বৃহস্পতিবার, ২২ বৈশাখ ১৪২৮
০৬ মে ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

করোনাকে উপেক্ষা করে যেভাবে এগোচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

ফারজানা ফাতেহা: গুনতে গুনতে ৪০০ দিন পার হয়ে গেল  ক্যাম্পাসে যাওয়া হয় না শিক্ষার্থীদের। অপেক্ষার প্রহর যেন আর শেষই হচ্ছে না। কারো কারো অনলাইনে ক্লাস হলেও অনেকেরই আবার হচ্ছে না। করোনাপরবর্তী সময়ের জন্য শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করছে, পড়াশোনা নিয়ে তাদের ভাবনা ও করোনাকালীন কে কীভাবে পার করছেন তাদের সময়। এ নিয়ে কথা বলেছি তাদেরই কয়েকজনের সংগে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী নুরজাহান। এই সময়টা কিভাবে কাটাচ্ছেন জানাতে চাইলে বলেন, ‘গত জুন মাস থেকেই ইন্টারনেটে জার্মান ভাষা শিখতে শুরু করেছি । যুক্ত হয়েছি জার্মান ভাষা শিক্ষার একটি গ্রুপ এ। গতবছর ছাদ বাগানও শুরু করেছিলাম। তাতে এখন অনেকরকম ফুলসহ করল্লা, লাউ টমেটোও ধরেছে।’

পড়াশোনা নিয়ে নুরজাহান এর ভাবনা কী জানতে চাইলে বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমার অনেকটা পিছিয়ে পড়ছি এই দুর্যোগের কারণে আর অনলাইন ক্লাস হলেও পরীক্ষা হচ্ছে না আবার ল্যাব ক্লাসগুলোও হচ্ছে না। তবে সবাইকে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেই ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যাবহারিক দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে আর মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে হবে তবেই আমরা যেকোনো দুঃসময় অতিক্রম করতে পারবো।’

অন্যদিকে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মার্কেটিং বিভাগের ৩য় বর্ষে পড়ছেন আফসানা মিমি। এই করোনায় নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেছে 'Dine of Desire' নামে অনলাইন খাদ্য ব্যবসা। তিনি বলেন, ‘অনেক আগেই পরিকল্পনা ছিল তবে গত বছর মাঝামাঝি সময়ে করোনায় বন্ধ পেয়ে শুরু করে দেই। আমার পেজের মাধ্যমে অর্ডার আসে তারপর নিজে খাদ্য তৈরি করে ফুডপান্ডার মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে পৌছে দেই। যতটা আশা করেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি অর্ডার পেয়েছি আলহামদুলিল্লাহ। আমার পাশাপাশি ডেলিভারি ম্যানেরও কিছু আয় হয় এখান থেকে। গ্রাহকও খুশি হয় ফ্রেশ খাবার পেয়ে।  এখনো এটা নিয়েই আছি। আর আমি মনে করি, আমাদের সময় এসেছে ডিজিটাল হওয়ার। বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে হলে আমাদের প্রযুক্তি নির্ভর হতে হবে। অন্য কোন উপায় নেই। আমার কাছে তো সরাসরি প্রতিদিন ক্লাসের চেয়ে অনলাইন ক্লাস ই ভালো লাগে।’

আরেক শিক্ষার্থী তামিমা জারিন। পড়াশোনা করছেন এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির ইংরেজি সাহিত্যের ২য় বর্ষে। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনলাইনে ক্লাস পরীক্ষা সবই হচ্ছে এজন্য আমরা খুব সন্তুষ্ট। যেহেতু ক্লাসে সরাসরি যেতে হয় না তাই অনেক সময় থাকে। আমি একটি অনলাইন প্লাটফর্মে বাচ্চাদের ইংরেজি শেখাই এবং সেখান থেকে ভালো একটি আয়ও হয় আলহামদুলিল্লাহ।’

