বুধবার, ২ আষাঢ় ১৪২৮
১৬ জুন ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

পৃথিবীর বিখ্যাত ১২ নারী

নাফিসা আনজুম: বিগত বছরগুলোতে ইতিহাসে এমন কিছু বুদ্ধিমান, শক্তিশালী এবং অনুপ্রেরণামূলক নারীর আবির্ভাব হয়েছিল যারা নারী অধিকার আদায়ে এবং জাতিগত বৈষম্য দূর করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন। গণিত, বিজ্ঞান, নভোবিজ্ঞান এবং সাহিত্যের মতো জগতকে নিজের আলোকে আলোকিত করেছেন।

তাদের মাঝে অনেকেই ছিলেন উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ অথবা কেউ ছিলেন সফল শাসক। তবে তাদের পরিচয় বা কাজ যতই ভিন্ন হোক না কেন তারা নির্দ্বিধায় পৃথিবীকে একটি বাসযোগ্য স্থানে পরিণত করার চেষ্টা করেছেন।

এই ১২ জন নারী ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে আছেন কারণ তারা তাদের চারপাশের সকল নিয়মকে উপেক্ষা করে নিজের ব্যক্তিত্ব এবং কর্মক্ষেত্রে নিজের অবস্থানকে তুলে ধরেছেন।

এই হলো সেই ১২ জন নারীর তালিকা যারা পৃথিবীকে বদলে দিয়েছেন

১. জেন অস্টেন (১৭৭৫-১৮১৭)
একদা জেন অস্টেন বলেছিলেন, ‘একজন ভদ্রলোক অথবা একজন ভদ্রনারী যে-ই হোক না কেন, যিনি একটি ভালো উপন্যাস পড়ে সুখানুভব না করতে পারেন নিতান্তই তিনি একজন বোকা মানুষ।

আমরা সকলেই জেন অস্টেনকে সাহিত্যের রোমান্টিক-কমেডি গল্পের রানী হিসেবে বলে থাকি। তিনি তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সমাজকে পর্যবেক্ষণ করে সাহিত্যে নতুন একটি রীতির আবিষ্কার করেছেন। অস্টেনের জন্ম ইংল্যান্ডের ৮ সন্তানের একটি পরিবারে হয়েছিল। অস্টেন তার কৈশোর বয়সেই প্রাইড এন্ড প্রেজুডিস, সেন্স এন্ড সেনসিবিলিটির মতো উপন্যাস লিখা শুরু করেছিলেন, যেগুলোকে এখন বড় মাপের উপন্যাস হিসেবে ধরা হয়।

তার লেখা উপন্যাসগুলো সমাজের মাঝে নারীদের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অস্টেন সে সময় তার লেখা উপন্যাসগুলোর লেখিকা হিসেবে নিজের পরিচয় গোপন রেখেছেন। কেউই বিষয়টি জানতো না। তার মৃত্যুর পরে তার ভাই হেনরি বিষয়টি সবার সামনে প্রকাশ করেছেন যে তিনিই উপন্যাসগুলোর আসল লেখিকা ছিলেন।

২. অ্যান ফ্র্যাঙ্ক (১৯২৯-১৯৪৫)
অ্যান ফ্র্যাঙ্কের চিন্তামতে, ‘এটা কতই না আশ্চর্যজনক যে পৃথিবীর উন্নতির কাজ শুরু করার আগে কারো এক মুহূর্তও অপেক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে না।’

‘দ্য ডায়েরি অব অ্যান ফ্র্যাঙ্ক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম শক্তিশালী, সৎ এবং নানারকম মজাদার বিবরণ বহন করা একটি বই। বইটি লিখেছিলেন একজন জার্মান কিশোরী যার নাম অ্যান ফ্র্যাঙ্ক। অ্যান এবং তার পরিবার হিটলারের শাসনকালে জার্মানীতে বসবাস করতো এবং পরবর্তীতে অস্ট্রিয়ায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্র্যাঙ্ক পরিবার এবং তদের সাথে আরো চারজন একত্রে একটি গোপন স্থানে লুকিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে ১৯৪৪ সালে তাঁদের অবস্থানের কথা জানতে পেরে তাঁদের বন্দি-শিবিরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। ফ্র্যাঙ্ক পরিবারের মধ্যে কেবল অ্যানের বাবা বেঁচে ছিল এবং তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে তিনি অ্যানের লিখা এই ডায়েরি প্রকাশ করবেন। অ্যান ফ্র্যাঙ্কের ডায়েরিটি প্রায় ৭০ টি ভাষায় অনুবাদ হয়েছে এবং বইটি ইতিহাসের সবচেয়ে অমানবিক মুহূর্তগুলোর একটি অন্তরঙ্গ চিত্র তুলে ধরেছেন এবং আবেগ, প্রেম, আশা, আকাঙ্ক্ষা, ভয় এবং সর্বজনীন মানবিক গুণাবলী সম্পর্কে আমাদের শিক্ষিত করতে সক্ষম।

