মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮
১৮ মে ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

'মানুষ একা হলেই একা হয়না, তার চারপাশে অনেক মানুষ থাকে'

খাদিজা খানম: কানের পাশে চুলের ভাঁজে গুঁজে রাখা টাটকা একটি ফুল তাঁকে অন্যরকম করে তোলে। মুখে তার হাসি লেগেই থাকে, চোখে মায়াবী ছায়া। টিভিতে বা স্টেজে তাকে গান গাইতে দেখা যায় ছিমছাম সাজে। তিনি ফাহমিদা নবী।

গান দিয়ে ফাহমিদা নবী শ্রোতাদের হৃদয় স্পর্শ করে চলেছেন নিরন্তর। সুরটা তো তার উত্তরাধিকার সূত্রেই পাওয়া।

ফাহমিদা নবী বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী। তিনি সাধারণত ক্ল্যাসিক্যাল এবং আধুনিক ধাঁচের গান করেন। এছাড়াও তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং নজরুল সঙ্গীতও গেয়ে থাকেন। তিনি ২০০৫ সাল থেকে ক্লোজআপ ওয়ান রিয়েলিটি শো'র বিচারক হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর গাওয়া বেশিরভাগ গানই পেয়েছে দর্শক প্রিয়তা। ২০০৭ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এছাড়াও তিনি ২০০৮ সালে চ্যানেল আই পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড ও মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার লাভ করেন। তিনি প্রয়াত বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ মাহমুদুন্নবীর কন্যা এবং তার ছোট বোন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী।

উইমেনআই টুয়েন্টিফোর ডটকম থেকে এই গুণী শিল্পীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন স্টাফ রাইটার খাদিজা খানম তাহমিনা।

প্রশ্ন: আপনার শিল্পী জীবনের শুরুটা শুনতে চাই।

ফাহমিদা নবী: শিল্পী জীবনের শুরুটা - যেহেতু আমার সঙ্গীত পরিবারে জন্ম, তবে সঙ্গীত পরিবারে জন্ম নিলেই কিন্তু সবাই শিল্পী হয়ে যায় না। আমার সবসময় গান ভালো লাগতো, সারাদিন গান গাইতাম। ঐটাও একরকম শুরু, আবার একদম ছোট থাকতে আব্বার সাথে টেলিভিশনে যাই,  সেখানে আব্বা বললেন গান করতে, তখন আব্বারই একটা গান গেয়েছিলাম। ঐটাও আরেকরকম শুরু।

প্রশ্ন: কখন মনে হলো সঙ্গীতকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেয়া যায়?

