মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
১৮ মে ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

কেমন আছেন কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকরা

ফারজানা ফাতেহা: 'কিন্ডারগার্টেন 'মধ্যবিত্ত শ্রেণির সন্তানদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত শিখা প্রতিষ্ঠানের এক অনন্য পরিচয়। ঢাকার অলিতে-গলিতে এমনকি জেলা শহরগুলোতেও চোখ রাখলেই দেখা যায় অসংখ্য কিন্ডারগার্টেন। সরকারি স্কুলের চেয়ে পড়াশুনার মান ভালো হওয়ায় এবং শহরে সরকারি স্কুল প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় মধ্যবিত্তদের বেশিরভাগ সন্তানরা পড়াশুনা করেন এসব কিন্ডারগার্টেন এ। এসব স্কুলের খরচ কিছুটা বেশি হলেও অভিভাবকদের কাছে খুব জনপ্রিয়।

এসব কিন্ডারগার্টেন স্কুল বেশিরভাগ বেতন নির্ভর। বেশিরভাগ স্কুলের নিজস্ব ভবন নেই, ভাড়াবাড়িতে এগুলো অবস্থিত।

গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বেতন নির্ভর নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্য প্রতিষ্ঠিত স্কুলগুলো টাকার অভাবে বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় স্কুল বিক্রির নোটিশও দেখা গিয়েছে।

সরকারি বোর্ড বই ছাড়া অন্যকোনো সাহায্য তারা সরকার থেকে পায় না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে এসব স্কুলে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। স্কুলের সামান্য বেতন ও টিউশন পড়িয়েই চলে তাদের সংসার। স্কুল বন্ধের সাথে সাথে টিউশনিও বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন শিক্ষকরা। কেউ কেউ শিক্ষক বাড়িভাড়া দিতে না পেরে গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছেন। অনেকেই বদলে ফেলেছেন নিজের পেশা।

ঢাকার আদাবর এ অবস্থিত তেমনি একটি কিন্ডারগার্টেন 'সুইটবার্ড স্কুল'। গত বছর থেকেই বন্ধ রয়েছে স্কুলটি। এখানে প্রায় ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে, যাদের বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। দোতলা ভবন বিশিষ্ট স্কুলটি একটি ভাড়া বাসার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন নাহার। তিনি আমাদের স্কুলের বর্তমান অবস্থা জানালেন।

‘‘আগে ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে প্রতি মাসে যে পরিমাণ বেতন জমা হত ‘গত বছর থেকে এ পর্যন্ত’ প্রতি মাসে তার অর্ধেকেরও অনেক কম হয়। নতুন বছর শিক্ষার্থীদের যে ভর্তির বিষয়টি থাকে সেটিও এবছর হয়নি। কিছু শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ভর্তির টাকা দিতে অপারগতা জানালে ভর্তি ছাড়াই আবার নতুন বছর অনলাইন ক্লাস শুরু করে দেই। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা নিচ্ছি কিন্তু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। শিক্ষক শিক্ষিকাদের বেতন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। যারা অনলাইন ক্লাস নিচ্ছেন তাদের নাম মাত্র টাকা দিচ্ছি। স্কুলের ভাড়া প্রতি মাসে অনেক টাকা, এখন তো ঠিকমতো ভাড়ার টাকা'ই উঠাতে পারছি না। প্রতি মাসেই কিছু ঘাটতি থাকছে। এভাবে চলতে থাকলে কতোদিন স্কুল টিকিয়ে রাখতে পারবো বলতে পারছি না। অনেক কষ্টে বিগত ১৫ বছরে গড়ে তুলেছি এই প্রতিষ্ঠান, তাই ছেড়েও দিতে পারছি না। প্রতিনিয়ত দোয়া করছি খুব তাড়াতাড়ি যেন সবকিছু ঠিক হয়ে যায়।’’

ওই স্কুলের শিক্ষার্থী জিনিয়া ইসলামের অভিভাবক বলেন, ‘‘আমি একটি বহুজতিক কোম্পানির সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে কাজ করি। করোনার জন্য আমার বেতন ৪০ শতাংশ কমে গিয়েছে। জিনিয়াসহ আমার আরো ২ সন্তান স্কুলে পড়াশোনা করে। প্রথম কয়েকমাস সবকিছু ঠিকঠাক মতো চালাতে পারলেও এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া ও চিকিৎসা সবকিছু মিলিয়ে  সংসার চালাতেই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাই এই মুহূর্তে স্কুলের বেতন দেয়ার কোনো উপায় দেখছি না।’’

সবচেয়ে বেশি বিপদে আছেন এই স্কুলের শিক্ষকরা। তাদেরই একজন গাজি কারামত আলী। তিনি এখন শিক্ষকতা পেশা বদলে ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, "জিনিসপত্রের অত্যাধিক দাম, যানবাহনে অধিক ভাড়া, মানুষের অভাব সব মিলিয়ে ব্যাবসাতেও লাভ হচ্ছে না। কষ্টেই দিনকাল যাচ্ছে।"

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৩ মে পর্যন্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে ২য় ধাপে আবার করোনা সংক্রমণের কারণে আদৌ খুলবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। 

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
সাংবাদিক হেনস্থা করায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে         স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট করায় আমার সাথে অন্যায় হচ্ছে : রোজিনা         রিমান্ড নাকচ, সাংবাদিক রোজিনাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ         স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কটের ঘোষণা সাংবাদিকদের         রোজিনা ইসলামকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ         সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নেওয়া হলো আদালতে         একজন সাংবাদিকের প্রথম কাজ সত্য খুঁজে বের করা         রোজিনাকে সচিবালয়ে আটকে রেখে মারধর         প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা         রোজিনা ছিঁচকে চোর না, সে এদেশের সবচেয়ে নন্দিত সাংবাদিক         আমার বিরুদ্ধেও মামলা দেন         সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সুচিকিৎসা দিয়ে দায়িত্ব পালনে ফিরে যেতে দেওয়া হোক         পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে থানায় নেওয়া হলো প্রথম আলোর রোজিনা ইসলামকে         প্রথম আলোর রিপোর্টারকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে আটকে হেনস্থা করা হয়েছে         জীবনযুদ্ধে জয়ী আকলিমা চাকরি পেলেন পৌরসভায়         মাথাপিছু আয় এখন ২২২৭ ডলার         সংবাদ মাধ্যমের অফিস লক্ষ্য করে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাব         ভারতফেরত তরুণীকে কো'য়ারেন্টিনে ‘ধ'র্ষণ’, এএসআই গ্রে'প্তার         সেদিন অনেক ঝড় মাথায় নিয়েই দেশে এসেছিলাম: শেখ হাসিনা         ব্যাংক কর্মকর্তারা দুর্নীতি করলে জরিমানা-মামলা         পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বর্ডার বন্ধ