৩. মায়া অ্যাঞ্জেলো (১৯২৯-২০১৪)
মায়া অ্যাঞ্জেলো আমেরিকান ইতিহাসের একজন অন্যতম প্রভাবশালী নারী এবং তিনি ছিলেন কবি, গায়ক, স্মৃতিকথা লেখিকা এবং নাগরিক অধিকার কর্মী। মায়া অ্যাঞ্জেলোর লেখা ‘আই নো হোয়াই দ্য কেইজড বার্ড সিংস’ সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম সেরা নন ফিকশন বিক্রয়কারী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

অ্যাঞ্জেলোর শৈশবকাল ছিল কিছুটা কঠিন। আরাকানসাসের স্ট্যাম্পে একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে বেড়ে উঠা মায়া সারাজীবন বর্ণবাদী কুসংস্কার এবং বৈষম্য সহ্য করেছিলেন। সাত বছর বয়সে অ্যাঞ্জেলোকে তার মায়ের প্রেমিক পাশবিক নির্যাতন করেছিল, পরবর্তীতে অ্যাঞ্জেলোর চাচারা প্রতিশোধ হিসেবে তাকে হত্যা করেছিল। এই ঘটনাটি অ্যাঞ্জেলোকে এমনভাবে আঘাত করেছিল যে তিনি বহু বছর ধরে কারো সাথে কোনো কথা বলেনি।

‘আই নো হোয়াই দ্য কেইজড বার্ড সিংস’ এবং পাশাপাশি তার আরো উল্লেখযোগ্য কাজগুলো নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অন্যতম উচ্চ কণ্ঠ ছিল। তাছাড়াও পরিচয়, ধর্ষণ, বর্ণবাদ এবং স্বাক্ষরতার মতো বিষয়গুলি সন্ধান করে এবং সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা কীভাবে মানসিক আঘাতকে পরাজিত করতে পারে এটিও তার রচণাগুলির অন্যতম বিষয়বস্তু।

মায়া অ্যাঞ্জেলো বলেছিলেন, “আমি মানুষের সাথে মেলামেশা করে শিখতে পেরেছি যে, মানুষ ভুলে যাবে তুমি কি বলেছিলে, মানুষ এটিও ভুলে যাবে যে তুমি কি করেছিলে কিন্তু যা ভুলবে না তা হলো, তুমি তাঁদের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কিভাবে অনুভব করিয়েছো” ।

৪. রানী এলিজাবেথ-প্রথম (১৫৩৩-১৬০৩)
রানী এলিজাবেথ-প্রথম নিজেকে ‘কুমারী রানী’ হিসেবে সম্বোধন করতেন। কারণ তিনি একজন পুরুষকে বিয়ে না করে তাঁর দেশকে বিয়ে করেছেন। যদিও এটি প্রাচীনকালের কথা, রানী এলিজাবেথ-প্রথম ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল শাসক ছিলেন এবং তাঁর অধীনে ইংল্যান্ড বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন রাজনীতি, বানিজ্য এবং চারুকলার একটি প্রধান ইউরোপীয় শক্তি হয়ে উঠেছে।

এলিজাবেথ-প্রথম এর সিংহাসনের যাত্রা যথেষ্ট কঠিন ছিল এবং প্রথাগতভাবে তাঁর একজন শাসক হওয়ার কোনো কথাই ছিল না কারণ তিনি একজন নারী এবং তাঁর মা অ্যান বোলেন ,হেনরি-অষ্টম এর সবচেয়ে ঘৃণিত প্রাক্তন স্ত্রী।

