মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
১৮ মে ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

'যৌনতার উগ্রবাদ নিয়ে কথা'

সইয়েদা চৌধুরী: একটা দেশ যখন নৈতিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগে তখন আরো অনেক মুনিয়াদের মৃত্যু হয়, আরো অনেকে ৪/৫ জনকে রক্ষিতা করে রাখে। সবাই ব্যাপক ব্যস্ত কাকে দোষ চাপানো যায়, এমন একটা মুখরোচক গল্প বলে কথা। কিন্তু সমস্যা টা নিয়ে কেউ কথা বলছেনা।

অনেকদিন ধরেই এই বিষয় টা নিয়ে কথা বলতে চাইছিলাম। কিন্তু এত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কথা বলতে যেই কলিজা লাগে সেইটা আদতে আমার ছিলোনা বা নেই, তবুও এখন মনে হলো সমসাময়িক ঘটনার প্রক্ষিতে এই কথা গুলো বলা প্রয়োজন।

আগেই বলে নিচ্ছি, আমার লেখা তে ক্রোধবশত বেশ কিছু আপত্তিকর শব্দবাচন থাকবে, চাইলে উপেক্ষা করতে পারেন।

বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে নৈতিকতার অবনতি দেখা দিচ্ছে। আমি ঘুষ, চুরি-চামারি, দুর্নীতি, এসবের কথা বলছি না। এসব তো অবধারিতভাবে সবদেশেই কম-বেশি আছে। আমি বলছি যৌনতার উগ্রবাদ নিয়ে কথা।

আমি খুব বেশি আগের যুগের মানুষ না। ২০০৪ এ আমি এলেভেল পরীক্ষা দেই। তখনও (এবং এখনও) মানুষের ধারণা ছিলো ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া ছেলে মেয়েরা খারাপ হয়, তাদের থাকে অপর লিঙ্গের সাথে অবাধ মেলামেশা। সত্যি বলতে আমার বেশিরভাগ বন্ধুই ছিলো ছেলে। কেননা আমি খুব বেশি মেয়েলি গল্প করতে পারতাম না। কিন্তু এই একটা বন্ধুর সাথেও তো আমার কোনো শারীরিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। এক রিকশায় করে ৩/৪ জন চলা ফেরা করতাম, কখনও তাদের থেকে আমি কোনো খারাপ ইংগিত পাইনি বা আমার নিজের মনেও কোনো ঝড় ওঠেনি। এমনকি রাত ১০টায় বাড়ি ফিরেছি, আমার মা ঠিক ই জানতেন আমি ইমরান/রেদোয়ানের সাথে আছি, এবং নিরাপদে আছি। এটা আলাদা যে তিনি সমাজের ভয়ে রাগ করতেন।

অথচ আজকাল দেখা যাচ্ছে, “ফ্রেন্ড” নাম দিয়ে মোটামুটি ৭০-৮০% মানুষই  সেক্সুয়ালী এটাচড্। বিবাহীতদের মধ্যেও এই ব্যাপারটি প্রচলিত। হয়ত স্বামী-স্ত্রীর মনের মিল হচ্ছে না, সমাজের কটাক্ষের ভয়ে একে অপরকে ছেড়েও যাচ্ছে না, ফেসবুকে কাউকে “হাই” বলা থেকে যার শুরু, তার এক পর্যায় গন্তব্য সেই বিছানা। পরকীয়ার ব্যাপারটা বাংলাদেশে এখন এতই বহুল প্রচলিত হয়ে গেছে যে, আমি একজন কে বলতে শুনেছি, “এমন টা তো থাকতেই পারে, তাই বলে সন্তানের কথা ভেবে হলেও সংসার টিকাতে হবে”! কতটা অসুস্থ মানসিকতা হলে মানুষ এমন কথা বলতে পারে!

আপনি এর বিশ্লেষণ করতে গেলে আমার কাছে প্রধাণ কারণ বলে মনে হয় সহজলভ্যতা।

সোশ্যাল মিডিয়া; খুব সহজ। খুউউউব সহজ। ধরেন আপনার মন খারাপ। কিচ্ছু ভালো লাগছে না, ঠিক সেই সময় টা তেই কেউ আপনাকে নক করলো। চেনেন না মানুষটা কে। মনে হলো, পরিচিত কেউ ই তো আমাকে বোঝে না। অচেনা কারও সাথে কথা বললে মনটা একটু হালকা করি। আপনি তেমন কিছু না ভেবে কথা শুরু করলেন। হাই-হ্যালো চললো। একদিন, দুইদিন। মোটামুটি দুইদিনেই কথা শেষ। এবার শুরু হয় কি করো, খেয়েছো? আপনি ভাবলেন, কেউই আমার খোঁজ নেয় না, এই একটা মানুষ একটু নিচ্ছে, খারাপ লাগছে না। একটু একটু করে রোজ মেসেজ, সেই থেকে অভ্যাস, সেই থেকে কেমন একটু আর্দ্রতা, একটু আবেগ। অথচ কাঁচের অপাশের মানুষ টা সম্পর্কে আপনার তেমন কোন ধারণাই নেই। ভার্চুয়াল দুনিয়া তে মুখোশ পড়ে থাকা খুব সহজ। তাকে আপনি কখনও তার কমফোর্ট জোনে দেখেন নি। সে বদমেজাজি, নাকি প্রতারক আপনি জানেনই না। আপনার ইমোশনাল সময়ে দুটো ভালো কথা শুনে আপনি নিজের জীবন কে নিয়ে খেলা শুরু করলেন।

