মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
১৮ মে ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

উর্দু সিনেমার রহস্যময়ী রাজমাতা শবনম

মিলি সুলতানা: একদিন পাকিস্তানের শাসক জিয়াউল হক তার বাসভবনে এক জমকালো পার্টির আয়োজন করেন। সেই পার্টিতে আমন্ত্রিত ছিলেন নূরজাহান, মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ আলী, জেবা আলী, সাবিহা, নীলো, ওয়াহিদ মুরাদ, নাদিম, মেহনাজের মত তারকা শিল্পীরা। সেই পার্টিতে সংগীত পরিচালক রবিন ঘোষ তাঁর রূপসী স্ত্রী শবনমকে নিয়ে গিয়েছিলেন। শবনম তখন ললিউডের হিট নায়িকা। শবনমের পরণে ছিল বেগুনি রঙের ফিনফিনে শিফন শাড়ি। পুরো শাড়িতেই সোনালি চুমকি ও জরি সুতা দিয়ে থোকা থোকা ফুলের ডিজাইন করা। শরীরে দামী অলংকারের ছড়াছড়ি। চোখ ধাঁধানো এমন সুন্দরী নায়িকা নিয়ে ললিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি খুশিতে গদগদ ছিল। শবনমের চুলের খোঁপাটি ছিল বড় করে বাঁধা। তাঁর খোঁপার উপর উপস্থিত সবার চোখ আটকে গিয়েছিলো। সোনালি জরির নেট ও পাথর বসানো ক্লিপ দিয়ে সাজসজ্জা করা হয়েছিলো শবনমের খোঁপার। পাকিস্তানের সুর সম্রাজ্ঞী মালিকা -এ- তারান্নুম নূরজাহানের রুপে এতক্ষণ পার্টি ঝলমল করছিল। যেই না শবনম রবিন ঘোষের হাত বগলদাবা করে ঢুকলেন, নূরজাহানের গ্ল্যামারাস চেহারা কিছুক্ষণের জন্য ফ্যাকাশে হয়ে উঠেছিলো। এতক্ষণ ধরে যাদের চোখের দৃষ্টি নূরজাহানের উপর আবিষ্ট ছিল, তাদের মধ্যে পরিবর্তন ঘটলো। শবনমের উপর গিয়ে পড়ে সবার দৃষ্টি।

নূরজাহান ব্যক্তিজীবনে বেশ হিংসুটে স্বভাবের ছিলেন। তিনি চাইতেন সবাই তাঁকে মুগ্ধ চোখে দেখুক। তাঁর চাইতে সুন্দরী কাউকে দেখলে তিনি ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ হতেন। শবনমের প্রশংসা শুরু হয়ে গিয়েছিল। নাচে অভিনয়ে তাঁর মত দুর্দান্ত পারদর্শী নায়িকা আর কেউই ছিলো না ললিউডে। প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক শবনমের সাথে হ্যান্ডশেক করলেন। তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন। নূরজাহানের সাথে পরিচয় করে দিলেন শবনমকে। নূরজাহানকে সালাম দিয়েছিলেন শবনম। কিন্তু অহংকারী মালিকা -এ - তারান্নুম সালামের জবাব দিলেন না। হনহন করে হেঁটে গিয়ে বেশ খানিকটা দূরত্ব নিয়ে সোফায় বসে পড়েছিলেন। অনেকদিন পর অবশ্য শবনমের প্রতি নূরজাহানের হিংসাত্মক মনোভাবের পরিবর্তন ঘটে। তারা একে অপরের বন্ধু হয়ে যান।

উপমহাদেশের গজল সম্রাট জনাব মেহেদী হাসান তখন মৃত্যুশয্যায়।তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন এক বাঙালি অভিনেত্রী। অভিনেত্রীকে দেখে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল পক্ষাঘাতগ্রস্ত গজল সম্রাটের মুখ৷ বহুদিনের চেনা ওইমুখ তিনি ভোলেননি, শবনমের দিকে তাকিয়ে প্রাণখোলা এক হাসি দিয়েছিলেন গজল সম্রাট। আর করাচিতে তাঁর বাড়িতে চারপাশের লোকদের মুখে সম্ভ্রম ঠিকরে বেরোচ্ছিল অভিনেত্রীর রাজকীয় ভঙ্গি দেখে৷

ইন্টারনেটে শবনমের নামে সার্চ দিলে অজস্র উর্দু সিনেমার ছবির তালিকা ভেসে উঠে। পাকিস্তানের উর্দু সিনেমার মহারথী ছিলেন শবনম। ১৫২টা উর্দু সিনেমার সঙ্গে ৪টি পাঞ্জাবি সিনেমার সুপারহিট নায়িকা ছিলেন। ২৮ বছর দোর্দন্ড প্রতাপে উর্দু ফিল্মের জগতে একচ্ছত্র রাজত্ব করেছেন শবনম। সেরা নায়িকার অভিনয় করে পাকিস্তানের বিখ্যাত নিগার পুরস্কার পেয়েছেন তেরো বার। উর্দু ছবির ইতিহাসে অন্য কোনও নায়িকা এতবার এই স্বীকৃতি পাননি৷ ১৯৬২ সালে করাচির নিশাত সিনেমা হলে ঝর্ণা বসাকের প্রথম উর্দু সিনেমা রিলিজ হয়৷ নাম ‘চন্দা’৷ পরিচালক এহতেশাম (নাদিমের শ্বশুর) ঝর্ণার নাম পাল্টে রাখেন ‘শবনম’৷

