মঙ্গলবার, ২৮ বৈশাখ ১৪২৮
১১ মে ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

ধানক্ষেতে নেক ব্লাস্ট সংক্রমণ, দুশ্চিন্তায় কৃষক

হাসানুজ্জামান হাসান: উত্তরের জেলা লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। সোনার ফসল ধান ঘরে তোলার স্বপ্নে বিভোর কৃষক। এমন সময় ধানের ক্ষেতে বাসা বেঁধেছে ‘নেক ব্লাস্ট’। হুমকির মুখে পড়েছে ধানের ফলন। যে কারণে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা।

শুক্রবার (২৩এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার আবাদি জমির একটা বড় অংশে আঘাত হেনেছে নেক ব্লাস্ট। ধানের এই সংক্রামক রোগ দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে পার্শ্ববর্তী ক্ষেতে। পাকা ধানের শীষগুলো ধীরে ধীরে হালকা সাদা ও পরে পাতান (চাল বিহীন) হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন কীটনাশক ও ছত্রাক নাশক ব্যবহার করেও নেক ব্লাস্টের প্রতিকার করতে পারছেন না কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দু-সপ্তাহের মধ্যে উপজেলার অধিকাংশ এলাকার পাকা বোরো ধান মাড়াইয়ের পর্যায়ে যাবে। এই সময়ে নেক ব্লাস্ট সংক্রমণ হওয়ায় ভালো ফলন নিয়ে শঙ্কা তাদের।

কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা চাঁপারতল এলাকার কৃষক দুলাল মিয়া বলেন, ‘আমার ধান প্রায় পেকে গেছে। ধানের গাছ দেখে ভালো ফলনও আশা করছি। কিন্তু ক্ষেতের কিছু কিছু অংশে ব্লাস্ট সংক্রমণ হওয়ায় কিছুটা দুঃশ্চিন্তায় আছি।’

হরবানী নগর এলাকার কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমার ধান খুব ভালো হয়েছিল। হঠাৎ ব্লাস্ট ধরে ক্ষেতের অনেকাংশের ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। কয়েক প্রকার কিটনাশক ব্যবহার করেও ভালো ফল পাচ্ছি না।’

একইভাবে হতাশ কাকিনা এলাকার মমিনুর রহমান, সোহরাব আলী, সাহজাহান মিয়া, ফেরদৌস আলম, গোড়ল ইউনিয়নের  কৃষক আ. ছালাম, মানিক মিয়া, ছইমুদ্দিন, মোহাম্মদ আলীসহ অনেক কৃষক। তারা বলেন, নিজের জমানো অর্থ দিয়ে ও ধার-দেনা করে বহু কষ্টে সেচ নির্ভর এ বোরো মৌসুমে তাদের জমিতে ব্রিধান-২৮ধান লাগিয়েছেন। বিন্তু চোখের সামনে যন্তে গড়া সে ফসল নষ্ট হওয়ায় কান্না আসে তাদের। ফসল হারিয়ে ঋণের বৃত্তে আটকে গেলেন তারা।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দা সিফাত জাহান জানান, চলতি মৌসুমে কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৩১৫০হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত জমির পরিমাণ ২.৪৫ হেক্টর। দিনে গরম ও রাতে ঠাণ্ডা, অতিরিক্ত নাইট্রোজেন জাতীয় সার ব‍্যবহারের কারণে এ রোগ বেড়ে যায়। চলতি মৌসুমের নেক ব্লাস্ট সংক্রমণ ঠেকাতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের নানা ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে ।

জমিতে পানি রাখতে এবং ট্রাইসাইক্লাজল জাতীয় ছত্রাকনাশক প্রয়োগের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। প্রতি শতক জমিতে ছত্রাকনাশকের সঙ্গে ২ লিটার পানি ব‍্যবহার, বিকালে স্প্রে ও পরিষ্কার পানি ব‍্যবহার করার জন‍্য বলা হচ্ছে। ব্রি ধান ২৮ এর আবাদ নিরুৎসাহিত করে ব্রি ধান ৭৪ ও ৮৫ আবাদের জন‍্য কৃষকদের বলা হচ্ছে।

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ নিয়ে গবেষণার ফল         চঞ্চলের পরিচয় নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তির জোয়ার         ৫০০ পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ         করোনা পরীক্ষার নতুন ফি নির্ধারণ         ‘চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে’         ‘সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গাছ কাটা যাবে না’         যমুনা গ্রুপে চাকরি         কাল থেকে ঈদের ছুটি শুরু         পন্টুনের তার ছিঁড়ে মাইক্রোবাস নদীতে         বৈদ্যুতিক ট্রেনের যুগে বাংলাদেশ         বাংলাদেশ থেকে কুয়েতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা         ‘চীনকে চিঠি দিয়েছে সরকার’         কানাডায় ভ্যাকসিন: 'ম্যাচ অ্যান্ড মিক্স' এর পরিকল্পনা         চঞ্চল চৌধুরী, তুমিই মানুষ!         সমাজসেবায় তরুণ প্রজন্ম         করোনাভাইরাস ছড়ায় যেভাবে         চলছে সন্ধ্যা রায়ের জীবনমরণ লড়াই         দেশে টাকায় মিলল করোনার উপস্থিতি         বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিল থাইল্যান্ডও         আমার সবকিছুর মৌলিক ভিত্তি আমার মা: জয়া