রবিবার, ২৫ বৈশাখ ১৪২৮
০৯ মে ২০২১ ঢাকা, বাংলাদেশ
যুক্ত থাকুন

আর্কাইভ
সর্বশেষ

বইয়ের আদলে দৃষ্টি নন্দন ফলক

হাসানুজ্জামান হাসান: দেশের সীমান্তবর্তী জেলা লালমনিরহাট। এ জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার সীমান্ত ঘেষা গ্রামে অবস্থিত দইখাওয়া আদর্শ কলেজ। কলেজের মূল গেটে দৃষ্টি নন্দন বইয়ের ফলক। উপরে হাতের মুঠোয় গ্লোক। দেখে মনে হচ্ছে বইয়ের রাজ্য। বইয়ের আদলে ফলকের দৃশ্য দেখে বাহির থেকে দৃষ্টি কাড়ছে পথচারীদের। ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখা যায় বিশাল আকৃতির এক শহীদ মিনার।

কলেজটিতে সর্বমোট ১৩০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। সকাল ১০টা থেকে ক্লাস শুরু হয়ে বিকাল চারটা পর্যন্ত চলে। শিক্ষার্থীদের খাওয়ার জন্য বাসায় যাতে না যেতে হয় সে জন্য ১০ টাকা ফুড নামে গড়ে উঠেছে একটি ক্যান্টিন। কলেজ চলাকালে দৈনিক ১০ টাকায় খাবার খেতে পায় শিক্ষার্থীরা।

গত বছরের মার্চে কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে শুরু হয় মূল গেটের দৃষ্টিনন্দন ফলক নির্মাণ কাজ। এখন প্রায় শেষের দিকে। এটা দেখে দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা দেখতে ছুটে আসে।

স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে এই দৃষ্টি নন্দন ফলকটি নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যের সর্বোমোট ৫০টি বইয়ের চিত্র দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা এই চিত্র দেখে আকৃষ্ট হচ্ছে বই পড়তে। ফটকের এই চিত্র বই পড়তে আগ্রহ বাড়ায় তাদের।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘বই জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়। বই পড়লে পুরো পৃথিবীটাকে জানা যায়। এই ফলকটি আমাদের বই পড়তে অনুপ্রাণিত করে। মনে হয় পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়। এখানে বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য মিলে দুই পাশে ৫০টি বইয়ের ফলক রয়েছে। এই কলেজের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখে আমাদের ভালো লাগে। কলেজের ভিতরে প্রবেশের আগে গেটটি দৃষ্টি কাড়ছে। কলেজ চলাকালে আমরা সকালে প্রাইভেট পড়ে আর বাসায় যাই না।এখানেই ১০ টাকা মূল্যে খাবার খেতে পারি। শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য শিক্ষকরা আমাদের বিভিন্ন রকম পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আমাদের গ্রামাঞ্চলে এই ধরনের একটি কলেজ আছে এ জন্য সত্যিই আমরা গর্বিত।’

পথচারি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অবহেলিত অঞ্চলে এই ধরনের একটি কলেজ রয়েছে এতে আমরা গর্বিত। কলেজের মূল ফটকে বইয়ের আদলে দৃষ্টি নন্দন ফলক দেখে অনেক ভালো লাগে। আমাদের এলাকার ছেলে মেয়েরা এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। এতা সত্যিই গৌরবের। কলেজের অধ্যক্ষ যে উদ্যোগটি নিয়েছে সেটাই আসলেই প্রশংসনীয়। সরকারি কলেজেও এই ধরনের কাজ দেখিনাই।’

কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘হাতীবান্ধা উপজেলা থেকে ১০কিলো দূরে প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত আমার এই কলেজটি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা এখানে লেখা-পড়া করে। প্রতিষ্ঠানটি এইচ এস সি পর্যন্ত এমপিওভুক্ত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অবহেলিত এলাকার কলেজটি শিক্ষার দিক থেকে এগিয়ে৷ অতীতে আমরা গেট করতে পারিনি। পরে বিভিন্ন ডিজাইন দেখে চিন্তা করলাম বইয়ের আদলে গেট নির্মাণের। সেই অনুপাতে কাজ শুরু করলাম। টেকনিক্যাল শিক্ষকের সহায়তায় ২৫টি করে ৫০টি বইয়ের সিঁড়ি রয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে এই উদ্যোগটি নিয়েছিলাম। সর্বোমোট এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে কাজটি শেষ করতে পারছি।’

এখন রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরা ছবি তুলছে। এতে ভালো লাগে। এখানকার ফটকের চিত্রের অর্ধেক বই আমাদের লাইব্রেরীতে রয়েছে। এই ফটকে বইয়ের চিত্র দেখে যাতে শিক্ষার্থীরা বই পড়তে আকৃষ্ট হয় সেই লক্ষ্যে এই ফলকটি নির্মাণ করেছি। আমরা সর্বদা শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে কাজ করে যাচ্ছি।  আগামীতে আরো কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করবো।’
 

শীর্ষ সংবাদ:
গবেষণায় করোনাকালীন নারীদের নানা প্রতিকূলতা         যেই ক্ষোভে তানিশাকে হত্যা করলো চাচাতো ভাই         কাবুলের স্কুলে বিস্ফোরণে প্রাণহানি ৪০         সহসাই খুলছে না বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত         টিকার দাম কমাতে রাশিয়াকে চিঠি         তোফায়েল আহমেদ সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন         খালেদার বিদেশের ব্যাপারে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী         এসএসসির ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা         বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা         উদ্যানের বিষয়ে যা বললেন কাদের         শিমুলিয়া থেকে ছাড়ল ফেরি         গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ         কানাডায় কোভিড ভ্যারিয়েন্ট বাড়ছে         খালেদার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আজ         হাসপাতালে ভর্তি তোফায়েল আহমেদ         ইতালিতে করোনায় চার বাংলাদেশির মৃত্যু         জনকণ্ঠের চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের দাবি বিএফইউজে‘র         নির্মল বন্ধুত্ব চাই!         শনিবার থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