নীলক্ষেতে দেখতাম দোকানদারদের ১০/১২ টা ফেসবুক একাউন্ট। এসব তারা অনলাইন মার্কেটিং এর কাজে ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু এই সব ভিন্ন একাউন্টের থাকে ভিন্ন পরিচিতি। কোনটায় সে স্টুডেন্ট, কোনটায় সে CEO, কোনটায় সে Canada থাকে। আমি হলফ করে বলতে পারি তারাও অনেক ধনী পরিবারের কারোর সাথে ভার্চুয়াল সেক্সুয়ালিজমে জড়িয়েছে। বয়সে ছোট-বড়, আর্থ-সামাজিক ব্যবধান কোন কিছুই যেন এসব “বন্ধুত্ব” ঠেকাতে পারছে না।

আজ মুনিয়াকে নিয়ে এত আলোচনা। সে কেন বয়স্ক একটা লোকের রক্ষিতা হলো? তার বাবা-মা কে গালি দিয়ে ঝেড়ে ফেললেন, তা বুকে হাত দিয়ে বলেন তো কয়জন আপনারা এমন সুন্দর মেয়ে কে দেখে ফেসবুকে মেসেজ দেননি? ধরে নিলাম সে দায়ী, সে পরিবারের কথা মানেনি, তা চেতনাদন্ড ধারী অমানুষটা কোন পরিবারের কথা মেনেছে? “কচি মেয়ে পাইছেন” বলে আপনারা যারা ঈর্ষার দৃষ্টিতে আরেকজনের বউয়ের দিকে তাকান, সে সময় কোথায় থাকে সুশীল সমাজ?

আপনি বলবেন, আমি পশ্চিমা দেশে থেকে কিভাবে এমন রক্ষণশীল কথা বলছি। মজার ব্যাপার হলো, পশ্চিমা দেশগুলো তেও কিন্তু এমন শারীরিক অবাধ মেলামেশার প্রচলন নেই। তারা বিশ্বস্থতা ও অঙ্গীকার এ বিশ্বাস করে। বউ ভালো লাগছেনা? বয়ফ্রেন্ড এর সাথে বনিবনা হচ্ছে না? ছেড়ে দিয়ে আরেকজনের কাছে যাও। একইসঙ্গে একাধিক শারীরিক সম্পর্ক, মানসিক, শারীরিক এবং সামাজিকভাবে অস্বাস্থ্যকর। পশ্চিমা দেশ কে ফলো করে যখন অবাধে যৌনক্ষুধা মিটিয়ে যাচ্ছেন, তখন পশ্চিমা রীতি অনুযায়ী, আত্মহত্যার প্ররোচনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও মেনে নেন।

ইংরেজি তে একটা কথা আছে, “দেয়ার আর টু মেনি ফিশেস ইন দা সী”। এই “ধরিবো মৎস্য খাইবো সুখে” করতে গিয়ে আপনি নিজেকে যে অধ:পতনের দিকে ঠেলে দিলেন তার থেকে নিস্তার কি?

যে জিনিস যত সহজলভ্য তার প্রতি আকর্ষণ ততটাই ক্ষণস্থায়ী। আর যার ফলাফল আজকের নৈতিক ভারসাম্যহীনতা।

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
সাংবাদিক হেনস্থা করায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে         স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট করায় আমার সাথে অন্যায় হচ্ছে : রোজিনা         রিমান্ড নাকচ, সাংবাদিক রোজিনাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ         স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কটের ঘোষণা সাংবাদিকদের         রোজিনা ইসলামকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ         সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নেওয়া হলো আদালতে         একজন সাংবাদিকের প্রথম কাজ সত্য খুঁজে বের করা         রোজিনাকে সচিবালয়ে আটকে রেখে মারধর         প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা         রোজিনা ছিঁচকে চোর না, সে এদেশের সবচেয়ে নন্দিত সাংবাদিক         আমার বিরুদ্ধেও মামলা দেন         সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সুচিকিৎসা দিয়ে দায়িত্ব পালনে ফিরে যেতে দেওয়া হোক         পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে থানায় নেওয়া হলো প্রথম আলোর রোজিনা ইসলামকে         প্রথম আলোর রিপোর্টারকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে আটকে হেনস্থা করা হয়েছে         জীবনযুদ্ধে জয়ী আকলিমা চাকরি পেলেন পৌরসভায়         মাথাপিছু আয় এখন ২২২৭ ডলার         সংবাদ মাধ্যমের অফিস লক্ষ্য করে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাব         ভারতফেরত তরুণীকে কো'য়ারেন্টিনে ‘ধ'র্ষণ’, এএসআই গ্রে'প্তার         সেদিন অনেক ঝড় মাথায় নিয়েই দেশে এসেছিলাম: শেখ হাসিনা         ব্যাংক কর্মকর্তারা দুর্নীতি করলে জরিমানা-মামলা         পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বর্ডার বন্ধ