ফাহমিদা নবী: না কখনো মনে হয়নি। আমার ফিলোসোফিটা ভিন্ন, আসলে সঙ্গীতকে আমি ক্যারিয়ার হিসেবে নিবো, নাকি সঙ্গীত আমাকে তার নিজের করে নিবে! আমি তো সারাদিন গান গাইতে ভালোবাসি, ঐটা দিয়ে আবার রোজগার করা যায়, এটা আমার মাথায় জীবনে আসে নাই। একটা পর্যায় গিয়ে যখন আমি অনেক জায়গায় চাকরি খুঁজলাম, পেলাম না, মাঝখানে কিন্তু আমার বিরাট একটা গ্যাপ আছে, এমনি রেডিওতে গান করতাম, কিন্তু স্টেজ কিংবা সিরিয়াসলি বড় পরিসরে গান করিনি। তারপর যখন আবার ব্যাক করলাম, তখনও আমি জানিনা যে গান গেয়ে রোজগার করবো! শুধু মনে হয়েছে, আমার একটা ভালো গান করতে হবে, তখনও আমার ক্যারিয়ার বলতে বিটিভিতে কত টাকা দেয় বলো, তাই আমি চাকরি খুঁজেছি। আমি এম.এ পাশ কিন্তু আমার চাকরি হয়নি, তখন আমি রিয়েলাইজ করলাম, সঙ্গীত আসলে একটা অনুধাবন, আমাকে গান গাইতে হবে। একটা পর্যায়ে চাকরি না হওয়ায় আমি সারেন্ডার করলাম, আসলে আমার চাকরি হবে না। কেনো? কারণ আমি মাহমুদুন নবীর মেয়ে, এবং দর্শক শ্রোতাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে, আমাকে একজন দেশের বড় একজন মানুষ সরাসরি বলেছেন, রাজাকে কি কখনো প্রজা চাকরি দিতে পারে! তখন আমি ঠিক বুঝলাম, আমি কারও আন্ডারে কাজ করব না, শিল্পী আসলে একজন স্বাধীন মানুষ। আস্তে আস্তে রিয়েলাইজ করলাম, আমার রোজগার থাকুক বা না থাকুক, শিল্পচর্চাই আমার আসলে মূল বিষয়। আমি জানিনা কোথা থেকে কি হবে, আল্লাহই সবার রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন। আমি হাটতে শিখলাম, বুঝলাম আমার কোথাও কাজ হবেনা, আমাকে সঙ্গীতের মধ্যেই থাকতে হবে। তবে আমার চাকরি হয়নি,  তবে একটা স্কুলে ১০ বছর কাজ করেছিলাম।

প্রশ্ন: প্রথম মঞ্চে উঠার গল্প/ ঘটনাটা কি মনে আছে?
ফাহমিদা নবী: আমি প্রথম আব্বার সঙ্গে প্রথম মঞ্চে উঠেছিলাম এবং আব্বারই একটা গান করেছিলাম, আব্বা হারমোনিয়াম বাজিয়েছিলে।

প্রশ্ন: টেলিভিশনে প্রথম গান গাওয়ার অনুভূতিটা কেমন ছিলো?

ফাহমিদা নবী: ১৯৭৮ সালে বিটিভিতে আব্বার একটা অনুষ্ঠান ছিলো, সেটাই প্রথম কোন টেলিভিশনে আমার গান করা।

প্রশ্ন: আপনি আপনার ভাবনা নিয়ে বলতে গিয়ে বলেছেন, 'পথে হাঁটলে একটা কিছু মিলবেই'- এই পথে হাঁটা এবং কিছু মেলা, বিষয়টা একটু বুঝিয়ে বলবেন কি?

ফাহমিদা নবী: তোমার যদি ইচ্ছাশক্তি প্রবল হয়, তোমার চাওয়া যদি গভীর হয়, এবং চাওয়ার মধ্যে যদি সঠিকতা থাকে, চাওয়ার পথ ধরে যদি ধীরে ধীরে এগুতে থাকো, তাহলে একটা সময় কিছু মিলবেই তোমার। তুমি যে একটা লক্ষ্যকে সামনে রেখে পথ চলছো, এই পথেই তোমার লক্ষ্য অনুযায়ী কিছু মিলবে, এটা আমার একান্ত অনুধাবন। আরেকটা বিষয় হলো, অতীতে ঘুরে আসতে হয়, অতীতকে ভুলে থাকা যায়না। তোমার মাটিকে যদি তুমি ভুলে যাও, তাহলে কিন্তু সমস্যা। তেমাকে কিন্তু একদিন এই মাটিতেই আসতে হবে। সেই অনুধাবন থেকে মনে হলো কথাটা, পথে হাঁটলে একটা কিছু মিলবেই।

প্রশ্ন: আপনার গানের গুরু/ যাঁরা ছিলেন,তাঁদের কথা কি মনে আছে,?