যাই হোক, রানী এলিজাবেথ-প্রথম সকলকে ভুল প্রমাণ করে এবং একজন সেরা নারী নেত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বুদ্ধিমত্তা, চতুরতা এবং উত্তেজনার জন্য খ্যাত, ‘কুমারী নারী’ ইতিহাসের সত্যিকারের একজন অন্যতম সেরা নারী ছিলেন।

রানী এলিজাবেথ-প্রথম বলেছিলেন, “যদিও আমি একজন দুর্বল লিঙ্গ হিসেবে বিবেচিত, কিন্তু আমি এমনই এক পাথর যাকে কোনো বাতাস তার দিকে বাকাতে পারবে না”।

৫. ক্যাথরিন দ্য গ্রেট (১৭২৯-১৭৯৬)
ক্যাথরিন বলেছিলেন, “একটি জাতির আত্মবিশ্বাস ছাড়া শক্তির কোনো মূল্যই নেই”।

ক্যাথরিন দ্য গ্রেট বিশ্বের অন্যতম একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রুশিয়ান বংশোদ্ভূত রানী যিনি নিষ্ঠুর নারীদের তালিকায় নিজেকে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন।

রাশিয়ান রাজা পিটার-তৃতীয় এর সাথে একটি প্রেমহীন বিয়েতে আটকে থাকা ক্যাথরিন তাঁর স্বামীকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য একটি অভ্যুত্থানের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তারপর ১৭৬২ সালে নিজেকে রাশিয়ান সাম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।

ক্যাথরিনকে রাশিয়ার আধুনিকীকরণের জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয় এবং মেয়েদের জন্য প্রথম রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা, রাজ্যের মধ্যে গির্জার শক্তি ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং চারুকলার বিকাশকে উৎসাহিত করতে ক্যাথরিন তাঁর অতুলনীয় ভূমিকা পালন করেন।

তিনি তাঁর যৌন ক্ষুধার জন্যও পরিচিত, তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর অসংখ্য প্রেমিক ছিল। ক্যাথরিন তাঁদের বদলানোর আগে তাঁদের নানা পদে ভূষিত করতেন এবং প্রচুর সম্পদ উপহার করতেন।

৬. রোজা পার্কস (১৯১৩-২০০৫)
পার্কস বলেছিলেন, তিনি এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকতে চান যিনি মুক্ত হতে চেয়েছিল, যাতে অন্যরাও স্বাধীন থাকতে পারে।

১৯৫৫ সালে রোজা পার্কস মন্টগোমেরি, আলাবামার একটি বাসে ছিলেন, বাসে থাকা অবস্থায় বাস চালক তাকে সিট থেকে উঠে দাঁড়াতে বললেন এবং একজন সাদা লোককে তাঁর সিটে বসতে দেয়ার জন্য আদেশ দিলেন। রোজা পার্ক্স যিনি একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী, তিনি সেই বাস চালকের এই আদেশ প্রত্যাখ্যান করলেন এবং তাঁর এই কাজ পুরো আমেরিকাতে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সূচনা করেছিল।

রোজা পার্কসের জন্ম ১৯১৩ সালে এবং ১১ বছর বয়সে তিনি আলাবামায় চলে আসেন এবং সেখানে একটি ল্যাবরেটরি স্কুলে এবং আলাবামা স্টেট টিচার্স কলেজ ফর নেগ্রোস এ পড়াশোনা করেন একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত, তারপর তাঁর অসুস্থ নানীর সেবা করার জন্য তাঁকে চলে যেতে হয়।

১৯৫৫ সালের পূর্বে পার্কস মন্টগোমেরির একজন আফ্রো-আমেরিকান সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন এবং ১৯৪৩ সালে তিনি এন এ এ সিপিতে যোগদান করেন যেখানে পরবর্তীতে তিনি একজন অধ্যায় সচিব পদে ভূষিত হন।

১৯৫৫ সালে, আলাবামায় তখনও বিভাজন আইন প্রচলিত ছিল এবং সেসময় পৌর বাসগুলির জন্য একটি নীতি ছিল যেখানে সাদা নাগরিকদের কেবল সামনের দিকে বসতে দেওয়া হবে, এবং কালো পুরুষ এবং মহিলাদের পিছনে বসতে হবে। ১ লা ডিসেম্বর, সাদা নাগরিকদের বসার অংশে আর কোনো আসন খালি ছিল না, তাই বাসের কন্ডাক্টর চারজন কালো যাত্রীকে দাঁড়িয়ে সাদা ব্যক্তিকে পুরো সারি দেওয়ার জন্য বলেছিল। যাদের মধ্যে তিনজন এই আদেশ মানেন আর পার্ক মানেনি।

