

শীর্ষ সংবাদ:
বিএনপি নেত্রী নিপুন রায়ের মুক্তি         'আত্মগোপনে ছিলেন ত্ব-হা'         ঢাবিতে ভর্তি ও ফরম ফিল-আপ করা যাবে অনলাইনে         মাইক্রোসফটের নতুন চেয়ারম্যান ভারতীয় বংশোদ্ভূত সত্য নাদেলা         বিচারকদের ভর্ৎসনার মুখে অভিনেত্রী         অন্তর্বাসের মডেল হলেন প্রিয়াঙ্কা         খোঁজ মিলল আবু ত্ব-হার         চীন থেকে টিকা দেশে পৌঁছালো         ৩৫তম ফোবানা সম্মেলনের নতুন দিনক্ষণ নির্ধারণ         রাজশাহীতে করোনায় আরো ১২ জনের মৃত্যু         ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে কয়েক কোটি টাকা উধাও         গার্ড অব অনার নিয়ে ধূম্রজাল কেন?         অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা পাবেন বিদেশগামী কর্মীরা         যুক্তরাষ্ট্র গেলেন সাকিব         মহাকাশ স্টেশন নির্মাণে নভোচারী পাঠাল চীন         তসবি পাঠ করে ১২৪ নারীর অর্থ উপার্জন!         গায়ে হলুদের গান বাজাতে গিয়ে প্রাণ গেল বরের         ‘দেশে গণমাধ্যমের অবাধ বিকাশ ঘটেছে’         ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকসেবনে বৃদ্ধের মৃত্যু!         ‘বিদেশে চাকুরি প্রত্যাশীদের সতর্ক থাকতে হবে’         নারী যেভাবে ডিজিটাল যৌন অপরাধের শিকার হচ্ছেন