ফাহমিদা নবী: প্রথমে ছিলেন ওস্তাদ মোশাদ আলি, তখন আমি আর সোমা একদম ছোট। খুব বিরক্ত হতাম কারণ সবাই যখন ভাত- ঘুমে মগ্ন থাকতো তখন আম চুরি, ফুল চুরি করতাম আমি, আর ঐ সময়টায় কীনা আমাকে জোর করে গানে মনোযোগী হতে হতো। কিন্তু কোনো উপায় ছিলোনা, কারণ জানতাম গানটা শিখতে হবে। তারপর ওস্তাদ আমানুল্লাহ খান পর্যায়ক্রমে আমাদের গানের গুরু বা ওস্তাদ ছিলেন। তিনি চমৎকার গান শেখাতেন, তাঁর কণ্ঠটা এত সুন্দর ছিলো! তারপর বড় হলে, ওস্তাদ জাকির হোসেনের কাছে গানের দীক্ষা নিয়েছি।

প্রশ্ন: আজ আপনার বাবাকে যদি একটু স্মরণ করতেন...

ফাহমিদা নবী: আমার বাবা একজন অতি সহজ সরল মানুষ ছিলেন। তাঁর চাওয়া পাওয়াগুলো ছিল খুব সীমিত। সঙ্গীত নিয়ে রোজগারের চিন্তা তার কখনোই ছিলোনা। বাবার বিনয়ী স্বভাবের জন্য সবাই তাকে খুব পছন্দ করতেন। আমার সবটা জুড়েই আছেন আব্বা। আব্বার মতো শিল্পী আসলে আমি কম দেখি। কেউ ডেকে নিয়ে গান গাওয়াতো, তারপর মিষ্টি খেয়ে খুশি মনে চলে আসতেন, তাঁর কোনো অভিযোগ ছিলো না কারো প্রতি। আব্বা আসলে আমার মতোই, বাবা আমার আয়না। আব্বার কোনো উচ্চাকাঙক্ষা ছিলো না,  একটা বাড়ি করা বা গাড়ি কেনা এসব আব্বার মাথায় মধ্যে কখনো ছিলো না।

প্রশ্ন: জীবনের প্রথম উপার্জন কত ছিলো?

ফাহমিদা নবী: রেডিওর কলকাকলীতে গান গেয়ে প্রথম পেয়েছিলাম ২৫ টাকা, তবে পরে যখন এনলিস্টেড হওয়ার পর ৭৫ টাকা পেতাম। বিটিভি থেকে প্রথম পেলাম ১০০ টাকা। সেটা নিয়েও অনেক কাহিনি।  আম্মা আমাদের একটা একাউন্ট খুলে দিতে বললেন আব্বাকে। আর আমাদেরকে বললে, এমন করে খরচ করবে যেনো কারো কাছ থেকে চাইতে না হয়, কারো মুখাপেক্ষী হতে না হয়, এমনভাবে চলো যেনো ঐ টাকার মধ্যে চলতে পারো।

প্রশ্ন: ছোটবেলার ঈদের সময়টাকে একটু স্বরণ করবেন? নতুন জামা, সালামি পাওয়ার গল্পটা কেমন ছিলো?

ফাহমিদা নবী: ছোটবেলার ঈদ ভীষণ মজার ছিলো। আম্মা আমাদের দু'বোনকে নিয়ে নিউমার্কেটে 'ব্রাইট স্টার' নামে একটা দোকান থেকে কাপড় বানিয়ে দিতেন। সেখানে কাপড় বিক্রি করা হতো। সেখানে বাংলাদেশের প্রায় সব শিল্পীরা জামা কাপড় বানাতে দিতো। সেখানে আম্মা আমাদের জামা কাপড়ও বানাতে দিতেন। যেদিন জামা বানাতে যাওয়ার ডেট থাকতো সেদিন আমাদের ভীষণ মজার দিন ছিলো সারাদিন শপিং, চাইনিজ খাওয়া এরপর ইভিনিং শো তে বলাকায় সিনেমা দেখা, সে এক অন্যরকম জীবন ছিলো, আহা...  'দিনগুলো মোর সোনার খাঁচায় রইলো না.....'
আম্মা আমাদের সুন্দর সুন্দর ডিজাইন দিয়ে জামা বানিয়ে দিতেন দুই বোনের একরকম করে, অনেকেই আমাদের যমজ বলতো। ও হ্যা আমার আম্মা কিন্তু ভীষণ স্টাইলিশ ছিলেন, খুব সুন্দরীও ছিলেন, আমরা কেউ আম্মার মতো হইনি।