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে রবিন ও শবনম করাচিতে ডেরা বেঁধেছেন৷ করাচিতে প্রথম কয়েক যুগ কাটানোর পর রবিন ঘোষ শবনম সংসার করেন লাহোরে৷ পাকিস্তানে এই দম্পতির দুটো অধ্যায় দুটো শহরে৷ শবমন-নাদিমের ‘আয়না’ পাকিস্তানের বক্স অফিসের সব রকম রেকর্ড ভেঙে দেয়৷ শবনমের ছবি চলেছে চীনের প্রেক্ষাগৃহেও৷ মেহেদী হাসানের গলায় ‘'মুঝে দিল সে না ভুলানা’' পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীত হয়ে উঠেছে৷ মেহেদি হাসানের মৃত্যুর আগে শবমন যখন পাকিস্তানে গিয়ে তাঁর হাতে ফুল দিচ্ছেন, তখনও টিভিতে ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজেছিল ‘'মুঝে দিল সে না ভুলানা’'৷ সিনেমায় ব্যবহার করা ঝর্ণার সব শাড়ি যেত ভারত থেকে৷ স্পেশাল অর্ডার দেয়া সব শাড়ি পাঠাতেন তাঁর মা ও বোন৷

১৯৪৪ সালে জন্ম হয় শবনমের। তাঁর বাবা ননী বসাক ছিলেন ফুটবল রেফারি। শবনমের আসল নাম ঝর্ণা বসাক। উর্দু সিনেমায় পরিচালক এহতেশাম তাঁর নাম দেন শবনম। রবিন ঘোষকে বিয়ের পর তিনি খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। ১৯৬৬ সালে শবনম রবিন ঘোষ দম্পতির একমাত্র সন্তান রনি ঘোষের জন্ম হয়। রনি ঘোষ বর্তমানে (৫৫) ইংল্যান্ডে থাকেন। ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রবিন ঘোষকে গুলশানের কিউর মেডিক্যাল সেন্টারে ভর্তি করানো হয়।তিনি ব্রঙ্কাইটিস ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। তিনি চেইন স্মোকার ছিলেন। তিনদিন পর ১৩ ফেব্রুয়ারি রবিন মৃত্যুবরণ করেন। শবনমের বড়বোন নন্দিতা দাস কলকাতার বাসিন্দা। রবিন ঘোষ বলে গিয়েছিলেন তাঁর লাশ যেন এফডিসিতে না নেয়া হয়। শবনম সেটাই করেছিলেন। তিনি নিজেও ছেলে রনিকে বলেছেন, তাঁকেও যেন মৃত্যুর পর এফডিসিতে না নেয়া হয়। মানুষের "উহ আহ চুকচুক"-- জাতীয় সহানুভূতি পেতে চান না শবনম।

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
সাংবাদিক হেনস্থা করায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে         স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট করায় আমার সাথে অন্যায় হচ্ছে : রোজিনা         রিমান্ড নাকচ, সাংবাদিক রোজিনাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ         স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কটের ঘোষণা সাংবাদিকদের         রোজিনা ইসলামকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ         সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নেওয়া হলো আদালতে         একজন সাংবাদিকের প্রথম কাজ সত্য খুঁজে বের করা         রোজিনাকে সচিবালয়ে আটকে রেখে মারধর         প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা         রোজিনা ছিঁচকে চোর না, সে এদেশের সবচেয়ে নন্দিত সাংবাদিক         আমার বিরুদ্ধেও মামলা দেন         সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সুচিকিৎসা দিয়ে দায়িত্ব পালনে ফিরে যেতে দেওয়া হোক         পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে থানায় নেওয়া হলো প্রথম আলোর রোজিনা ইসলামকে         প্রথম আলোর রিপোর্টারকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে আটকে হেনস্থা করা হয়েছে         জীবনযুদ্ধে জয়ী আকলিমা চাকরি পেলেন পৌরসভায়         মাথাপিছু আয় এখন ২২২৭ ডলার         সংবাদ মাধ্যমের অফিস লক্ষ্য করে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাব         ভারতফেরত তরুণীকে কো'য়ারেন্টিনে ‘ধ'র্ষণ’, এএসআই গ্রে'প্তার         সেদিন অনেক ঝড় মাথায় নিয়েই দেশে এসেছিলাম: শেখ হাসিনা         ব্যাংক কর্মকর্তারা দুর্নীতি করলে জরিমানা-মামলা         পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বর্ডার বন্ধ