রবিবার, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮
০৯ মে ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

সালমা হাসানের সাপ্তাহিক ভাবনা

অনেক ভাবলাম এই সপ্তাহে, আর কোন কাজই করলাম না। ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়তাম, ভাবতে ভাবতে রান্না করলাম, ভাবতে ভাবতে আর ঘষতে ঘষতে সিঙ্ক আর ট্যাপ চকচকা করে ফেললাম। ভাবতাম দেশে যেতে পারলে আমি কি করতাম এই সময়ে, কোথায় যেতাম, কি এলাহি খানাদানা করতাম এইসব আর কি।

ধরা খাওয়া
বাংলাদেশে ভাল কিছু করার চাইতে খারাপ কিছু করা অনেক সহজ। আপনি, আপনার মত তরুণ অনেকে, যাদের মেধা আছে, বুদ্ধি আছে, জ্ঞান আছে, দেশের জন্য একটা সামান্য ভালো কাজ করার ঐকান্তিক ইচ্ছা আছে সব কিছু নিয়ে নেমে পড়লেন। কিন্তু না, থামুন, এটাই শেষ কথা নয়। দেশের মাটি হয়ত এতে খুশি হবে, বুক পেতে দিবে। কিন্তু মানুষগুলা? ফেসবুকে তারা তো শুধু কিছু বাঁশ দিয়ে ছেড়ে দিবে (বলবে খালি বসে বড় বড় কথা, এসে কাজ করে দেখাও), কিন্তু যেই আপনারা দল বেঁধে মাঠে নামলেন, উনারা আপনাদের হাত পা সব বেঁধে দিবে যাতে ততক্ষণ পর্যন্ত না আপনারা হুমড়ি খেতে আর হোঁচট খেতে থাকেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনাদের দেশ ও মাতৃকার প্রতি সমস্ত ভালবাসা তেল ও কান্না হয়ে ঝরে পড়ে। একটা দিক দিয়ে ভালোই, এরপর আপনার বিবেক আপনাকে তেমন কষ্ট দিবেনা, বিবেকের কাছে, মাতৃকার কাছে আপনার যে ঋণ তা এই সুধখোর মহাজনরা কোনদিন শোধ করতে দিবে কিনা কে জানে।

উপরোক্ত উপলব্ধি একেবারেই ব্যক্তিগত। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের শ্বাসের জন্য আশ্বাস নামের চ্যারিটি থেকে বাংলাদেশে খুবই সামান্য, খুবই নগণ্য ( যে সহায়তা আর প্রফেশনালিসম পেয়েছি তা থেকে মনে হয়েছে সব ছেলেখেলা ছিল) কিছু কাজ করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা এটা তারই সারমর্ম। যারা জানেন তারা জানেন আমরা স্বাস্থ্যখাতে সামান্য কাজ করে মানুষের উপকারে আসার চেষ্টা করছি। মনটা অস্থির হয়ে ফুঁসে উঠেছে কিন্তু আফসোস শুধু নিজের ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কে এতোটুকুই ভাগ করে নেয়া সম্ভব। যেখানে হোমরা চোমরা, পাতি রাজনীতিই সব, অভিযোগ করার কোন জায়গা নেই সেখানে পরিবর্তনের আশা খুবই ক্ষীণ। তবু জানি অনেকে চেষ্টা করে, আমি, আমার মত আরও অনেক গাধা ঘোড়ারা তারপরও আশায় বুক বাঁধে।

লকডাউন গবেষণা

তারপর দেশজ লকডাউন সম্পর্কে ভাবলাম। কি এক মজার লকডাউন চলছে দেশে কি বলেন? ব্রিটিশ লকডাউন দেখলাম, চাইনিজ, জাপানিজ, কোরিয়ান, আমেরিকান, আফ্রিকান, ব্রাজিলিয়ান সবধরনের লকডাউন দেখার পর এখন খাঁটি বাংলাদেশি লকডাউন দেখে মাথা পুরা উল্টা-পাল্টা লাগছে। জাতির খালি একটাই অভিযোগ গরিবের পেটে লাথি, তা দামি রেস্তুরায়, কনভেনশন সেন্টারে, শপিং মলে কোন টাইপের গরিবেরা ভিড় জমায় আজো বুঝতে পারলাম না। কিছু গরিব দেখলাম এর মধ্যে দুবাই হলিডেও করেছে। একে বলে অন্যের ঘাড়ে কাঁঠাল ভেঙ্গে খাওয়া, গরিবেরা রুটি রুজির সন্ধানে ব্যস্ত থাকে, তারা অকারন সমাবেশ, আজাইরা ঘুরা ফিরা, রিইউনিয়ন ইত্যাদি ইত্যাদি করার সময় পায়না। শিক্ষিত সমাজের ভাব দেখে মনে হয় উনারা কমিউনিটি ট্রান্সমিশনে একটুও অবদান রাখেন নাই সবাই ফেসবুকিয় ধোয়া তুলসীপাতা একেবারে। ওদিকে সাধারণ গরিব মানুষকে লকডাউন জিনিশটা কি ও কেন তা গেল মার্চ ২০২০ ও বোঝানো হয়নি এবারো হয়নি। ফলাফল ইনারা প্রতিবার লকডাউন নামটা শুনা মাত্র ব্যাগ পোটলা নিয়ে লঞ্চের দিকে দৌড় দেন। এই দোষটাও কি তাদের? যুক্তরাজ্য, আমেরিকা কোথাও মানুষ সহজে একবারে ধুম করে লকডাউন কি বুঝে ফেলেনি, আজ চাঁদ দেখা গেছে কাল ঈদ এমন করে একদিনে মানুষ লকডাউনের প্রস্তুতি নেয়নি এখানে। একটা বছর ধরে করোনা মহামারীর শুরু থেকে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন টিভিতে ভাষণ দিয়ে দিয়ে মানুষের মাথা খেয়ে ফেললো তারপর গিয়ে মানুষ ধীরে ধীরে মাথা খাঁটিয়ে সচেতন হল। সচেতনতা একদিনে তৈরি হয় কি?