ঈদে সালামি পেতাম, খালাম্মারা, মামা, নানি এবং পাড়ায় পাড়ায় যে খালাম্মারা ছিলেন সবার সাথে সবার তখন সুসম্পর্ক ছিলো, সবাই সালামি দিতেন। বিশেষ করে সবাই ১০ টাকা করেই সালামি দিতেন। খুব মজা হতো।

প্রশ্ন: প্রযুক্তির এই সহজলভ্য সময়ে গান কী মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করতে পারছে বলে মনে করেন?

ফাহমিদা নবী: আমাদের ভালো গানের দিন হারিয়ে গেছে। এখন সবাই সেলিব্রিটি। গান নিয়ে এখন মানুষ তেমন ভাবেনা। নীতিবোধের জায়গাগুলো হারিয়ে গেছে। এখন সবাই কন্টেন্ট নিয়ে ভাবে, গান নিয়ে ভাবেনা। আমি ভীষণ একরোখা, আমি কিছুর সঙ্গে আপোষ করিনা। তবে আমার বিশ্বাস আবার ভালো গানের কদর বাড়বে, ফিরে আসবে সেই ভালো গানের চাহিদা। ভালো শিল্পীরাব এবং তাঁদের গান সম্মানে থাকবে।

প্রশ্ন: বাবার এমন একটি কথা, যা আপনি আজও মনের ভেতর সযত্নে লালন করেন?

ফাহমিদা নবী: আমার আব্বার সব কথা আমার মনের ভেতর গেঁথে আছে, আমি সবসময় আব্বাকে নিজের মধ্যে লালন করি।  আব্বার সরলতা টা আমরা সবাই পেয়েছি, বিশেষ করে আমি একেবারেই আমার আব্বার মতো। আব্বা বড্ড বেশি সরল ছিলেন।

প্রশ্ন: আপনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আপনার বাবা মাহমুদুল নবী অভিমানী ছিলেন, এই অভিমানটা কিসের জন্য?

ফাহমিদা নবী: আব্বা আব্বার যোগ্য সম্মান পাননি, আব্বা ভীষণ অভিমানী ছিলেন। সত্যজিৎ রায়ের কথা, তুমি যদি কাউকে চিনতে চাও, তাহলে তার চেহারা দেখো না,  তাঁর গুণটা দেখো। আব্বা একটা এ্যালবাম করতে চাইলেন, তাও করে যেতে পারেননি, চলে গেলেন। চারপাশের মানুষগুলো আব্বার চাওয়াগুলোকে মূল্যায়ন করেনি। জীবনে অনেক স্ট্রাগল করেছেন, তবু কখনো কারো কাছে কিছু চাননি।

প্রশ্ন: মায়ের প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাইছিলেন....

ফাহমিদা নবী: আমাদের শিল্পী হয়ে উঠার পেছনে আমার আম্মার অবদান বেশি। আম্মা আমাদের আব্বার এবং আমাদের গানের সবচেয়ে বড় সমালোচক। খুব সাধারণ, রক্ষণশীল ছিলেন কিন্তু স্টাইলিস্ট ছিলেন, নায়িকার মতো, বেশ শিক্ষিত ছিলেন, বুদ্ধিমতী ছিলেন। আব্বার তো সাংসারিক চিন্তা ভাবনা তেমন ছিলোনা আম্মাই এক হাতে সব সামলাতেন। আম্মার চাহিদা খুব কম ছিলো। মানে একান্তই যা না হলেই  নয়, তা কিনতেন। আমাদের এত এত  সব কেনাকাটা, এসব কিন্তু আম্মার একেবারেই পছন্দ না। আম্মার গাড়ি বাড়ির কোনো চাহিদা ছিলো না, আমাদেরকে প্রায়ই বলেন, 'এতকিছু চেয়োনা', আর ছোটবেলা থেকে আম্মার একটা কথা শুনে শুনে বড় হয়েছি, ' শান্তির চেয়ে স্বস্তি বড়'। কথাটা এখন অনুধাবন করি।