পার্কসকে পরবর্তীতে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর এই কার্যকলাপ পুরো আমেরিকা জুড়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত করে। ২০০৫ সালের ২৪ অক্টোবর ৯২ বছর বয়সে পার্ক্স মারা যান। তিনি মার্কিন ইতিহাসের প্রথম নারী যাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে দাফন করা হয়।

৭. মালালা ইউসুফজাই (১৯৯৭-বর্তমান)
মালালা মনে করেন, “তিনি তাঁর গল্প সকলের কাছে বলে থাকেন কারণ তাঁর গল্প তুলনাহীন নয়, বরং প্রত্যেক নারীরই গল্প একরকম আর এতে কোনো ভিন্নতা নেই।’

মালালা ইউসুফজাই ১৯৯৭ সালের ১২ জুলাই পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ইউসুফজাইয়ের বাবা একজন শিক্ষক ছিলেন এবং তিনি তাঁর গ্রামে একটি স্কুল চালাতেন যেখানে সব মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারবে। তবে তালেবানরা তাদের শহর দখল করার সময় তারা সমস্ত মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ২০১২ সালে, ১৫ বছর বয়সে, মালালা প্রকাশ্যে নারীদের শিক্ষার অধিকারের বিষয়ে কথা বলেছিলেন এবং ফলস্বরূপ, একজন বন্দুকধারী তার স্কুলবাসে উঠে মালালার মাথায় গুলি করেন। তবে ভাগ্যক্রমে মালালা বেঁচে গেলেন।

ইউসুফজাই যুক্তরাজ্যে চলে যান যেখানে তিনি পুরো পৃথিবীর সামনে নিজের উপস্থিতিকে তুলে ধরেন। মালালা, ২০১৪ সালে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে, সর্বকনিষ্ঠতম নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেয়েছেন। মালালা বর্তমানে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন, রাজনীতি এবং অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।

৮. সোজার্নার ট্রুথ (১৭৯৭-১৮৮৫)
সোজার্নার ট্রুথ বলেছেন, “সত্য শক্তিশালী এবং এটি বিরাজমান।’

সোজারনার ট্রুথ আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে অনুপ্রেরণামূলক কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে একজন এবং তার বক্তৃতাগুলোকে নারীদের বিখ্যাত বক্তৃতাগুলোর মধ্যে অন্যতম ধরা হয়। ট্রুথ একজন দাসপ্রথা বিলুপ্তকারী আফ্রো-আমেরিকান এবং একজন নারী অধিকার কর্মী। ১৮৫১ সালে অ্যাক্রোনে ’ওহিও উইমেন্স রাইট কনভেনশনে’ তিনি একটি বিখ্যাত বক্তৃতা দিয়েছিলেন, যা "আমি কি নারী নই?" শিরোনামে পরিচিত।

ট্রুথকে নয় বছর বয়সে তাঁর পরিবার থেকে আলাদা  করা হয় এবং পরবর্তীতে একটি ভেড়ার পালের সঙ্গে ক্রীতদাস হিসাবে ১০০ ডলারে নিলামে বিক্রি করা হয়। ১৮২৯ সালে ট্রুথ তার শিশু কন্যা সোফিয়াকে নিয়ে পালিয়ে দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়, কিন্তু তাঁর অন্য দুই সন্তানকে পিছনে ফেলে আসতে হয়।

ট্রুথ ১৮৪০ সালের শেষের দিকে নারী এবং আফ্রো-আমেরিকানদের অধিকারের পক্ষে কথা বলা শুরু করেন এবং তিনি নারীদের অধিকার, জেল সংস্কার ও সার্বজনীন ভোটাধিকার সম্পর্কে আবেগপূর্ণ বক্তৃতা দেওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন। ট্রুথ, যিনি ১৮৮৩ সালে মিশিগানে মারা যান, দাসপ্রথা বিলুপ্তি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা এবং মহিলাদের অধিকারের জন্য প্রথম দিকের প্রবক্তাদের মধ্যে একজন হিসাবে পরিচিত।