‘আমার মনে হয় আমাদের পড়াশোনার সিস্টেমটাকে একটু পরিবর্তন করতে হবে। অনলাইনভিত্তিক পড়াশোনা আরো বাড়াতে হবে, এতে করে সময় ও শ্রম দুটোই কমবে। যুগের সাথে চলতে পারলেই আমাদের চলার গতি সহজ হবে কিন্তু না পারলে বসে থাকা যাবে না। যার যেরকম অবস্থা আছে সেভাবেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৩য় বর্ষের ছাত্র জাকিরুল ইসলাম জাকির। তিনি বলেন, ‘হল বন্ধ থাকায় একটি মেসে উঠেছি। মাঝে মধ্যে পরীক্ষাও হচ্ছে। করোনার জন্য যে তিনটা টিউশনি ছিল তাও বন্ধ। তাই একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি চাকুরী পরিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘করোনাকালীন পড়াশোনা নিয়ে আমার ভাবনা খুবই সহজ। আমার মনে হয় আমাদের ইন্টারনেটভিত্তিক লেখাপড়া সবার জন্য এখনো উপযুক্ত হয়ে উঠেনি কারণ অনেকেরই বাড়ি প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে নেটওয়ার্ক কাজ করে না আবার তাদের সাধ্যও নেই যে ঢাকায় মেস ভাড়া করে থাকবে। তাই বলা যায় সবাই সমান সুযোগ পাচ্ছে না। আমার বন্ধুকে পেছনে রেখে কিভাবে আমরা সামনে এগোবো?’

সরকারি তিতুমীর কলেজের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাফসান ও ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মালিহা। এই দুর্যোগে তারা যুক্ত হয়েছেন সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার সাথে। প্রথমজন কাজ করছেন জাগো ফাউন্ডেশন এর হয়ে দ্বিতীয়জন কাজ করছেন লাল সবুজ সোসাইটির জন্য। অনুদান সংগ্রহ ও তা অসহায় মানুষের মধ্যে সঠিকভাবে বণ্টনই তাদের মূল কাজ। করোনের এ সময়ে তাদের কাজ অনেক বেড়ে গিয়েছে। রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে আরো বেশি কাজ থাকে। যাকাতের টাকা উত্তোলন ও সেগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌছে দিতে হয়।  দিনের বেশিরভাগ  সময় এই কাজে ব্যয় করতে হয়। তবুও তারা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরে অনেক খুশি।’

এই সময়ে পড়াশোনা নিয়ে রাফসান বলেন, ‘আমার মনে হয় সকলের আর্থিক, মানসিক ও পারিবারিক অবস্থানের কথা চিন্তা করে এখন আমাদের ব্যক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো উচিত। সুস্থ থাকাটাই এখন বড় কথা তাই নিজের প্রতি ও পরিবারের প্রতি যত্ন নেওয়া এবং সাবধান থাকা সবচেয়ে জরুরি।’

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আয়মান আনিকা বলেন, ‘অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি SOS Children’s Village Dhaka তে একজন সেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছি। তাছাড়া একটি ইংরেজি পত্রিকার জন্য টুকাটুকি লেখালেখিও করছি। আমার মনে হয় অনলাইন পড়াশোনায় অনেক সমস্যাই থাকবে কিন্তু সময় তো আর থেমে থাকবে না। তাই নামি দামি সফটওয়্যার আর প্লাটফর্মের দিকে না তাকিয়ে আমাদের হাতের নাগালে থাকা প্রযুক্তিগুলোর সর্বোচ্চ প্রয়োগ করে আমাদেরকে তার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’

শিক্ষার্থীরা সবাই আশাবাদী যে খুব দ্রুতই বাংলাদেশ তার আগের চিরচেনা রুপে ফিরবে। সবার একটাই চাওয়া, এই পৃথিবীর প্রতিটি সড়ক আবার হয়ে উঠুক ব্যস্ততাময়। তাদের পদচারণায় ক্যাম্পাস হোক কলোহলপূর্ণ।

শীর্ষ সংবাদ:
কানাডায় ১২-১৫ বছরের ছেলেমেয়েদের জন্য ফাইজার         শ্রমিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ         ট্র্যাজেডি কুইন তিন্নি         খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়ার আবেদন         সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেন আলমগীর         ‘ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কাজ করবে আওয়ামী লীগ’         ‘সরকারের উদাসীনতায় করোনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে’         ‘গ্রামে স্থাপনা করতেও অনুমতি লাগবে’         ঢাবিতে পরীক্ষা নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত         ব্যাংকে লেনদেনের সময় বাড়ল         টিকার প্রথম ডোজের নিবন্ধন স্থগিত         ‘১২ মে আসছে চীনের উপহার ৫ লাখ টিকা’         ছিনতাইকারীর কবলে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে নারীর মৃত্যু         একসঙ্গে ৯ সন্তান জন্ম দিলেন হালিমা         ‘সহিংসতার উস্কানি দিচ্ছে বিএনপি’         কাল থেকে চলবে গণপরিবহন, তবে..         লকডাউন বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি         ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল দুই ভ্যানযাত্রীর         ভারতবর্ষের প্রথম বিপ্লবী ‘নারী শহিদ’ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার         জনস্বার্থে রিট করে জরিমানা গুনলেন ইউনূস আলী         পাকিস্তানে ব্রিটিশ তরুণী খুন