প্রশ্ন: 'সুরের আয়না' নামে একটি অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেছেন, উপস্থাপনার কাজটা কেমন লাগে?

ফাহমিদা নবী: 'সুরের আয়না' তিন বছর উপস্থাপনা করেছি। বেশ ভালো লাগতো। অনুষ্ঠানে যিনি আমার অতিথি হয়ে আসতেন, তাঁর ইন্ট্রোডিউসটা আমি এত চমৎকারভাবে উপস্থাপন করতাম, তিনি ভীষণ মজা পেতেন। ফলে সবাই আসতে চাইতেন এই অনুষ্ঠানে। ভালো সাড়া ফেলেছিল অনুষ্ঠানটা। সুরের আয়না ছাড়াও নিউজ টুয়েন্টি ফোরেও 'ফাহমিদা নবীর সাথে আড্ডা' নামে আরেকটা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি। উপস্থাপনা আমার বেশ ভালো লাগে।

প্রশ্ন: বর্তমান ব্যস্ততা কি নিয়ে?
ফাহমিদা নবী: বর্তমান ব্যস্ততা...'কারিগরী এ্যালবাম-২' এর কাজ করছি, কাজ প্রায় শেষের দিকে, এখন শুধু ভয়েস দেয়া বাকী, আগামী ঈদে শ্রোতাদের জন্য একটা চমৎকার গান আসবে, সেটার কাজ চলছে। বন্ধু দিবস নিয়েুলও সুন্দর একটা গানের কাজ হচ্ছে,  নিজের সুরে করা, পঞ্চম আমার ভাই, ওর সুরে একটা কাজ করলাম। আরও কিছু কাজ করছি।

প্রশ্ন: কিছুদিন আগে বিখ্যাত অভিনেত্রী কবরী মারা গেলেন। তার সংগে আপনার কিছু উল্লেখযোগ্য স্মৃতির কথা বলবেন?

ফাহমিদা নবী: কবরী আন্টিকে আমার বকুল ফুল মনে হয়, জানিনা কেন! বকুল ফুলকে খুব সাহসি দুঃখী ফুল মনে হয়, সেই ছোটবেলা থেকে। যখনি কুড়াতাম ,তখনি মনে হতো , এই ফুল তো ছেঁড়া যায়না, বিশাল গাছে ছোট্ট ছোট্ট ফুল। ঝরে ঝরে পড়ে, বৃষ্টির ফোঁটার মতো। বোধহয় কাঁদে আর সুখ বিলায়! শুকিয়ে যায় কিন্তু গন্ধ ছড়াতেই থাকে আজীবন, কি আশ্চর্য !
তাই বকুল ফুল অন্যরকম প্রিয় দামি সংগ্রামি ফুল আমার কাছে। অনেক ক্লান্ত ছিলেন। অনেক বেদনাকে ছাপিয়ে আবার হাঁটতে পথ খুঁজেছিলেন হয়তো!
শিল্পীর জীবন ,হাসির আড়ালে কান্না... 
কেউ বোঝেনা....! তিনি তার স্বপ্নের ছবিটা বানাতে পারেন নি! চির নিদ্রায় উনার আত্মার শান্তি হোক।
আমি আব্বার সঙ্গে রেকর্ডিংয়ের সময় যেতাম। তখন তো রেকর্ডিংয়ের সময় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সেটে থাকতে হতো। তখন কবরী আন্টির মিষ্টি হাসি, তাঁর অভিনয় দেখেছি, আমার মনে আছে, গানের ভেতর এক জায়গায় নায়িকাকে 'চামচা' বলতে হয়েছিলো, তিনি এত চমৎকার ভাবে 'চামচা' শব্দটা এত ঢং করে বললেন, আমি শুধু অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিলাম তাঁর দিকে। ২০০৮ সালে বিটিভিতে মনে হয় তাঁর একটা অনুষ্ঠানে আমাকে গেস্ট হিসেবে ডাকা হয়, উনার প্রশ্নগুলো বেশ চমৎকার করে করেছিলেন, খুব কাটকাট প্রশ্ন করেছিলেন তিনি। আরেকবার একুশে টিভিতে নারী দিবসের একটা অনুষ্ঠানে দেখা হয়েছিলো তাঁর সাথে। তাঁর কথায় কেমন যেনো ইনসিকিউরিটিতে ভুগছেন মনে হলো। তিনি একা হয়ে গিয়েছিলেন। যদিও আমার ফিলোসোফি হচ্ছে,  মানুষ কখনো একা হয়না। আমার নানী বলতেন, মানুষ একা হলেই একা হয়না, তার চারপাশে অনেক মানুষ থাকে। সে যাক, আল্লাহ কবরী আন্টিকে বেহেশত নসিব করুন।