৯. ইডিথ কাউয়ান (১৮৬১-১৯৫২)
“আমরা প্রত্যেক নারীই চাই সমানভাবে পুরুষদের সাথে এগিয়ে যাব, আমাদের এর থেকে বেশি বা এর থেকে কম কোনোটাই কাম্য নয়।’

ইডিথ কাউয়ান একজন অস্ট্রেলিয়ান নারী যিনি অস্ট্রেলিয়ান সংসদে প্রথম নারী সদস্য হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং একজন নারী অধিকার কর্মী ছিলেন।

কাউয়ানের ছোটবেলা অন্য সকল বাচ্চাদের মতো স্বাভাবিক ছিল না। কাউয়ানের মা তাকে জন্ম দেয়ার সময় মৃত্যুবরণ করেন পরবর্তীতে তাঁর বাবা আরেকটি বিয়ে করে। ৭ বছর বয়সে কাউয়ানের বাবাকে তার সৎ মাকে খুন করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে কাউয়ানের বয়স যখন ১৫ বছর তখন তাঁর বাবাকে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

অল্প বয়সেই ইডিথ নারী অধিকার নিয়ে কাজ করেন এবং ৫৯ বছর বয়সে তাঁর অস্ট্রেলিয়ান সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন বহুল আলোচিত এবং অপ্রত্যাশিত ছিল। সংসদে তার সময়ে সে অনেক প্রচেষ্টার মাধ্যমে নারীদের আইনি পেশায় জড়িত করার অনুমতি দিয়েছিল। তাছাড়াও বিদ্যালয়ে অভিবাসী কল্যাণ এবং যৌন শিক্ষার প্রচার করেছিলেন।

৭০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

১০. অ্যাডা লাভলেস (১৮১৫-১৮৫২)
অ্যাডা লাভলেস ছিলেন একজন ইংরেজ গণিতবিদ এবং বিশ্বের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার।  লাভলেস এক বিখ্যাত রোমান্টিক কবি লর্ড বায়রন এবং লেডি ওয়ান্টওয়ার্থের কন্যা হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অ্যাডার বয়স যখন ২ বছর ছিল তখন তাঁর বাবা লর্ড বায়রন তাঁকে ছেড়ে চলে যান।

অ্যাডা একজন সামাজিক নারী ছিলেন যার চার্লস ডিকেন্সের মতো লোকের সাথে বন্ধুত্ব ছিলো, তবে তিনি কম্পিউটারের উদ্দেশ্যে তৈরি একটি অ্যালগরিদম প্রকাশকারী  প্রথম ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত, তাও তার মেধা তার সময়ের চেয়ে বহু বছর এগিয়ে ছিল।

লাভলেস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৩৬ বছর বয়সে মারা যান এবং ব্যাবেজের অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন সম্পর্কে তার নোটগুলোর প্রশংসা পেতে তাঁর মৃত্যুর পর প্রায় এক শতাব্দী লেগে গিয়েছিল, তাঁর লেখা কম্পিউটার এবং সফটওয়্যার সম্পর্কিত বিবরণীর জন্য প্রথম স্বীকৃতি পায়।

১১. অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট (১৮৯৭-১৯৫৯)
“প্রত্যেকটি নারীর জীবনে চলার পথে সাহসিকতার সাথে নতুন নতুন জিনিস চেষ্টা করা উচিত যেমনটা প্রত্যেক পুরুষ করে থাকে। তারপর যদি সে তার প্রচেষ্টার ফলে ব্যর্থ হয়েও থাকে, তাহলে তাদের ব্যর্থতা অন্যদের কাছে চ্যালেঞ্জ স্বরুপ প্রদর্শিত হবে।’

অ্যামেলিয়া সকল নিয়মকে উপেক্ষা করে একজন আমেরিকান বিমানচালক হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনিই প্রথম নারী যিনি পুরো আটলান্টিক জুড়ে একা উড়ে বেড়ায় এবং তিনিই প্রথম নারী বিমানচালক যিনি হাওয়াই থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একা উড়ে প্রথম যাত্রা করেন। অ্যামেলিয়া ছিলেন একজন অগ্রণী বিমানচালক এবং একজন সত্যিকারের নারী প্রবর্তক।

অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট ১৮৯৭ সালে ক্যানসাসে জন্মগ্রহণ করেন। বড় হওয়ার সময় তিনি প্রচুর বাস্কেটবল খেলতেন এবং পরবর্তীতে কলেজে ভর্তি হন। ১৯২০ সালে ইয়ারহার্ট বিমানচালনার অনুশীলন শুরু করেন এবং তিনি দ্রুত তাঁর পাইলটের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়, ১৯২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি তাঁর বিমান পরীক্ষায় পাস করেন।

ইয়ারহার্ট একাধিক বিমান চলাচলের রেকর্ড তৈরি করেছিল তবে পরবর্তীতে তিনি নিখোঁজ হয়ে যান এবং সকলে তাঁর মৃত্যু অনুমান করেন। ১৯৩৭ সালের জুলাইয়ে, ইয়ারহার্ট প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিখোঁজ হয়ে যায় এবং ১৯৩৯ সালে তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁকে অবশেষে মৃত ঘোষণা করা হয়। আজ অবধি তাঁর বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায় নি।

তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম বৃহৎ অমীমাংসিত রহস্য হিসেবে রয়ে গেছে।

১২. মেরি কুরি (১৮৬৭-১৯৫৪)
পলিশ-বংশোদ্ভূত মেরি কুরী ছিলেন একজন অগ্রণী পদার্থবিদ এবং বিজ্ঞানী। যিনি তেজস্ক্রিয়তা শব্দটি উদ্ভাবন করে আবিষ্কার করেছিলেন দুটি নতুন পদার্থ রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম। এছাড়াও পোর্টেবল এক্স-রে মেশিনের উন্মোচন করেন।

কুরি প্রথম ব্যক্তি যিনি দুটি পৃথক নোবেল পুরষ্কার জিতেছিলেন, একটি পদার্থবিজ্ঞানে এবং অন্যটি রসায়নবিদ্যায়। এখন পর্যন্ত কুরি একমাত্র ব্যক্তি যিনি দুটি ভিন্ন বিজ্ঞানের জন্য নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন।

কুরি তার সম্পূর্ণ কর্মজীবন জুড়ে অবিরত প্রতিকূলতা এবং বৈষম্যের সম্মুখীন হয়। কারণ সেকালে বিজ্ঞান এবং পদার্থ ছিল কিছুটা পুরুষ সমাজের অধীনে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তার গবেষণা প্রাসঙ্গিক থাকে এবং এটি আজ অবধি বিজ্ঞান জগতকে প্রভাবিত করছে।

মেরি কুরি বলেছিলেন, “জীবনে কোনোকিছুকে ভয় পেয়ে চললে হবে না, এখনই সময় পরিস্থিতিকে বোঝার এবং নির্ভয়ের সাথে সামনে এগিয়ে যাওয়ার।’

শীর্ষ সংবাদ:
রাজধানীতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা         সেতু আছে; রাস্তা নেই, সংযোগ সড়ক!         আমার বিশ্বাস সঠিক বিচার পাব: পরীমণি         মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নারীদের চাকরি         ‘যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফকে দক্ষ করা হচ্ছে’         ‘দুর্যোগেও চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন তৃতীয় স্থানে’         দেশে এক ডোজের করোনা টিকার অনুমোদন         মাদক মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে নাসির-অমি         অনিয়ম মোকাবিলায় হজ ও ওমরাহ পরিচালনা বিল পাশ         ডিবি কার্যালয়ে পরীমণি         জিততে পারল না আর্জেন্টিনা         আজ বর্ষার প্রথম দিন         চীনা কুকুর ছিনিয়ে নিলো বিজয়ের মুকুট         পরীমণির মামলা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ         পরীমণিকে ডিবি কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে         আপনারাই আমার সাহস: পরীমণি         আফগানিস্তানের নারী পুলিশ সদস্যরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন         গার্ড অব অনারে নারী ইউএনও'র আপত্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি         জাতিসংঘ মিশনে ‘বঙ্গবন্ধু লাউঞ্জ’         ফেনীতে একসঙ্গে ৪ কন্যাসন্তানের জন্ম         ‘নারীর অধিকার দেয়ার ব্যাপারে সৌদি পুরুষ ভীষণ ভীত’