আমি, আমার ডাক্তার ভাই মিলে এক বছর ধরে আমাদের আব্বা হুজুরকে বুঝানোর চেষ্টা করছি সামাজিকতা কমানোর গুরত্ব। কিন্তু উনি এক্স ব্যাংকার, সপ্তাহে দুইদিন উনার ব্যাংকে হাঁটতে যেতে হয়, একদিন ডাক্তারের সাথে সাক্ষাত, দুইদিন দাদা বাড়ী নিজ বাড়ী ভ্রমণ আর মাঝে লোকাল সামাজিকতা তো আছেই। আমার বন্ধুবান্ধবদেরও শুনি একই অভিজ্ঞতা। উনারা সরকার ব্যাংক আদালত বন্ধ না করা পর্যন্ত কারনে অকারনে বহিঃভ্রমণ জারি রাখবেন।আর সবকিছুতে বক্তব্য একটাই, সরকার বললে তবেই নিয়ম পালন করবেন! এই বয়সের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলোর জন্য যুক্তরাজ্যে কঠিন নির্দেশনা আমি নিজ চোখে দেখেছি অনেক কাজে দিয়েছে, বাংলাদেশে বয়োজৈষ্ঠদের জন্য কঠিন কোন আলাদা নির্দেশনা থাকাটা কি খুব অবাস্তব কোন কাজ ছিল? হয়ত ছিল, নাহলে এক জিনিস নিয়ে দৈনিক প্রজ্ঞাপন জারি হয় কেমন করে?

নারীবাদ, সামাজিক পোকা

গত মাসে নাসির-তামিমা নিয়ে বাঙ্গালি জাতির এত উত্তেজনা, এত আলোচনা, এত গুজব দেখলাম যতটা করোনায় যখন গণহারে মানুষ মরছে বা হাসপাতালে জায়গা হচ্ছিলনা তখনো দেখিনি। আমি ডাক্তার মানুষ তাই রোগ-বালাইয়ের সাথে তুলনা করলাম। চাইলে আরও অনেক কিছুর সাথে তুলনা করা যায়। যেমন কচি কচি ছেলেমেয়েকে মেইকআপ ভ্লগার বানানো, কিছুদিন পর পর রেইপ- শিশু নির্যাতনের মত নৈমিত্তিক ঘটনা। ঘুষ খাওয়া- দুর্নীতি করা ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রতি পদে পদে অসৎ উপায়ে সামনে আগানোকে দিনের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত করা। এর কোন কিছুই জাতিকে আলোড়িত করেনা, নৈতিকতার অবক্ষয় হয়না কিন্তু হায় সত্যি তালাক অথবা মিথ্যা তালাক কিছু একটা দিয়ে মেয়েটা বি�

Mujib Borsho

সর্বশেষ

শীর্ষ সংবাদ:
গবেষণায় ওঠে আসলো করোনাকালীন নারীদের নানা প্রতিকূলতা         যেই ক্ষোভে তানিশাকে হত্যা করলো চাচাতো ভাই         কাবুলের স্কুলে বিস্ফোরণ প্রাণহানি ৪০         সহসাই খুলছে না বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত         টিকার দাম কমাতে রাশিয়াকে চিঠি         তোফায়েল আহমেদ সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন         খালেদার বিদেশের ব্যাপারে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী         এসএসসির ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা         বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা         উদ্যানের বিষয়ে যা বললেন কাদের         শিমুলিয়া থেকে ছাড়ল ফেরি         গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ         কানাডায় কোভিড ভ্যারিয়েন্ট বাড়ছে         খালেদার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আজ         হাসপাতালে ভর্তি তোফায়েল আহমেদ         ইতালিতে করোনায় চার বাংলাদেশির মৃত্যু         জনকণ্ঠের চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের দাবি বিএফইউজে‘র         নির্মল বন্ধুত্ব চাই!         শনিবার থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