প্রশ্ন: আপনার পরিবারে সবাই গানের চর্চা করেন। মেয়ে কি গানের জগতে আসবে?

ফাহমিদা নবী: মেয়ে আনমোল ছবি আঁকতে পছন্দ করে। সে হচ্ছে ভালো উকিল। ল' প্রফেশন আমার খুব পছন্দ, মেয়ে সেই প্রফেশনে আছে, আমি খুশী।  আমার মেয়ে হলেও আমি চাই আনমোল এগিয়ে যাক তার নিজের ঝোঁক অনুযায়ী। আনমোল আমাকে বলে, 'আম্মা সবাই যদি শিল্পী হয়, তাহলে গান শুনবে কে! আমি তাই খুব ভালো লিসেনার হতে চাই।' আসলেই সে প্রচুর গান শোনে। শুধু গান শুনে বললে ভুল হবে, গানের ভালো-মন্দ নিয়ে প্রায় আমার সঙ্গে কথা বলে। তাকে সঙ্গীত সমালোচক বলতে পারেন। আনমোল ল’ পড়েছে। সে খুব নামকরা ব্যারিস্টার হতে চায়। নিজের ক্যারিয়ারে গড়ে তোলার জন্য তাকে আমি পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি।
যে যা করতে চায়, তাকে সেটা করতে দিতে হয়। সঙ্গীত পরিবারের হলেও আনমোল চায়নি গান করতে, তাই সে গান করেনি। তার কণ্ঠে সুর নাই তবে সে গান বোদ্ধা, আমার গানের সে বড় সমালোচক।

প্রশ্ন: 'লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প' এই গানটা গাওয়ার সময় কি মনে হয়েছিলো, এই গানের ফলাফলটা এমন সুন্দর হবে, মানে তা জাতীয় পুরস্কার বয়ে আনবে?

ফাহমিদা নবী: না কখনোই ভাবিনি। কারণ গানটা গাওয়ার প্রায় দুই বছর পর আমার ডাক এলো, এবং বলা হলো আজই গানটা রেকর্ডিং হবে, আর সেদিন ছিলো আমার প্রচণ্ড জ্বর, গলা বসে গিয়েছিল। তবে সব গানই আমার সন্তানের মতো। আমি খুব যত্ন নিয়ে গাই, তাই এক্সপেক্টেশন তো ছিলোই ভালো কিছুর।

প্রশ্ন: বর্তমান নতুন শিল্পীদের গান নিয়ে কিছু বলেন।

ফাহমিদা নবী: বর্তমান নতুন শিল্পীরা ভালো করছে। আসলে ওরা দ্রুত কিছু হয়ে উঠতে চায়, এই  দ্রুত কিছু হয়ে উঠার অস্থিরতাটা বাদ দিলে সবই ভালো।

প্রশ্ন: কারিগরি নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে আপনার, সেটা নিয়ে কি কিছু বলবেন?

ফাহমিদা নবী:  'কারিগরি' সম্পর্কে তো আগে বলেছি, সেটা আমার একটা প্রতিষ্ঠান, সেখানে আমার স্টুডেন্টদের ১০ জনকে নিয়ে আগে একটা এ্যালবাম বের করেছি 'কারিগরী এ্যালবাম-১'। এখন আবারও ১০জনকে নিয়ে 'কারিগরী এ্যালবাম-২' এর কাজ প্রায় শেষের দিকে। সব গুলো গানই আমার সুর করা গান। সামনে আরও অনেক পরিকল্পনা আছে আমার কারিগরী প্রতিষ্ঠান নিয়ে।

প্রশ্ন: নতুন শিল্পীদের জন্য পরামর্শ কি আপনার?

ফাহমিদা নবী: নতুনদের উদ্দেশ্যে এটাই বলবো, তুমি যদি একজন কেউ হয়ে উঠতে চাও, তোমাকে ভালো সুরে গান গাইতে হবে, তুমি তোমাকে প্রকাশ কর। আমার আমার স্টুডেন্টদের বলি, অস্থির হয়োনা, স্ট্রাগল করতে হবে, তোমাদেরকে কাজ শিখতে হবে, নিজে কিছু করার পথ নিজে খোঁজো।  নতুন থেকেই পুরনো হয়, তাই অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখার চেষ্টা করো এবং পুরোনোদের চলার ধারাটাকে অনুসরণ করো। মনে রেখো, একদিনে কখনোই সপল হওয়া যায়না।

প্রশ্ন:  অনেক অনেক ধন্যবাদ আমাদেরকে এতটা সময় দেয়ার জন্য।  আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

ফাহমিদা নবী: তোমাদেরকেও অনেক ভালোবাসা, সবাই ভালো থাকো। উইমেন আই টুয়েন্টি ফোর ডটকমকে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন।
 

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
সাংবাদিক হেনস্থা করায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে         স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট করায় আমার সাথে অন্যায় হচ্ছে : রোজিনা         রিমান্ড নাকচ, সাংবাদিক রোজিনাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ         স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং বয়কটের ঘোষণা সাংবাদিকদের         রোজিনা ইসলামকে ৫ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ         সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নেওয়া হলো আদালতে         একজন সাংবাদিকের প্রথম কাজ সত্য খুঁজে বের করা         রোজিনাকে সচিবালয়ে আটকে রেখে মারধর         প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা         রোজিনা ছিঁচকে চোর না, সে এদেশের সবচেয়ে নন্দিত সাংবাদিক         আমার বিরুদ্ধেও মামলা দেন         সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সুচিকিৎসা দিয়ে দায়িত্ব পালনে ফিরে যেতে দেওয়া হোক         পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে থানায় নেওয়া হলো প্রথম আলোর রোজিনা ইসলামকে         প্রথম আলোর রিপোর্টারকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে আটকে হেনস্থা করা হয়েছে         জীবনযুদ্ধে জয়ী আকলিমা চাকরি পেলেন পৌরসভায়         মাথাপিছু আয় এখন ২২২৭ ডলার         সংবাদ মাধ্যমের অফিস লক্ষ্য করে ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাব         ভারতফেরত তরুণীকে কো'য়ারেন্টিনে ‘ধ'র্ষণ’, এএসআই গ্রে'প্তার         সেদিন অনেক ঝড় মাথায় নিয়েই দেশে এসেছিলাম: শেখ হাসিনা         ব্যাংক কর্মকর্তারা দুর্নীতি করলে জরিমানা-মামলা         পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বর্ডার বন্ধ